Home Blog Page 471

বাইরের টেলিভিশনে হুদাই ফুটানি ছাড়া কিছু নাই! : সোহেল খান  

আনন্দ আলো: আপনি কী খান?

সোহেল খান: আমি ও ঔিইূ

আনন্দ আলো: সোহেল খান নামের অর্থ কী। এই নাম নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট?

সোহেল খান: হ্যাঁ খুব সন্তুষ্ট। এই নামের জন্যই মানুষজন আমাকে চিনে-জানে। আমি মনে করি মা-বাবা আমার সঠিক নামটাই রেখেছেন।

আনন্দ আলো: অভিনয় এলেন কেন?

সোহেল খান: অভিনয়ে আসলাম নাম ফাটানোর জন্যে। খুব নাম ফাটাইতাছি।

আনন্দ আলো: মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বাংলালিংকের ‘ওরে কত কথা বলেরে’ বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়ে বেশ নাম কামিয়েছেন। ওরে কত কথা বলেরে… দুই একটি কথা বলেন তো দেখি!

সোহেল খান: ভাই পেটের ভেতরে অনেক কথা আছে। বলতে শুরু করলে থামাইতে পারবেন না। কাজেই আইজ থাকুক…

আনন্দ আলে: বাংলা সিনেমা দেখেন? দেখলে কেন দেখেন? না দেখলে কেন দেখেন না?

সোহেল খান: আপনে এইডা কি কন? বাংলা সিনেমা দেখি না মানে। মায়ের পেট থেকে বাইর হইয়া যখন অ, আ, ক, খ পড়তে শিখছি তখন থেইকা বাংলা সিনেমা দেখি। বাংলা সিনেমা দেখার একটাই উদ্দেশ্য এখান থেকে অনেক কিছুই শেখার-জানার আছে যা কিনা হিন্দি, উর্দূ,-হলিউড ছবিতে নাই।

আনন্দ আলো: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কৌতুক অভিনেতারা কেন স্বাস্থ্যবান হন?

সোহেল খান: কৌতুক অভিনেতাদের পেট ভরতি কথা থাকে তো সেজন্য তাদের স্বাস্থ্য মোটা।

আনন্দ আলো: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের ‘নূরজাহান’ ধারাবাহিক নাটকে মান্নান মাওলানা নামে একজন মন্দ লোকের চরিত্রে অভিনয় করেন। বাস্তবে যদি মান্নান মাওলানার আগমন ঘটে তখন কি করবেন?

T-20-1-2সোহেল খান: বাস্তবে মান্নান মাওলানার আগমন ঘটুক সেটা আমি কোনদিনই চাই না। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আবেদন ধর্মের লেবাসধারী কুটিল চরিত্র মাওলানা মান্নানের আবির্ভাব যেন এই সোনার বাংলায় না ঘটে আসেন সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।

আনন্দ আলো: দেশের টিভি চ্যানেল দেখেন? দেখলে কেন দেখেন? না দেখলে কেন দেখেন না?

সোহেল খান: দেশের টিভি চ্যানেল অবশ্যই দেখি। আমাদের টেলিভিশন চ্যানেল গুলোর অনুষ্ঠান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, বুঝার আছে। বাইরের টেলিভিশনে শাড়ি, গয়না, আর হুদাই ফুটানি ছাড়া কোনো কিছুই নাই। দেশের মানুষ এখন বুঝতাছে না, যখন বুঝতে পারবে তখন বাইরের টেলিভিশন চ্যানেল বর্জন করবে।

আনন্দ আলো: একদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখলেন আপনার বিছানায় ১ কোটি টাকা পড়ে আছে। এই টাকা দিয়ে কী করবেন?

সোহেল খান: আমার প্রথম টার্গেট থাকবে ১ কোটি টাকা দিয়ে আমি একটা ভালো বাংলা সিনেমা বানাব।

আনন্দ আলো: আপনার অভিনীত প্রাণ ক্যান্ডির বিজ্ঞাপন চিত্রটি এখনো বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে অভিজ্ঞতা কেমন?

সোহেল খান: ওরে কত মজারে। টক ঝাল মিষ্টি। বিজ্ঞাপনের শুটিং করার সময় খেয়েছিলাম।

আনন্দ আলো: সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি…কি বলেন?

সোহেল খান: সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি আমি যেন প্রতিদিন মায়ের মুখখানি দেখি।

আনন্দ আলো: আপনার পরিচালিত একটি ধারাবহিক নাটকের নাম- রাজাপুর। সত্যি সত্যি আপনি একদিন রাজাপুর গ্রামের রাজা হলেন। প্রথম কোন কাজ করবেন?

সোহেল খান: আমি যদি রাজাপুর গ্রামের রাজা হই আমার প্রথম কাজ হবে রাজাপুর গ্রামে মারামারি হানাহানি, নির্যাতন ঝগড়াঝাটি বন্ধ করে দেওয়া। আমরা যেন সবাই এক সথে মিলেমিশে বসবাস করতে পারি। সুন্দর থাকতে পারি এই চেষ্টা থাকবে।

আনন্দ আলো: ‘দেখা হয়নি চক্ষুমেলিয়া’ কি এমন জিনিস দেখা হয়নি?

সোহেল খান: মানুষের জীবন একটা। এক জীবনে অনেক কিছুই দেখা হয়নি। বলে শেষ করা যাবে নারে ভাই…।

আনন্দ আলো: কোনো গ্রামে আপনি শুটিং করতে গেলেন। ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশন বলার সাথে সাথে আপনার সামনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার এসে হাজির। তখন আপনি কী করবেন?

সোহেল খান: পরিচালক ‘কাট’ না বলা পর্যন্ত শুটিং চালিয়ে যাবো। কারন শ্যুটিং এর প্রওয়াজনে পরিচালকই বাঘ এনেছে কাজেই চিন্তা নাই।

আনন্দ আলো: আপনাকে বেশির ভাগ মন্দ মানুষের চরিত্রে দেখা যায় কেন?

সোহেল খান: সত্যিকার অর্থে একটা নাটকে ভালো-মন্দ সব চরিত্রই থাকে। খারাপ চরিত্র কাউকে না কাউকে করতে হবে। আমাকে দিয়ে খারাপ চরিত্র করানো হয় বলেই করি। এটিএম শামসুজ্জামান ভাইকে বরাবরই দেখে আসছি নাটক-সিনেমায় খারাপ চরিত্রে অভিনয় করতে। কিন্তু বাস্তবে উনি অনেক ভালো মানুষ। সুন্দর মনের মানুষ।

আনন্দ আলো: যে কাজটা ভালো পারেন?

সোহেল খান: মানুষকে অনেক ভালোবাসতে পারি।

আনন্দ আলো: যে প্রশ্ন শুনতে শুনতে ক্লান্ত?

সোহেল খান: আমি ভালোনা, আমি ভালোনা, আমি ভালো না।

আনন্দ আলো: আবার যদি তরুণ বয়স ফিরে পান?

সোহেল খান: আমরা যেন মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে পারি। মানুষের সেবা করতে পারি, খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে পারি, খারাপ কোনো নেশার সাথে যেন আমরা জড়িত না হই এটাই হবে আমার প্রথম কাজ।

আনন্দ আলো: আপনার পাঁচটি ভালো গুণের কথা বলুন?

সোহেল খান: আমার পাঁচটি ভালোগুণ- ১. আমার ভেতরে ভালোবাসার কমতি নাই। ২. আমি আমার কষ্টের কথা চেপে রেখেও মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে চেষ্টা করি। ৩. অল্পতেই মানুষকে আমি বিশ্বাস করি। ৪. আমার ধারনা বালো অভিনয় করতে পারি। ৫. সবাইকে অনেক ভালোবাসি।

আনন্দ আলো: আপনার পাঁচটি খারাপগুণের কথা বলুন।

সোহেল খান: আমার পাঁচটি খারাপ গুণ ১. অল্পতেই রেগে যাই। ২. ধৈর্য্যশক্তি খুবই কম। ৩. আমি টাকা পয়সা ধরে রাখতে পারি না। ৪. ক্ষিধা সহ্য করতে পারি না। ৫. কেউ যদি কষ্ট দেয়, সেটাও সহ্য করতে পরি না।

নাফিসার স্থাপত্য ভুবন

স্থাপত্য শিল্পে যারা দেশের জন্য সৃষ্টিশীল কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্যে স্থপতি নাফিসা সুলতানা অন্যতম। বুয়েট থেকে পড়াশোনা করেছেন। পাস করে বের হবার পর ২০০৩ সালে তিনি যোগদেন ‘রাসেল লজ হোল্ডিং’ নামের একটি ফার্মে। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন পাসপোর্ট অফিস সহ বিভিন্ন স্থাপনার ডিজাইন করেছেন। ছবি আঁকাআঁকি ছিল তার পছন্দের বিষয়। গানেও পারদর্শী ছিলেন। ২০০৫ সাল  থেকে এখনো পর্যন্ত স্থাপত্য অধিদপ্তরে সহকারি স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন-মোহাম্মদ তারেক তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় স্থপতি নাফিসা সুলতানা। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায় । কিন্তু বেড়ে ওঠা ঢাকার মহাখালির নিউ ডিওএইচএসএ। নাফিসা সুলতানার বাবার নাম শহীদ লেফটেনেন্ট  মোহাম্মদ সোলেওমান। মা সেলিনা সুলতানা গৃহিনী। স্কুল জীবন থেকে ছবি আঁকাআঁকি করতেন। গান গাওয়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু তিনি হয়েছেন একজন সফল স্থপতি।  হলিক্রস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৫ সালে হলিক্রস কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য
বিভাগে। তার সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে আছেন স্থপতি উর্মি, লিজা, মালিয়া, ফয়সাল ও শাহরিয়ার। এরা সবাই প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেক্ট। প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় আছেন স্থপতি শামসুল ওয়ারেস ও রিয়াদ স্যার।  নাফিসা সুলতানা বুয়েট থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রিলাভ করেন ২০০৩ সালে। পাস করে বের হওয়ার পরই যোগ দেন ‘রাসেল লজ হোল্ডিং’ নামের একটি ফার্মে। সেখানে তিনি এক বছর চাকরি করেন। ২০০৫ সালে স্থপতি নাফিসা সুলতানা যোগ দেন স্থাপত্য অধিদপ্তরে। সেখানে তিনি সহকারী স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  ইতিমধ্যে নাফিসা সুলতানা দেশের নামকরা ফায়ার স্টেশন, ফ্যাক্টরী, হসপিটাল, পাসপোর্ট অফিস বিল্ডিং সহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের কাজ করেছেন। তার উলে­খযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÐ স্থপতি কাজী গোলাম নাসিরের সাথে আগারগাঁও এর পাসপোর্ট অফিসের হেড কোয়াটার, মিরপুর-১০ এর ফায়ার স্টেশনের বার্ণ হসপিটাল,
রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, ফরিদপুর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল এসব জেলা সমূহের পাসপোর্ট অফিসের বিল্ডিং, নরসিংদীর রাসেল লজ হোল্ডিং এর ফার্মাসিউটিক্যাল ফ্যাক্টরী, সুত্রাপুরের পুরাতন জমিদার বাড়ির হ্যারিটেজ ও মিউজিয়ামের রেনুভিশনের কাজ, স্থপতি বিশ্বজিৎ বড় য়ার সাথে ‘র‌্যাব’ এর সাতটি কমপ্লেক্স ভবন সহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের ডি01_01জাইন করেছেন।  এছাড়া বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন নাফিসা। সে গুলো হলো গোটা বাংলাদেশে জেলা-উপজেলায় ১৫৬টি ফায়ার স্টেশন, কক্সবাজার, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ফেনী, ঢাকার উত্তরা ও যাত্রাবাড়ির পাসপোর্ট অফিসের বিল্ডিং ইত্যাদি। নাফিসা সুলতানা তার সব ধরনের কাজ স্থাপত্যনীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন। ২০০৩ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্বামীর নাম মো: রাকিবুল আলম লিমন। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট। এই দম্পতি দুই সন্তানের জনক-জননী।  নাফিসা সুলতানা বলেন, একজন স্থপতি হিসেবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমূহের ডিজাইন করার জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরে যোগদান করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। এ অধিদপ্তরে কাজ করার মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করার স্পৃহা সব সময় কাজ করে আমার মধ্যে। ফলে নকশা প্রনয়নের সময় এমন একটি ভবনের কথা চিন্তা করি যাতে সাধারণ মানুষ এসে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে এবং ভবনের ব্যবহারিক দিক তাদের জন্য সাবলীল হয়ে ওঠে। এছাড়াও ভবনের নান্দনিকতা ও কার্যকারীতার সাথে পারিপাশ্বিক পরিবেশও যাতে মানুষের মন ছুঁয়ে যায় সেদিক চিন্তা করে সাইটে খোলা জায়গা সমূহে সবুজের সমারোহ, গাছপালা, ফুলের বাগান রাখার চেষ্টা করি। এক কথায় প্রাকৃতিক আলো, বাতাস, গাছপালা সবুজের সমারোহের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নকশা করার প্রয়াস থাকে।  সরকারি দায়িত্ব পালনে পেশার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে স্থপতি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে চেষ্টা করি।  বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি নাফিসা সুলতানা।  স্থাপত্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সর্ম্পকে স্থপতি নাফিসা সুলতানা বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমূহের নকশা সমূহ সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিয়মের মাঝে থেকেও ব্যতিক্রম করে কার্যকর ও নান্দনিক ভাবে জনগনের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা এবং কাজের মাধ্যমে স্থাপত্য অধিদপ্তরের জন্য সম্মান বয়ে আনা।  এছাড়াও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নান্দনিক কার্যকর স্থান  সমূহ তৈরি করার কাজে সরকারকে সহায়তা প্রদান।

ষষ্ঠ বর্ষে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন  বসেছিল মিলনমেলা

প্রকৃতিপ্রেমীদের মেলা বসেছিল সেদিন চ্যানেল আই এর ছাদ বারান্দায়। পরিবেশ রক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর পরিবেশ পদক-২০১৫ প্রাপ্তি এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে মূলতঃ এই মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যার পর পরই দেশের বিশিষ্টজনেরা একে একে চ্যানেল আই এর বারান্দায় উপস্থিত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে শুরু হয় মিলন মেলার আনন্দ মুখর কার্যক্রম। অতিথিবৃন্দের আলোচনা, বড় পর্দায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম প্রর্দশন, এবং সঙ্গীতের মূচ্ছর্¦নায় প্রায় ৩ ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি ভালোলাগার আনন্দ সাগরে ভাসিয়ে নেয় অতিথিদের। প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা, নদী বিষেজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, পাখি প্রেমী ইনাম আল হক, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী, কথাসাহিত্যিক বিপ্রদাশ বড় ুয়া, ইমদাদুল হক মিলন, সঙ্গীত শিল্পী খুরশিদ আলম, চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, আবদুর রশিদ মজুমদার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে অতিথিদের নিয়ে কেক কাটা হয়।  একথা সত্য, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হবার পর গত পাঁচ বছরে প্রকৃতি রক্ষায় দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চ্যানেল আইতে নিয়মিত প্রচার হওয়া ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানটি প্রকৃতি রক্ষায় দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ সাফল্যের এই দিকগুলোই বিশেষভাবে 07_2তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে মুকিত মজুমদার বাবুর অনন্য ভ‚মিকার প্রশংসা করেছেন।  অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত একটি পত্রিকায় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু লিখেছেনÐ “মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। তবে স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়। সবাই স্বপ্ন দেখতে পারে না। চোখ বন্ধ করলেই স্বপ্ন দেখা যায় না। স্বপ্ন দেখতে সাহসের দরকার হয়। মনে বল থাকতে হয়। দুর্বলেরা কখনোই স্বপ্ন দেখতে পারে না। তারা কোনো কাজ করার আগেই ‘আমি পারব না’ এমনি কথা বলে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য এড়িয়ে যায়। দায়িত্ব-কর্তব্য এই জন্য বলছিÐ প্রত্যেকটা মানুষের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি কিছু না কিছু করণীয় থাকে। সেই করণীয় কাজগুলো এড়িয়ে চলে ভীতু, দুর্বল চিত্তের মানুষেরা। তারা সবসময় একটা গ্লাসের অর্ধেকটা খালি দেখতে পায়। অর্ধেক গ্লাসে জল আছে এটা তাদের চোখে ধরা পড়ে না। আমাদের ভেতর অনেকেই আছেন যারা সবসময় মন্দটাকে দেখতে পান। দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে, রাজনীতির ময়দানে একে অপরের প্রতারণার শিকার হচ্ছে, প্রকৃতি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সব কথাই ঠিক আছে। তবে এ কথাও ঠিক যে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।  বাংলা সোনার বাংলা আর বাঙালি বীরের জাতি। আমাদের স্বাধীনতা আছে, আমাদের ভাষা আছে, জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ আছে। আমরা যে জীববৈচিত্র্যে কত সমৃদ্ধ তার একটা উদাহরণ দিতে চাইÐ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭০০ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। পুরো ইউরোপ মহাদেশ বা উত্তর আমেরিকা মহাদেশ যেটি আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে একশ’ গুণেরও বেশি বড় সেখানে কিন্তু পাখির সংখ্যা ৭০০ প্রজাতির মাত্র কিছু বেশি। বাংলাদেশ আয়তনের দিক থেকে অনেক বেশি ছোট হলেও এদেশে পাখির বৈচিত্র্য অনেক। আমাদের দেশের আয়তনের তুলনায় আমাদের দেশ জীববৈচিত্র্যে অনেক সমৃদ্ধ। এ দেশ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। এ দেশ নিয়ে আমরা অহংকার করতে পারি। বুক ফুলিয়ে বলতে পরিÐ আমরা বঙালি, কোনো কিছুতে আমরা কাঙালি নই। আলোর নিচে অন্ধকার থাকে। সেটা হয়ে আসছে সৃষ্টির শুরু থেকে। সে অন্ধকার দূর করা যায় না তা কিন্তু নয়, তবে সেটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সম্মিলিত উদ্যোগেই সেটা সম্ভব। আর সে উদ্যোগটা নিতে কেউ যদি এগিয়ে না আসে তাহলে আমিই প্রথম সে উদ্যোগটা নিতে পারি। হতে পারি এই পথের পথিক আমি একা। তবে মনে রাখতে হবে গণনা শুরু করতে হলে প্রথম সংখ্যা কিন্তু ‘এক’ই আসে। তারপর পর্যায়ক্রমে আসে দুই… তিন… চার… পাঁচ…। কেন আমি মনে করতে পারি না, কাজটা শুরু হোক আমাকে দিয়েই।”

বাংলার প্রকৃতিতে স্নিগ্ধ শরৎ: মুকিত মজুমদার বাবু

শরতের মন ভোলানো রূপ এখন বাংলার প্রকৃতিতে। অনুপম রূপ সৌন্দর্যমন্ডিত শরৎ ঋতু ‘শারদল²ী’ নামে পরিচিত। প্রকৃতির শুভ্রতা, স্নিগ্ধতা, সৌন্দর্য আর অপার ভালোলাগা নিয়ে বাংলার প্রকৃতি সেজেছে শরতের সাজে। পেরিয়ে এসেছে গ্রীষ্মের রুক্ষতা আর বিবর্ণতার বিস্তীর্ণ বন্ধুর পথ। শরতের হতবিহŸল চোখ দেখেছে দাবদাহের অগ্নিশিখা প্রকৃতির শরীর থেকে শুষে নেয়া শেষ জলকণা। তারপরই চলতি পথে পেয়েছে বরষার রিমঝিম অবারিত বারিধারা। গ্রীষ্মের অতৃপ্ত তৃষ্ণা মিটিয়েছে বৃষ্টির জলে। বুকফাটা কান্নার পরিসমাপ্তি ঘটেছে জলনূপুরের গানে। সব কালিমা, সব মলিনতা মিলিয়ে গিয়ে শরৎ আজ নিজেকেই মেলে ধরেছে প্রকৃতিতে বৃষ্টির সৌন্দর্য পিপাসু ময়ূরের মতো। প্রকৃতিতে কেবলই তাই নির্মল আনন্দ আর অনাবিল বাঁধভাঙা উচ্ছ¡াসের জোয়ার। শরতে তাই প্রকৃতিও থাকে প্রশান্তিতে। বারো মাসের ভাদ্র-আশ্বিন। ষড়ঋতুর তৃতীয় ঋতু। কোনো হিংস্রতা নেই এ ঋতুর চোখে-মুখে। শরৎ শান্ত, নিরীহ, বড় বেশি চুপচাপ। তবে শরতের আছে পবিত্রতা, আছে কোমলতা, আছে শুভ্রতা, আছে নির্মলতা, আছে স্বচ্ছতা আর আছে মায়াবী স্নিগ্ধতা। সকাল বেলার দুর্বাঘাসের ওপর শিশির বিন্দু দিনের বোলফোটা আলোর রোশনাই জানান দেয় শরতের রূপবৈচিত্র্য। আকাশে ময়ূরকণ্ঠী নীলের বিস্তারই প্রকৃতিপ্রেমীদের মিটিয়ে দেয় স্বচ্ছ আকাশ দেখার দুর্দমনীয় আকাঙ্খা। দুধসাদা ছেঁড়া মেঘের কিশোরী দুরন্তপনা যেকোনো মানুষকে নিয়ে যায় সীমাহীন এক স্বপ্নরাজ্যে। রোদ-বৃষ্টির গোল­াছুট খেলা শরতের রূপবৈচিত্র্যে যোগ করে নতুন মাত্রা। তবে কলকল নদীর তীরঘেঁষে বাতাসে গানের তালের মতো মাথা দোলানো কাশফুলের হাসিমাখা মুখ শরতের রূপ-মাধুর্যকে দান করে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। কাশফুলের ছন্দ তোলা গানই যেন শরতের অপার মহিমা। শরতের কোলে মাঠের পর মাঠ নয়নাভিরাম সবুজ ধানের শীষের সাথে দোল খায় কৃষকের আগামী দিনের স্বপ্ন-সাধ। তবে শরতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলোÐ এখানে ঝুম বৃষ্টি নামলেও পাঁচ হাত দূরে নেই কোনো বৃষ্টির ছিটেফোঁটা। এ সময় আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নেয় বিন্দু বিন্দু শিশির জমা শিউলি, ছাতিম, গন্ধ ভাদালি, পান্থপাদপ, লিয়্যুইয়া, ইপিল ইপিল, অ্যাকাশিয়া, কুশ ও কাশসহ নানা প্রজাতির ফুল। বরষায় ভরা জলাশয়ে স্থান পায় শাপলা-পদ্মসহ নানা জলজ ফুলের প্রজাতি। ফলে ফলে সাজে কাঠ বাদাম, নারকেল, বাতাবিলেবু, খেজুর, তালসহ বিভিন্ন জাতের গাছ। শরতের শান্ত-স্নিগ্ধ রূপবৈচিত্র্য দিনের আলোয় ধরা দেয় একভাবে আর রাতে ধরা দেয় অন্যভাবে। দিনে যেমন বৃষ্টিধোয়া গাছের পাতা ও নির্মল ঘাসে সূর্য আলো পড়ে চারদিক মাঠ-ঘাটকে স্নিগ্ধ ও উজ্জ্বল করে তোলে তেমনি রাতে নির্মল নীল স্বচ্ছ আকাশে চাঁদের মায়াবী মাধবী জ্যোৎস্নার আলো আর কোনো ঋতুতেই দেখা যায় না। নির্মেঘ আকাশের জ্যোৎনার অমৃতসুধা পান করে মানুষ পায় পরমতৃপ্তি। কখনো রাতের আকাশ ছিঁড়ে ঝমঝম নামে ক্ষণিকের বৃষ্টি, পরক্ষণেই তকতকে পরিচ্ছন্ন আকাশের কোলে দোল খায় যুবতি চাঁদ। গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির জল টুপটাপ করে ভাঙে রাতের নির্জনতা। সুতা বেয়ে নেমে আসা চাঁদের আলোয় মানুষের উদাস বাউল মন ভেসে চলে নিরুদ্দেশের পথে। মহাকবি কালিদাসের সাহিত্যে শরৎ ধরা দিয়েছে নববধূর সাঝেÐ “…নববধূর ন্যায় সুসজ্জিত শরৎকাল সমাগত। শুভ্র-সমুজ্জল কাশ ফুল এর পরিধেয়রূপে অবস্থান করছে, পদ্ম এর মুখ শোভা, মদমত্ত হংস এর রমণীয় ঝঙ্কার। আজ যেন সবাই মনলোভা রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে। আজ অনবরত মেঘের জল ঝ’রে ঝ’রে আকাশ কেমন সুনির্মল সাজেই না সেজেছে। আজকের দিনে কাঞ্চন ফুলের গাছগুলো কার মন না কাড়ছে…।” রবীন্দ্রনাথের ভাষায়Ð “…প্রভাতের প্রকৃতি কী অনুপম প্রসন্ন মূর্তি ধারণ করে। রৌদ্র দেখিলে মনে হয় যেন প্রকৃতি কী এক নূতন উত্তাপের দ্বারা সোনাকে গলাইয়া বাষ্প করিয়া এত সূ² করিয়া দিয়াছেন যে, সোনা আর নাই কেবল তাহার লাবণ্যের দ্বারা চারিদিক আচ্ছন্ন হইয়া গিয়াছে।” প্রকৃতির কণ্ঠে কণ্ঠে মিলিয়ে কবি গেয়েছেনÐ “আজি ধানের ক্ষেতে রৌদ্র ছায়ায় লুকোচুরি খেলা নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা…।” বৈরী জলবায়ুর বিষাক্ত ছোবল ষড়ঋতুর শরীরে আঁচড় কাটলেও প্রতিবারই শরৎ আসে আপন নিয়মে। তারপরও শরতের প্রকৃতির বৈচিত্র্যতা রচনা করে এ দেশের মানুষের হাসি-কান্না, মান-অভিমান, মিলন-বিরহের মহাকাব্য। প্রকৃতি সাজে ছেদ পড়লেও প্রকৃতি সাজে অপরূপ সাজে। স্নিতা, স্বচ্ছতা, কোমলতা, নির্মলতায় আজও শরৎ প্রশান্তির পরশ বোলায় মানুষের মনে-প্রাণে। অন্তর দিয়ে অনুভব করে শরতের রূপবৈচিত্র্য।

লেখক: চেয়ারম্যান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন 

জনপ্রিয় বিভাগ