Ananda ALo
Ultimate magazine theme for WordPress.

এটা মুশফিককে অপমান করা ছাড়া কিছু নয়-মাশরাফি

মুশফিকুর রহীম একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্যাপ্টেন। ব্যাটিং ও উইকেট কিপিং এ তার দক্ষতা সবারই জানা। অথচ তাকেই কিনা দলের তরুণ ক্রিকেটার নূরুল হাসান সোহানের সাথে উইকেট কিপিং এর প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছে। চলতি নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ টি-২০ সিরিজের পাঁচ ম্যাচে উইকেট কিপিং মুশফিক ও নূরুল হাসানের মধ্যে ভাগাভাগি করে দিয়েছেন হেড কোচ ডমিঙ্গো। প্রথম দুই ম্যাচ নূরুল হাসানের। পরের দুই ম্যাচ মুশফিকুর রহীমের। পঞ্চম ম্যাচটিতে উইকেট কিপিং নির্ভর করবে দুইজনের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে।

এনিয়ে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ম্যাশ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেনÑ ১৬ বছর যে মানুষটা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দিচ্ছে, তাকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে আপনি যত বড় ক্ষমতাধর মানুষ হোন না কেন, একটু জায়গা বুঝে বলা উচিত। মুশফিক কিভাবে জাতীয় দলে এসেছে, তা সবাই জানে। সিম্পলি তার ব্যাটিং দক্ষতা। একটা সময় পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটে শুধু কিপার হিসাবেই খেলা যেত, উদাহরণ ভুরি ভুরি। কিন্তু গিলক্রিস্ট আসার পর সব হিসাব পাল্টে যায়, যার সুত্র ধরে ইন্ডিয়া টিমে দেখেছি রাহুল দ্রাবিড়কেও কিপিং করতে, যাতে দল সুবিধা মতো এক্সট্রা একজন ব্যাটসম্যান বা বোলার খেলাতে পারে।

তিনি আরও লিখেন, বিশ্ব ক্রিকেটের দুজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটারকে, সেটা আবার নিজ দলের খেলোয়ারকে, আপনি যুদ্ধ করে বাঁচতে বলবেন, সেটা ড্রেসিং রুম পর্যন্ত থাকাই ভালো। অবশ্যই দলের স্বার্থ, সবার আগে দল, দলের আগে কোনো খেলোয়াড় হতে পারে না। কিন্তু যে ক্রিকেটারগুলো দেশের হয়ে খেলতে নামে, তারা কোনো সহানুভূতি নিয়ে নয়, বরং তার শরীরের সর্বোচ্চটুকু নিংড়ে দলে জায়গা পায়। মুশফিকের গল্প আমরা সবাই জানি, তার নিবেদন কী পর্যায়ে। বাংলাদেশের হাজার হাজার উঠতি ক্রিকেটারদের আইডল সে। টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত তারা তাদের মতো করে নেবে, এটাই তো স্বাভাবিক এবং অবশ্যই ভালোর জন্য নেবে। সফল হলে তালি, না হলে গালি, যা সারা বিশ্বেই হচ্ছে।

দলে এই সিদ্ধান্তের বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা করছেন মাশরাফি, কে খেলবে, কোন পজিশনে খেলবে, কার রোল কি, এগুলো তো দলের একান্ত পরিকল্পনা, যা ড্রেসিং রুমে শুরু, আবার ড্রেসিং রুমেই শেষ হয়। বাহিরে বলতে গেলে তো খেলোয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় যা, তার স্বাভাবিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। সোহান সম্ভবত দলের সেরা কিপার। সাথে লিটন, এক সিরিজ গ্যাপে যোগ হলো মুশফিক। এক দলে এত কিপার, এ তো আনন্দের। তা না হয়ে, বের হয় বিষাদ। এতটুকু সামাল দিতে না পারলে তো সমস্যা, যা এক পর্যায়ে দলের ভিতর অদৃশ্য এক বাজে প্রতিযোগিতা চলে আসবে। দলে প্রতিযোগিতা সব সময় দলের সেরাটা বের করে আনে, তবে সেটা সুস্থ হতে হবে। কাউকে আঘাত করে নয়।

শেষে মাশরাফি লিখেন, আমি শুধু ভাবছি এতে কি সোহানের জন্যও খুব ভালো হলো, যে দুই ম্যাচে সব দেখিয়ে টিকে থাকতে হবে, তাহলে বিগত দুই সিরিজ সে যা করল, তার কি হবে! লিটন কি বলবে? এখন ও তো কিপিং ভুলেই যাবে। মুশফিককে পারফর্ম করতে হবে ১৬ বছর খেলার পর, এটা বলে দেওয়ার কিছু নাই। সে খুব ভালো করেই জানে। বরং বাহিরে এভাবে বললে তার নিবেদনকে অসম্মানিত করা হয়, যা তার প্রাপ্য নয়। সে সেরা ব্যাটসম্যান বলেই ১৬ বছর দেশকে সার্ভিস দিয়েছে। আবার দলের প্রয়োজনে তাকেই কিপিং করতে হতে পারে। তখন যদি সে না বলে, সেটা কি ভালো শোনাবে?