Home Blog

কারা থাকছেন বঙ্গবন্ধু সিনেমায়!

রেজানুর রহমান
একটি কবিতা লেখা হবে।
তার জন্য কী আকুল প্রতীক্ষা…
কখন আসবেন কবি?
তেমনি একটি সিনেমা বানানো হবে তার জন্যও শুরু হয়েছে আকুল প্রতীক্ষা।
কখন দেখবো সেই সিনেমা?
সিনেমাটি সাধারন কোনো সিনেমা নয়। একটি দেশের, একটি জাতির সকল প্রেরনার উৎস, স্বাধীনতার মহান স্থপতির জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মিত হবে সেই সিনেমা। তার মানে সিনেমাটি হবে একটি দেশের ইতিহাসেরও অংশ।
‘বঙ্গবন্ধু’ নামটিই তো বাংলাদেশ। এই নামে যখন একটি সিনেমা নির্মিত হবে তখন তো প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের কথাই উঠে আসবে। আর তাই প্রিয় স্বদেশকে সেলুলয়েডের পর্দায় দেখবার জন্য আকুল প্রতীক্ষা শুরু হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। নানা জল্পনা, কল্পনাও শুরু হয়েছে এই সিনেমাকে ঘিরে। একটি দেশ ও জাতির পিতার জীবন কাহিনী নিয়ে কে বানাবেন সিনেমাটি? এই নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। শেষে সিদ্ধান্ত হয় উপমহাদেশের বরেন্য চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল বানাবেন এই সিনেমা। এবার আলোচনা শুরু হয়েছে ছবির পাত্র-পাত্রীক কে হবেন তাই নিয়ে।
বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনী মানেই একটি দেশেরও জীবন কাহিনী। ১৯২০ সলের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেওয়া এক কিশোর পরবর্তিতে কিভাবে একটি স্বাধীন দেশের মহান স্থপতি হয়ে উঠলেন, প্রেরনাদীপ্ত সেই ইতিহাস তুলে ধরতে হলে ইতিহাসখ্যাত আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কথাও উঠে আসবে। সিনেমার পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠবেন চরিত্রগুলো! কাজেই অধীর আগ্রহ দেখা দিয়েছে দেশের সাধারন মানুষের মাঝেও। বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মিত হবে সিনেমা। কাজেই কে হবেন বঙ্গবন্ধু? তিনি কি দেশের কোনো অভিনেতা? নাকি অন্য দেশের? এই নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। পাশাপাশি কে হবেন বঙ্গবন্ধুর বাবা-মা? বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর ভূমিকায় কে থাকছেন? দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার ভূমিকায় কারা থাকছেন এই নিয়েও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনীতে অবশ্যই থাকবেন জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সহ ইতিহাস খ্যাত অনেক নেতা। তাদের চরিত্রই বা কে করবেন? এ নিয়েও জল্পনা-কল্পনা কম হচ্ছে না।
বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমার শিল্পী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন ছবিটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। বিটিভির অডিটোরিয়ামে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিনয় শিল্পীকে ডেকেছিলেন। একটি সূত্রের মতে ৭০ জনেরও বেশী অভিনয় শিল্পী শ্যাম বেনেগালের সাথে দেখা করেছেন। কঠোর গোপনীয়তায় অনেকটা অডিশন স্টাইলে একটানা তিনদিন অনুষ্ঠিত হয় এই সাক্ষাৎকার পর্ব। শিল্পীদেরকে নির্ধারিত সংলাপ বলতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের সাক্ষাৎকার পর্বটি মুভি ক্যামেরায় ধারন করা হয়েছে।
একটি সূত্র জানায় ঢাকায় অডিশনের আগে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে দুই দফায় অডিশন হয়েছে। ঢাকা, কলাকাতা ও মুম্বাইয়ের অডিশন সমন্বয় করে শিল্পী তালিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই জীবনীভিত্তিক ছবিতে তাঁর জীবনের চারটি অধ্যায় তুলে ধরা হবে। এই চার অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে অডিশন দিয়েছেন তারিক আনাম খান, আরিফিন শুভ, সিয়াম ও দুজন শিশুশিল্পী। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন শামীমা নাজনীন এবং মা-বাবা চরিত্রের জন্য দিলারা জামান ও খায়রুল আলম সবুজ।
ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। চলতি মাসের মধ্যে ঢাকা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের শিল্পীদের মধ্য থেকে একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আরও দুই ধাপে অভিনয়শিল্পী বাছাইয়ের কাজ করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিল মাসে শুরু হবে ছবির প্রথম ধাপের শুটিং। এরপর দ্বিতীয় ধাপের শুটিং শুরু হবে সেপ্টেম্বরে। মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে সেট বানিয়ে কাজ করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকায় কারিগরি দল কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেট বানিয়ে তৎকালীন সময়কে তুলে নিয়ে আসা হবে। বাড়িগুলোও সেভাবে তৈরি করা হবে। কলকাতায়ও হবে ছবিটির শুটিং।

বঙ্গবন্ধু চরিত্রটি বাংলাদেশ থেকেই কেউ করবেন কি না, এমন প্রশ্নে জানানো হয়েছে, এটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অডিশনের পর যাঁদের সেরা মনে হবে, তাঁদেরই বিভিন্ন বয়সের বঙ্গবন্ধু চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশেরও হতে পারেন, আবার ভারতেরও কেউ হতে পারেন। ছবিটিতে শতাধিক চরিত্র থাকবে। প্রতিটি চরিত্রের জন্য একাধিক ব্যক্তির অডিশন নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার চরিত্রের জন্য বাংলাদেশ থেকে জয়া আহসান ও নুসরাত ইমরোজ তিশা অডিশন দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে তারিক আনাম খান।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জীবনীভিত্তিক এই ছবির কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আছেন বাহাউদ্দিন খেলন এবং ভারত থেকে শ্যাম রাওয়াত।
ঢাকায় যারা অডিশন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেরদৌসী মজুমদার, রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ হাসান ইমাম, আবুল হায়াত, রাইসুল ইসলাম আসাদ, জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম, রোকেয়া প্রাচী, জয়রাজা, ফেরদৌস, রিয়াজ, কেরামত মাওলা, তৌকীর আহমেদ, তুষার খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোহাম্মদ বরো প্রমুখ।
প্রসঙ্গক্রমে বিশিষ্ট নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, এটাকে ঠিক অডিশন বলা যাবে না। ছবির পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সাথে দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে… এই আর কী…
তারিক আনাম খান বলেছেন, দেশের প্রথম সারীর প্রায় সকল অভিনয় শিল্পীই এই অডিশনে অংশ নিয়েছেন। কে কোন চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হবেন তা বুঝতে পারিনি। আসলে অডিশন তো একটি প্রক্রিয়া। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়!
বিটিভির মহাপরিচালক হারুন রশীদ নিজেও অডিশনে অংশ নিয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে বললেন, শিল্পী বাছাইয়ের বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই এখনই কিছু বলা যাবে না। অভিনেতা মোহাম্মদ বারী বলেন, আমাকেও অডিশনে ডাকা হয়েছিল। একটি সংলাপ বলতে বলা হয়। একই সাথে আমার অভিনয় দৃশ্য মুভিতে ধারন করা হয়। আমার ধারনা, বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনীতে যে চরিত্র গুলো আছে তাদের চেহারার সাথে অভিনয় শিল্পীদের চেহারাগত মিল খোঁজার জন্যই ঢাকার অডিশনের আয়োজন করা হয়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, অচিরেই ঢাকায় আরেকদফা অডিশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেখানে শিল্পী তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে।

একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার গল্প

মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। এই কথার যথার্থতা প্রমান করতে চলেছেন একজন তরুণ উদ্যোক্তা। অকৃত্রিম মায়ায় জড়িয়ে দেশের একদল সম্ভাবনাময় তরুণকে সংগঠিত করেছেন। তাদের চোখে-মুখেও অযুত সম্ভাবনার আলো। দেশকে ভালোবেসে, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখতে চায় তারা। এজন্য বেছে নিয়েছে একটি আধুনিক নিউজ পোটার্লকে। নামটি খুবই সুন্দরÑ সিটি নিউজ ঢাকা। যুগের চাহিদা মেটাতে কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে চায় সিটি নিউজ ঢাকা। সেই সাথে তৈরি করতে চায় তরুণ সংবাদকর্মীদের জীবন মানের উন্নয়নও। সংবাদ হোক সত্যÑ এই শ্লোগানকে ধারণ করে সত্যের পথেই হাঁটতে বদ্ধ পরিকর সবাই।
এবার সেই তরুণ উদ্যোক্তার নামটা আপনাদেরকে বলি। গনমাধ্যম জগতের একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে অনেকেই তাকে চেনেন। সৈয়দ আতিক। একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। নীলফামারীর সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে তার জন্ম। এই করোনাকালে তরুণ মিডিয়া কর্মীদের অনেকের করুণ জীবন সংগ্রাম তাকে মানসিক ভাবে আহত করে। তাদের জন্য কিছু একটা করার কথা ভাবেন। ব্যক্তিগত ভাবে সাহায্য সহযোগিতা পৌছে দেন অনেকের ঠিকানায়। করোনাকালে গত ঈদটা ছিল অনেকটাই নিরানন্দ। ঘরবন্দী জীবন। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনলাইনেই আয়োজন করেন প্রেরণাদায়ী এক রচনা প্রতিযোগিতার। ‘কেমন কাটলো তোমাদের ঈদ’ লিখে জানাও। প্রতিযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অসংখ্য শিশু-কিশোর অংশ নেয়। তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন সৈয়দ আতিক। গরু কুরবানী দিয়ে কুরবানীর মাংস অনেক সংবাদকর্মীর বাসায় পৌছে দেন। অনেককে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন। কিন্তু এটাকে যথেষ্ট মনে হচ্ছিলো না সৈয়দ আতিকের। তরুণ সংবাদকর্মীদের ভবিষ্যৎ ভাবনাটা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। সংবাদ মাধ্যমে নতুন কিছু উদ্যোগ দরকার। যেখানে সংবাদ কর্মীদের বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা থাকবে পাশাপাশি তৈরি হবে অযুথ সম্ভাবনার আলো। যে আলোয় দিনে দিনে আরও উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
কথায় বলে সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে। শুধু সংসার নয় আরও বড়, মহৎ কাজে যদি থাকে রমনীর আন্তরিক অংশগ্রহণ তাহলে সেই স্বপ্ন পুরনের রাস্তাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। সেই কাজটিই করেছেন সৈয়দ আতিকের সহধর্মিনী সৈয়দ সানজীদা আফরীন লগ্ন। একদিন তিনিই আতিককে বললেন, এককাজ করো, চলো আমরা একটা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গড়ে তুলি। প্রচলিত ভাবনার নিউজ পোর্টাল নয়। একেবারে নতুন ভাবনার নিউজ পোর্টাল হবে এটি। যেখানে সংবাদ কর্মীদের পেশাগত মর্যাদা গুরুত্ব পাবে। সহধর্মিনীর কথায় উৎসাহ পেলেন আতিক। করোনার মধ্যেই গুলশান এলাকায় একটি বাড়ির ফ্লাটে স্বপ্নের ভূবন খুলে দিলেন। একে একে জড়িত হতে থাকলেন সম্ভাবনাময় তরুণ সংবাদর্মীরা। সিটি নিউজ ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেনি। তবে এরই মধ্যে শুধু দেশে নয় গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সিটি নিউজ ঢাকার আলো ছড়িয়ে গেছে। সংবাদের পাশাপাশি সচিত্র প্রতিবেদন, খবর প্রচার করছে সিটি নিউজ ঢাকা। সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে সিটি নিউজ ঢাকার প্রতিনিধিদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই আনন্দ আলোর সাথে কথা বলেন সিটি নিউজ ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আতিক। সাথে ছিলেন সিটি নিউজ ঢাকার উদ্যোক্তা পরিচালক সৈয়দ সানজীদা আফরীন লগ্ন এবং আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান। কথা মালার চুম্বক অংশ আনন্দ আলোর পাঠকদের জন্য পত্রস্থ করা হলো।

আনন্দ আলো: গনমাধ্যমে আমরা আপনাকে একজন নিবেদিত প্রাণ জানি। আপনার পক্ষেই একটি নতুন সংবাদ মাধ্যম গড়ে তোলা সম্ভব। কাজেই এটি কোনো নতুন সংবাদ নয়। তবে সিটি নিউজ ঢাকার স্বপ্নটা একটু অন্যরকম। বিস্তারিত বলবেন?
সৈয়দ আতিক: ধন্যবাদ আনন্দ আলোকে। প্রশ্নটা যথার্থ! এখন তো অনেক নিউজ পোর্টাল। সেখানে সিটি নিউজ ঢাকা কেন? এর উত্তরটা অনেক সহজ। যুগের চাহিদা বলে একটা কথা আছে। বর্তমান সময়ে কনটেন্ট খুবই গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার। সংবাদকে বলা হয় কাচামাল। তৈরি হওয়ার সাথে-সাথেই বাসি হয়ে যায়। অর্থাৎ নতুন কোনো সংবাদ সৃষ্টি হওয়া মাত্রই আগের সংবাদ গুরুত্বহীন হয়ে যায়। অনেকটা কাচা মালের মতো। বেশীক্ষণ ধরে রাখা যায় না। কারণ পচে যাওয়ার ভয় থাকে। কাজেই দ্রুত বিক্রি করার তাড়না থাকে। এক্ষেত্রে পন্যের গুণগত মানের ওপর বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই বিষয়টিকেই আমরা গুরুত্ব দিতে চাই সিটি নিউজে। খবর যেন সত্য হয়। সত্য হলেই মানুষ তা বিশ্বাস করবে। এজন্য কনটেন্ট ডেভেলপ করার প্রতি আমরা জোর দিয়েছি। আমাদের মূল ভাবনা একটি কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার। সেই লক্ষেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
আনন্দ আলো: অন্যান্য নিউজ পোর্টালের সাথে তুলনা করলে আপনাদের কি কি নতুনত্ব থাকবে?
সৈয়দ আতিক: আমরা কারও সাথে নিজেদের তুলনা করতে চাই না। সংবাদ হোক সত্য এই ভাবনায় আমরা পথ চলতে চাই। সিটি নিউজ ঢাকা সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সচিত্র সংবাদ প্রচারও করবে। ঘটনার চলমান সচিত্র বিবরণ থাকবে আমাদের পোর্টালে। নিয়মিত সংবাদ বুলেটিন প্রচার করা হবে। আমাদের উদ্দেশ্য দুটি। এক. বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্বাস যোগ্য খবর প্রচারের মাধ্যমে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে গোটা বিশ্বে আরও মহিমান্বিত করে তোলা। দুই দেশের তরুণ সংবাদকর্মীদের জীবন-মানের উন্নয়ন করা। সিটি নিউজ ঢাকা হবে একটি ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল মিডিয়া। এখানে যারা ভিজিট করতে আসবেন তাদের জন্য থাকবে নানা আয়োজন। এই অনলাইন গনমাধ্যমে আমরা একাধারে পত্রিকা, টিভি, রেডিও, লাইভ, সিনেমা, নাটক, গল্প সব ধরনের ফ্লেবার দিতে চাই।
অ্যালাইভা নামে আমাদের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে। সিটি নিউজ ঢাকাকে এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের সংবাদ কর্মীরাও এর সাথে যুক্ত থাকবেন। যখনই কারও নিউজ সিটি নিউজ ঢাকার পোর্টালে আপলোড হবে তখনই নির্ধারিত সংবাদকর্মীর সম্মানীর অর্থ তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে। আমাদের আরও অনেক নতুন নতুন পরিকল্পনা আছে। যার সবটাই সংবাদ কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

আনন্দ আলো: সিটি নিউজ ঢাকা একাধিক ভাষায় সংবাদ প্রকাশ করবে বলে শোনা যাচ্ছিলো। এব্যাপারে কিছু বলবেন?
সৈয়দ আতিক: একটা কথা সবিশেষ গুরুত্বের সাথে বলতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শি নেতৃত্বের গুণে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। এক সময় যারা আমাদের দেশটাকে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ বলে অনেকটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিল তারাও আজ বাংলাদেশের ভূয়শী প্রশংসা করছে। উন্নত দেশের কাতারে যেতে চলেছি আমরা। কাজেই এখন শুধু দেশের গন্ডিতে নয় বাংলাদেশের খবর এখন বিদেশেও বেশ জনপ্রিয়। পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ এখন আগ্রহভরে বাংলাদেশের খবর জানতে চায়। কাজেই দেশের মুহূর্তের খবর গোটা বিশ্বে বিশ্বস্ততার সাথে তুলে ধরতে চাই। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ আমাদের মূল শক্তি। সবার আন্তরিক দোয়া ও আশির্বাদ চাই। অবশ্যই একাধিক ভাষায় সংবাদ প্রকাশের ইচ্ছা আমাদের আছে। পথ চলতে চলতে এই দিকটায় আমরা আলো ফেলবো। সংবাদ হোক সত্য। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত হোক সত্য ও সুন্দরের আলোকমালা।
সিটি নিউজ ঢাকার যাত্রা শুভ হোক। আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে এই শুভ কামনা।

মানুষ গড়ার কারিগর ফখরুল আমীন

অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফখরুল আমীন। বাংলাদেশের স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদ ও জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘ চার দশক এর বেশি সময় ধরে শিক্ষাবিদ হিসেবে পাঠ দান ও গবেষণার পাশাপাশি ভৌত স্থাপনার নকশা নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষানবেক্ষণে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭৭ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি লেকচারার হিসেবে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে বুয়েট থেকে তিনি জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিায়ারিং এ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ১৯৯০ সালে সৈয়দ ফখরুল আমীন যুক্তরাজ্যের স্ট্রাথক্লাইড ইউনিভার্সিটি থেকে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর থেকে তিনি বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি স্লাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত থাকার পর ২০১৯ সালে বুয়েট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক

অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফখরুল আমীনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বাবার নাম সামসুছদোহা। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। মা রোকেয়া খাতুন গৃহিনী। ছোট বেলা থেকে ফখরুল আমীন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। হয়েছেনও সফল। বাবা-মার ইচ্ছা আর নিজের আগ্রহ থেকেই প্রকৌশল হওয়া তার। সৈয়দ ফখরুল আমীন কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ১৯৭৭ সালে তিনি বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি লেকচারার হিসেবে যোগ দেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ১৯৮৪ সালে বুয়েট থেকেই মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। ১৯৯০ সালে ফখরুল আমীন যুক্তরাজ্যের স্ট্রাথক্লাইড ইউনিভার্সিেিট থেকে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ওপর গবেষণা করেন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশের নিরাপদ ও সুনিশ্চিত জীবনের মোহ ঝেড়ে ফেলে দেশে ফিরে আসেন দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে। দেশে ফিরে এসে তিনি আবার শিক্ষকতা শুরু করেন। তারপর অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর নানা বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। এখনো দিচ্ছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি বুয়েট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ চার দশকের বেশি কর্মজীবনে অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফখরুল আমীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে বিভিন্ন গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

অধ্যাফক ড. সৈয়দ ফখরুল আমীন দীর্ঘ তিন দশক এর বেশি সময় ধরে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ কাজ করে যাচ্ছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে। বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও পরামর্শক হিসেবে ছোট-বড় বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার। তিনি দেশের অনেক প্রকল্পের সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা প্রশংসনীয়। তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। যেমন মতিঝিলে ৫০ তলা সিটি সেন্টার, পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি, মতিঝিলে পিপলস ইন্সুরেন্স ভবন, পূর্বাচলে কাঞ্চন শীতলক্ষা ব্রিজ। গুলশান-২ এ ৩৯ তলা বানিজ্যিক কমপ্লেক্স, তেজগাঁও ১৪ তলা শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ার, শান্তা প্রপার্টির দিগন্ত পরীবাগ কনডমিনিয়াম অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং, মতিঝিলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২১ তলা অফিস বিল্ডিং সহ অনেক মাল্টিপারস বিল্ডিংয়ের স্ট্রাকচারাল ফাউন্ডেশন এবং ডিজাইন করেছেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম পোর্টের জেটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও জড়িত ছিলেন। তবে পোর্টের কাজ এবং ব্রিজ নির্মাণের কাজ বেশি করেছেন তিনি।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের প্রকৌশল শিক্ষার মান কতটুকু এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন? এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফখরুল আমীন বলেন, আমাদের প্রকৌশল শিক্ষার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রকৌশল শিক্ষা আজকে সারা বাংলাদেশে প্রসারিত। বিভিন্ন জায়গায় ইউনিভার্সিটির সংখ্যা বেড়েছে। বছরের পর বছর আমাদের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের ল্যাবরেটরি অনেক আধুনিক হয়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষক বিদেশ থেকে পিএইচডি করে এসে তারা বিভিন্ন রকম উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত আছেন। সব মিলিয়ে আমি বলব স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের প্রকৌশল শিক্ষার মান অনেক উন্নতি হয়েছে। আগে তো অনেক বড় বড় কাজের জন্য বিদেশ থেকে কনসালটেন্ট আনতে হতো। এখনো তো আমরাই করছি কাজ গুলো। বড় বড় রাস্তা ঘাট, ব্রিজের কাজ গুলো বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা কাজ করছে।
যেসব পুরাতন ভবন তৈরি হয়ে আছে, এগুলোকে কিভাবে টেকসই গড়ে তোলা যায়? এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক ফখরুল আমীন বলেন, পুরাতন ভবন কোনোটা বেশি খারাপ, আবার কোনোটা কম খারাপ। একদম খারাপ ভবন গুলো ভেঙ্গে নতুন করে তৈরি করতে হবে। আবার যে সমস্ত বিল্ডিং দূর্বল আছে সে গুলোকে রেট্রোফিট করে ঠিক করতে পারেন। নির্ভর করে পুরাতন বিল্ডিংয়ের অবস্থার ওপর। তবে ঢালাও ভাবে বলা যাবে না এ সব ভবন ভেঙে ফেলেন। অবস্থা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রত্যেকটা জিনিস আলাদা দেখতে হবে সমস্যা কী?

প্রিয় মার্তৃভূমিকে দেখতে চান? এ প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল আমীন বলেন, এটা খুবই কঠিন একটা প্রশ্ন। আমরা সবাই চাই এ দেশের উন্নতি হোক। উন্নতির সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে। উন্নতি কাকে বলে? এটা আমরা এখন পর্যন্ত ঠিক করতে পারিনি। উন্নতি করতে কি বুঝায়? ঢাকা শহরে বড় বড় বিল্ডিং হলো এটা কী উন্নতি? নাকি আমাদের নৈতিক অবস্থান থেকে আমরা সততার সঙ্গে কাজ করছি, কোনটা উন্নতি? আমাদের কোনো কোনো সেক্টরে উন্নতি হয়েছে আবার কোনো কোনো সেক্টরে অবনতি হয়েছে। আমরা আশা করছি দেশে আরো উন্নতি হবে।
আমাদের জ্ঞান বাড়ছে এটা সন্দেহ নেই। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা নৈতিকতায় পিছিয়ে পড়েছি। সততাটা আমাদের মধ্যে কম। এই শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশলী তাঁর কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে ভালোবাসেন।

দুঃসময়ে নারীদের কথা শোনার জন্য পাশে কেউ থাকে না-রুবানা হক

রুবানা হক। এক নামে অনেক পরিচয়। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সৃজনশীল উদ্যোক্তা, কবি ও সাহিত্যিক । মোহাম্মদী গ্রুপের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমই এর প্রথম নারী সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পরপর দুবার তিনি কবিতার জন্য সার্ক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে (পিএইডি) ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। কর্পোরেট জীবনের পাশাপাশি ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশি লেখকদের সাথে মনসুন লেটারস নামে একটি সাহিত্য ম্যাগাজিন চালিয়ে নিচ্ছেন। ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত রুবানা হক সাউথ এশিয়া টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। সাথে সাথে জাদু মিডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালকও ছিলেন। নাগরিক টেলিভিশনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে তাঁর রয়েছে অনন্য ভূমিকা। ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী তিনি। সম্প্রতি আনন্দ আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি…

আনন্দ আলো: কেমন আছেন?

রুবানা হক: আলহামদু লিল্লাহ। ভালো আছি।

আনন্দ আলো: ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। করোনার এই দুঃসময়ে দিবসটি’কে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

রুবানা হক: জাতিসংঘ এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় করেছে ‘নারীর জন্য সমতা, সকলের অগ্রগতি’। সরকারও জাতিসংঘের সাথে সুর মিলিয়ে করেছে ‘অগ্রগতির মূল কথা, নারী-পুরুষ সমতা’। সম্প্রতি, আইএলও এর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস এর নেতিবাচক  প্রভাবের কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকদের পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। অনেক নারী শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। অনেকের মজুরি কমে গেছে। ফলে তাদের সম্মান কমে গেছে, অন্যের উপর তাদেরকে নির্ভর করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে করোনার এই দুঃসময়ে উল্লেখিত প্রতিপাদ্য বিষয় নির্বাচন অত্যন্ত  সময়োচিত ও যৌক্তিক। আমি বিশ্বাস করি, নারী এবং মেয়েদের সমতা অর্জনের বিষয়টি শুধু ন্যায্যতা এবং মানবাধিকারের মৌলিক বিষয় নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রের অগ্রগতিও এর উপর নির্ভরশীল।

আনন্দ আলো: দেশে প্রকৃত অর্থে নারীদের অবস্থা কেমন বলে মনে হয়?

রুবনা হক: বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে, যিনি মেয়েদের শিক্ষা গ্রহন ও অর্থনৈতিক মুক্তি  অর্জনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মেয়েদের শিক্ষাকে অবৈতনিক করার কাজটি তিনিই শুরু করেছিলেন। ৭২ সালের সংবিধানে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন তিনিই করে দিয়েছিলেন। তারই যোগ্য উত্তরসুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম মেয়াদে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর উচ্চ আদালতে প্রথমবারের মতো মহিলা জজ নিয়োগ দেন, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে একাধিক নারীকে সচিব পদে পদোন্নতি দেন। এমনকি মেয়েদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষায় ৬০ ভাগ মেয়েদের জন্য বরাদ্দ করেন। আজ বাংলাদেশের মেয়েরা ব্যবসা-বানিজ্য, প্রশাসনের সর্বত্র, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড, আন্তর্জাতিক শান্তি   মিশন, ক্রিয়াঙ্গন সর্বত্রই দক্ষতার সাথে বিচরন করছে। এমনকি যে পোশাক শিল্প জাতীয় অর্থনীতিকে  সমৃদ্ধশালী করছে, সেই শিল্পের সিংহভাহ কর্মীরাই হলেন নারী শ্রমিক। তবে, উদ্বেগের বিষয় হলো, এদেশে  নারীরা এখনও ঘরে-বাইরে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীরা পদে পদে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

আনন্দ আলো: নারী পুরুষের সমতার কথা বলা হয়। বাস্তবে কি ঘটছে?

রুবানা হক: যদিও সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত এবং যৌথভাবে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগে নারীদের উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নে ব্যাপক  অগ্রগতি  অর্জিত  হয়েছে। তবে বাস্তবতা  হলো,  অর্থনৈতিক  কর্মকান্ডে  এখনও  সমতা নিশ্চিত  হয়নি। বিশ্বব্যাংকের ‘ওমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল’ অনুযায়ী ব্যবসা-বানিজ্য ও কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় অর্ধেক আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন এদেশের নারীরা। সম্প্রতি, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভলপমেন্ট (বিল্ড) ও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এর পক্ষ থেকেও নারী পুরুষ বৈষম্য ও নারীর সুনির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা খুঁজে বের করার জন্য একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, আমদানি ও রপ্তানিসংক্রান্ত সনদ সংগ্রহ ও নবায়নে পুরুষ উদ্যোক্তাদের তুলনায় নারী উদ্যোক্তাদের বেশি অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। উন্নত দেশের ২৫ভাগ শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্নধার  হলেন  নারী। অথচ ইন্টারন্যাশনাল  ফাইন্যান্স  কর্পোরেশন  এর ২০১৬ সালে পরিচালিত এক  গবেষনাপত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশে এই হার মাত্র ৭.২ শতাংশ।

আনন্দ আলো: নারীর অগ্রযাত্রায় এখনও কি কোন প্রতিবন্ধকতা চোখে পড়ে?

রুবানা হক: অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নারীরা প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্নধার হতে গেলে তাদেরকে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলা করতে হয়, সেগুলো হলো পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থনের অভাব; অর্র্থায়নের সমস্যা; হয়রানির আশঙ্কা এবং নারীদের সামর্থ্য বিষয়ে সমাজের অনুদার দৃষ্টিভঙ্গি। ব্যবসায় নামতে হলে ঋণের প্রয়োজন। আর ঋণ পেতে পদে পদে হয়রানির শিকার হন নারী উদ্যোক্তারা। জামানত, গ্যারান্টার এবং স্থায়ী ব্যবসাসহ নানা নথিপত্র  এর শর্তজালে ফেলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক শাখায় নারী এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ডেস্ক থাকার কথা থাকলেও তা নেই। এসএমই ঋণের ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিতরনের নির্দেশ থাকলেও এর অর্ধেকও নারীরা পাচ্ছেন না। ফলে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তারা উঠে আসতে পারছেন না।

আনন্দ আলো: আপনি দারুণ ব্যস্ত সময় কাটান! তবুও তো অবসর খুঁজে নেন। আপনার বিনোদন কি?

রুবানা হক: আমার তিনটি সন্তান। ওরাই আমার সবচেয়ে বড় বিনোদন। অবসর পেলে বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখি করি, কবিতা পড়ি। আমার একটি কবিতার বই আছে, টাইম অফ লাইফ। ভবিষ্যতে আরও কিছু কবিতার বই বের  করার পরিকল্পনা আছে। অবসর সময়ে ভাবি, নারীদের জন্য কোন কোন জায়গায় কাজ করার সুযোগ আছে। নারীদের দুঃসময়ে তাদের কথা শোনার মতো পাশে কেউ থাকে না। তাই নারীদের জন্য ‘শি ফর শি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেছি। এই প্রতিষ্ঠানটি’কে কিভাবে আরও বড় প্লাটফর্মে আনা যায়, সেটি নিয়েও ভাবছি।

আনন্দ আলো: টেলিভিশন নাটক দেখেন? সার্বিক অবস্থা কেমন?

রুবনা হক: ব্যস্ততার কারনে সেভাবে টেলিভিশন নাটক দেখা হয় না। কদাচিৎ দেখি। তবে মানসম্মত নাটক এখন কম হচ্ছে। ভালো গল্পের অভাবে নাটকগুলো বিশেষ করে সিরিয়ালগুলো সেভাবে দর্শকদের মন জয় করতে পারছে না। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও খন্ড নাটক কম পরিমাণে নির্মিত হচ্ছে।

আনন্দ আলো: চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ভাবনা কি? শেষ কবে সিনেমা দেখেছেন তার নাম কি?

রুবানা হক: এ মুহুর্তে মনে করতে পারছি না শেষ কবে সিনেমা দেখেছি। আমি মনে করি, আমাদের চলচ্চিত্রর অনেক সমৃদ্ধশালী। সারেং বউ, গোলাপী এখন ট্রেনে, মনপুরা এর মতো চলচ্চিত্র এদেশে নির্মিত হয়েছে। আমার মনে হয়, সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্রের দিকে আমাদের মনোযোগ দেয়াটা জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারী অনুদান বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারে।

আনন্দ আলো: অনেকে বলেন যার বন্ধু ভাগ্য ভালো, সেই সবচেয়ে সুখী। আপনার কাছে বন্ধুত্ব কি?

রুবানা হক: বন্ধুত্ব টিকে থাকে কিসে? জীবনে একা চলা যায় না। হেসেখেলে জীবনে চলার পথে বন্ধুসঙ্গ অত্যন্ত জরুরি। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বয়স, ধর্ম বা বাঁধাধরা নিয়মনীতি নেই। দু’জন বন্ধুর মধ্যে মতের অমিল থাকতেই পারে। তবে তা যেন বন্ধুত্ব নষ্ট না করে দেয়। বন্ধুত্বের আঙ্গিনায়  যতই  আবর্জনা  জমুক না কেন, তা পরিস্কার করে রাখার দায়িত্ব দুজনেরই। সেখানে দু’বন্ধুর সুখ দুঃখের গল্পগুলো থরে থরে সাজানো থাকবে। আর সময়ে সময়ে চলবে সেগুলোর রোমন্থন।

আনন্দ আলো: পরিবার আপনার কাছে কি? পরিবার টিকে থাকার মূল মন্ত্র কী?

রুবানা হক: পরিবার একটি বড় শক্তি। যে কোন সংকটে পরিবার যে শক্তি দেয়, তা আর কোথাও থেকে আসে না। আমি এ বয়সে এসেও ভাইবোন খুঁজি সবার মধ্যে। পরিবার টিকে থাকার মূলমন্ত্রই হলো পরিবারের সদস্যদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, তাদের মধ্যে কোন ধরনের দূরত্ব না থাকা। বটম লাইন হলো কোন পরিস্থিতিতেই পরিবার ছেড়ে বের হওয়া যাওয়া যাবে না। আজ আমাকে সবাই উদ্যোক্তা হিসেবে চেনেন। তবে আমি নিজেকে প্রথমত একজন মা বলেই মনে করি। তারপর ব্যবসায়ী। আমার ৩টি সন্তানই বড় হয়ে গেছে। তারপরও আমি সুযোগ পেলেই এখনও ওদেরকে জড়িয়ে ধরি, ওদের সাথে সবকিছু শেয়ার করি। অনেক সময় বিভিন্ন কাজে সন্তানদের পরামর্শও নেই।

আনন্দ আলো: আপনার ব্যক্তি জীবন ও ব্যক্তি সাফল্যের মূল শক্তিটা কি?

রুবানা হক: আমি খুবই মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। ১৫ বছর বয়স থেকেই টিউশনি করেছি। লেখাপড়ার জন্য বিদেশে যেতে পারি নাই। যদিও পরে বিদেশে পিএইচডি করেছি। আসলে যে কোন সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বপ্ন দেখা, মনের ভেতরের ইচ্ছেটি’কে লালন করা। প্রথম জীবনে শিক্ষকতা করেছি। পরে ব্যবসায়ে এসেছি। তবে, লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, প্রতিটি কাজেই আমি পরিবারের নিরন্তর সহযোগিতা পেয়েছি। আমার পরিবারই আমার সকল সফলতার মূলশক্তি।

আনন্দ আলো: তরুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

রুবানা হক: তরুনদের জন্য আমার প্রথম পরামর্শ হলো স্বপ্ন দেখোÑ স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো না। আর স্বপ্নটি এমন হবে, যেটি ঘুমাতে দিবে না, জাগিয়ে রাখবে। আমার প্রয়াত স্বামী আনিস বলতো, মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। আমিও তাই বিশ্বাস করি। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো টাইম ম্যানেজমেন্ট। এটি খুবই জরুরি। মাথাকে কম্পার্টমেন্টালাইজড করতে হবে। সময়ের কাজ সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। আর যে কাজই করো না কেন, সে কাজের জন্য তোমার শতভাগ ভালোবাসা, নিষ্ঠা আর আন্তরিকতা থাকতেই হবে। তাহলেই তুমি সফল হবে।

ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণে কাজ করছেন রাকিব আহসান

অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান। বাংলাদেশের খ্যাতিমান একজন শিক্ষাবিদ এবং কাঠামোগত প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ। একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পাঠদান ও গবেষনার পাশাপাশি ভৌত স্থাপনার নকশা, নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষানাবেক্ষণে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে চলেছেন। ১৯৯৫ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পাস করার পর পরই তিনি লেকচারার হিসেবে যোগ দেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ১৯৯৭ সালে তিনি বুয়েট থেকে সিভিল এন্ড স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০০ সালে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি থেকে ভূমিকম্প কৌশল এর ওপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন। তিনি সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ ও জাতীয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০২১-২০২৫ প্রণয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এর তিনি আজীবন ফেলো মেম্বার। এবার শাহ সিমেন্ট ‘নির্মাণে আমি’তে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক

অধ্যাপক ড. রাকিব আহসানের গ্রামের বাড়ি নওগা জেলার মান্দা থানার কালি গ্রামে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বাবার নাম খন্দকার মো: মজিবুর রহমান। তিনি একজন স্বনামধন্য প্রকৌশলী ছিলেন। মা মরহুম রওশন আরা বেগম একজন গৃহিণী ছিলেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে ড. রাকিব আহসান সবার ছোট। বড় ভাই রাজিব আহসান একজন স্বনামধন্য প্রকৌশলী। তার ভগ্নিপতিরাও প্রকৌশলী।
স্কুল জীবন থেকে রাকিব আহসান সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শিশু-কিশোর সংগঠন করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। বই পড়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। ছোট বেলা থেকেই ড. রাকিব আহসান প্রকৌশলী হবার স্বপ্ন দেখতেন। হয়েছেনও সফল। নিজের আগ্রহ থেকেই প্রকৌশলী হওয়া তার। ইঞ্জিনিয়ার্স ইউনিভার্সিটি স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ১৯৮৬ সালে। ১৯৮৮ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ১৯৯৫ সালে তিনি বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পাস করেই লেকচারার হিসেবে যোগ দেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ১৯৯৭ সালে বুয়েট থেকে সিভিল এন্ড স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে পাড়ি দেন জাপানে। ২০০০ সালে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি থেকে ভূমিকম্প কৌশল (আর্থকুয়েক ইঞ্জিনিয়ারিং) স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ওপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশের স্বপ্ন যাত্রাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে দেশে ফিরে এসে দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন।

দেশে ফিরে এসে তিনি আবার শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি কর্মজীবনে অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে পঞ্চাশটির বেশি বিভিন্ন গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে কয়েকটি কনফারেন্সে বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন। তিনি বেশ কয়েকটি স্নাতকোত্তর থিসিস তদারকি করেছেন। যার মাধ্যমে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠ্যক্রমে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়।
অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান কাঠামো কৌশলের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিভিন্ন শাখায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। তবে ভূমিকম্প কৌশলে আর্থকুয়েক ইঞ্জিনিয়ারিং এ তার বিশেষ আগ্রহ আছে। বিভিন্ন ধরনের স্থাপনার ভূমিকম্প ঝুঁকি নিরুপণ, ভূমিকম্প সহনীয় ডিজাইন, কাঠামো মজবুতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে তার প্রচুর কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এছাড়া তার এলাকা ভিত্তিক আপদকালীন পরিকল্পনা প্রনয়নে অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ ও জাতীয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০২১-২০২৫ প্রণয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি ভবন ছাড়াও ব্রীজ, টাওয়ারের ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার কাঠামোর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন করে থাকেন। কংক্রিট ও ইস্পাত উভয় ধরনের ম্যাটেরিয়ালের তৈরি স্থাপনা তিনি ডিজাইন করে থাকেন। ইটের বাড়িকে ভূমিকম্প প্রতিরোধী করে মজবুতায়নের ক্ষেত্রে ড: রাকিব আহসান বিশেষ দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন।
অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যান পরিদপ্তরের সহযোগী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত। পাশাপাশি দূর্যোগ প্রতিরোধ ও নগর সুরক্ষণ ইনস্টিটিউট এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত।
বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও পরামর্শক হিসেবে ছোট-বড় বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করেছেন। যেমনÑ বাংলাদেশ ডিজিটাল সিকোরিটি এঞ্জেসির ফিজিবিলিটি স্ট্রাডির টিম লিডার হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এর ৩০ তলা ভবনের মজবুতীকরণে টিম লিডার হিসেবে ছিলেন। তেজগাঁও এ ডিপার্টমেন্ট অব টেলি কমিউনিকেশনের ইটের ভবন মজবুতীকরণ, চট্টগ্রামে জিপি এইচ ইস্পাত ফ্যাক্টরী বিল্ডিংয়ের ডিজাইন ভেটিংয়ের টিম লিডার হিসেবে কাজ করেছেন। রংপুর, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও রাঙামাটিতে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের অধীনে ইউএনডিপির সঙ্গে ওয়ার্ড ভিত্তিক আপদকালীন পরিকল্পনার কাজ করছেন। মেডলার ফ্যাক্টরী বিল্ডিংয়ের অগ্নিকান্ড পরবর্তী মজবুতায়ন ডিজাইন, ব্র্যাক সেন্টার প্রয়োগে অগ্নিকান্ড পরবর্তী মজবুতীকরণ, এছাড়াও আরবান রিজিলিয়েন্স প্রজেক্ট রাজউকের ওয়ার্কিং গ্রুপের আহবায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশ চালু করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ভবন মজবুতায়নে স্মার্ট ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহার সম্প্রসারণ ঘটানোও ড. রাকিব আহসানের লক্ষ্য।
কীভাবে ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ি তৈরী করা যায়? এ প্রশ্নের উত্তরে ড. রাকিব আহসান বলেন, একটি বাড়িকে ভূমিকম্প সহনীয় করে তৈরী করতে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী আপনার ভবনের প্রকার (বিল্ডিং ক্যাটাগরি) সম্পর্কে প্রথমে নিশ্চিত হউন। ভবনের প্রকারের উপর ভিত্তি করে বাড়ি তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে সঠিক যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কারিগরি ব্যক্তি বা ফার্মকে নিয়োগ দিন। নিয়োগকৃত কারিগরি ব্যক্তি বা ফার্মকে বিল্ডিং কোড মেনে বাড়ি ডিজাইন ও নির্মাণ করার নির্দেশ দিন। কখনই বিল্ডিং কোড মানার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করবেন না কারণ তা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একমাত্র বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি করার বাড়িই ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ি। মনে রাখবেন বিল্ডিং কোড অনুযায়ী একজন ডিজাইনার যে পরিমান রড ডিজাইনে উল্লেখ করেন তার থেকে কম বা বেশি রড ব্যবহার উভয়ই ভবনকে ঝুকিগ্রস্থ করতে পারে। ভবন নির্মাণের আগে জমির মাটি পরীক্ষা করা জরুরি। মান সম্মত নির্মাণ সামগ্রী (যেমন, সিমেন্ট, পাথর, বালি, রড ইত্যাদি) ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কংক্রিট মিশানোর সময় পরিমানমত পানি দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি কংক্রিটের শক্তি কমিয়ে দেয়। কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় পরীক্ষার জন্য সিলিন্ডার বানাতে হবে। যা পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে কংক্রিটের শক্তি সম্বদ্ধে নিশ্চিত হতে পারে। রডের টেনশন টেস্ট করতে হবে। বাড়ি তৈরির সময় ঠিকমত সুপার ভাইস করতে হবে।

অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান ২০০০ সালে বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম তনজনা রশীদ। এই দম্পতি দুই পুত্র সন্তানের জনক-জননী। বড় ছেলে রাইফ আহসান দিল্লি পাবলিক স্কুলে ১০ম শ্রেণীতে ও ছোট ছেলে জাফির আহসান ৫ম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। এই শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও দেশের অন্যতম একজন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ। তার কাজ সততাও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে ভালোবাসেন। নিজের পেশায় দায়বদ্ধ থেকে সেটাকে সততার সঙ্গে শেষ করতে চান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ প্রয়োগে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চাই। একই সাথে বিল্ডিং কোডের নিয়মিত ভাবে হালনাগাদ করণে আমি সকলকে উৎসাহিত করতে চাই। ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে চালু করার জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। ভবন মজবুতায়নে স্মার্ট ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহারে সম্প্রসারণ ঘটানোও আমার একটি লক্ষ। সাশ্রয়ী ভবন নির্মাণে আমি অবদান রাখতে চাই। সামগ্রিক ভাবে ভূমিকম্পের জন্য বাংলাদেশে দূর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আমি কাজ করতে সংকল্পবদ্ধ।

জনপ্রিয় বিভাগ