Home ৩০০ সেকেন্ড ৩০০ সেকেন্ড ইতিহাসের আয়না

৩০০ সেকেন্ড ইতিহাসের আয়না

SHARE

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে।
এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। তাহলে কেমন হবে? টিভি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সময়টা বেশ গুরুত্বপুর্ণ। কম সময়ে একটি ভালো অনুষ্ঠান করতে পারাটাই ভালো উদ্যোগ বলে বিবেচিত হয়। সেই ভাবনায় চ্যানেল ভাইতে শুরু হয় ‘৩০০ সেকেন্ড’ নামের একটি নতুন অনুষ্ঠান। আইডিয়াটা চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের। তাঁর দূর দৃষ্টি সম্পন্ন বিচক্ষণ ভাবনার আলো ফেলে চ্যানেল আইতে শুরু হয় নতুন এই অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব পান জনপ্রিয় অভিনেতা, চিত্রপরিচালক ও গুণী উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন কবি সেহাঙ্গল বিপ্লব। শুরুতে অনেকে ভেবেছিলেন মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ডে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মনের কথা অথবা তাকে ঘিরে সমসাময়িক প্রসঙ্গ কী তুলে ধরা সম্ভব? কিন্তু ৩০০ সেকেন্ড অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরই দেখা গেল, ৩০০ সেকেন্ডেই অনেক কথা বলা সম্ভব। সময় নির্ধারিত থাকায় অতিথিরাও কথা বলার ক্ষেত্রে বেশ সচেতন ও সত্যনিষ্ঠ থাকার চেষ্টা করেন। কম সময়ে যাতে অনেক কথা বলতে পারেন এই আন্তরিক চেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকে সবার মধ্যে। এ যেন ঠিক কম সময়ে অনেক কথা বলার এক প্রতিযোগিতাও। কথা বলার খেলাও বলা যেতে পারে। সময়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্ন ও উত্তরের এই নতুন অনুষ্ঠান চ্যানেল আইতে অল্প সময়ের মধ্যেই জমে উঠলো। জনপ্রিয়তার পথে হাঁটতে শুরু করলো ‘৩০০ সেকেন্ড’। ফরিদুর রেজা সাগর ও শাহরিয়ার নাজিম জয়ের যুগলবন্দী ভাবনায় বাংলাদেশের টিভি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হলো এক নতুন দিগন্ত! সে কারনেই আনন্দ আলো সিদ্ধান্ত নেয় ‘৩০০ সেকেন্ড’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের। এখানেও মূল কৃতিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের। তাঁর পরামর্শক্রমেই আনন্দ আলোর বিশেষ একটি সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতিও শুরু হয়। কিন্তু হঠাৎ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আতংকিত এক সময়Ñ করোনার দুঃসহকাল…. বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতিও থেমে যায়।
আনন্দের খবর, করোনার ভয়ার্ত সময়কে উপক্ষো করেই ‘৩০০ সেকেন্ড’কে ঘিরে আনন্দ আলোর বিশেষ সংখ্যাটি অবশেষে প্রকাশিত হলো। প্রথম পর্বে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ১০০ জনের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হল। বর্তমান সময় বিবেচনায় কারও কারও সাক্ষাৎকার পড়ে পাঠকের হয়তো খটকা লাগতে পারে। বিশেষ কোনো প্রসঙ্গের ব্যাপারে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো, সাক্ষাৎকার গুলো যে সময় ধারন করা হয়েছে সে সময়েরই কোনো না কোনো জরুরি প্রসঙ্গ প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে। ইতিহাসের প্রয়োজনেই আমরা তা সম্পাদনা করিনি। ‘সময়’ বোঝানোর জন্য প্রতিটি সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে সাক্ষাৎকার প্রচারের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায় একটি টিভি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের ঘটনাও এই প্রথম। সেক্ষেত্রে আনন্দ আলোর এই বিশেষ সংখ্যাটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতার কথা বলি। ‘জয়ের ৩০০ সেকেন্ড’ একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান। কিন্তু বিষয় বিবেচনায় অনুষ্ঠানটি ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে। যেন চলমান ইতিহাস গাথা। ১০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার পড়ে মনে হয়েছে, এ যেন ইতিহাসের আয়না। চোখের সামনে সব কিছু ঘটে যাচ্ছে… যতই দেখি, যতই পড়ি, ততই মুগ্ধ হই। আশাকরি পাঠকও মুগ্ধ হবেন!

প্রিয় পাঠক,
পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা নিন। করোনা কালের দুঃসময়কে অতিক্রম করতে বুকে সাহস রাখুন। ভয়কে জয় করেই এগিয়ে যেতে হবে। সবার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।