ডেকোরাম নিয়ে তাইফুরের যত স্বপ্ন

এ দেশের কৃষ্টি, কালচার, প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক স্থাপত্যশিল্পে কাজ করে চলেছেন স্থপতি তাইফুর রহমান। ২০১২ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগ থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। স্থপতি হিসেবে যোগ দেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ। সেখানে তিন বছর কাজ করার পর বরিশাল সিটি করপোরেশন স্থপতি হিসেবে যোগ দেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি ‘ডেকোরাম কনসালটেন্ট আর্কিটেক্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে এই স্থপতি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার ডিজাইন তৈরি করেছেন। তিনি রাজউকের অধীনে বাংলাদেশ ব্রীজ অথোরিটির প্রজেক্টের সাথে জড়িত আছেন। পাশাপাশি দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের রিসার্চার হিসেবে কাজ করছেন। এবার শাহ্ সিমেন্ট নির্মাণে আমিতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন- মোহাম্মদ তারেক

স্থপতি তাইফুর রহমান পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে সেজ। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। কিন্তু তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাইফুর রহমানের বাবা ফজলুর রহমান ছিলেন স্বনামধন্য প্রফেসর। মা মাহবুবা রহমান শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। এখনো আছেন। ক্রিয়েটিভ কোনো কিছু করার উদ্দেশ্যে স্থপতি হওয়া তার।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যামব্রিজ থেকে প্রফেশনাল ল্যাংগুয়েজ টেস্টিমানি সম্পন্ন করেন ১৯৯৯-২০০০ সেশনে। ২০০১ সালে তিনি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার প্রি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এরপর লন্ডন ইউনিভার্সিটির অধীনে ও লেভেল, এ লেভেল শেষ করেন ২০০২-২০০৪ সেশনে। ২০১২ সালে তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগ থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর বিআইটিএম থেকে সরকারি কাস্টমার সাপোর্ট ও প্রফেশনাল সার্ভিসে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সিভিল স্থপতি হিসেবে যোগদেন করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ ২০১৭ সালে।

স্থপতি তাইফুর রহমান

২০২১ সালে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনে যোগ দেন স্থপতি হিসেবে। ২০১০ সালে ঢাকার বড় মগবাজরে নিজে গড়ে তোলেন ‘ডেকোরাম কনসালটেন্ট আর্কিটেক্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে স্থপতি তাইফুর রহমান এ প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে তাইফুর রহমান দেশের নামকরা হোটেল, স্কুল, অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং, শহীদ মিনার, ট্রেনিং সেন্টার, অফিস বিল্ডিংসহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে সিলেটের আশুগঞ্জে হোটেল রাজমনি, মতিঝিলে শহীদ মিনার, বরিশালে বরিশালে ভাটার খাল প্রজেক্ট, ধানমন্ডির রায়ের বাজারে অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং প্রজেক্ট’৭১, মিরপুর-১০ এডারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, মিরপুর-১৪ নম্বরে গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, কাটাবনে জেনেসিস ট্রেনিং সেন্টার, ধানমন্ডিতে বায়তুল হুদা হাউজিং প্রজেক্ট, রেলওয়ে ডেভেলপমেন্ট একুইজিশন রিসেটেলমেন্ট, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৫০টি প্রজেক্ট সহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন করেছেন। এছাড়াও তিনি রাজউকের অধীনে বাংলাদেশ ব্রীজ অথোরিটির প্রজেক্টের সাথে জড়িত ছিলেন এবং এখনো আছেন। পাশাপাশি দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ের রিসার্চার হিসেবে কাজ করছেন।
স্থাপনার কাজে তাইফুর রহমান রাহীর রয়েছে অসম্ভব সাফল্য। প্রতিযোগিতামূলক কাজে অংশ নিয়ে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে তার সাফল্যের ঝুড়িতে জমা হয়েছে সেরা কর্মের স্বীকৃতি। উল্লেখযোগ্য অ্যাওয়ার্ডস এর মধ্যে রয়েছে ভারতের দিল্লী থেকে আইএফএস স্থপতি ক্যাটাগরিতে লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড, কলকাতার ধানসিঁড়ি থেকে ইন্দিরাগান্ধি সম্মাননা ইত্যাদি।
স্থপতি তাইফুর রহমান বলেন, ডিজাইনের ক্ষেত্রে কাজের এলগোরিদম এবং অর্থগনাল জিওমেকট্রি রচনা করি। সিভিল ডিজাইনের ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব সাসটেইনেবল মেটারিয়াল এবং ইকোলজিকে প্রাধান্য দিয়ে ফ্রেম স্ট্রাকচার করে থাকি।
বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি তাইফুর রহমান। এই স্থপতি তার কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে ভালোবাসেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থপতি তাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় প্রেক্ষাপটে স্থাপত্য শিল্পে বিকাশ সাধন, পেশাধারী কর্মসূচি, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে মাস্টার প্ল্যান রচনা করনে উদ্যোগী ভূমিকা রাখা। বাংলাদেশে তরুণ স্থপতিদের সাংগঠনিক কাঠামোকে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আলোকে গড়ে তোলা। স্থাপত্যশিল্পে গতানুগতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে চাই আমি।

  • শাহ্ সিমেন্ট নির্মাণে আমি