Home Blog Page 472

যেভাবে যার সাথে আছি সেটাই সত্যি! : জাকিয়া বারী মম

Momo

তাকে নিয়ে আলোচনা কিংবা সমালোচনা কম শোনা যাচ্ছে না। ছোটপর্দা, বড়পর্দা সবখানেই দাপটের সাথে অভিনয় করছেন নিয়মিত। ভালো কাজের আলোচনার পাশাপাশি আছে কিঞ্চিৎ সমালোচনাও। সেটার পেছনে অবশ্য প্রেম-ভালোবাসা এবং ঘর-সংসারের বিষয়ই জড়িত। পাঠক, শোবিজের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম জাকিয়া বারী মম। ২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়ে তিনি শোবিজে পা রাখেন। একে একে ভিন্নধর্মী কিছু কাজ দিয়ে মম অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দর্শক নন্দিত হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য ও নাট্যতত্ব বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থী। সম্প্রতি উত্তরার একটি শুটিং হাউজে বসে মম নিজের ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তি জীবনের নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অকপটে। তারই চুম্বক অংশ প্রকাশ করা হলো। লিখেছেন- সৈয়দ ইকবাল।

আনন্দ আলো: আপনার কাজের চাইতে ব্যক্তি জীবন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বেশ আলোচনা শোনা যাচ্ছে…

মম: হুম, হতে পারে। কিছু মানুষ আছে যারা আসলে সার্বক্ষণিক অন্যের বিষয় নিয়ে মেতে থাকতে পছন্দ করেন। অন্যদের মুখরোচক আলোচনা নিয়ে তারা আলোচনা করে আনন্দও পায়। মিডিয়ার ব্যাপারে আমার অভজারভেশনে একটা বিষয় উঠে এসেছে- তাহলো এখানে যতটুকু না ঘটে, তার চাইতে বেশিকিছু মানুষের মুখে মুখে রটে যায়। এখানে মানুষ মুখে অনেক নীতি কথা বললেও বাস্তবে তা নয়। এই যে আমি মনদিয়ে অভিনয় করছি- এটা নিয়ে কিন্তু একেবারেই আলোচনা হচ্ছে না। কোন নাটকে কেমন অভিনয় করলাম, খারাপ কি ভালো- সেটা নিয়ে আলোচনা হওয়ার বিষয় আছে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। হচ্ছে আমি কার সাথে প্রেম করি, স্বামীর সাথে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে কি না ইত্যাদি ইত্যাদি…। বিষয়টা কিন্তু আমার বাসার দরজার ভেতরের আলোচনা। আমার ব্যক্তিজীবন কেমন যাবে সেটা একান্তই আমার সিদ্ধান্ত। কোনো জায়গায় মনের দিক থেকে যদি সেটিসফাই না থাকি, তাহলে সেখানে থাকার তো কোনো মানে হয় না। এ কথাতোও সত্য এক হাতে কখনোই তালি বাজে না। আর প্রকৃতি কিন্তু শূন্যস্থান পছন্দও করে না।

আনন্দ আলো: আরেকটু ক্লিয়ার করা যায়? তারমানে আপনি এবং নির্মাতা শিহাব শাহীনকে নিয়ে যে সম্পর্কের কথা শোনা যাচ্ছে সেটা কী সত্যি? তাহলে এজাজ মুন্নার সাথে আপনার এখন সম্পর্কটা কেমন?

25110075মম: এটা আসলে ‘ট্রাই এঙ্গেল লাভ স্টোরি’ (হাসতে হাসতে)। এটা নিয়ে অনেক পত্রিকা অনেক কিছু লিখেছে, দেখা গেছে, আমার সাথে কথা না বলেই তারা তাদের মতো লিখছেন। কিছুদিন আগেও একটি দৈনিক পত্রিকায় মনের মাধুরী মিশিয়ে অনেক সুন্দর করে বিষয়টি নিয়ে আমার একটা ইন্টারভিউ পর্যন্ত ছাপিয়ে দিলো। অথচ, আমার সাথে এই বিষয় নিয়ে পত্রিকাটির কথাই হয়নি। বিষয়টা নিয়ে আমি প্রথম বারের মতো আনন্দ আলো’র সাথেই কথা বলছি। আসলে জীবনটা খুবই কমপ্লিকেটেড। জীবনে সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজাজ মুন্নার সাথে আমার যে সময়টায় পরিচয়- প্রেম-ভালোবাসা এবং সংসার হয়েছিল, সেই সময়টা তখন হয়তো পারফেক্ট ছিলো। কিন্তু একসাথে থাকার পর সময়টার ব্যাখ্যা একসময় অন্যভাবে আমার সামনে এসে ধরা দেয়। এখন সেই সময়টা কী ঠিক ছিলো, কী ভুল ছিলো, শুদ্ধ ছিলো, নাকি অশুদ্ধ ছিলো- সেইদিকে যাব না। তবে সময়ই সব বলে দেয় এবং বলে দিবে। এজাজ মুন্না আমার অবশ্যই শত্র“ না। তিনি আমার বন্ধু। আমার ছেলের বাবা তিনি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আমার জীবনে। জীবনটা আমার এতোটাই ব্যক্তিগত যে, দরজার বাইরের কেউ জানেনই না তার সাথে আমার কী হয়েছে। সেই মানুষটা জানে আর আমিই জানি- আমাদের মধ্যে কি হয়েছে। এটা নিয়ে আমি এর চেয়ে বেশি কথা বলতে নারাজ। আমার মনে হয়- এতে আমাদের নিজেদের মধ্যে সম্মানটা বজায় থাকবে। আমরা একে অন্যকে এই সম্মানটা করতে চাই।  এবার আসি শিহাব শাহীনের বিষয়ে। শিহাব শাহীন আমার ভালো বন্ধু ছিলেন। প্রকৃতি কখনোই শূন্যস্থান পছন্দ করে না। এই ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে। শূণ্যস্থান কোনো না কোনোভাবে পূরণ হয়েই যায়। এখন সেটা শুদ্ধ কী ভুল- তা সময়ই বলে দিবে। শিহাব শাহীন অবশ্যই একজন ভালো মানুষ, গুণী নির্মাতা। নির্মাতা হিসেবে আমি তাকে স্যালুট করি। তিনি আসলে একজন ম্যাজিশিয়ান। স্ক্রীনে তিনি যে ম্যাজিক সৃষ্টি করতে পারেন, তা দেখে হাজার হাজার মেয়ে তার প্রেমে পড়তে পারে। ব্যক্তিজীবনে একা এই মানুষটি ভবিষ্যতে কোনদিকে যাচ্ছেন তা সময়ই বলে দিবে। আমি আমার মতো কাজ নিয়ে আছি। আমার ছেলে আমার সাথে আছে। এই তো আমার জীবন। সবার মতো আমার জীবন পেইন্টিং-এর মতো আঁকা নাও হতে পারে। তবে আমি আমার জীবনটাকে একটা পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবিই বলবো। আমরা অনেক সময় বলি না- ইস! আমার জীবনটা যদি এমন তো, এমনটি কেনো হলো, আরো ভালো হতে পারতো ইত্যাদি ইত্যাদি…। কিন্তু আমি বলবো- সব ঘটনাই আসলে আমাদেরকে গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়। আমরা যতোই নিজেদের মতো করে জীবনটা ভাবি না কেন- আসলে গন্তব্য বলে একটা কথা আছে। আমি হয়তো সেদিকেই যাচ্ছি।

আনন্দ আলো: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। এই যে অভিনয় করেই যাচ্ছেন, ছুঁটে চলেছেন অবিরত ক্লান্ত লাগে না?

মম: এটা তো বিশাল প্রশ্ন। উত্তর নানানভাবেই হতে পারে। আমি যদি ডিপ্লোমেসি করি, তাহলে বলবো- না ক্লান্ত হই না। আর যদি ডিপ্লোমেসি না করি তাহলে বলতে হবে- হ্যাঁ, ক্লান্ত হই। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে ক্লান্তিটা প্রতিদিনই নতুন করে আসে এবং প্রতিদিনই নতুন করে কেটে যায়। প্রতিদিন আমি নতুন নতুন চরিত্রের মাধ্যমে নতুন একজন মমকে আবিস্কার করি। তখন দেখা যায়, কাজ করে যে ক্লান্তিটা থাকে তা হারিয়ে যায়। চরিত্রের সন্ধানে যেতে যেতে ক্লান্তির ছাপটা চলে যায়। বলা যায় প্রতিদিন নতুন নতুন চরিত্রে অভিনয় করা মানে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জটা আমি খুব উপভোগ করি। উপভোগ করতে না পারলে হয়তো ক্লান্তি চলে আসতো। আমরা যে লজিস্টিক সাপোর্ট পেয়ে অভিনয় করে থাকি তা সত্যিই অনেক কষ্টের বিষয়। আমার এই কথা শুনলে অনেক প্রোডিউসার এবং ডিরেক্টর বলবেন ‘আর্টিস্টরা তো খুব ভালো আছে, তাহলে মম কেনো এমন কথা বলছে?’ আমি আমার পয়েন্ট অব ভিউ থেকে কথাটা বলছি। কারন আমি প্রতিদিন নতুন করে যে মমকে আবিস্কার করার জন্য চরিত্র নিয়ে ভেবে থাকি, কখনোই তার জন্য লজিস্টিক সাপোর্টটা পাই না। এটা ইন্ডাস্ট্রি কেনো দিতে পারছে না আমি জানি না। এখানে অনেক টাকাই লগ্নি হচ্ছে, প্রচুর নাটক নির্মাণ হচ্ছে এবং তা প্রচারও হচ্ছে। তারপরও বলা হয় আমাদের নাটক দর্শক দেখেন না। নাটক দর্শক না দেখলে তা বানানো হচ্ছে কেন। বিষয়গুলো আসলে  স্ববিরোধী।

আনন্দ আলো: প্রতিদিন নতুন নতুন চরিত্রে অভিনয় করছেন। কখনো কী অভিনীত চরিত্র আপনার উপর ভর করেছে?

মম: এটা আমার ক্ষেত্রে প্রায়শই হয়। চরিত্রের যুক্তি, চরিত্রের উদ্দেশ্য, চরিত্রের চারপাশের ঘটে যাওয়া বিষয়বস্তু আমাকে যদি আশ্বস্থ না করে তাহলে আমি ঠিকমতো চরিত্রটা পোর্টেট করতে পারি না। আমি বলছি না যা করছি খুব ভালো করছি। আমি যতটুকু বুঝি, ততটুকুও করি না যদি আমি চরিত্রের ব্যাপারে যুক্তি দ্বারা কনভিন্স না হই। একটি চরিত্রের জন্য স্ক্রিপ্টে দেখা যায় দশটি লাইন দেয়া আছে। কিন্তু সেখানে আরো বিশটি লাইন আছে, সেটা স্ক্রিপ্টে  নাই, আমাকেই খুঁজে বের করত হবে যেটাকে আমরা সাবটেক্সট বলি। প্রত্যেকটা চরিত্রের জন্য সাবটেক্সট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সাবটেক্টটাই আমি খুঁজি। কারন আমার পড়ালেখা অভিনয় ও  নাটক নিয়ে হওয়ার ফলে এই সাবটেক্সটটা মাথার মধ্যে সবসময় ঘুরতে থাকে। ফলে আমি ঐ চরিত্রটা নিয়ে যতোদিন থাকি কিংবা অভিনয় করি ততোদিনই আমার উপর ভর করে। এমনকি সেটা অনেকদিন আমার মধ্যে থেকেও যায়।

আনন্দ আলো: আপনি নিজে নাটক দেখেন?

মম: সময় পেলেই টিভি দেখি। তবে নিজের কাজটা আগে দেখার চেষ্টা করি। নিজের নাটক নিজে যদি না দেখি, তাহলে তো ভুল খুঁজে বের করতে পারবো না। আর একজন অভিনয় শিল্পীর নিজের কাজ দেখে সেখান থেকে ভুল বের করে পরবর্তীতে সেটা সুদরিয়ে নেয়াটাই জরুরি বলে মনেকরি। এখানে একটি মজার কথা বলি- আমার নিজের খুব কম কাজই ভালো লাগে। প্রতিটি কাজই দেখে মনে হয়- ইস! এটা তো ঠিক হয়নি, এই ক্লোজটার সময় চোখের চাহনিটা ঠিক করা উচিত ছিলো, হাটাটা ঠিক হয়নি-এমন নানান বিষয় প্রতিটি নাটক দেখলেই মনে হয়। তারপরও আমাদের অনেক কিছু মেনে নিয়েই করতে হয়। এই মেনে নেয়ার মানসিকতার কারনে প্রোডাকশনের কোয়ালিটি খারাপ হচ্ছে। প্রায়শই দেখি একটি শট দিলাম, আর পরিচালক বললেন- ‘ওকে’। কিন্তু আমার মন বলছিলো শটটি পারফেক্ট হয়নি। আরেকবার দিলে ভালো হতো। কিন্তু পরিচালক যখন বলে দিলো ‘ওকে’ তাহলে আমার তো কিছুই করার নেই।

আনন্দ আলো: নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কী আপনাকে আর দেখা যাবে?

Momo-3-4মম: চলচ্চিত্র নিয়ে বলার মতো কিংবা অভিনয় করার মতো আমি কি যোগ্য? বোধকরি না। আমাদের এখানে চলচ্চিত্রের আলাদা ভাষা সৃষ্টি হয়েছে। আলাদা ইঙ্গিতও আছে। সেটা নিয়ে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ কথা না বলাই ভালো। সবাই আসলে সবকিছু দেখে, বুঝে। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। বললে দেখা গেছে, তার কাঁধে ঝামেলা আসবে, তাই ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই কিছু বলে না। দারুচিনি দ্বীপের পর দু’টি ছবিতে অভিনয় করেছি। কতটুকু কি পেরেছি সেটা দর্শকই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি যা বোঝার বুঝেছি। আপাতত চলচ্চিত্র নিয়ে আমার এতটুকুই বক্তব্য।

আনন্দ আলো: আপনার নিজস্ব জগৎটা কেমন?

মম: আমি সবসময় একটা ঘোরের মধ্যে থাকি। বৃষ্টি আমাকে খুব কাছে টানে। ভালো লাগে প্রকৃতি। আকাশের বিশালতা, পাহাড়ের উচ্চতা কিংবা সমুদ্রের গভীরতায় আমি হারিয়ে যাই বার বার। বাস্তবতার পাশাপাশি এই একটা ঘোর লাগা জগৎ আছে আমার। সেটা আসলে কাউকে বলে বুঝাতে পারবো না। আমি আমার প্রফেশনটাকে খুব ভালোবাসি। অভিনয় আমার অসম্ভব ভালো লাগার একটি বিষয়। অভিনয়ের মধ্যে আমি আমার অস্তিত্ব অনুভব করি। ক্যামেরা রোলিং-এর সাথে সাথে আমার ভেতরে একটা এনার্জি কাজ করে। আমার এই শক্তিটাই বোধহয় দর্শক পর্যন্ত যায় বলে সেটা তাদের কাছে অভিনয় হয়ে ওঠে এবং তাদের কাছে ভালো লাগে। আমি আসলে এই ঘোরের মধ্যেই থাকতে চাই।

আনন্দ আলো: প্রেম আপনার কাছে কী?

মম: কোনো মানুষের জন্য কিংবা বস্তুর জন্য মনের মধ্যে একপ্রকার শিহরণ হওয়াটা আমার কাছে প্রেম। প্রেমটা যে শুধু মানব-মানবীর মধ্যেই হবে এমনটি কথা নেই। যদি মানুষের ক্ষেত্রেই বলা হয় তাহলে বলবো- যার জন্য শিহরণ হচ্ছে তাকে বলতে পারার মধ্যবর্তী সময়টায় যে অনুভূতি সেটাই আমার কাছে প্রেম। যে মানুষটার জন্য প্রেম তার ছবি প্রতিনিয়ত চোখে ভেসে ওঠা, পরিচিত সেই গন্ধ, পরিচিত শব্দ যখন কোনো মুহূর্তকে খুঁজে পায় সেটাই আমার কাছে প্রেম। প্রেমের তো আসলে নির্দিষ্ট করে কোনো সংজ্ঞা নেই। একেক জনের কাছে একেক রকম সংজ্ঞা। এটা একটা অনুভূতি। যে অনুভূতিটা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, আবার দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। তবে অবশ্যই সেখানে ভালো লাগা থাকতে হবে। প্রেম কখনো জোর করে কিংবা চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়।

আনন্দ আলো: আপনার কাছে বন্ধুত্ব কী? বন্ধুত্ব আসলে টিকে থাকে কিসে?

মম: বন্ধুত্ব হতে হবে খোলা বইয়ের পাতার মতো। যখন ইচ্ছে হবে তখনই যেনো পড়তে পারি। আর বন্ধুত্ব টিকে থাকে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতার উপর। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আস্থা হারিয়ে ফেললে বন্ধুত্ব টিকবে না। কাউকে বিশ্বাস না করতে পারলেও বন্ধুত্ব হবে না। তার প্রতি আমার ভালোলাগা থাকতে হবে। বন্ধুত্ব আসলে মেনটেইন করতে হয় এবং বন্ধুত্বের মধ্যে রেসপনসিবিলিটি থাকতে হয়।

আনন্দ আলো: নিজের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কী?

মম: ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কোনো চিন্তাই করি না। আমি মনে করি বর্তমানটা ঠিকঠাক মতো পরিচর্চা করে চলতে পারলেই ভবিষ্যৎ ভালো হয়ে যায়। এই মুহূর্তের কথাটাই সত্যি, এই মুহূর্তের কাজটাই সত্যি, এই মুহূর্তে যে মানুষটার সাথে আছি, যেমন আছি এটাই সত্যি। এটাই ভালো লাগা।

শাবনুর ও পূর্ণিমা এই আছি এই নাই…

শাবনূর ও পূর্ণিমা একটা সময় আমাদের চলচ্চিত্রের নির্ভরযোগ্য তারকা ছিলেন। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় তারা রাজত্ব করেছেন। উপহার দিয়েছেন অসংখ্য শিল্পমান সম্পন্ন জনপ্রিয় ছবি। বিশেষ করে বানিজ্যিক চলচ্চিত্রে এই দুই তারকার গ্রহনযোগ্যতা এখনও ঈষর্নীয়। কিন্তু গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই দুই তারকা চলচ্চিত্র থেকে প্রায় ছিটকে পরেছেন তাদের পারিবারিক নানান ঝুট ঝামেলায়। যদিও শাবনূরের হাতে আছে নির্মাণ পর্যায়ে প্রায় ৫টি ছবি। অন্যদিকে পূর্ণিমার হাতে রয়েছে রয়েছে মাত্র একটি ছবি। তার কাছে প্রতিনিয়ত ছবির অফার নিয়ে যাচ্ছেন নির্মাতারা। কিন্তু পূর্ণিমা নির্মাতাদের সবিনয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তবে কী কারনে ছবির অফার ফিরিয়ে দিচ্ছেন সেটা বলছেন না।  শাবনূর গত ৫/৭ বছর ধরে অভিনয়ের ফাঁকে ফাঁকে অষ্ট্রেলিয়া যাওয়া আসা করছেন। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর আমাদের চলচ্চিত্র পাড়ায় চাউর হয় তিনি বিয়ে করেছেন। দেশে আসার পর তাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেশ করলে বেমালুম এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন। এসব ডাহা মিথ্যা। দুই বছর আগে হঠাৎ ছবির কাজ ফেলে চলে যান অষ্ট্রেলিয়ায়। ওই সময় ঢাকায় খবর আসে শাবনূর ছেলে সন্তানের মা হয়েছেন। অনেক জল্পনা কল্পনার পর তিনি দেশে আসেন ছেলে আইজানকে সঙ্গে নিয়ে। ঘোষনা দেন ছেলের বয়স ছয় মাস হলে আবার নিয়মিত ছবি করবেন। এ আনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর কথা কিন্তু সেই ঘোষনা অনুযায়ী ছবির কাজ শুরু করতে পারেননি তিনি। অথচ তার হাতে যে ৫টি ছবি নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে তারও বয়স তিন বছরের বেশি। একেকটি ছবির বাজেট কোটি টাকা। এই বিপুল অংকের টাকার ছবি শুধুমাত্র শাবনূরের কারনে আটকে আছে। দীর্ঘদিন আগের এইসব ছবির গল্প পাত্র পাত্রী সহ সবকিছুই এখন পুরনো। তাই এই ছবি গুলো নিয়ে মহা চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এর প্রযোজকরা।  বার বার সিডিউল দেয়ার পর সম্প্রতি তিনি বদিউল আলম খোকনের ‘পাগল মানুষ’ ছবির শূটিং করেছেন। কয়েকটি সিডিউলের কাজ করার পর তিনি আর শূটিং করবেন না বলে ঘোষনা দিয়েছেন।  এর কারন হিসেবে বলেছেন, সন্তান হওয়ার পর তার শরীর যে ভাবে মুটিয়ে গেছে তাতে শূটিং করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন। এখন দরকার ফিগার সুন্দর করে গড়ে তোলা।  শাবনূর এ মাসেই আবার অষ্ট্রেলিয়া যাবেন বলে জানিয়েছেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তার হাতের ছবি গুলোর কাজ শেষ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমানে শাবনূরের হাতে আছে বদিউল আলম খোকনের ‘পাগল মানুষ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘অবুঝ ভালোবাসা, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘এমনও তো প্রেম হয়, নজরুল ইসলাম খানের ‘স্বপ্নের বিদেশ’ এবং সালাউদ্দিন লাভলুর একটি ছবিতে কাজ করার কথা রয়েছে তার।  নির্মাতারা বলছেন, শাবনূর অভিনীত নির্মাণ পর্যায়ে যে সব ছবি রয়েছে তার গল্প, পোষাক, চরিত্র সহ সার্বিক প্রেক্ষাপটই পরিবর্তন হয়েছে। এমন কী শাবনূরের চেহারায়ও পরিবর্তন এসেছে। তাই আগের শূটিং এর অংশের সঙ্গে বর্তমানের কাজের অংশ মিলবে না। এই ছবি গুলো মুক্তি পাওয়ার পর তার ফলাফল কী হবে সেটা নিয়ে প্রযোজকরা বেশ সংশয়ে আছেন।  এদিকে পূর্নিমার হাতে একটি মাত্র ছবি রয়েছে যেটি মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালনা করছেন। শাবনূরের মতো পুর্ণিমারও সন্তান হওয়ার কারনে ছবির কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে অনেক দিন। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন বলে বার বার ঘোষনা দেওয়ার পর তিনি চলচ্চিত্রে ফিরে আসতে পারেননি। এতে প্রযোজকরা আশ্বস্থ হতে পারছেনা কারন এর আগেও শাবনূর অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে কথা দিয়েছিলেন খুব তারাতাড়ি ক্যামেরার সামনে দাড়াবেন কিন্তু কথা রাখতে পারেননি। কিন্তু চলচ্চিত্রে ফিরে আসার ঘোষনা দেওয়ার পর অনেক নির্মাতা পূর্ণিমাকে নিয়ে ছবি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে পূর্ণিমা তেমন সাড়া দিচ্ছেন না। তবে মডেলিং করার ব্যাপারে তার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন।  শাবনূর ও পূর্ণিমা দু’জনই নি:সন্দেহে চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল  ছবির তারকা। এখন চলচ্চিত্রের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। এই সুসময়ে যদি তারা আগের মতো নিয়মিত ভাবে কাজ করেন তবে চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থা আরো ভালো হবে বলে সবার বিশ্বাস। শাবনূর ও পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে ফিরে আসার ব্যাপারে কথা বলেন প্রযোজক সমিতির সমন্বয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম খোরশেদ।  ২০ ছবির এই প্রযোজক বলেন, একটা সময় শাবনূর ও পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে ফিরে আসা খুবই দরকার ছিল। গত ২/৩ বছর ছবির যখন চরম মন্দা যাচ্ছিল তখন নির্মাতারা বাজার কাটতি এই দুই নায়িকার অভাব বোধ করেছেন দারুন ভাবে। ওই সময় যদি তারা দু’জন নিয়মিত ছবি করতেন তা হলে হয়তো চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থা এতটা খারাপ হতো না। এখন নির্মাতারা নতুনদের অনেক কষ্ট করে গড়ে নিয়েছেন। তাদের নিয়ে ছবি করে সাফল্যও পাচ্ছেন। এসময়ে যদি শাবনূর ও পূর্ণিমা তাদের হাতের ছবি গুলো শেষ করেন তাহলে প্রযোজকরা খুবই উপকৃত হবেন। সেই সঙ্গে এই দুই তারকা যদি আবার নিয়মিত ভাবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তবে চলচ্চিত্রের রমরমা অবস্থা হয়তো আবার ফিরে আসবে।

অব দ্য রেকর্ড

Shakib-Khan

নায়কের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না!
অলীক পরিচালিত আরো ভালোবাসবো তোমায় মুক্তি পেয়েছে ১৪ আগষ্ট। ছবিটি প্রথম দুই দিন ভালো রিসিপশন পায়। যে সব হলে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে সেখানে হাউজফুল বোর্ডও ঝুলেছে। তৃতীয় দিন থেকে এ ছবির দর্শক কমতে থাকে অর্থাৎ সেলও কমে যায়। মোটকথা আরো ভালোবাসবো তোমায় আশানুরুপ ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়। চলচ্চিত্র ব্যবসায় একটি বিষয় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ তাহলো দর্শক যখন একটি ছবি ভালো লাগা নিয়ে একাধিকবার দেখে তখন সেই ছবি হয় সুপারহিট। কিন্তু প্রথম  দু’দিন দশর্করা ছবিটি দেখার পর আর হল মুখি হয়নি। ব্যবসা না করাব কারণ হিসেবে জানাগেছে ছবির শেষ দৃশ্যে নায়ক শাকিব ও নায়িকা পরীমনিকে মেরে ফেলা হয়। আসলে দর্শকরা তাদের প্রিয় তারকাকে কখনো পর্দায় মৃত দেখতে চায় না। এই মনসতাত্বিক বিষয়টি আমাদের চলচ্চিত্রে মিথ-এর মতো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  দশর্কদের এমন জোরালো বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন ছবির নায়ক শাকিব খান। তিনি বলেছেন ছবিতে নায়কের মৃত্যু কোনো ভাবেই দর্শকরা মেনে নেয়নি। বরাবরই ছবিতে প্রিয় নায়ক নায়িকার মৃত্যুতে দর্শক আহত হয়। তিনি ছবির পরিচালক ও প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, ছবিতে নায়ক নায়িকার মৃত্যু ঘটিয়ে তারা ছবির ব্যবসাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিয়েছেন।

এ কেমন মিথ্যাচার!
Nusrat-Fariaনুসরাত ফারিয়া অভিনীত জাজ মাল্টি মিডিয়ার এই ছবির নাম আশিকি। ভারত বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার এ ছবিতে ফারিয়ার বিপরীতে অভিনয় করছেন কলকাতার নায়ক অঙ্কুশ।  সম্প্রতি আশিকির একটি গান প্রকাশ পেয়েছে ইউটিউবে। ধ্র“পদী নৃত্যের এ গানটিতে পারফর্ম করেছেন ফারিয়া ও অঙ্কুশ। গানটি প্রকাশ পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে ইউটিউবে প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শক দেখেছে। কিন্তু ফারিয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন গানটি চার দিনের মধ্যে চার লাখ দর্শক দেখেছে। এই খবর বাংলাদেশের প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পায়। কিন্তু এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইউটিউবে ১০ দিন পর চেক করে দেখা যায় গানটি দেখেছে মাত্র ১ লাখের কিছু বেশি দর্শক। ফারিয়ার এমন মিথ্যাচারে খুশি হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টি মিডিয়া। তবে তার ভক্ত দর্শকরা ইউটিউবের এই গানটি দেখে ফেসবুকে ফারিয়ার ফ্যান পেজে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। সেখানে তারা লিখেছেন গানটি ছবির নায়ক অঙ্কুশের লিপসে স্যুট করা হয়েছে এবং এখানে ফারিয়াকে গৌন ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া গানে ফারিয়ার মাত্র কযেকটি ক্লোজ শট নেয়া হয়েছে। না হলে বোঝা মুশকিল ছিল এই নায়িকা ফারিয়া।  খবর আরো আছে, ফারিয়া এমন এক সময় জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবির নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন যখন নায়িকা মাহিয়া মাহি এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন নানান কারনে। গত রোজার ঈদে মাহি অভিনীত অগ্নি টু সুপারহিট ব্যবসা করার পর জাজ-এর ঘরে আবার আগের মতো নিজের হট সিটে বসেছেন মাহি। বলাই বাহুল্য এক বনে যেমন দুই রাজা থাকে না তেমনি দুই রানীও থাকার কথা নয়। তাই যে কোনো সময় ফারিয়া জাজ থেকে ছিটকে পড়তে পারেন।

পরোপকারী জায়েদ
Jayed-Khan-(4)নায়ক জায়েদ খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন প্রায় এক দশক ধরে। ছবিতে তৃতীয় থেকে প্রথম সারির নায়ক হওয়ার তকমা আছে তার গায়ে। কিন্তু কেন জানি জায়েদ নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। প্রতিনিয়ত তিনি নিজেকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছেন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। বেশির ভাগ নির্মাতা মনে করেন জায়েদ অভিনয় ভালো করেন আচার ব্যবহারও চমৎকার তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। এক কথায় জায়েদ খান ম্যানলী নন। কিন্তু নায়কদের স্মার্ট ও পৌরষদীপ্ত হতে হয়। কিন্তু জায়েদের মধ্যে সেটা নেই।  জায়েদের এই আচরন নিমার্তাদের পছন্দ না হলে কী হবে নায়িকারা তাকে খুব কাছের মানুষ বলে মনে করেন।। শাবনূর পপি, পরীমনি থেকে শুরু করে অনেক নায়িকার প্রিয় ও আস্থা ভাজন নায়ক জায়েদ খান। বরাবরই তিনি কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা চলচ্চিত্রের পাটির্তে নায়িকাদের সঙ্গে উপস্থিত হচ্ছেন ফুলের তোড়া হাতে। ফুলের তোড়া নায়িকাদের হয়ে কিনে আনার দায়িত্বও হাসি মুখে নেন তিনি। শুধু তাই নয় গভীর রাতে নায়িকাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার  ব্যাপারে তাকে বলতে হয়না। তার এই ব্যবহারে মুগ্ধ অনেক তারকা নায়িকা। তারা খুব ভালো করেই জানেন জায়দ খান আর যাই হোক তাদের জন্য কোনো ভাবেই ঝুকি পূর্ণ নন তা যত রাতই হোক বা যত একাকী তারা থাকুন না কেন।

নায়িকা অতীত এবং বর্তমান!
Porimoniবর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নায়িকা পরীমনি। গত এক মাসের ব্যবধানে তার ২টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ব্যবসা যাই হোক পরীমনি কিন্তু আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। বিশেষ করে পর্দার বাইরে শূটিং স্পটে তার সঙ্গে যারা কাজ করেন তাদের কাছে।  পরীমনির চলচ্চিত্রে অভিনয়ের দুই বছর পার হয়েছে। এই সময়ে প্রায় একডজন ছবিতে চুক্তি বদ্ধ হয়েছেন। যে গুলোর কাজ করতে গিয়ে গত দেড় বছরে তার ব্যবহার নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি। বরাবরই তিনি সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেনছেন। সিনিয়রদের দেখলে যেমন সম্মান করতেন জুনিয়রদের দেখলে হাসি মুখে কথা বলতেন। গত ৭/৮ মাস ধরে যেন পরীমনি অন্য মানুষ হয়ে গেছেন। সব সময় খিটখিটে মেজাজ করেন। এক কথা দুইবার জিজ্ঞেস করলেই উত্তেজিত হয়ে যান। এখন সিনিয়রদের দেখলে সম্মান দেখাননা জুনিয়রদের সঙ্গে কথাই বলেন না। ছবির সেটে আসার পর তার দাপটে কাঁপতে থাকে প্রোডাকশন বয়রা। চা বা কফি চাওয়া মাত্র হাতের কাছে না পেলে অশ্রাব্য গালা গাল দেন। কখনো কখনো মা মাসি তুলে গাল দিতে ভুলেন না পরী। এখন অনেক প্রোডাকশন বয় পরীমনি থাকলে কাজ করতে চায় না। নায়িকা বলে তার কথায় প্রতিবাদ ও করতে পারে না কোনো বয় বেয়ারা।  হঠাৎ করে পরীমনির এই পরিবর্তন কেন এর কারন খুঁজছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন মা বাবা হারা এই নায়িকা খুবই আবেগ প্রবন এবং অল্পতে রেগে যান। তাছাড়া কোনো কারনে মানসিক চাপে হয়তো এরকম ব্যবহার করছেন। তবে মানসিক চাপ হোক আর অসুস্থই হোক, পরীমনির বোঝা উচিৎ তিনি এই মুহ‚র্তে চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত নায়িকা। আগামী দিনে নাম্বার ওয়ান নায়িকা হওয়ার পথে তিনিই সবার চেয়ে এগিয়ে। তাই শুটিং ক্রু বা বয়দের সঙ্গে এধরনের আচরন কোনো ভাবেই কাম্য নয়।

শাবনূরের মশকরা
Cinema_11_8-1শাবনূর কোরবানীর ঈদের আগেই অস্ট্রেলিয়া চলে যাবেন এটা ফাইনাল। কবে ফিরে আসবেন সেটা তিনি নিজেও বলতে পারছেন না। হাতে যে হাফডান ছবি রয়েছে সেগুলোর ভবিষৎ অনিশ্চিত। শাবনূর বলেছেন দেশে গত আট মাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খেয়ে খেয়ে মোটা হওয়ার কারনে নির্মিতব্য ছবি গুলোর কাজ শেষ করতে পারলাম না এবং নতুন ছবিও হাতে নিতে পারলাম না। দেশে যতদিন থাকব ততদিন খেয়ে খেয়ে শুধু মোটা হয়ে যাবো। তাই ওজন কমিয়ে আগের মতো হতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি। শাবনূরের এ ধরনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রযোজক পরিচালকরা অত্যন্ত আহত হয়েছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন শাবনূর একসময় আমাদের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবির নায়িকা ছিলেন। তিনি একজন কমিটেউ আটিষ্ট, তিনি এভাবে অবিবেচকের মতো কথা বলতে পারেন না। একজন সচেতন অভিনেত্রী হয়ে কী ভাবে বলেন খেয়ে খেয়ে মোট হচ্ছি তাই ি ম হতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি। তিনি কী আমাদের চলচ্চিত্রের সঙ্গে মশকরা করছেন। যে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি তাকে জশ খ্যাতি, অর্থবিত্ত দিয়ে খ্যাতিমান করেছে সেই জগতের প্রতি কী তার বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা নেই। এই ক্ষোভের কথা শোনার পর শাবনূর কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি।  শাবনূরের সর্বশেষ সংবাদ কেন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন তড়ি ঘড়ি করে। শাবনূর অস্ট্রেলিয়া থেকে ছেলে আইজানকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন প্রায় আট মাস হলো। এই দীর্ঘ সময়ে তার স্বামী অনীককে একবারও দেখা যায়নি শাবনূরের পাশে। এমন কী ছেলে আইজানকেও দেখতে অসেনি অনীক। জানা গেছে স্বামীর সঙ্গে শাবনূরের দাম্পত কলহ চলছে। যে কোনো মুহ‚র্তে তাদের বিচ্ছেদ হতে পারে।

মধুর আমার মায়ের হাসি…

চন্দনা মজুমদার। আমাদের সঙ্গীত জগতে অতি পরিচিত এক নাম। পল­ীগীতি ও লালনের গানের এ শিল্পী একটু নিভৃতেই তার সঙ্গীত সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন বহুদিন এবং সেটাই তাঁর পছন্দ। তাঁর স্বামী কিরণ চন্দ্র রায়ও একজন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী। চন্দনা মজুমদারের গানের সুরের মতোই উজ্জ্বল উচ্ছল তাঁর মেয়ে শতাব্দী রায় পিংকি। মা মেয়েকে আনন্দ আলো একদিন মুখোমুখি আড্ডায় বসিয়েছিল। ব্যস জমে গেল মা-মেয়ের মধুর আড্ডা। সেই প্রাণবন্ত আড্ডার বয়ান নিয়েই এই প্রতিবেদন। লিখেছেন- মোহাম্মদ তারেক
আনন্দ আলো: মা চন্দনা মজুমদার এবং মেয়ে শতাব্দী রায় পরস্পরের কাছে কে কেমন?
চন্দনা মজুমদার: আমরা দু’জন পরস্পর বন্ধুর মতো। মেয়েকে আমি মাতৃত্ব স্নেহ দিয়ে এখনও আগলে রেখেছি। শাসন, অনুশাসন, ভালোবাসা, রাগ, অনুরাগ, আদর, সোহাগ প্রতিটি ব্যাপারেই মেয়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা। একজন বন্ধু যেমন আরেক জন বন্ধুকে বুঝে, ভালোবাসে ঠিক তেমনি আমাদের মধ্যেও সেই সম্পর্ক। মা-মেয়ে দু’জনই একই প্রফেশনে আছি। আমি গানকরি, শতাব্দীও গান করে।
শতাব্দী রায় পিংকি: আমার মা খুবই দায়িত্বশীল, স্নেহময়ী একজন মা। আমরা পরস্পর ভালো বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই মায়ের সাজ গোজের জিনিস আগে আমি ব্যবহার করতাম। তারপর মা ব্যবহার করতেন। আমার জন্য মা কোনোদিনও শখ করে নতুন জিনিস ব্যবহার করতে পারতেন না। আমিও মাকে রেখে কোনোদিন নতুন শাড়ি পড়িনি। আগে নতুন শাড়ি মা পড়বে তারপরে আমি পড়ব। গান নিয়ে, ঘর গছানো নিয়ে মায়ের সাথে আমার ঝগড়া লেগেই থাকত। মা তো চন্দনা পাখি সারাদিন কিচির মিচির করতেই থাকে।
আনন্দ আলো: মায়ের শাসন আর মেয়ের জ্বালাতন এ সর্ম্পকে কার কী অভিমত?
চন্দনা মজুমদার: মেয়ের জ্বালাতন বলতে নেই। আমার মেয়েটা খুবই লক্ষী। ও খুব একটা জ্বালাতন করেনি। এখন করে না। কোনো কোনো সময় ওর উপর রাগ হয়। এক সময় শতাব্দী বুঝতে পারে মায়ের রাগ করাটা প্রয়োজন ছিল। সবচাইতে ভালো লাগে ও বোঝার চেষ্টা করে।
শতাব্দী রায় পিংকি: শাসন তো অবশ্যই চাই। শাসন না করলে তো সামনের দিকে এগোতে পারব না। আমার কোনো কিছুতে ভুল হলে আম্মু আমাকে বকা দেয়। বুঝি সেটা আমার ভালোর জন্যই দেয়।
আনন্দ আলো: আপনাদের গানের জগতে বাবা-মায়ের প্রভাব কতটুকু?  চন্দনা মুজমদার: আমার জন্ম সঙ্গীত পরিবারেই এবং সঙ্গীতের মধ্য দিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। আমার বাবা বাংলাদেশের অত্যন্ত গুণী একজন শিল্পী নির্মল চন্দ্র মজুমদার। রেডিও এবং টেলিভিশনের সাথে যুক্ত আছেন লোক সঙ্গীত লালন সঙ্গীত নিয়েই গান করে আসছেন, এখনও গাইছেন। বাবার কাছেই মূলত হাতে খড়ি। তবে বাবার খুব ইচ্ছে ছিল তিনি যেহেতু লোকসঙ্গীত করেন তার মেয়ে যেন একটু ক্ল্যাসিক এবং নজরুল সঙ্গীতে অনুরক্ত হয়। আমার শুরুটা অবশ্য ক্ল্যাসিক এবং নজরুল সঙ্গীত দিয়েই। আমার জন্ম কুষ্টিয়ায়, লালনের দেশে। কিন্তু বাবার চাকরি সুবাদে ঢাকায় থাকতাম আমরা। আমার গান শেখার কালটা বেশি কেটেছে রামপুরায়। নরুলের গান করতে করতেই আমি একসময় লালনের গানের প্রতি প্রচন্ড ভাবে আকৃষ্ট হই। আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই আমাদের লালনের গানের বিশিষ্ট শিল্পীÐ ফরিদা পারভীনের কথা। তাঁর কণ্ঠে ওই অল্প বয়সেই যখন লালনের গান শুনি তখন আমার মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। রেডিওতে তখন দিনে দু-তিনবারও তাঁর গাওয়া লালনের গান বাজানো হতো। তখন আমি শুধু গানের কথাগুলো সংগ্রহ করতাম, সুর শুনে শুনে সহজেই আমার মুখস্থ হয়ে যেত। তারপর আস্তে আস্তে আমি লালনের গানে ঢুকে গেলাম। বাবাও দেখলেন তার মেয়ে লালনের গানের ভক্ত হয়ে যাচ্ছে। তখন আমি লালনের গানের গুরু হিসেবে পেয়ে গেলাম মরহুম মোকসেদ আলী সাঁইকে। তিনি ফরিদা পারভীনের গুরু। লালনের গানে আমার প্রথম হাতে খড়ি তার কাছেই। তারপর আমি পেলাম খোদাবক্স সাঁইকে। র্দীঘদিন তাঁর কাছে গান শেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
শতাব্দী রায় পিংকি: ছোটবেলায় আমি গান করতাম বাবা-মা কখনোই জানতেন না। উনারা গান বাজনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আমি গান গাইব সেরকম কোনো ইচ্ছাও ছিল না। পড়াশোনার প্রতি আমার দূবর্লতা ছিল অনেক বেশি। আমি যে গান করতে পারি প্রথম খেয়াল করেছিলেন আমার দাদী। দাদী আমার গানের খবরটা বাবা-মাকে দেন। বাবা-মা দু’জনই যখন কোনো প্রোগ্রামে চলে যেত তখন আমি চুরি করে হারমোনিয়াম তানপুড়া নিয়ে বসে পড়তাম। আমি প্রথম গান শিখি তানপুড়া দিয়ে। এরপর বাবা মার কাছে শিক্ষাটা নেই। আমার সঙ্গীতে হাতে খড়ি মায়ের কাছে। বাবা খুব একটা জোর করতেন না। কিন্তু মা সব সময় জোর করে হলেও আমাকে গাইতে বসাতেন। সঙ্গীতে আমার ক্ষেত্রে মায়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তবে 01_2বাবাার অবদান ফেলে দেয়া যাবে না। ছোটবেলায় দেখতাম বাবা গান করতেন রেওয়াজ করতেন। এ বিষয়টি আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায়।
আনন্দ আলো: মায়ের কাছে মেয়ের কোন গানটি আর মেয়ের কাছে মায়ের কোন গানটি প্রিয়?
চন্দনা মজুমদার: ‘আমার মুর্শিদ পরশমনিরে লোহারে বানাইলা কাঁচা সোনা’ শতাব্দির কণ্ঠে এই গানটি আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয়।
শতাব্দী রায় পিংকি: মায়ের গাওয়া ‘যাও পাখি বল তারে’, ‘আর আমারে মারিস না মা’, ‘গুরু আমারে কি রাখবেন করে চরণও দাসী’, এই গান গুলো খুব ভালো লাগে। আর বাবার সব গানই আমার ভালো লাগে। বাবার গাওয়া ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, আমার হাত বান্দিলাম পা বান্দিলাম গানদুটি আমার খুবই প্রিয়।
আনন্দ আলো: মেয়ের ভালো-মন্দ দিক নিয়ে কিছু বলুন?
চন্দনা মজুমদার: শতাব্দীর ভালো গুণ গুলো বেশি। সৃষ্টিকর্তা তাকে গানের একটা প্রতিভা দিয়েছেন। ও যেন এটাকে সাধনার মাধ্যমে টিকিয়ে রাখে এবং আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেটা আমার প্রার্থনা। শতাব্দীর মন্দ দিক হচ্ছে ও গানের প্রতি একটু অমনোযোগী। আমি যেভাবে প্রাকটিস করতে বসি ও সেভাবে বসে না। ও ঘুম থেকে সময়মতো উঠে না। খাওয়া-দাওয়া নিয়ে একটু সমস্যা করে।
শতাব্দী রায় পিংকি: মা অনেক সহজ মানুষ। তাকে বুঝতে অসুবিধা হয় না। সবার সাথে সহজেই মিশে যায়। অহংকার বলতে নেই। মা সবাইকে নিয়ে আনন্দে থাকতে ভালোবাসেন। কেউ কোনোদিন তার কাছ থেকে অসম্মান পায়নি। সবাইকে আদর করে। মায়ের এই গুণটা আমার অনেক ভালো লাগে।
আনন্দ আলো: মা-মেয়ের একসঙ্গে স্মৃতিময় কোনো ঘটনা?
চন্দনা মজুমদার: ২০০৯ সালে আমরা সবাই মিলে একবার চায়নাতে প্রোগ্রাম করতে গিয়েছিলাম। মেয়ের বাবা কিরণ চন্দ্ররায়ও ছিলেন। সেখানে আমরা গ্রেটওয়াল দেখতে গেলাম। সেখানে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়। যেটা ছিল ঢাল সিঁড়ির মতো মেয়ে টপাটপ উপরে উঠে যাচ্ছে আর আমি একদম পেছনে পরে আছি। আমার পেছনে আছে ওর বাবা। এদিকে আমি উপরে উঠতে না পেরে মেয়েকে বললামÐ আমার হাতটা ধর। ও হেসেই অস্থির। একটা সময় দেখলাম ও গ্রেটওয়ালের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠে গেছে। আমরা কিন্তু শেষ মাথায় যেতে পারলাম না। ও আমাদেরকে ডাকছে। আমরা বেশ কিছুটা দূরে থাকলাম। সেটা আমার জীবনে আনন্দের একটা স্মৃতি।
শতাব্দী রায় পিংকি: মা আমাকে দেখতে একবার কলকাতায় গিয়েছিলেন। এয়ারপোর্টে ফ্লাইট  থেকে নেমে প্রথমেই মা আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে লাগলেন। ওই সময় আশে পাশের লোকজন তাকিয়ে দেখছিলেন। তখন আমি ভীষণ লজ্জা পেয়েছিলাম। সেই দিনের সেই ঘটনা এখনো মনে পড়ে।
আনন্দ আলো: গানের পাশাপাশি আপনারা আর কী করছেন?
চন্দনা মজুমদার: বর্তমানে আমি ছায়ানটে লোকসঙ্গীতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি।
শতাব্দী রায় পিংকি: আমি গানের পাশাপাশি শর্টফিল্মের সাথে জড়িত আছি। বর্তমানে লালন সাঁইয়ের ওপর একটি ডকুমেন্টারি করছি।

জনপ্রিয় বিভাগ