SHARE

কাজী গোলাম নাসির। বাংলাদেশে কর্মরত বিশিষ্ট স্থপতিদের মধ্যে একজন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান  হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদ থেকে তিনি স্মাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৯২ সালে জাপানে ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইন বিষয়ক পড়াশুনা শুরু হয়। সেখানে তিনি প্রায় দশ বছর খণ্ডকালীন  শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থাপত্য অধিদপ্তরে প্রধান স্থাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি, স্ট্যামফোর্ড ইউনির্ভাসিটি ও স্টেট ইউনির্ভাসিটি তে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটের কর্মকান্ডের সাথে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বৎসর যাবত সম্পৃক্ত আছেন। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক।

তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে স্থপতি কাজী গোলাম নাসির তৃতীয়। গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার সাপানিয়া গ্রামে, তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা বরিশালে। কাজী গোলাম নাসিরের বাবার নাম কাজী গোলাম কাদির। তিনি বিএম কলেজের দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন। মা গৃহিণী। স্কুল জীবন থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। বরিশালে জাগৃহী খেলাঘর আসর করতেন। তিনি স্কাউটিং এর সাথেও জড়িত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু বরিশাল মেডিকেল কলেজে প্রথম বৎসর ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিএম কলেজে পদার্থ বিদ্যায় অনার্সে ভর্তি হন। ওই সময় তাঁর বাবার এক বন্ধুর মাধ্যমে স্থাপত্য বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে পারেন। তারপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন বুয়েটের ক্যাম্পাস দেখার জন্য। প্রথম দেখাতেই বুয়েট ক্যাম্পাসের প্রেমে পড়ে যান তিনি। পরবর্তীতে বরিশাল মেডিকেল কলেজে দ্বিতীয় বারে চান্স পাওয়ার পরেও ডাক্তারি পড়েননি তিনি। ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে। বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৭৩ সালে, ১৯৭৫ সালে বিএম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৮৩ সালে। পাস করে বের হওয়ার পরই যোগ দেন প্রস্থাপনা লিমিটেড নামক কনসালটেন্সি ফার্মে। সেখানে তিনি এক বছর চাকরি করেন। এরপর নিজে দুই বছর কাজ করার পর ১৯৮৭ সালে স্থপতি কাজী গোলাম নাসির যোগ দেন স্থাপত্য অধিদপ্তরে সহকারি স্থপতি হিসেবে, বর্তমানে তিনি স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Shah-Cement-2১৯৯২ সালে জাপান থেকে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর পড়াশোনা করেছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের যাত্রা শুরু হয়। সেখানে তিনি দশ বছর শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে স্থপতি কাজী গোলাম নাসির স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর হাতে কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। কাজী গোলাম নাসিরের তত্ত্বাবধানে স্থাপত্য অধিদপ্তরের কাজ গুলো সম্মিলিত ভাবে হয়ে থাকে। তাঁর নেতৃত্বে স্থাপত্য অধিদপ্তরের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় ন্যাশনাল ক্রাইমকন্ট্রোল এবং মনিটরিং সেন্টার প্রকল্প, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব এর স্থাপনা সমূহ, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার প্রকল্প, প্রসৱাবিত প্রকল্পের মাঝে আছে চট্টগ্রামের মুসলিম ইনষ্টিটিউট প্রকল্প, অগ্নিদগ্ধ রোগীদের জন্য বার্ন ইনষ্টিটিউট প্রকল্প, বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স,  সারা বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য রিক্রিয়েশনাল সেন্টার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শহীদ মিনার, জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমিসহ সোনার বাংলা সাংস্কৃতিকবলয় প্রকল্প, আগ্রাবাদের জামুরা মাঠের ল্যান্ডস্কেপ উন্নয়ন, সচিবদের জন্য বহুতল বাস ভবন সহ আরো অনেক প্রকাল্প। এছাড়াও বেশ কয়েকটি নতুন প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছেন তিনি তার মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের জন্য এনার্জি এফিশিয়েট অফিসভবন ডিজাইন, এনার্জি রেগুলেটরি ভবনের নকশা।

১৯৮৪ সালে সামসিন সুলতানার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতি এক সনৱানের জনক-জননী। ছেলে কাজী হাসিব কানাডায় পড়াশোনা করছেন।

স্থপতি কাজী গোলাম নাসির বলেন, স্থাপত্য অধিদপ্তর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক যে স্থাপনা গুলো তৈরি করে সেই স্থাপনার নকশা প্রণয়ন করে থাকে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক এগুলো বাসৱবায়িত হয়। সে স্থাপনার নকশা প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা এবং বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মাণ করা হচ্ছে কী না প্রধান স্থপতি হিসেবে সেটাও দেখার দায়িত্ব থাকে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজের বাইরে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইন্টেরিয়র এর কাজ করে থাকি। ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার ক্ষেত্রে রেসিডেন্স ইন্টেরিয়র করতে আমার খুব বেশী আগ্রহী। একটা রেসিডেন্স যে পরিবেশ তৈরি করে, আমি যদি তার চেয়ে আরো একটু ভালো পরিবেশ দিতে পারি তাহলে সেখানে যে শিশুগুলো বেড়ে উঠবে তারা নতুন ভাবে নিজেকে চেনার জন্য ভালো পরিবেশ পাবে। আমি ইন্টেরিয়র ডিজাইন  করার ক্ষেত্রে দুই ধরনের জিনিস ব্যবহার করার চেষ্টা করি। এক হচ্ছে আমাদের লোকাল মেটারিয়াল, আরেকটা হলো আনৱর্জাতিক অঙ্গনে ইন্টেরিয়রের জন্য যে মেটারিয়াল প্রচলিত আছে তার উৎকৃষ্ঠ ব্যবহার। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজকরার চেষ্টা করেন স্থপতি কাজী গোলাম নাসির। এই স্থপতি তাঁর কাজ সততা ও নিষ্ঠার সাথে করতে ভালোবাসেন। পেশার কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে চেষ্টা করেন। স্থাপত্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থপতি কাজী গোলাম নাসির বলেন, সরকারি চাকরি শেষ হওয়ার পর আমি শিক্ষকতার সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই। পাশাপাশি বাংলাদেশ স্থপতি ইনষ্টিটিউটের জন্য কাজ করে যাব। এছাড়া আমি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে রেখেছি এবং সেগুলো করে যাবো। এছাড়াও অটিষ্টিক বাচ্চাদের জন্য কাজ করছিঐ সোয়াক এর অটিষ্টিক বাচ্চাদের জন্য একটি ভবন নির্মানের পরিকল্পনার সাথে সংযুক্ত আছি।