Ananda ALo
Ultimate magazine theme for WordPress.

সিনেমা ও মঞ্চ নাটকের মুক্তি মিলবে কবে?

রেজানুর রহমান

এই করোনাকালে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি। দুটি মাধ্যমেই দেশের ঐতিহ্য ও  অর্জনকে বিকাশ করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। একটি দেশে শিক্ষার হার কেমন? তার ওপর  নির্ভর করে দেশটির মান-সম্মান।আর সংস্কৃতি একটি দেশকে অন্য দেশের কাছে আদরনীয় করে তোলে।   অথচ করোনার ধাক্কা পড়েছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন এই দুটি শাখায়। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অফিস আদালত,  মার্কেট, বিপনী-বিতান, পরিবহনসহ সবই খুলেছে। শুধু খোলেনি বিনোদন ক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রশ্ন   উঠেছে মার্কেট, বিপনী-বিতান, ও পরিবহন সেক্টরের চেয়েও কি নাটকের মঞ্চ, সিনেমা হল করোনা সংক্রমনের  ক্ষেত্রে ক্ষতিকর জায়গা? 

পরিবহন সেক্টর পুরোদমে চালু হয়ছে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস, মিনিবাস সহ অন্যান্য যানবাহন চালু রাখার নির্দেশনা দেয়া হলেও কার্যত অনেকেই তা মানছেন না। শপিং মলে গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি অবস্থা শুরু হয়েছে।এই  তুলনায় মঞ্চ ও সিনেমা অঙ্গন অনেক সচেতন। এর আগেও করোনার মধ্যে মঞ্চ নাটকের গতি সচল রাখার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের যৌথ  উদ্যোগে রাজধানীর মঞ্চগুলো সচল রাখা হয়েছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্র ও  শনিবার বিনে ভাড়ায় নাটকের সংগঠন গুলো নিজেদের নাটক মঞ্চস্থ করেছে। তখনও সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই মঞ্চ  কর্মীরা মঞ্চকে সচল রেখেছিল।নাটক মঞ্চায়নের আগে ও পরে প্রতিটি নাট্য সংগঠন দর্শককে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ অনেক প্রশংসিত হয়েছে। তবে  করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নাটকের মঞ্চগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।আশার কথা, করোনা সংক্রমণ কিছুটা  হলেও কমতে শুরু  করেছে। সরকার বিনোদন কেন্দ্র গুলো খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নাটকের মঞ্চ ও সিনেমা হল এই নির্দেশনার আওতায় পড়বে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের  সেক্রেটারী জেনারেল কামাল বায়েজীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এর আগে ফেডারেশানের   আবেদনের প্রক্ষিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নাটকের মঞ্চগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রে  কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিল।বিনে ভাড়ায় নাটক প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। সরকার বিনোদন সেক্টর  খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না কবে নাটকের মঞ্চ খুলবে! করোনার এই  দুঃসময়ে নাট্যসংগঠন গুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে অবিলম্বে মঞ্চ খুলে দেয়ার  দাবী জানিয়েছি আমরা। ১৯ আগস্টের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

সম্পর্কিত

লেখা আহ্বান

আহারে, দেশের মানুষ!

পরীমনি কী বদলা নিলেন?

লেখক : কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, নির্দেশক