SHARE

তেতত্রিশ বছর ধরে বাংলা কবিতার অন্যতম বৃহৎ আয়োজন জাতীয় কবিতা উৎসব দিয়েই শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাস। এবছর অনিবার্য কারণে উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি। এই উৎসব এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের নানা কর্মসূচির ভেতর। আর মাত্র একমাস চৌদ্দ দিন পর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিবস। জাতীয় কবিতা উৎসবের এবারের স্লোগান ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’। এই কাব্য পঙ্ক্তি আমাদের নতুন প্রজন্মের আপসহীন কবি যোদ্ধা জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদের কবিতা থেকে উদ্ধৃত। স্বাধীন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু শতবর্ষী নন, তিনি অবশ্যই অনন্ত বর্ষী। তারই মানবিক ও নান্দনিক আদর্শ অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলাদেশ তার স্বপ্নাশ্রিত সোনার বাংলা ছিনিয়ে আনবে।
বিজয়ের এই সংগ্রাম চলবেই চলবে। তবে এবারের সংগ্রাম বাঙালির সর্বৈব মানব মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর সর্বমানবিক আদর্শের মূল চার নীতি জাতীয়তা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। আর তার অভেদসুন্দরের নাম সদাচারী, সাম্যবাদী, নৈয়ায়িক যোদ্ধা। কবিতাই আমাদের, অর্থাৎ মানব জাতির অভিন্ন উদ্ধার। জয় হোক কবি ও কবিতার। এই ঘোষনা পত্রের মধ্য দিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে গতকাল শুরু হয়েছে দুই দিন ব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২০। জাতীয় কবিতা উৎসব আজ পৌছে গেল তার পথ পরিক্রমার ৩৪তম বছরে। ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনেই শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা শ্লোগানে তৎকালীন স্বৈরচারী সরকারের বিরুদ্ধে কবিদের সম্মিলিত একটি প্রতিবাদের ফসলই হলো আজকের এই জাতীয় কবিতা উৎসব। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসানের সমাধি এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পাস্তবক অর্পণ শেষে উৎসব কেন্দ্রে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২০। উদ্বোধন করেন কবি মহাদেব সাহা। মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘোষনাপত্র পাঠ করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন আহবায়ক শিহাব সরকার, সাধারন সম্পাদক তারিক সুজাত সহ দেশি-বিদেশি কবি বৃন্দ।