Ananda ALo
Ultimate magazine theme for WordPress.

ফার্মিং লাইফ বিডি লিমিটেড নিয়ে সাইফুরের যত স্বপ্ন

এগ্রো আর্কিটেকচার ও ল্যান্ডস্কেপ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন স্থপতি সাইফুর রহমান। ২০০৮ সালে আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগ থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১০ সালে গড়ে তোলা হয় ‘ফার্মিং লাইফ বিডি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের তিনি একজন পার্টনার। পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থপতি সাইফুর রহমান। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার ডিজাইন ও ল্যান্ডস্কেপ করেছে। এবার শাহ্ সিমেন্ট নির্মাণে আমিতে এই স্থপতিকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক।
স্থপতি সাইফুর রহমান রাতুলের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলার চাপাইনবাবগঞ্জে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। সাইফুরের বাবার নাম মৃত মো: মেলাবউর রহমান। মা হুসনে আরা, গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সাইফুর রহমান রাতুল সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই রাতুলের ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। পরবর্তীতে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় আর্কিটেকচারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা জন্মায়। সেই ভালোবাসা থেকে আজ তিনি হয়েছেন সফল একজন স্থপতি। রাজশাহীর কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৯৯ সালে। ২০০১ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগে। সাইফুর রহমান ব্যাচেলর অব আর্কিকেচার ডিগ্রি লাভ করেন ২০০৮ সালে। পাস করে বের হওয়ার পর দুই বছর চাকরি করেন তিনি। ২০১০ সালে নিজে গড়ে তোলা হয় ‘ফার্মিং লাইফ বিডি লিমিটেড’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। এই ফার্মের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থপতি সাইফুর রহমান।

আমিনবাজারে জিয়ন রিসোর্ট
সাইফুর রহমান রাতুল

দেশের নামকরা ফ্যাক্টরি, রিসোর্ট, ইকো পার্ক, কনভেনশন হল, একাডেমী ভবন, রেস্টুরেন্টু সহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ও ল্যান্ডস্কেপ করেছেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামের রেনুভেশনের কাজ, নিকুঞ্জে আর্মি গলফ একাডেমী, নিকুঞ্জ লেক এর ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, আমিনবাজারে জিয়ন রিসোর্ট, ফরিদপুরে জেকে জুট মিলস ফ্যাক্টরির ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, কক্সবাজারে রামু বৌদ্দ বিহারের রেনুভেশন কাজ এবং ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, হাতিরঝিলে কজটঅ থাই রেস্টুরেন্ট, জিগাতলায় বিজিবির কনভেনশন হলের ইন্টেরিয়র, টঙ্গিতে তুরাগ ইকো পার্ক এর ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, নারায়নগঞ্জে মিক্সড ইউযুজ বিল্ডিং খাদি মিউজিয়াম সহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন ও ল্যান্ডস্কেপ করেছেন তিনি। এছাড়াও বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান।
২০১০ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম আফরিনা নাজনীন। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট। এই দম্পতি তিন সন্তানের জনক-জননী।
স্থপতি সাইফুর রহমান রাতুল বলেন, বর্তমানে ল্যান্ডস্কেপ বেইজ আর্কিটেকচারাল যে কাজ গুলো আছে, সে কাজ গুলো আমরা করছি। এগ্রিকালচার বেইজ যে কাজ গুলো আছে সেই কাজ গুলোকে আমরা এখন আর্কিটেকচারালের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি রিসোর্ট এর কাজ করেছি। ল্যান্ডস্কেপ বেইজ রিসোর্ট, এগ্রিকালচার বেইজ রিসোর্ট, সে গুলোতে দেখা যাবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড যে বিষয় গুলো আছে সে গুলোকে ফলো করে আমরা কাজ গুলো করার চেষ্টা করছি। ল্যান্ডস্কেপ এ অনেক গুলো আইটেম আছে অনেক কিছুর বিষয় আছে, সব কিছু নিয়ে আমরা একটা টিম তৈরি করে কাজ গুলো করছি। যাতে আমরা ল্যান্ডস্কেপিং এর আসল যে জিনিস গুলো আছে সেটা যেন দিতে পারি সেইভাবে সবাই মিলে মিশে কাজটা করছি। আমাদের টিমে ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনার আছেন, বোটানিষ্ট আছেন। এই টাইপের যারা এক্সপার্ট রিলেটেড ল্যান্ডস্কেপ কাজ করতে পারদর্শি তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ গুলো করছি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আছেন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আছেন, প্লান ইঞ্জিনিয়ার আছেন, আর্কিটেকচারতো আছেই। আমরা সবাই মিলে কাজ গুলো করছি। আরেকটা জিনিস হলো, আমরা এগ্রো রিসোর্টের কথা বললাম। সেখানে এগ্রি কালচার সাইটটাকে কীভাবে রিসোর্টের মধ্যে সংযুক্ত করা যায় এই গুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি সাইফুর রহমান। এই স্থপতি তার কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে ভালোবাসেন।
স্থাপত্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থপতি সাইফুর রহমান বলেন, ল্যান্ড স্কেপিং সেক্টরটাকে আমরা আরো ডেভেলপ করতে চাই । আমাদের শহর গুলোকে আরো গ্রীণ করতে চাই। বিল্ডিং গুলোকে আমরা আরো এনভারমেন্ট টু ফ্যামিলি করতে চাই, যাতে করে মানুষজনের বাসস্থানটা যেন আরো আরামদায়ক হয়।
আমাদের শহর গুলো এখন খুব কাঁচ কেন্দ্রিক, টেনশন প্রেসার এসব কিছুই আছে এর মধ্যে। কিন্তু রিফ্রেশনের বিষয় নাই। রিফ্রেশনের এর জায়গা নাই। রিফ্রেশনের জায়গা আরও ক্রিয়েট করা উচিত। আমাদের খোলা জায়গা আরও হওয়া উচিত। আমাদের মাঠের খুব অভাব। আরো মাঠ হওয়া উচিত। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিত। এই সব ক্ষেত্রে আমাদের শহরটাকে আরো গ্রীণন্যাস করা উচিত। এই সেক্টরটাকে ডেভেলপ করার জন্য আমরা আরো বেশি বেশি কাজ করতে চাই।