SHARE
Anjon-Chowdory

অঞ্জন চৌধুরী, পরিচালক, স্কয়ার গ্রুপ

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে। এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। চ্যানেল আইতে শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর উপস্থাপনায় ৩০০ সেকেন্ড নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানেরই বাছাই করা ১০০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ  পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার নিয়ে আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যার একটি বিশেষ আয়োজন এখন বাজারে। আজ থেকে অনলাইনে শুরু হলো এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত একশজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার…

জয়: আপনার সাফল্যের পেছনে সূত্রটি কী? এক কথায় যদি আপনি উত্তর দেনÑ
অঞ্জন চৌধুরী: এক কথায় বলতে গেলে আমার বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি। উনার কথায় এবং উনার গাইডেন্সিতে আজকের এই জায়গায় এসেছি।
জয়: আপনার পিতার জন্য অনেক অনেক শ্রদ্ধা এবং অনেক অনেক ভালোবাসা। আপনার বহুমাত্রিক এই ব্যবসায় কোন জায়গায় বসলে বেশি আনন্দ পান? হাসপাতালে বসলে আনন্দ পান বেশি নাকি টিভি চ্যানেলে বসলে আনন্দ বেশি পান।
অঞ্জন চৌধুরী: হাসপাতালে বসলে আমি মোটেও আনন্দ পাইনা। আমি আমার বন্ধুদেরকে হাসপাতালে দেখলেই প্রায় বলি তোমাদেরকে এখানে দেখতে চাই না। এখান থেকে তাড়াতাড়ি চলে যাও।
জয়: আপনার অনেক বন্ধু বান্ধব এবং পরিচিতজনরা হাসপাতালে গেলে সুযোগ সুবিধা চায় নিশ্চয়ই? তখন আপনি কি নীতি অবলম্বন করেন?
অঞ্জন চৌধুরী: যারা সাধারন মানুষ বিত্তশীল না তাদের এক্ষেত্রে আবদারটা নাই বললেই চলে। কিন্তু বিত্তশীল তাদের কাছ থেকেই এই আবদারটা বেশি পেয়ে থাকি। আর আমাদের হাসপাতাল নন প্রফিটেবল একটি হাসপাতাল, আমাদের এই হাসপাতাল থেকে যে আয় হয় সেটা আমরা নেই না। আয়ের টাকাটা হাসপাতালেই রি-ইনভেস্ট হয়। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এভাবেই চলছে।
জয়: টিভি চ্যানেলের এক্সপেরিয়েনসটা কেমন?
অঞ্জন চৌধুরী: টিভি চ্যানেলে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ইটিভি থেকে। ইটিভিতে আমাদের সম্পৃক্ততা ছিল। বেসরকারী টিভি চ্যানেল ইটিভির অনুমতি দেয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা যুগান্তকারী উদ্যোগ ছিল। পরবর্তীতে আমাকে যখন মাছরাঙা দেয়া হলো এটাতে আমি খুবই এক্সসাইটেড ছিলাম।
জয়: আপনার সাংসারিক জীবনের কথা ছোট্ট করে শুনতে চাইÑ
অঞ্জন চৌধুরী: পরিবারে আমার চার সন্তান রয়েছে। তিন মেয়ে ও একটি ছেলে। দুই মেয়ে বিদেশে লেখাপড়া করে। আর আমার স্ত্রীকে আমি হাউজ ওয়াইফ বলবো না। হোমমেকার বলবো। কারণ বাসাটা একটা ফ্যাক্টরির মতোই। অনেক সময় একটা ফ্যাক্টরি চালানোর চাইতে বাসা চালানো কঠিন।
জয়: এই কথা শোনার পর অনেক সাধারন মেয়ে যারা গৃহিনী তারা আপনার অনেক ভক্ত হয়ে যাবেন…
অঞ্জন চৌধুরী: এটাই সত্যি। আমি আমার মাকে দেখেছি বাবা কাজের জন্য বাইরে থাকার সময় মা কিভাবে পুরো সংসারটা গুছিয়ে রাখতেন। আমাদের শাসন করতেন। আদর করতেন। পড়ালেখা করাতেন। চারটি সন্তানকে মানুষ করা এটা কিন্তু যা তা ব্যাপার না। আমরা এখনো একান্নবর্তী পরিবারে থাকি। আমরা এখনো সব ভাই-বোন, মা একই বাড়িতে থাকি। রান্না ঘর সবার জন্য উম্মুক্ত থাকে।
জয়: আপনাকে সুদর্শন এখনো লাগে। আপনার বয়স আসলে কতো?
অঞ্জন চৌধুরী: আমার বয়স ৬৫।
জয়: ৬৫ বছর বয়সে আপনি এখনো এতো সুদর্শন আছেন। ফিটনেসের রহস্য কি?
অঞ্জন চৌধুরী: রহস্য হচ্ছে… সারা জীবন ভোরে ওঠার অভ্যাস। ভোর মানে ৫টা থেকে ৫.৩০ এর মধ্যে।
জয়: আপনার প্রেমে কতোজন মেয়ে পড়েছেন?
অঞ্জন চৌধুরী: আমি তো গুনি নাই কখনো। অগনিত হবে। হা… হা… হা…
জয়: আপনি কয়জনের প্রেমে পড়েছেন।
অঞ্জন চৌধুরী: আমি সবসময় প্রেমে পড়ি। আমার স্ত্রীর প্রেমে এখনো হাবুডুবু খাচ্ছি।
জয়: বিয়ের আগে কার প্রেমে পড়েছেন?
অঞ্জন চৌধুরী: স্কুল কলেজে পড়ার সময় কতো প্রেমেই পড়েছি। অনেক সময় এক সাইট প্রেমও কিন্তু হয়। আমার অনেক একসাইট প্রেমও ছিল। কখনো কোনো সাড়া পাইনি। ঐটাও একটা মজার বিষয় ছিল। অনেক সময় হাসাহাসি করি তা নিয়ে এটাও ভাবি সেই সময় যদি তার প্রেমে সাড়া পেতাম তাহলে আমার জীবন বরবাদ হয়ে যেতো।
জয়: অনেক টাকা এবং অনেক ক্ষমতার বিড়ম্বনায় কি ভোগেন?
অঞ্জন চৌধুরী: আমাদের জীবনটা সোনার চামচ-রুপার চামচ মুখে দিয়ে শুরু হয়নি। যদিও আমার দাদা আর বাবার অনেক স্বচ্ছল অবস্থা ছিল। তারপরও আমাদের সেভাবে মানুষ করা হয়নি। আমি যখন বিদেশি গিয়েছিÑ এমনও হয়েছে কাজ করেছি। দেখা গেছে খাবারের টাকাও ছিলো না। না খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে আবার সকালে কলেজে চলে গিয়েছি।
প্রচার: ৭ অক্টোবর ২০১৯