Home Blog Page 470

মোবাইল অ্যাপস দিচ্ছে অনেক সুবিধা

আপনার যদি একটা স্মার্টফোন থাকে তাহলে আপনি অনায়াসেই কিছু সুযোগ নিতে পারবেন। বাজারে অনেক অ্যাপস পাওয়া যায় যা দিয়ে আপনি স্মার্ট ফোন থেকে কম টাকায় কল করতে পারবেন। পারবেন এসএমএস পাঠাতে, এমনকি ফ্রিতে ইন্টারনেটও চালাতে পারবেন। চলুন জেনে নেই এমন কিছু অ্যাপস সম্পর্কে- হোয়াটস-অ্যাপস: হোয়াটস-অ্যাপস আপনাকে বিনে পয়সায় এসএমএস করার সুযোগ দেবে। এটার মাধ্যমে আপনি আপনার মোবাইলের সবগুলো নম্বরে একই সাথে এসএমএস পাঠাতে পারবেন। সারা বিশ্বে ২০০ মিলিয়ন লোক হোয়াটস-অ্যাপ ব্যবহার করে। এটা আপনি হোয়াটস-অ্যাপ এর ওয়েবসাইড থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। ইলো: রোমিং, ইন্টারন্যাশনাল কল, দূরবর্তী স্থানে কল, রিচার্জ কার্ড, কতশত খরচ। কিন্তু ইলো অ্যাপস আপনার খরচের পরিমাণ কমিয়ে দেবে অনেকাংশে। এটাকে কম খরচের সেরা অ্যাপস বলে বিবেচনা করা হয়। এটার মাধ্যমে আপনি যেমন মোবাইলে কল করতে পারবেন তেমনি ল্যান্ডফোনেও কল করতে পারবেন। ওনাভো-কম খরচে ইন্টারনেট: ওনাভো আরো একটি পয়সা বাঁচানোর অ্যাপস। এটার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে কম খরচ করতে সাহায্য করবে। এটার মাধ্যমে আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করলে আগের চেয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ ডাটা কম খরচ হবে। ওনাভো কম ডাটা খরচের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে ওনাভোর ওয়েবসাইড ভিজিট করুন। ফন-ফ্রি মোবাইল ডাটা: ফন হচ্ছে অত্যাবশকীয় একটি অ্যাপস। এটার মাধ্যমে আপনি মোবাইলে ফ্রি ডাটা ব্যবহার করতে পারবেন। ফন আপনাকে পৃথিবীর ৭ মিলিয়ন ওয়াইফাই হটস্পট ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এই সুবিধা পেতে হলে ফনের একটি রাউটার কিনে ফনের সদস্য হতে হবে। ফন ইতিমধ্যে বিটি, এমটিএস, ওআই, এসএফটি এবং অন্যান্য অপারেটরদের সাথে চুক্তি করেছে। ওয়েফাই-ফ্রি হটস্পট: এটাও এমন একটি অ্যাপস যা আপনাকে আপনার স্মার্টফোনে ফ্রি ডাটা পেতে সাহায্য করবে। এই অ্যাপসের ডাটাবেজে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ওয়াইফাই হটস্পট আছে। ওয়েফাইয়ের ওয়েবসাইড থেকে এই অ্যাপসটি ডাউনলোড করা যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার

কম্পিউটারের জন্য ডাউনলোড ম্যানেজার হিসেবে প্রায় সবাই ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার বা অঊু ব্যবহার করে থাকে। মোবাইলের জন্যেও কম্পিউটারের মত একটি ডাউনলোড ম্যানেজার প্রয়োজন। আর যদি হয় সেটা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন তাহলে তো কথাই নেই। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য তেমনই একটি অ্যাপস হলো ঊমষভমটঢ ুটভটথণর তমর ইভঢরমধঢ। এই ফ্রি ডাউনলোড অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস দিয়ে সকল ধরণের ভিডিও সহ ইিে, ৗইৗ. ছঅ,ে ু৩ে, ঊৃউ, ঙীও ফরম্যাট সহ সকল ফাইলই ডাউনলোড করা যায়। রয়েছে সিম্পল এবং সুন্দর ইউজার ইন্টারফেস। আরো আছে ভয়েস সার্চ করার সুবিধা, হিস্টরি থেকে এড্রেসবারে অটো সাজেশন প্রদশর্ন, জাভা স্ক্রিপ্ট সাপোর্ট, ঔকুী ৫ ভাষা সাপোর্ট, ব্রাউজিং স্পীড বাড়িয়ে দেয়া, রিজিউম ডাউনলোড সাপোর্ট, লাইভ ডাউনলোড ইনডিকেটর, ফাইল নেম ঠিক করে ডাউনলোড করার সুবিধা সহ অনেক বড় বড় ফাইল ডাউনলোড করা যায়। সেটা ২ জিবির উপরেও হতে পারে। তাছাড়া ওয়াইফাই সাপোর্ট, সোস্যাল নেটওয়ার্ক টেক্সট, লিঙ্ক শেয়ার করা যায় এই ডাউনলোড ম্যানেজার দিয়ে। স্মার্টফোনের চার্জ ধরে রাখার অ্যাপস স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় ব্যাটারিচার্জের ক্ষেত্রে। নিয়মিত একাধিক সামাজিক যোগাযোগ সাইটের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে দ্রুত ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে যায় স্মার্টফোনে। এ নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয় ব্যবহারকারীদের। নানা ধরনের পদ্ধতি আছে চার্জ বাঁচানোর। যেমন ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ রাখা, সিংক্রোনাইজেশন বন্ধ রাখা, মানচিত্র, গেমস, পর্দার আলো কমিয়ে রাখা ইত্যাদি। তবে স্মার্টফোনের চার্জ বাঁচিয়ে রাখতে এখন রয়েছে দারুণ কিছু অ্যাপস। ব্যাটারি ডক্টর: বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এমন চার্জ বাঁচানোর একটি অ্যাপ হচ্ছে ব্যাটারি ডক্টর। সাধারণত যেসব অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ রাখলে কিংবা বিভিন্ন সেটিংস-সুবিধা পরিবর্তন করলে চার্জ বাঁচানো যায়, সেগুলো নিয়েই কাজ করে ব্যটারি ডক্টর। ১৯টি ভাষায় এ অ্যাপটি ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। স্মার্টফোনের পর্দার আলো কমিয়ে রাখা, গেম, ওয়াই-ফাইতে কতক্ষণ থাকলে চার্জ কতটা কমবে, ব্যাটারিতে মূল কেবল দিয়ে চার্জ দেয়া হচ্ছে কি না ইত্যাদি কাজ ব্যাটারি ডক্টর করে দেয়। ইস্টার অ্যাপ: চার্জ বাঁচানো এবং সে অনুযায়ী অ্যাপ ব্যবহারের দারুণ সুবিধা নিয়ে কাজ করে জুস ডিফেন্ডার। স্মার্টফোনের চার্জ বাঁচানোর এ অ্যাপটি থ্রি জি/ফোর জি সংযোগ, ওয়াই-ফাইতে কীভাবে চার্জ বাঁচানো যায় সে সেবাও দেয় ইস্টার অ্যাপ। এ অ্যাপের সাহায্যে মোবাইল ডেটা, ওয়াইফাই ও সিপিইউর গতি, শিডিউল অনুযায়ী ইভেন্ট রিমাইন্ডার দেয়া, নির্দিষ্ট অ্যাপের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা কিংবা চালু করা ইত্যাদি কাজও করা যায়।

মিউজিক ভিডিও নিয়ে কুমার বিশ্বজিৎ

নতুন চারটি মিউজিক ভিডিও নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন চিরসবুজ গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ। সম্প্রতি চারটি গানের মিউজিক ভিডিওর কাজ শেষ করেছেন তিনি। মিউজিক ভিডিও গুলোর শুটিং করেছেন নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও টেক্সাসের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে। কিছুদিন আগে কুমার বিশ্বজিৎ স্ত্রী-সন্তানসহ আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ওখানে থাকাকালীন ভিডিও গুলো নির্মাণ করেন তিনি। গান গুলো হচ্ছে আসিফ ইকবালের কথা ও লাকী আখন্দের সুরে ‘বলো না তুমি ছাড়া’, লিটন অধিকারী রিন্টুর কথা আর কুমার বিশ্বজিৎ এর সুরে ‘কিছুই নাকি দেইনি তোমায়’, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘আমার তুমি ছাড়া কেউ নেই আর’, আহমেদ রিজভির কথা ও কুমার বিশ্বজিৎ এর সুরে ‘ভালোবাসি ভালোবাসি তোমাকেই ভালোবাসি তুমি এলে হৃদয় জমিনে ফুল ফোটে রাশি রাশি’। এ প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, মূলত আসছে ঈদে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে গান গুলো প্রচারের লক্ষ্যে মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছি। নিউইয়র্কে টিভিএন নিউজ ক্যামেরাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সার্পোট দিয়েছে আমাকে। পাশাপাশি নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন এক সময়ের ঢাকার সাংবাদিক তারিফ। খুব ভালো হয়েছে চারটি মিউজিক ভিডিও। আমার বিশ্বাস, গানে গানে মিউজিক ভিডিও গুলো দর্শকের ভালো লাগবে।

 সাদাকালো

আসছে ঈদে শ্রোতাদের হাতে নতুন একক অ্যালবাম তুলে দিচ্ছেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ফাহমিদা নবী। অ্যালবামের নাম ‘সাদা কালো’। অ্যালবামটিতে গান রয়েছে মোট সাতটি। সবক’টি গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শান। অ্যালবামের গান গুলো লিখেছেন জাহিদ আকবর, ইবনে সুমন, হাসনাত মোহসীন, নাজির ও ফারহানা হক। ‘সাদাকালো’ গানে ফাহমিদা নবীর সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠ দিয়েছেন শান। নতুন অ্যালবামটি প্রসঙ্গে ফাহমিদা বলেন, সত্যি বলতে কি এখন বয়স এবং অবস্থানগত দিক দিয়ে এমন একটা জায়গায় চলে এসেছি যেখানে নিজের ভাবনায় সব সময় ভালো কিছুই লালন করার চেষ্টা করি। একটি ভালোগীতি কবিতা, ভালো সুর খোঁজার চেষ্টা করি। সেই ভাবনা এবং দায়িত্ব থেকে আমার নতুন অ্যালবামের গান গুলো করা। শান খুব ভালো সুর করে। তার কাজে আমি মুগ্ধ।

 এই প্রথম চাচা-ভাতিজা এক সঙ্গে কাজ করেছি -আরফিন রুমি

AREFIN-RUMI-(4)এ প্রজন্মের কণ্ঠশিল্পী ও কম্পোজার আরফিন রুমি। বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন অডিও অ্যালবাম নিয়ে। পাশাপাশি প্লেব্যাকও করছেন। এছাড়া স্টেজ প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন নিয়মিত। সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যস্ততার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো আনন্দ আলো পাঠকদের জন্য।

আনন্দ আলো: বর্তমানে আপনার ব্যস্ততা কি নিয়ে?

আরফিন রুমি: গান নিয়ে শুধু ব্যস্ততা। বর্তমানে আমি নিজের নতুন একক অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। তাছাড়া আমার ভাতিজা শাদ শাহর কথা ও সুরে একটি মিক্সড অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছি। আশা করছি কাজটি অনেক ভালো হবে। এবরাই প্রথম কোনো অ্যালবামে আমরা চাচা-ভাতিজা একসাথে কাজ করলাম।

আনন্দ আলো: ‘কিছু কথা আকাশে পাঠাও’ অ্যালবামটি সর্ম্পকে কিছু বলুন।

আরফিন রুমি: এটি একটি মিক্সড অ্যালবাম। এখানে আমার গাওয়া তিনটি গান রয়েছে। কিছু কথা আকাশে পাঠাও অ্যালবামটি নিয়ে যতটুকু আশা করেছি, তার চেয়েও বেশি সাড়া পেয়েছি। ইন্টারনেটে এ অ্যালবামের ভিডিও গান গুলো গড়ে প্রায় দুই লাখের উপরে দেখা হয়েছে, শিল্পী হিসাবে আমার প্রাপ্তির জায়গাটি এখানেই।

আনন্দ আলো: কোরবানী ঈদের জন্য কোনো কাজ করছেন কী?

আরফিন রুমি: এখন নিজের একক অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। অন্য কোনোকিছু নিয়ে আপাতত চিন্তা করছিনা। যদি সম্ভব হয় তবে অবশ্যই শ্রোতাদের জন্য ঈদে কিছু একটা উপহার থাকবে।

আনন্দ আলো: প্লেব্যাকের কী কবর?

আরফিন রুমি: নতুন একটি ছবির দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ছবিতে গান করার কথা রয়েছে।  প্রেমকাব্য  আসছে কোরবানির ঈদে ঈগল মিউজিকের ব্যানারে প্রকাশ পাচ্ছে এ প্রজন্মের তিন জনপ্রিয় সংগীত তারকার একটি ভিন্ন ধর্মী অ্যালবাম। অ্যালবামের নাম ‘প্রেমকাব্য’। অ্যালবামের শিল্পীরা হলেন শফিক তুহিন, ইমরান ও বেলাল খান। প্রথম বারের মতো এই তিনসংগীত তারকাকে নিয়ে কোনো অ্যালবাম তৈরি হচ্ছে। এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন অ্যালবামে কাজ করলেও কেবল এই তিন তারকাকে নিয়ে কোনো অ্যালবাম প্রকাশ পায়নি। আসছে ঈদের অন্যতম বড় অ্যালবাম হিসেবে এটি প্রকাশ পাবে। এরই মধ্যে অ্যালবামের কাজ শুরু হয়েছে। শফিক তুহিন, ইমরান, বেলাল তিনটি করে গান গাইবেন অ্যালবামে। এর মধ্যে দুটি করে একক ও একটি করে দ্বৈত গান  রয়েছে তাদের। ‘প্রেমকাব্য’ অ্যালবামের সব গুলো গানের কথা লিখেছেন ফয়সাল রাব্বিকীন। এই তিন তারকা ছাড়াও সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন সজীব দাস, ফাজবীর তাজ, রাফি, মারশাল প্রমুখ। অ্যালবামটি প্রসেঙ্গ শফিক তুহিন বলেন, তিনজন শিল্পী নিয়ে অ্যালবাম করার ট্রেন্ড অনেক দিন থেকেই নেই। এ অ্যালবামের মাধ্যমে এ ট্রেন্ডটা আবার শুরু হলো।

বুষ্টার এনার্জি বিস্কুট চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ ২০১৫

Khuda-gun-Raz১১ সেপ্টেম্বর গ্র্যান্ড ফিনালে বর্তমানে শেষ পর্যায়ে আছে বুষ্টার এনার্জি বিস্কুট চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ ২০১৫ এর পঞ্চম আসর। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাথমিক বাছাই পর্বে অংশ নেয় ৬৫ হাজার প্রতিযোগী। সেখান থেকে ঢাকায় আসার ইয়েস কার্ড পায় ১০২ জন। তাদেরকে নিয়ে ঢাকায় শুরু হয় অডিশনের দ্বিতীয় রাউন্ড। প্রাথমিক অডিশন এবং গ্র্যান্ড অডিশনের মাধ্যমে সেখান থেকে ক্যাম্পের জন্য বাছাই করা হয় সেরা ২৫ জন প্রতিযোগীকে। তাদের মধ্য থেকে সেরা ১০ জন প্রতিযোগী নিয়ে শুরু হয় বিষয় ভিত্তিক পর্ব। সেখান থেকে মেধার লড়াই পেরিয়ে উঠে আসে সেরা ৭ জন। তারা হলেন- পুস্পিতা, রাফতি, মাহিন, মহারাজা, পায়েল, বিজলী ও অর্পিতা। এই সাতজন প্রতিযোগীকে নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফিনালে। প্রধান দুই বিচারক বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরা ও এস আই টুটুল। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করছেন সিজিল মির্জা ও আনিকা। প্রতিযোগিতাটি পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছেন ইজাজ খান স্বপন।

পন্ডস প্রেজেন্ট দ্য লাস্ট্রাস রানওয়ে দিয়া মির্জার চমক

সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন বলিউডের সুঅভিনেত্রী দিয়া মির্জা। এ উপলক্ষে রাজধানীর রেডিসন ব্লৃ হোটেলে আয়োজন করা হয় পন্ডস প্রেজেন্টস লাস্ট্রাস রানওয়ে শিরোনামের একটি ফ্যাশন শো। এতে শো স্টপার হিসেবে র‌্যাম্পে অংশ নেন তিনি। তিনি পরেছিলেন রুবিজ ও গীতাঞ্জলির পোশাক ও গহনা। এ সময় দিয়া বলেন, বাংলাদেশে আসতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। তিনি শুধু হিন্দি ছবিতেই অভিনয় করেননি। একটি বাংলা ছবিতেও অভিনয় করেছেন বলে আনন্দ প্রকাশ করেন।  এক্সক্লুসিভ এই ফ্যাশন শোতে একত্রিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের নামীদামি ফ্যাশন ডিজাইনার, রিটেইলার, মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার স্টাইলিস্ট, কোরিওগ্রাফার এবং মডেল তারকারা। এই শোটি সত্যিকার অর্থে ফ্যাশন ডিজাইনারদের স্বপ্ন ও আকাংখা পূরণের এক প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছিল সেদিন। ইভেন্ট আয়োজন করেছিল ইনফিনিটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী। যারা সব সময় নারীদের জন্য এমন ফ্যাশন প্লাটফর্মের আয়োজন করে দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর এমন অসাধারণ ফ্যাশন প্লাটফর্মকে সাফল্যময় ও জোরদার করতে পন্ডস স্পন্সর হিসেবে সব সময়ই এগিয়ে আসে। ইনফিনিটি ও পন্ডস ঐসব প্রতিভাবানকে তুলে ধরতে চায় যাদের রয়েছে সৃজনশীল চিন্তাধারা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং অতীত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমানকে উপস্থাপন করার যোগ্যতা। এবারের আয়োজন ছিল পন্ডস প্রেজেন্টস দি লাস্ট্রাস রানওয়ের ষষ্ঠ এডিশন। এই আয়োজনে উপস্থাপিত হয়েছিল লোকাল তরুণ ডিজাইনার ও ইন্টারন্যাশনাল ডিজাইনারদের এক সংমিশ্রণ। এতে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় নোভা জেনুইন, সরভস্কি, রুবিজ, নিশা আলি এবং সাশা এক্সক্লুসিভ। ভারত থেকে অংশ নেয় জ্যোতি সাজদেব আইয়ার, কোমাল সুদ, জ্যোস্না তিওয়ারি। পাকিস্তান থেকে অংশ নেয় শামশাহান ওয়ানি। তবে এই শোর সবচেয়ে বড় আকর্ষন ছিল বলিউড সেলিব্রেটি দিয়া মির্জার অংশগ্রহণ। পন্ডস-এর সাথে স্পন্সর হিসেবে আরো ছিল বিএমডব্লিউ। কোস্পন্সর হিসেবে ছিল সিটিব্যাংক, অ্যামেক্স, গীতাঞ্জলি লাইফ স্টাইল, ক্রিওল্যান ওরিরেন্টাল রিয়েল স্টেট, প্রাইভ স্পা এন্ড সেলুন, দ্য অলিভস ও এলিট ফোর্স। মিডিয়া পার্টনার ছিল বাংলাভিশন ও ডেইলি স্টার।

বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশেও ঐ জায়গাটা একদিন তৈরি হবে : বুলবুল টুম্পা

তিনি ইচ্ছে করলে নাটক সিনেমায় অভিনয় করতে পারতেন। অফারও ছিল প্রচুর। কিন্তু তিনি আগেই লক্ষ্য ঠিক করে নিয়েছিলেন দেশে র‌্যাম্প মডেলিংকে একটা সম্মানজনক জায়গায় দাঁড় করাবেন। তাই নাটক সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ কখনোই নেননি। বরং এড়িয়ে গেছেন। শুরুর দিকে পরিচিতজনরা প্রায়ই বলতেনÐ টুম্পা এসব কি করছিস? এখনো সময় আছে, নিজেকে বদলে ফেল। কিন্তু টুম্পা ছিলেন তার লক্ষ্যের প্রতি অনঢ়, অবিচল। আর তাই দেশে মডেলিং-এর ডিগনিটি প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামে তার অনন্য ভ‚মিকার কথা আজ সকলেই কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে। দেশের জনপ্রিয় র‌্যাম্প মডেল তারকা বুলবুল টুম্পা সম্প্রতি আনন্দ আলোর সাথে এক আড্ডায় বসেছিলেন। বলেছেন তার জীবন সংগ্রামের অনেক কথা। তারই চুম্বক অংশ প্রকাশ করা হলো। লিখেছেন- প্রীতি ওয়ারেছা
আনন্দ আলো: র‌্যাম্পে আসার গল্পটা কেমন?
বুলবুল টুম্পা: ১৯৯৭ সাল। আমি তখন স্কুলে পড়ি। আমার চাচার এক বন্ধু আমাকে দেখে র‌্যাম্পে কাজ করার ব্যাপারে চাচাকে প্রস্তাব দেয়। চাচার সেই বন্ধুটি মডেলিং করতেন। আমি তখন চেহারায় খুবই শুকনা টাইপের ছিলাম। উচ্চতাও গড়পড়তা। বাঙালি মেয়েদের চেয়ে তুলনামূলক একটু বেশি। চাচার সেই বন্ধুর ধারণা ছিল আমি র‌্যাম্পে ভাল করব। তখন আমার বাবা-মা বেঁচে নেই। ভাইয়েরা আমার অভিভাবক। তারা ব্যাপারটা শুনে রাজি হলেন না। রাজি না হবার কারণও ছিল। এর আগে আমাদের চৌদ্দগোষ্ঠির কেউ মিডিয়ায় কাজ করেনি। তাই পরিবারের কারও মিডিয়ার প্রতি স্বচ্ছ ধারনা ছিল না। যাই হোক, এক সময় ভাইয়েরা রাজি হয়ে যায়। ১৯৯৮ সালের দিকে অনামিকা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সাথে প্রথম র‌্যাম্পে কাজ করি।
আনন্দ আলো: র‌্যাম্পে তো কাজ শুরু হল। এখানে নিজেকে কিভাবে যোগ্য করে তুললেন?
বুলবুল টুম্পা: সেতো অনেক সংগ্রামের কাহিনী। শুরুর দিকে দুই তিনটা শো করার পর তানিয়া আপুর(তানিয়া আহমেদ) সাথে কাজ করার সুযোগ মেলে। তানিয়া আপুর সাথে অনেক বছর কাজ করেছি। তারপর বিবি আপু(বিবি রাসেল), স্বপন ভাইয়ের সাথে কাজ করেছি। আমি খুবই লাকি, সেসময় নামকরা ইন্ডিয়ান কোরিওগ্রাফারের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ২০০০-২০১০ পর্যন্ত আমাদের দেশে অনেক বড় বড় ফ্যাশন শো হয়েছে। সেই শো গুলোতে আমি যেন অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলাম।
আনন্দ আলো: আপনার পরিবার প্রসঙ্গে জানতে চাই…
বুলবুল টুম্পা: আমার মা খুব সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। তিনি ঘর সংসার নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকতেন। বাবা সরকারি চাকরি করতেন। তিনি নাটক পছন্দ করতেন। তিনি চাইতেন আমি যেন নাটকে অভিনয় করি। আমি খুব কম বয়সে বাবা-মাকে হারাই। মিরপুরে আমাদের নিজেদের বাড়ি। আমরা যৌথ পরিবারে বাস করি। আমার ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ার কারণে আমরা পরিবারের প্রত্যেকেই একে অপরের নির্ভরশীল হয়ে যাই। সবাই এক সাথেই আছি। আমি এখনো বিয়ে করিনি। তবে করব না এমনও নয়। আমি মনে করিÐ বিয়ে ব্যাপারটা পুরোটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। আল­াহ যেদিন বিয়ের ফুল ফোটাবে সেদিন আমার ক্ষমতাও নেই ফুল আটকিয়ে রাখার। আর যদি আল­াহ না চায় আমি হাজার চেষ্টা করলেও কিছু হবে না।
আনন্দ আলো: বোঝা গেল অপেক্ষায় আছেন…. তাই বলে কি প্রেমেও পড়েননি?
বুলবুল টুম্পা: (মৃদু হেসে) হ্যাঁ একবার প্রেমে পড়েছিলাম। অভিজ্ঞতা এতটাই তিক্ত ছিল যে প্রেমের প্রতি আস্থাই চলে গেছে। সেই প্রেমের কারণে জীবনের অনেক ইচ্ছের সমাপ্তি ঘটেছে। দীর্ঘদিন একা আছি তবুও নতুন করে প্রেমে পড়ার ইচ্ছে জাগেনি। যে কোন সম্পর্কের মধ্যেই সততা জরুরি। যাকে ভালোবাসতাম তিনি একজন চিকিৎসক। আমাকে ব্যবহার করে মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠাও পেয়েছেন। তার ব্যক্তি জীবনের অন্ধকারময় অনেক ঘটনা জানার পরও তাকে মাফ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু যখন জানলাম তার স্ত্রী, সন্তান আছে তখন আর আপোষ করতে পারিনি। সে তার নিজস্ব জগতটাকে আমার কাছ থেকে পুরোটাই আড়াল করে রেখেছিল। ঘুনাক্ষরেও আমাকে সে কিছুই টের পেতে দেয়নি। অথচ সম্পর্কটা ভেঙ্গে যাওয়ার পর মিডিয়ার লোকজন আমাকেই দোষারোপ করেছে। বলেছে, টুম্পা নিশ্চয়ই নতুন কারো প্রেমে পরেছে যার ফলে ব্রেকআপ হয়েছে। আমাকে দোষারোপ করার আসলে কারণও ছিল। সেই মানুষটি এতই বিনয়ী আর মুখোশধারী ভদ্রলোক যে তাকে অবিশ্বাস করা যে কারো জন্যেই একেবারে কঠিন। আর তাই ঘটনার সত্যতা টের পেতে সবার প্রায় বছর খানেক লেগেছে।
02_3আনন্দ আলো: দীর্ঘদিন একা পথ চলছেন সেই প্রেক্ষিতেই বলছিÐ ‘মানুষ একবারই প্রেমে পড়ে’ তাহলে এটাই কি সত্যি?
বুলবুল টুম্পা: না না তা কেন হবে! আমি এখন যেমন আছি, চলছি সেভাবে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। জীবনটাকে এভাবেই গুছিয়ে নিয়েছি। আর ভবিষ্যতের কথা কি বলা যায়? এখন একা আছি। দুইজন হতে কতক্ষণই বা সময় লাগবে? ঐ যে বললাম সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে। তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করে।
আনন্দ আলো: র‌্যাম্পের পাশাপাশি কোরিওগ্রাফি শুরু করলেন কবে থেকে?
বুলবুল টুম্পা: কোরিওগ্রাফি শুরু করেছি ২০০৭ থেকে। এখনও টানা করে যাচ্ছি। আমি কোরিওগ্রাফারদের সাথে সহকারী হিসেবে কাজ করতাম। তানিয়া আপু, লুনা, সুমন সবাইকে অ্যাসিস্ট করতাম। তাদের হেল্পিং হ্যান্ড অনুপস্থিত থাকলে আমাকে বলতোÐ টুম্পা একটু দেখিয়ে দে কিংবা হেল্প কর। সেখান থেকেই বোধ হয় নিজের ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। অ্যাসিস্ট করতে করতেই আমি শিখে গিয়েছিলাম কিভাবে স্টেজটাকে ইউজ করতে হয়। কিভাবে কোরিওগ্রাফিতে নতুনত্ব আনতে হয়, কোন সময় কি মিউজিক দেয়া উচিত, কোন কাপড়ের সাথে কি লাইটিংটা হওয়া উচিত। আমি বাস্তব শিক্ষা থেকে শিক্ষিত একজন কোরিওগ্রাফার। কোরিওগ্রাফিতে আমার পথ চলা শুরু হয়েছিল আজরার একটা ইভেন্টের মাধ্যমে। আজরা আমাকে কাজটি করতে উদ্বুদ্ধ করে। অনেক প্রশংসিত হয় সেই শো। শো শেষে আজরা আমাকে বলেছিল, তুই এত ভাল কোরিওগ্রাফি করিস! নিয়মিত করিস না কেন? সেই থেকে আস্তে আস্তে কোরিওগ্রাফিতে মনোযোগ দেই। তবে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই তানিয়া আপুকে। তার কারণেই আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আর আমার বন্ধু সুমন কোন শো পেলেই আমাকে দিয়ে কোরিওগ্রাফি করাতো।
আনন্দ আলো: র‌্যাম্পকে নিয়ে সামনে কতদুর যেতে চান?
বুলবুল টুম্পা: আমি চাই উন্নত দেশের মত আমাদের দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিও পরিচিত হয়ে উঠুক। একটা সময়ে পরিচিতজনদের কাছ থেকে শুনেছি টুম্পা এসব কি কর! মডেলদের কেউ চেনে নাকি! নাটক সিনেমা করলেও তো পার! কিন্তু আমি মডেলিংয়ের ডিগনিটিটা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি। সারা বিশ্বে মিডিয়া জগতে মডেলরাই সবচেয়ে ডিমান্ডেবল পারসন। বাংলাদেশেও ঐ জায়গাটা একদিন তৈরি হবে। র‌্যাম্পের মানুষরা আসলেই অনেক সুন্দর আর পারসোনালিটি সম্পন্ন। আমাদের এখানে যারা কাজ করে তারা অনেক ভাল কাজ করে। আমি স্যালুট করি আমাদের দেশের মডেলদের কারণ আমাদের দেশে কোন এজেন্সি নেই। এজেন্সি ছাড়া একজন মডেল সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে সেটা বিশাল ব্যাপার। আমি এই অঙ্গনটিকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই।
আনন্দ আলো: আপনারা যারা প্রতিষ্ঠিত মডেল তারা এজেন্সি করার ক্ষেত্রে কোন উদ্যোগ নেননি কেন?
বুলবুল টুম্পা: আমরা পারবো না কারণ এজেন্সি করতে হলে প্রচুর টাকা লাগে। মডেলদের পক্ষে সেটা সম্ভব না। এজেন্সি দিতে পারে বড় বড় কোম্পানি কিংবা মিডিয়া হাউজ। আমাদের দেশে এই সেক্টরে এজেন্সির প্রয়োজনীয়তা কেউ বোঝে না। এজেন্সি একটা মডেলকে পশ করে গড়ে তোলে। তবে একথা সত্য, আমরা মডেলরাও ভালো না। আমরা ভাবি এজেন্সির মাধ্যমে কেন যাব! ডাইরেক্ট গেলে তো আমি টাকা বেশি পাব। আবার স্পন্সররা কম টাকায় ডাইরেক্ট মডেল পেলে এজেন্সির মাধ্যমে মডেল নেবে কেন? তুপা আপা শুরু করেছিলেন কিন্তু টিকিয়ে রাখতে পারেননি এই জাতীয় বহুবিধ সমস্যার কারণে। আনন্দ আলো: র‌্যাম্প মডেলিংয়ে উন্নত দেশগুলোর সাথে আমাদের মূল পার্থক্য কোথায়?
বুলবুল টুম্পা: প্রত্যেকটা দেশে মডেলিং এর ক্ষেত্রে এজেন্সি আছে। এজেন্সি মডেলদের নিয়মিত বেতন ভাতা নিশ্চিত করে থাকে। মডেলের কাজ না থাকলেও তারা বেতন ভাতা পায় এজেন্সি থেকে। মডেলরা এজেন্সির মাধ্যমে কাজ পায়। মডেল কোথাও কাজ নিতে গেলে প্রথমেই তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়Ð আপনি কোন এজেন্সির? যত কোয়ালিফাইড আর সুন্দর মডেলই হোক না কেন এজেন্সির মাধ্যমে না গেলে কেউ কোন কাজ পায় না। কোন মডেল কোন কাজ করবে সেটাও নির্ধারণ করে এজেন্সি। আমাদের দেশে কোন এজেন্সি নেই। এখানকার মডেলরা নিজ উদ্যোগে কাজ করে এবং কাজ পেয়ে থাকে।
আনন্দ আলো: আমাদের দেশে র‌্যাম্প মডেলরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে?
বুলবুল টুম্পা: এটা যার যার পারসোনাল ব্যাপার। কে কতটুকু র‌্যাম্পকে ভালোবাসে বিষয়টা আসলে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। আমি প্রচুর পরিমাণে মুভি, নাটক আর টিভিতে অভিনয়ের অফার পেয়েছি কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে সবাই সব কাজ করছে, তাতে করে নিজস্ব আইডেন্টিটি তৈরি হচ্ছে না। কিংবা অনেক পেশার প্রভাবে র‌্যাম্প তার আইডেন্টিটি হারাচ্ছে। র‌্যাম্প আমার ভালোবাসা। পরের জনমে যদি কেউ আমাকে প্রশ্ন করে, কি হতে চাও? আমি বলব, র‌্যাম্প একমাত্র র‌্যাম্প মডেলই হতে চাই। জীবনে প্রতিষ্টা পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। আমিও প্রচুর কষ্ট করেছি। প্রতিষ্ঠিত করেছি টুম্পা মানেই আমি। আমি মনে করি মানুষের যদি ইচ্ছে শক্তি থাকে, ভালোবাসা থাকে- হয়তো একটু সময় লাগে কিন্তু তার জন্য জায়গাটা তৈরি হয়ে যায়।
আনন্দ আলো: র‌্যাম্প মডেলিং করতে এসে মেয়েরা বিভিন্ন ধরণের ট্র্যাপে পড়ছে, অন্ধকার জগতের দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এটা কেন ঘটছে?
BULBUL-TUMPAবুলবুল টুম্পা: এই অভিযোগের কিছুটা হলেও সত্যতা আছে। আমি বলবো যারা এটা করে তাদের নিজের প্রতি ভালোবাসা একেবারেই নেই। আমি যখন নিজেকে ভালোবাসব তখন আমি যেখানেই যাই না কেন জেনে বুঝে যাব। যদি আমার খুব তাড়াতাড়ি সেলিব্রেটি হওয়ার চিন্তা থাকে তাহলে আমি হয়তো অন্ধকারকেই বেছে নেব। আর যদি আমার মনে হয় আমি যোগ্যতা দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হব সেক্ষেত্রে প্রথমে নিজেকে তৈরি করব। আমি লিফট দিয়ে ওঠার চেষ্টা করব না, সিঁড়ি দিয়ে উঠব। যারা সিঁড়িটাকে ব্যবহার করতে পারবে তারা কখনো অন্ধকারে যাওয়ার চিন্তা করবে না। এ কথাগুলো আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। দীর্ঘ ষোল বছর ধরে র‌্যাম্পে কাজ করছি, কাজের গুনেই আমি আজ বুলবুল টুম্পা। শুধু র‌্যাম্পেই না যারা মিডিয়ায় কাজ করতে আসছে আমি চাই তারা একটু জেনে বুঝে আসুক।
আনন্দ আলো: মিডিয়াকর্মীদের অনেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে- মিডিয়াতে যেন বন্ধুর অভাব। সবাই যেন একে অন্যের শত্র“। বিষয়টা কিভাবে দেখেন?
বুলবুল টুম্পা: যে যত বড় সেলিব্রেটি সে তত অমায়িক। এটাকে উল্টো করলে কি বোঝায় সেটা তো বুঝতেই পারছেন। এখন অনেক মিডিয়া হাউজ। কাজ করার প্রচুর সুযোগ। মিডিয়া হাউজ ও সোশাল মিডিয়ার কল্যানে সবাই জেনে যাচ্ছে কারা ভালো কাজ করছে। কারো কাজ না থাকলে সে অন্যের পেছনে লাগবেই। কাজের জন্য সবাই গুণি মানুষকে ডাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমি যদি অযোগ্য হই কেউ আমাকে দিয়ে কাজ করাবে না। জেলাসি করে লাভ কি! যদি জেলাসি করতেই হয় তবে নিজেকে যোগ্য করে তবেই করা উচিত। অন্যের কাজকে হ্যাম্পার করে নয়, কাজের মানোন্নয়ন বিষয়ে জেলাসি করুক। তা কিন্তু করবে না। নিজেকে অদক্ষ মনে হলে দক্ষ করার ব্যবস্থা নিজেকেই নিতে হবে। তাহলে জেলাসি প্রবনতা আর থাকবে না।
আনন্দ আলো: আপনার নিজের প্রতিষ্ঠান ‘স্নাপ শট’ নিয়ে কিছু বলুন।
বুলবুল টুম্পা: প্রতিষ্ঠানটির জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছি। বিশেষ করে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক কষ্টের পরেই আমি এখন একটা অবস্থান পেয়েছি। আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে কারণ সেসময় কোন গ্র“মিং প্রতিষ্ঠান ছিল না। বাসায় সারা রাত প্রাকটিস করেছি। বাইরের মডেলদের সাথে কাজ করতে গিয়ে তাদের ফলো করেছি। তখন খুব অনুভব করতাম যদি কেউ আমাকে গ্র“মিং করাতো তাহলে অনেক উপকৃত হতাম। সেই অভাববোধ থেকে নিজের সাধ্যের মধ্যে খুব ছোট্ট পরিসরে ২০০৬ সালে ‘স্নাপ শট’ নামের একটি গ্র“মিং প্রতিষ্ঠান চালু করি। আসলে র‌্যাম্পের প্রতি ভালোবাসা থেকেই করেছি। র‌্যাম্পে নতুনদের একটা শক্ত প্লাটফর্ম থাকুক আমি সেটা চাই। কোন মডেলের গ্র“মিং করা থাকলে তার পারসোনালিটি অনেক হাই থাকে, আত্মবিশ্বাস হাজারগুণ বেড়ে যায়। সেই আত্মবিশ্বাসের জোরেই তারা ভালো কাজ করে। সারিকা, অর্ষা, প্রিয়াংকা, হলি, আরিয়ানা সানজানা, জেনেট, লিন্ডা, মেঘলা, রাজ, এবিএম সুমন, বাপ্পিসহ আরো অনেকে আমার স্টুডেন্ট যারা এখন র‌্যাম্প জগত কাঁপাচ্ছে।
আনন্দ আলো: আপনার স্টুডেন্টরা আপনাকে মা ডাকে বলে শুনেছি।
বুলবুল টুম্পা: আমি সবাইকে ‘বাবা সোনা’ বলে সম্মোধন করি তাই ভালোবেসে তারাও আমাকে মা ডাকে।
আনন্দ আলো: কেউ যদি নিজেকে র‌্যাম্প মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সেক্ষেত্রে তার মধ্যে কি ধরণের গুনাবলী থাকা উচিত?
বুলবুল টুম্পা: প্রথমত প্রচুর খাটতে হবে। ভালো আচরণের অধিকারী হতে হবে, বাচনভঙ্গী সুন্দর হতে হবে, সুগঠিত শরীর হতে হবে। র‌্যাম্পের ক্ষেত্রে আরেকটা জরুরি বিষয় হল হাইট। যারা নতুন আসতে চায় তাদের ক্ষেত্রে বলব তারা যেন অবশ্যই পড়াশুনা করে জেনে বুঝে আসে। নিজের কর্মক্ষেত্রটাকে আগে থেকে জেনে বুঝে তবেই আসা উচিত তাহলে কাজের প্রতি ভালোবাসাটা থাকবে।
আনন্দ আলো: দেশের বাইরে শো করেছেন?
বুলবুল টুম্পা: আমি দেশের বাইরে কোন র‌্যাম্প শো করিনি। তবে প্রচুর ফটোশ্যুট করেছি। পিপল ট্রি নামে স্বনামধন্য একটি ম্যাগাজিনের সাথে আমি দুই বছর যুক্ত ছিলাম। তিনটা দেশে ইউকে, ইউএস আর জাপানে একসাথে পিপল ট্রি পাবলিশড হয়। তাদের সাথে প্রচুর কাজ করেছি। র‌্যাম্পে কাজ করার ক্ষেত্রে হাইট একটা বড় ব্যাপার। ইন্টারন্যাশনাল র‌্যাম্পে কমপক্ষে পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি হাইট লাগে। আমার হাইট পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। আমি নিজের হাইট সম্মন্ধে যেহেতু অবগত সুতরাং দেশের বাইরে র‌্যাম্পে কাজ করার চেষ্টা করিনি। অনেক অফার পেয়েছি কিন্তু আমি জানতাম আমার হাইটের কারণে ওরা শেষপর্যন্ত আমাকে নেবে না। তাই তাদেরকে আমার হাইটের বিষয়টা জানিয়ে সম্মানের সাথে সেই অফারগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি।
আনন্দ আলো: আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে শুধু র‌্যাম্প মডেলিং করে কি জীবন নির্বাহ করা সম্ভব?
বুলবুল টুম্পা: পারছে তো অনেকেই। ষোল বছর ধরে আমিওতো টিকে আছি। এই সেক্টরে কেউ যদি সত্যিই কাজ করতে চায় তবে সে করতে পারবে। গ্ল্যামার চলে যাওয়ার পরে কেউ চাইলে গ্র“মিং করতে পারবে, কেউ চাইলে কোরিওগ্রাফিও করতে পারবে। মিডিয়ায় কাজের অনেক জায়গা আছে। আমি র‌্যাম্পে কাজ করার পাশাপাশি কোরিওগ্রাফি শুরু করেছি, টিচিংও শুরু করেছি।
আনন্দ আলো: র‌্যাম্প নিয়ে স্মৃতিময় ঘটনার কথা জানতে চাই…
বুলবুল টুম্পা: একবার পারসোনা বিউটি পার্লারের ব্রাঞ্চ ওপেনিংয়ে যোগ দিতে সিলেটে গিয়েছিলাম। ঠিক পরের দিন ‘কালারস্ অব চিটাগং’ নামে আমার বড় একটি শো ছিল চট্টগ্রামে। সিলেট আর চট্টগ্রামের মধ্যে দুরত্ব সম্মন্ধে আমার কোন ধারণাই ছিল না। সিলেট থেকে আমি কয়েকজন মডেলসহ রাত ৯টায় গাড়িতে উঠলাম। রাত পোনে একটার দিকে গাড়ির ভেতরে হৈচৈ শুরু হল। গাড়িতে আগুন লেগেছে। এমন একটা জায়গা গাড়িটা থামানো হল যেখানে ধু ধু মাঠ, ঘুটঘুটে অন্ধকার। পরিস্থিতি সামলে একঘন্টা পর আবার গাড়ি চলা শুরু করল। কিছুক্ষণ পর একটা পেট্রোল পাম্পের সামনে গিয়ে আবার গাড়ি নষ্ট হল। এভাবে লক্কড় ঝক্কড় করতে করতে সকাল ৭টায় গাড়ি কুমিল­া এসে পৌঁছাল। ফোনে অর্গানাইজারকে জানালাম রাস্তার ঘটনা। তারা বলল, আমরা চট্টগ্রাম থেকে একটা মাইক্রোবাস পাঠাই? চট্টগ্রাম থেকে মাইক্রোবাস কখনইবা কুমিল­ায় পৌঁছাবে আর আমরাই বা কখন সেই বাসে চড়ে চট্টগ্রাম গিয়ে পৌঁছাব? অবশেষে বাসের ড্রাইভারকে বোঝালাম সমস্যার কথা। বললাম, ভাই আমাদেরকে আরেকটা গাড়িতে ওঠার ব্যবস্থা করে দেন। অবশেষে বাসের ড্রাইভার আমাদেরকে একটা বাসে উঠিয়ে দিল। সেদিন ভাগ্য এতই খারাপ ছিল যে সীতাকুন্ডে এসে পাঁচ ঘন্টা জ্যামে বসে থাকলাম। দেড়টার সময় চট্টগ্রাম পৌঁছালাম। হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সাড়ে পাঁচটার সময় আমি মডেলদের নিয়ে রিহার্সেল শুরু করলাম। মোট তেরটা কিউ নামাতে হবে। মডেলদের শুধু বললাম, কেউ আমার সাথে কথা বলবে না শুধু আমার কমান্ড ফলো করো। মাত্র দেড় ঘন্টা রিহার্সেল করে আমি একটি সফল শো নামিয়েছি সেদিন। খুব অবাক লাগে ভাবলে এখনো।
আনন্দ আলো: বুলবুল টুম্পার আনন্দ কিসে
বুলবুল টুম্পা: কারো জন্যে ভালো কিছু করতে পারলে খুব ভালো লাগে। আইএসডি নামে একটি এনজিওর সাথে আমি গত দুই বছর ধরে যুক্ত আছি। তাদেরকে আমি বিনা পারিশ্রমিকে শো করে দেই। শো থেকে পাওয়া টাকা এসিড দগ্ধদের চিকিৎসার্থে ব্যয় হয় এবং কিছু টাকা গরীব বাচ্চাদের স্কুলে যায়। আমি কাজটি করে খুব তৃপ্তি পাই। এছাড়া কারো কোন উপকারে লাগবে এমন কোন উদ্যোগের সাথে কেউ থাকতে বললে আমি কখনো না করি না। ছবি: রাকিবুল হক মেকআপ: অরা বিউটি লাউঞ্জ কৃতজ্ঞতা: মাহ্দীন তারিক

জনপ্রিয় বিভাগ