Home Blog

কারা থাকছেন বঙ্গবন্ধু সিনেমায়!

রেজানুর রহমান
একটি কবিতা লেখা হবে।
তার জন্য কী আকুল প্রতীক্ষা…
কখন আসবেন কবি?
তেমনি একটি সিনেমা বানানো হবে তার জন্যও শুরু হয়েছে আকুল প্রতীক্ষা।
কখন দেখবো সেই সিনেমা?
সিনেমাটি সাধারন কোনো সিনেমা নয়। একটি দেশের, একটি জাতির সকল প্রেরনার উৎস, স্বাধীনতার মহান স্থপতির জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মিত হবে সেই সিনেমা। তার মানে সিনেমাটি হবে একটি দেশের ইতিহাসেরও অংশ।
‘বঙ্গবন্ধু’ নামটিই তো বাংলাদেশ। এই নামে যখন একটি সিনেমা নির্মিত হবে তখন তো প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের কথাই উঠে আসবে। আর তাই প্রিয় স্বদেশকে সেলুলয়েডের পর্দায় দেখবার জন্য আকুল প্রতীক্ষা শুরু হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। নানা জল্পনা, কল্পনাও শুরু হয়েছে এই সিনেমাকে ঘিরে। একটি দেশ ও জাতির পিতার জীবন কাহিনী নিয়ে কে বানাবেন সিনেমাটি? এই নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। শেষে সিদ্ধান্ত হয় উপমহাদেশের বরেন্য চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল বানাবেন এই সিনেমা। এবার আলোচনা শুরু হয়েছে ছবির পাত্র-পাত্রীক কে হবেন তাই নিয়ে।
বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনী মানেই একটি দেশেরও জীবন কাহিনী। ১৯২০ সলের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেওয়া এক কিশোর পরবর্তিতে কিভাবে একটি স্বাধীন দেশের মহান স্থপতি হয়ে উঠলেন, প্রেরনাদীপ্ত সেই ইতিহাস তুলে ধরতে হলে ইতিহাসখ্যাত আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কথাও উঠে আসবে। সিনেমার পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠবেন চরিত্রগুলো! কাজেই অধীর আগ্রহ দেখা দিয়েছে দেশের সাধারন মানুষের মাঝেও। বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মিত হবে সিনেমা। কাজেই কে হবেন বঙ্গবন্ধু? তিনি কি দেশের কোনো অভিনেতা? নাকি অন্য দেশের? এই নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। পাশাপাশি কে হবেন বঙ্গবন্ধুর বাবা-মা? বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর ভূমিকায় কে থাকছেন? দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার ভূমিকায় কারা থাকছেন এই নিয়েও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনীতে অবশ্যই থাকবেন জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সহ ইতিহাস খ্যাত অনেক নেতা। তাদের চরিত্রই বা কে করবেন? এ নিয়েও জল্পনা-কল্পনা কম হচ্ছে না।
বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমার শিল্পী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন ছবিটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। বিটিভির অডিটোরিয়ামে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিনয় শিল্পীকে ডেকেছিলেন। একটি সূত্রের মতে ৭০ জনেরও বেশী অভিনয় শিল্পী শ্যাম বেনেগালের সাথে দেখা করেছেন। কঠোর গোপনীয়তায় অনেকটা অডিশন স্টাইলে একটানা তিনদিন অনুষ্ঠিত হয় এই সাক্ষাৎকার পর্ব। শিল্পীদেরকে নির্ধারিত সংলাপ বলতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের সাক্ষাৎকার পর্বটি মুভি ক্যামেরায় ধারন করা হয়েছে।
একটি সূত্র জানায় ঢাকায় অডিশনের আগে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে দুই দফায় অডিশন হয়েছে। ঢাকা, কলাকাতা ও মুম্বাইয়ের অডিশন সমন্বয় করে শিল্পী তালিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই জীবনীভিত্তিক ছবিতে তাঁর জীবনের চারটি অধ্যায় তুলে ধরা হবে। এই চার অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে অডিশন দিয়েছেন তারিক আনাম খান, আরিফিন শুভ, সিয়াম ও দুজন শিশুশিল্পী। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন শামীমা নাজনীন এবং মা-বাবা চরিত্রের জন্য দিলারা জামান ও খায়রুল আলম সবুজ।
ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। চলতি মাসের মধ্যে ঢাকা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের শিল্পীদের মধ্য থেকে একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আরও দুই ধাপে অভিনয়শিল্পী বাছাইয়ের কাজ করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিল মাসে শুরু হবে ছবির প্রথম ধাপের শুটিং। এরপর দ্বিতীয় ধাপের শুটিং শুরু হবে সেপ্টেম্বরে। মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে সেট বানিয়ে কাজ করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকায় কারিগরি দল কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেট বানিয়ে তৎকালীন সময়কে তুলে নিয়ে আসা হবে। বাড়িগুলোও সেভাবে তৈরি করা হবে। কলকাতায়ও হবে ছবিটির শুটিং।

বঙ্গবন্ধু চরিত্রটি বাংলাদেশ থেকেই কেউ করবেন কি না, এমন প্রশ্নে জানানো হয়েছে, এটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অডিশনের পর যাঁদের সেরা মনে হবে, তাঁদেরই বিভিন্ন বয়সের বঙ্গবন্ধু চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশেরও হতে পারেন, আবার ভারতেরও কেউ হতে পারেন। ছবিটিতে শতাধিক চরিত্র থাকবে। প্রতিটি চরিত্রের জন্য একাধিক ব্যক্তির অডিশন নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার চরিত্রের জন্য বাংলাদেশ থেকে জয়া আহসান ও নুসরাত ইমরোজ তিশা অডিশন দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে তারিক আনাম খান।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জীবনীভিত্তিক এই ছবির কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আছেন বাহাউদ্দিন খেলন এবং ভারত থেকে শ্যাম রাওয়াত।
ঢাকায় যারা অডিশন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেরদৌসী মজুমদার, রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ হাসান ইমাম, আবুল হায়াত, রাইসুল ইসলাম আসাদ, জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম, রোকেয়া প্রাচী, জয়রাজা, ফেরদৌস, রিয়াজ, কেরামত মাওলা, তৌকীর আহমেদ, তুষার খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোহাম্মদ বরো প্রমুখ।
প্রসঙ্গক্রমে বিশিষ্ট নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, এটাকে ঠিক অডিশন বলা যাবে না। ছবির পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সাথে দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে… এই আর কী…
তারিক আনাম খান বলেছেন, দেশের প্রথম সারীর প্রায় সকল অভিনয় শিল্পীই এই অডিশনে অংশ নিয়েছেন। কে কোন চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হবেন তা বুঝতে পারিনি। আসলে অডিশন তো একটি প্রক্রিয়া। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়!
বিটিভির মহাপরিচালক হারুন রশীদ নিজেও অডিশনে অংশ নিয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে বললেন, শিল্পী বাছাইয়ের বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই এখনই কিছু বলা যাবে না। অভিনেতা মোহাম্মদ বারী বলেন, আমাকেও অডিশনে ডাকা হয়েছিল। একটি সংলাপ বলতে বলা হয়। একই সাথে আমার অভিনয় দৃশ্য মুভিতে ধারন করা হয়। আমার ধারনা, বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনীতে যে চরিত্র গুলো আছে তাদের চেহারার সাথে অভিনয় শিল্পীদের চেহারাগত মিল খোঁজার জন্যই ঢাকার অডিশনের আয়োজন করা হয়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, অচিরেই ঢাকায় আরেকদফা অডিশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেখানে শিল্পী তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে।

মাদক কেলেঙ্কারিতে বলিউডের ৫০ তারকার নাম

বেশির ভাগ বলিউড তারকাই নাকি মাদকে আসক্ত। বলিউডের গভীরে শিকড় বিস্তার করে থাকা মাদক চক্রের খোঁজ মিলতে শুরু করেছে। আর এসবের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একাধিক তারকার নাম। শুরুতে বলা হয়েছিল, মাদক কেলেঙ্কারিতে রয়েছে বলিউডের ২০ জন তারকার নাম। সপ্তাহ না পেরোতেই সংখ্যাটি বেড়ে এখন ৫০ জনের বিশাল তালিকায়। সামনে আরও বাড়ার সম্ভাবনাও আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা…

বলিউডকে তছনছ করে দিয়েছে সুশান্ত সিং রাজপুতের অপমৃত্যু। বদলে দিচ্ছে পুরোনো বহু হিসেব–নিকেশ। নতুন করে রচিত হয়েছে এক কালো অধ্যায়, ‘মাদক কেলেঙ্কারি’। এমনও বলছেন অনেকে, বলিউডের বেশির ভাগ তারকাই মাদকে আসক্ত। বলিউডের গভীরে শিকড় বিস্তার করে থাকা মাদক চক্রের খোঁজ মিলতে শুরু করেছে। আর এসবের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একাধিক তারকার নাম। উঠে এসেছে শীর্ষ নারী তারকা দীপিকার নামও। শুরুতে বলা হয়েছিল, মাদক কেলেঙ্কারিতে রয়েছে বলিউডের ২০ জন তারকার নাম। সপ্তাহ না পেরোতেই সংখ্যাটি বেড়ে এখন ৫০!

সারা আলী খান, রিয়া চক্রবর্তী ও রাকুল প্রীত সিং 

ইতিমধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি) গ্রেপ্তার করেছে বলিউড তারকা সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীকে। সুশান্তের মৃত্যুতে মাদকের সূত্র পেয়েই আলাদা করে তদন্ত শুরু করে ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো। তদন্ত করে রিয়াসহ মাদক কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তার করা হয় ১৮ জনকে। পরে রিয়ার বক্তব্যে উঠে আসে সারা আলী খান ও রাকুল প্রীতের নাম। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, সুশান্তের সঙ্গে বসেই নাকি মাদক সেবন করতেন সারা ও রাকুল। এ নিয়ে হইচই যখন তুঙ্গে, তখনই মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যায় দীপিকা পাড়ুকোনের নাম।

এভাবে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ। একের পর এক বড় তারকার নাম ফাঁস হতে শুরু করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো বলিউডের আরও গভীরে ঢুকে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটির নজরে রয়েছে বলিউডের অন্দরমহলে চলা সেসব পার্টি, যেখানে মাদকসেবন এবং লেনদেন চলে অবাধে। ভারতীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বলছে, বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কর্মকর্তাদের নজরে রয়েছেন চলচ্চিত্র জগতের অন্তত ৫০ জন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক। এ–ও জানা গেছে, বলিউডের প্রথম সারির বেশ কিছু অভিনেতা, যাঁরা ড্রাগ পার্টির আয়োজন করেন, তাঁদের সঙ্গে ক্রিকেট জগতেরও যোগ আছে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাউ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থার নজর পড়ছে কোকো ক্লাবে আয়োজিত একটি অভিজাত পার্টির দিকে। ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর রাতে ক্লাবের পার্টিতে ঠিক কী হয়েছিল, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ বের করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

দিয়া মির্জা

গত ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসা থেকে বলিউড তারকা সুশান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, আত্মহত্যা করেছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। আত্মহত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না সুশান্তের ভক্তরা। বলিউডের বহু তারকা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এমনকি বিহার পুলিশের মহাপরিচালকও তদন্ত শুরুর পর এ হত্যাকে আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে পারছিলেন না। অন্যদিকে একের পর এক প্রেমে ব্যর্থতা, মাদক, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, নিম্নমুখী ক্যারিয়ার, পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা—সবকিছু সুশান্তকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর প্রেমিকা রিয়া। এসব তদন্ত করতে গিয়েই উঠে এসেছে মাদক কেলেঙ্কারির কথা।

সুশান্ত সিং রাজপুত এখন কেবলই ছবি। 
রিয়া চক্রবর্তী এখন জেলে

গতকাল বুধবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো সমন পাঠিয়েছে দীপিকা পাড়ুকোন, সারা আলী খান, শ্রদ্ধা কাপুর, রাকুল প্রীত সিং, সিমোন খামবাট্টা, সেলিব্রিটি ম্যানেজার শ্রুতি মোদি এবং দীপিকার ম্যানেজার কারিশমা প্রকাশকে। শকুন বাত্রার আগামী ছবির শুটিংয়ের জন্য বর্তমানে গোয়াতে আছেন দীপিকা পাড়ুকোন। এই মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ায় মুম্বাইতে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কর্মকর্তারা ফোন করে দীপিকা পাড়ুকোনকে সমনের কথা জানালেও সংস্থার প্রতিনিধি সশরীরে সমন নিয়ে গেছেন শ্রদ্ধা কাপুর ও সারা আলী খানের বাড়িতে। সমন পাঠানো বলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে দীপিকাকে জেরা করার কথা ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, সারা ও শ্রদ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার এবং রাকুল প্রীত, সিমোন খামবাট্টা ও শ্রুতি মোদিকে জেরা করার কথা আজ বৃহস্পতিবার।

দীপিকার পর এবার দিয়া মির্জাকেও সমন পাঠানোর কথা শোনা গেছে। দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোতে ডাকা হবে দিয়াকে। মাদক পাচারকারী অঙ্কুশ আর অনুজ কেশওয়ানিকে জেরার সময়ই দিয়ার নাম উঠে এসেছে। দিয়ার এই ম্যানেজার অনুজের প্রেমিকা। গত বছর থেকে তিনিই নিয়মিত দিয়াকে মাদক পৌঁছে দিতেন। এমনকি দুবার মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন দিয়ার ব্যবস্থাপক। ইতিমধ্যে তাঁকে সমন পাঠানো হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো

কঙ্গনাকে একহাত নিলেন সানি লিওনি

ঊর্মিলা মাতন্ডকরের সঙ্গে বিতর্কে অযথা টেনে আনা হচ্ছে সানি লিওনিকে। তাই নাম না করেই কঙ্গনা রনৌতকে একহাত নিলেন সাবেক পর্ন তারকা। বলিউডের সঙ্গে মাদক চক্রের সম্পর্ক এবং মুম্বাইকে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ বলায় কঙ্গনার বিরোধিতা শুরু করেন ঊর্মিলা। কঙ্গনার নিজের রাজ্য হিমাচল প্রদেশই মাদকের আঁতুড়ঘর বলে পালটা আক্রমণ করেন।  এর পর ক্ষেপে গিয়ে ‘রঙ্গিলা’-খ্যাত নায়িকাকে ‘সফট পর্নস্টার’ বলেও আক্রমণ করেন কঙ্গনা।

পাশাপাশি ঊর্মিলাকে আক্রমণের সময় সানি লিওনির প্রসঙ্গও টেনে আনেন ‘মণিকর্ণিকা’ অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে নাম না করেই কঙ্গনাকে একহাত নিলেন সানি। যেসব মানুষেরা আপনার সম্পর্কে অত্যন্ত কম জানেন, তারাই বেশি করে কথা বলেন বলে নিজের ইনস্টাগ্রামে স্ট্যাটাস শেয়ার করেন সানি। নাম না করে কঙ্গনাকেই এ আক্রমণ করা হয়েছে বলে নেট জনতার একাংশ মন্তব্য।

টুইটারে কঙ্গনা লেখেন, “বলিউডের উদার মানসিকতার মানুষগুলো একসময় এক বিখ্যাত লেখককেও কুরুচিকর মন্তব্য করেছিল, কারণ তিনি বলেছিলেন, সানি লিওন কখনো ভারতের রোল মডেল হতে পারেন না। এই ইন্ডাস্ট্রি সানিকে গ্রহণ করেছে, গোটা ভারত তাকে শিল্পী হিসেবেই দেখে, হঠাৎই কিছু নারীবাদীর মনে হলো, জোর করে তাকে পর্ন স্টারের তকমা দেওয়া হয়েছে!”

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামে সানি লেখেন, “এটি হাস্যকর, যখন মানুষ আপনার সম্পর্কে সবচেয়ে কম জানে, কিন্তু তারা আপনার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি বলার চেষ্টা করে।” যদিও পরবর্তী সময়ে পোস্টটি মুছে ফেলেন সানি। করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন সানি লিওনি। সঙ্গে আছে স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার ও ৩ সন্তান।

সেই দিঘী এখন চিত্র নায়িকা!

কখনও বাবার কোলে চড়ে কখনও মায়ের কোলে চড়ে শুটিং করতে যেতো ছোট্ট মেয়েটি। মায়া ভরা মুখ। কী যে সুন্দর হাসি। হাসলেই গালে টোল পড়ে। মেয়েটি যেখানেই যায় ভক্ত পাঠকেরা ভীড় করে তাকে দেখার জন্য। ছোট্ট বয়সেই মেয়েটি তারকা হয়ে উঠেছিল। তখনই সবার ভাবনায় মেয়েটির একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। এই মেয়ে একদিন চলচ্চিত্রের নায়িকা হবে।
বাস্তবেও তাই ঘটেছে। গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া সেই ছোট্ট দিঘী এখন সিনেমার নায়িকা। তবে দিঘী যে নায়িকা হবে এমনটা সবারই আশা ছিল। দিঘীর মা দোয়েল এক সময়ে আমাদের সিনেমার পর্দা কাঁপিয়েছেন। বাবা সুব্রতও সিনেমার ব্যস্ত নায়ক ছিলেন। আমাদের চলচ্চিত্রে বোধকরি দিঘীই প্রথম চিত্র নায়িকা যার বাবা-মা দুইজনই এক সময় একই অঙ্গনের নায়ক-নায়িকা ছিলেন। এ যেন রক্তের ধারা। বাবা-মায়ের দেখানো পথেই পা ফেলেছেন গুণী মেয়ে।
সেই ছোট্ট বয়সে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে মিডিয়ায় তো বটেই দেশের মানুষের মাঝেও তুমুল আলোড়ন তুলেছিল দিঘী। তারপর ছোট্ট বয়সেই কাজী হায়াৎ পরিচালিত কাবুলীওয়ালা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়। প্রথম চলচ্চিত্রেই শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন দিঘী। পরবর্তিতে আরও দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পীর পুরস্কার পান।
দিঘী অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো; কাবুলীওয়ালা, দাদীমা, চাচ্চু, সাজঘর, ববা আমার বাবা, এক টাকার বউ, অবুঝ শিশু, রিকসাওয়ালার ছেলে, চাচ্চু আমার চাচ্চু, দ্য স্পিড। পড়াশুনার কারনে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর মিডিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন দিঘী। এই পরিকল্পনা ছিল বাবার। দিঘীর মা চিত্র নায়িকা দোয়েল জীবিত থাকা অবস্থায় দিঘীর অভিনয় সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের দেখভাল করতেন। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর বাবা সুব্রতই দিঘীর ক্ষেত্রে মা ও বাবা দুইজনেরই দায়িত্ব কাধে তুলে নেন। পরম মমতায় গড়ে তুলেছেন মেয়েকে। মূলত বাবা সুব্রতর আগ্রহেই দিঘী চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে মায়ের জন্য এখনও আড়ালে চোখের পানি ফেলেন তিনি। প্রসঙ্গক্রমে বললেন, ছোটবেলায় দেখতাম আমি কোন ছবিতে অভিনয় করবো, কোন ছবিতে অভিনয় করব না তার সিদ্ধান্ত মা-ই নিতেন। মা চাইতেন আমি ডাক্তার হবো। মা বেঁচে নেই। এখন সব সিদ্ধান্ত নেন বাবা। বাবাই আমার মা, বাবাই আমার বাবা…
আমাদের চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে দিঘী চিত্র নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। বাবা সুব্রত আশাবাদী দিঘী নায়িকা হিসেবে অনেক ভালো করবে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষজনও একই মন্তব্য করলেন দিঘী প্রসঙ্গে।
আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে অনেক শুভ কামনা থাকলো দিঘীর জন্য।
টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই ও ধামাকা নামে দুটি ছবির শুটিং শুরু করেছেন দিঘী। দুটি ছবিতেই হিরো হিসেবে তার সাথে জুটি বেধেছেন শান্ত খান। দিঘীর পুরোনাম প্রার্থনা ফারদিন দিঘী। মা দোয়েল এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্র নায়িকা। আর বাবা সুব্রতও এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন।

সিনেমা খুলবে কবে?

রেজানুর রহমান
কথা উঠেছে, করোনার সংকট কাটিয়ে সবই তো খুলে গেল। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অফিস আদালত, ব্যবসা-বানিজ্যের সকল কিছুই খুলে গেছে। ট্রেন, বাস, লঞ্চ, উড়োজাহাজ চলছে। বাজারঘাট ব্যস্ত আগের মতই। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত সহ পর্যটনের সকল ক্ষেত্রও খুলে দেয়া হয়েছে। নাটকের মঞ্চও খুলেছে। শুধু খোলেনি দেশের সিনেমা হল। এমনিতেই দেশের সিনেমা হলের সংখ্যা কমতে কমতে একটা উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে গেছে। যাও সচল আছে তা নামকাওয়াস্তে। আর তাই সিনেমা হল খুলে দেয়ার কোনো লক্ষনই চোখে পড়ছে না। কথা প্রসঙ্গে একজন সংস্কৃতিসেবী অধ্যাপক বললেন, অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এই দেশের সিনেমা হল অচিরেই জাদুঘরে দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ কেমন ছিল সিনেমা হল তা দেখার জন্য, বোঝার জন্য হয়তো জাদুঘরে যেতে হবে।
অনেকে হয়তো ভাবছেন, এ কেমন কথা? এখনও আনন্দ-বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গই হল সিনেমা। কাজেই সিনেমা হল দেখার জন্য জাদুঘরে যেতে হবে কেন? এটা এক ধরনের বাড়াবাড়ি পর্যায়ের বক্তব্য হয়ে গেল না? যারা এধরনের কথা ভাবছেন তাদেরকে একবার বাস্তবতায় মুখোমুখি দাড়াতে বলছি। বলতে পারবেন এই দেশে এক সময় সিনেমা হলের সংখ্যা কত ছিল? উত্তরটা বলে দিচ্ছি। বেশী দিনের কথা নয়। ৫/৭ বছর আগেও এই দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা ছিল ১৩ শ’রও অধিক। বর্তমানে তা কমতে কমতে ১০০’রও নীচে নেমে এসেছে। এর থেকেই অনুমান করা যায় দেশের সিনেমা শিল্পের অবস্থা এখন কেমন?
করোনার আতংকে দেশের সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবতা হলো করোনা না এলেও এক সময় দেশের সিনেমা হল গুলো আপনা আপনিই বন্ধ হয়ে যেতো। করোনা এক অর্থে একটা সুযোগ করে দিয়েছে। অন্ততত একটা যুক্তি দেখানো যাচ্ছে যে, করোনা মহামারী সিনেমা শিল্পেও আঘাত হেনেছে। কিন্তু এটাতো কথার
কথা। আসলেই কি করোনার কারনে সিনেমা হল বন্ধ রয়েছে? নাকি ভালো সিনেমা নেই বলে সিনেমা হল বন্ধ রয়েছে?
৮০’র দশকের কথা ভাবুন তো একবার। প্রতি সপ্তাহেই একাধিক নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে। নতুন ছবি মানেই হাউস ফুল অবস্থা। নতুন ছবি মানেই প্রযোজক পরিচালকের আর্থিক উন্নতি। বর্তমানে যদি এই পরিবেশ থাকতো তাহলে সবর আগেই দেশের সিনেমা হলই খুলে যেতো। সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষ জনেরাই হল খোলা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেন দরবার শুরু করে দিতেন। তর্কের খাতিরে সিনেমা শিল্পে জড়িত মানুষদের জীবন-জীবিকার কথা তুলতেন। সামাজিক ক্যাম্পেইন জোরদার করা হতো। কত কী যে হতো তা সহজেই ভেবে নেয়া যায়।
কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না কেন? কথায় আছে শিশু না কাঁদলে মাও তাকে বুকের দুধ খাওয়ায় না। কাজেই যে কোনো পরিবর্তনের জন্য আওয়াজ তুলতে হয়। সেই আওয়াজটা কই? বরং দেশের চলচ্চিত্র শিল্প দিনে দিনে আওয়াজহীন, গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছে। এফডিসি ঠিকই আছে। পরিচালক, প্রযোজক, ক্যামেরাম্যান সহ শিল্পীরাও আছেন। শুধু নেই নতুন সিনেমা। তবে সিনেমার অঙ্গনে দলবাজির প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান। কথা আছে ‘নাই কাজ তো খই ভাজ’। যেহেতু সিনেমা পাড়ায় সেই অর্থে কোন কাজ নেই। তাই বিভিন্ন সমিতির ব্যানারে দলবাজির চর্চা চলছে জোরে-শোরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দেখে নেওয়ার ঘৃন্য লড়াই করে যাচ্ছে নিয়মিত। ফলে এককালের দারুন ব্যস্ত এফডিসি এখন অনেকটাই পরচর্চা, পরনিন্দার মুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অথচ এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।
একটা সময় ছিল এফডিসি অর্থাৎ সিনেমার নির্মাণ ক্ষেত্র দেখার জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষজন ছুটে আসতো। ঢাকায় কোনো কাজে বেড়াতে এসেছে কেউ, দর্শনীয় স্থানের তালিকায় এফডিসিকে গুরুত্ব দিত। রাজধানীর কোনো সিনেমা হলে নতুন ছবি দেখার কর্মসূচিও থাকতো। অনেকে ঢাকার নামকরা সিনেমা হলে ছবি দেখে টিকেটের অর্ধেক অংশ সাথে করে নিয়ে যেত নিজের শহরে বন্ধুদেরকে দেখানোর জন্য। সেই সিনেমা এখন গুরুত্বহীন। হল বন্ধ। অধিকাংশ হল ভেঙ্গে মার্কেট হয়েছে। যাও দুয়েকটি আছে, ভালো সিনেমার অভাবে অচিরেই হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে।
তার মানে অবস্থাটা কি দাড়িয়েছে? এই দেশে শেষ পর্যন্ত কি সিনেমা টিকবেই না? এই প্রশ্নে অনেকেই হয়তো অবাক হচ্ছেন। আরে ভাই একটা দেশে সিনেমার মতো বড় বিনোদন ক্ষেত্র থাকবে না? আপনি কোন যুক্তিতে একথা বলছেন?
আমার কাছে অনেক যুক্তি আছে। যে ভাবে আমাদের সিনেমা জগত চলছে সেভাবে চললে অচিরেই বাংলাদেশের সিনেমা হারিয়ে যাবে। হ্যা, সিনেমা থাকবে। সেটা অন্য দেশের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমা থাকবে। সিনেমা হয়ে যাবে ছোট পর্দার বিষয়। সিনেমা হল হয়তো বিলীন হয়ে যাবে।
বাস্তবতার নিরীখেই কথাগুলো বলছি। সিনেমা মানেই বড় হল ঘরে বড় পর্দায়, অন্ধকার পরিবেশে পারিবারিক বিনোদন। একটা সময় সিনেমা হলে সিনেমা দেখার জন্য প্রচন্ড লড়াই করে টিকেট কিনতে হতো দর্শককে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে নতুন ছবি দেখার সৌবাগ্য হতো না অনেকের। একই ছবি হলে চলতো সপ্তাহের পর সপ্তাহ। তবুও ভীড় কমতো না! এক্ষেত্রে সময়টা ছিল সিনেমার অনুকূল। পারিবারিক প্রদান বিনোদন বলতেই বোঝাত হলে গিয়ে সিনেমা দেখা।
হঠাৎই যেন পরিবেশটা বদলে গেল। দেশে ছিল একটাই টেলিভিশন চ্যানেলÑ বিটিভি। সেই জায়গায় ক্রমান্বয়ে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। এক থেকে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা গিয়ে দাড়াল ৩০-এ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হয়ে উঠলো। হাতের কাছেই চলে এলো বিনোদন দুনিয়া। সিনেমা দেখার জন্য কষ্ট করে হলে না গেলেও চলে। ৩০টি টিভি চ্যানেলের ১৫টিতেই প্রতিদিন একাধিক সিনেমা দেখানো শুরু হল। ফলে দর্শকদের আগ্রহ করে গেল সিনেমা হলের প্রতি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে একের পর এক বন্ধ হতে থাকলো সিনেমা হল। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো দেশের অনেক বিভাগীয় শহরেও এখন সিনেমা হল নাই। হল ভেঙ্গে মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকায় কাকরাইলের ঐতিহাসিক রাজমনি সিনেমা হল ভেঙ্গে মার্কেট গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারী নির্দেশ আছে সিনেমা হল ভেঙ্গে মার্কেট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি সিনেপ্লেক্স থাকতে হবে। রাজমনির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মানা হয়নি।
এই যে সিনেমা হল ভেঙ্গে মার্কেট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হলো। এজন্য কি কোনো প্রতিবাদ হয়েছে? কেউ কি সামান্যতম আওয়াজও করেছেন? না, কোনো আওয়াজ শোনা যায়নি। একথা তো সত্য, যে কোনো শিল্পের টিকে থাকার প্রথম শর্ত হলো তার গুরুত্ব প্রমান করা। অর্থাৎ দেশের মানুষের কাছে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে ওঠাটাই আসল। দেশের সিনেমা কি সেই পর্যায়ে আছে এখন? অনেকেই হয়তো বলবেন, দেশের সিনেমা শিল্পকে এখন অনেক প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গিয়ে যেতে হচ্ছে। এক হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব। দুই. প্রায় প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিদিন সিনেমা প্রদর্শন। তিন. বিদেশী টিভি চ্যানেলের আগ্রাসন। স্বীকার করছি প্রতিটি কারণই অনেক গুরুত্বপুর্ণ। কিন্তু একথাতো সত্য, এখন যুগটাই হচ্ছে চরম প্রতিযোগিতার। শুধু সিনেমার ক্ষেত্রে নয়, দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রেও চরম প্রতিযোগিতা চলছে। কাজেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা ও মেধার প্রয়োগ দরকার। তা কি আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনে বিদ্যমান।
দেশে ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল। ২০টিতেই প্রতিদিন সিনেমা চলে। এটা একটা পরিবর্তন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও একটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিদেশী টেলিভিশনের আগ্রাসন আছে বলেই আমরা কি বসে থাকব?
এই করোনাকালে আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষেরা কর্মহীন সময় কাটাচ্ছেন। তারা একবারও কি ভেবেছেন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কি ভাবে সামনের দিকে এগুবেন?
এখন চলছে কনটেন্ট নিয়ে লড়াইয়ের যুগ। আগের জমানায় সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে হতো। কারণ তখন বিকল্প কোনো মাধ্যম ছিল না। সিনেমা দেখতে হলে সিনেমা হলেই যেতে হতো। আর এখন মন চাইলেই নিজের মোবাইল ফোনেও ঘরে বসেই সিনেমা দেখা যায়। কাজেই কে যেতে চাইবে সিনেমা হলে? তবে এই প্রশ্নেরও উত্তর আছে। ঐযে বললাম কনটেন্ট। কনটেন্টই হলো আসল কথা। এখনও একটি ভালো সিনেমা দেখার জন্য মানুষ হলেই যেতে চায়। সেজন্য যে প্রস্তুতিটা দরকার যে পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার তা কি আমরা গড়ে তুলতে পেরেছি।
চলচ্চিত্রকে যদি বলি একটি পরিবার তাহলে প্রশ্নটা এসেই যায় আমাদের চলচ্চিত্র পরিবার কি ঐক্যবদ্ধ। পরিবারের প্রতিটা সময় সমান যায় না। চড়াই উৎরাই থাকে। সংকট থাকে। তবে সংকটের সময় পরিবারের কর্মক্ষম, বিচক্ষণ মানুষেরাই পরিবারটিকে নিয়ে মাথা ঘামায়। ধরা যাক, বাবা-মা অনেক কষ্ট করে পরিবারের একটি ছেলে অথবা মেয়েকে মানুষ করেছে। পরিবারটি বিপদে পড়লে ওই ছেলে অথবা মেয়েটিই ভরসার আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারের ক্ষেত্রেও যদি তেমনটা ভাবি তাহলে অনেক গুলো প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়। আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারেও অনেকে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠেছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই নাম, যশ খ্যাতি, অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। সঙ্গত কারনেই তার বা তাদের প্রতি চলচ্চিত্রাঙ্গনের অথবা চলচ্চিত্র পরিবারের অনেক আশা। বিপদের দিনে তারা অবশ্যই চলচ্চিত্র পরিবারের হাল ধরবেন।
সহজ কথায় বলি। আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান একাই একশ। চলচ্চিত্র পরিবারের এই দুঃসময়ে তার কি কোনো ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি আমরা? একা শাকিব খানই অনেক পরিকল্পনা গ্রহন করতে পারেন। ধরা যাক, শাকিব খান চলচ্চিত্রের এই দুঃসময়ে একটা ঐক্যের ডাক দিলেন তখন নিশ্চয়ই একটা পরিবর্তন ঘটবে? কোথায় সেই শাকিব খান এবং অন্যান্যরা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। সিনেমা হলকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারী সহায়তা দিবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন হলো, সিনেমা হল না হয় আধুনিক হল, সিনেমা হলের সংখ্যাও বাড়লো। কিন্তু সিনেমা হলে আমরা দেখাব কি? ভালো সিনেমা না হলে দর্শকতো সিনেমা হলে ফিরবে না। এক্ষেত্রে আছে কি কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা?
আগামী সংখ্যায় প্রকাশ হবে ফলোআপ প্রতিবেদন। প্রিয় পাঠক, একটা অনুরোধ করি। দেশের সিনেমা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকাও কিন্তু কম নয়। দেশের সিনেমা দেখুন। আশাকরি তাতেই একটা পরিবর্তন আসবে। বাংলা সিনেমার জয় হোক।

জনপ্রিয় বিভাগ