SHARE

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

দুই হাজার বারো সাল। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অপুরণীয় ক্ষতির বছর। তারেক মাসুদ, মিশুক মনির, হুমায়ুন আহমেদ আর সুভাষ দত্ত – এসব উজ্জল নক্ষত্রেরা না ফেরার দেশে চলে যান। বিশিষ্ট অভিনেতা, চলচ্চিত্রকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  সুভাষদত্ত ( ১৯৩১-২০১২) ছিলেন একজন  কুশলী, কৃতবিদ, কর্মতৎপর , সৎ ও স্বচ্ছ মনের অধিকারী মানুষ। প্রায় এক যুগ আগে নিজের সহযাত্রী আত্মীয়ের সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মানিৱক মৃত্যু দেখে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তাঁর উপলদ্ধির সৱরে এমন আলোড়ন সৃষ্টি হয় যে পরবর্তী কালে তিনি সর্ববাদী ,সাত্ত্বিক  সাধনায় নিবেদিত হন। তাঁর ‘আলিঙ্গন’ ছবিতে এ ধরণের একটি চরিত্রের সাথে সাক্ষাত ঘটেছিল আমাদের ।

ক্যানাডিয়ান কথা সাহিত্যিক চটভভ ুটর্রণফ ঐধ এর ীধতণ মত অে তে সাম্প্রতিককালে আমরা এমন একটি চরিত্রের সন্ধান পাই যার কাছে সকল ধর্ম ও মতের মধ্যে ঐকমত্যের মর্মবাণী অনুভূত হয়।  রামকৃষ্ণ মিশনের অনুরক্ত অনুসারী, বেলুড়মঠের নরেন্দ্রপুরের আত্মিক সাধনার সাত্তিক পুরুষ সুভাষ দত্ত ’মনরে চল নিজের নিকেতনে’ স্বামী বিবেকানন্দের এই দর্শনে নিজেকে সপে দিয়েছিলেন। সকল প্রকার সংকীর্ণতা রহিত সুভাষ দত্ত সর্ববাদী মতাদর্শের ছিলেন। তিনি অকপটে লিখেছেন-

আমি ধর্মান্ধ নই, আমার ভেতর কোন সংকীর্ণতা নেই। আমি আজমীর শরীফে গিয়েছি বেশ কয়েকবার ।  শাহজালাল, শাহ পরাণ, শাহ মোসৱান , হাই কোর্টের মাজার, মীরপুরের মাজার সব জায়গায় আমি গিয়েছি। টুপি পরে বা মাথায় পাগড়ি দিয়ে ধ্যান করেছি, মোনাজাত করেছি। অমি মিলাদ মাহফিলে শরীক হয়েছি। চার্চে নতজানু হয়ে যীশুর সামনে প্রার্থনা করেছি , গেছি বৌদ্ধ বিহারে। ‘

অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী সুভাষ দত্তের শিল্পভাবনার শর্ত ও মুল্যবোধ ছিল – জীবন সংগ্রামে মুখর তুখোড় তৎপরতা শেষে  শিকড়ের কাছে প্রত্যাবর্তন, নিজের উপলদ্ধির কাছে ফিরে আসা । পৈত্রিক নিবাস বগুড়ার সারিয়াকান্দি ধুনটের হাটশের গ্রামে আর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি দিনাজপুরে মাতুলালয়ে,বড় হয়েছেন সেখানে। নিজে পড়াশুনার পাঠ মাঝপথে চুকিয়ে ’ফিল্মের টানে’  সুদুর বোম্বেতে পাড়ি জমিয়েছিলেন , সেখানে ’অনেক কিছু’ করার পর দেশে, সেই দিনাজপুরেই ফিরেছিলেন। ‘জীবিকার শহর ঢাকায়‘ তার পদার্পন ১৯৫৩ সালের ২৩ নভেম্বর। লিখেছেন সুভাষদত্ত-

তখন ঢাকা শহর ছিল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। গাড়ী ঘোড়া কত কম ছিল। জিনিসের মূল্যও অনেক কম ছিল। পাঁচ টাকার বাজার করলে সাত দিন চলে যেত স্বচ্ছন্দে। পাঁচ টাকার বাজার কুলি বয়ে নিয়ে যেতে হিমশিম খেত। এখনকার তুলনায় সে সময়ের ঢাকা ছিল স্বর্গ। তখনকার সময় রাতে স্টেডিয়ামে আসতাম বন্ধুরা পায়ে হেঁটে। পান খেতাম মশলা মাখিয়ে। গল্প করতে করতে গুলিসৱান থেকে নবাবপুর হয়ে সোজা চলে যেতাম তাঁতিবাজারের দিকে। তখন ছিনতাই, রাহাজানির কোনো বালাই ছিল না। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল। মান, সম্ভ্রমহানির ভয় ছিল না। এখন বসে বসে ভাবি, সেই দিনগুলো কোথায় চলে গেল। গেছে তাতো আর ফিরে আসবে না। আগামী প্রজন্ম কিভাবে ঢাকা শহরটাকে দেখবে তা ভাববার কথা। জনসংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে মনে হয় না ঢাকা শহরে বসবাস করার মান সবার সাধ্যে কুলাবে। এতে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলাই বেশি হবে।

ঢাকায়  সিনেমার প্রচারপত্র ও আর্ট ডিরেকশন এবং  বাংলা উর্দু ছবিতে কৌতুকপ্রদ চরিত্রে অভিনয় করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষনে সক্ষম হয়েছিলেন। অসম্ভব অনুসন্ধিৎসু এবং সুক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী কঠোর পরিশ্রমী এই মানূষটির সব সময় আগ্রহ ছিল সৃজনশীল কিছু করার। জীবনকে যেমন দেখতেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তেমনি এর শিল্পীত  রূপায়নেও ভাবতেন বেশী। আর এর জন্য তার পড়াশুনা ও অধ্যাবসায় শেষমেশ মেশে সেলুলয়েডের ফিতার ক্যানভাসে জীবনের নিত্যতাকে তুলে ধরার। জানিয়েছেন-

আমি অত্যনৱ মনোযোগ সহকারে শুটিং দেখতাম, সাউন্ড লক্ষ্য করতাম, ক্যামেরার কাজ পর্যবেক্ষণ করতাম। মহিউদ্দিন সাহেব কিভাবে ডিরেকশন দিচ্ছেন তাও খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে লক্ষ্য করেছি। এর মাঝে ইউসিস বা ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে বই নিয়ে ফিল্মের ওপর পড়াশোনা করেছি। নজরুল ইসলাম বলে এক ভদ্রলোক ছিলেন, পরে পাকিসৱান চলে যান, তিনি অনেক ভালো ভালো ছবি করেছেন। তার সাথে আমি ফিল্মের থিওরিটিক্যাল ব্যাপারগুলো নিয়ে পড়াশোনা করতাম। অনেক সময় সিনে-ম্যাগাজিন বা বইগুলো নিয়ে এসে আর জমা দিতাম না। আমার তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে প্রায়োগিক দিকটা মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। এভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রাকটিক্যাল ব্যাপারটি আমি অল্প বিসৱর জেনে যাই।

[ ‘একজন সুভাষ দত্ত’, মুক্তচিনৱা, ২০০৯, পৃ৩২]

সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণ শৈলীর অনুরক্ত ভক্ত বনে যান সভাষ দত্ত। নিজে চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্যোগি হয়ে ওঠেন-

১৯৫৭ সালের শেষের দিকে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালি দেখার পর আমার ভেতর পরিবর্তন আসে। এটাই কি চলচ্চিত্রের ভাষা! আমার ভেতরে একটা আলোড়ন শুরু হলো। অথচ আমি যে এর আগে ফিল্ম দেখিনি তা নয়। বোম্বে-কলকাতা-লাহেরের প্রচুর ছবি দেখেছি। কিন্তু পথের পাঁচালি সম্পূর্ণ অন্য ধরণের ছবি। ছবিটি দেখার পরে আমার ভেতরে একটি বাসনা জাগতে পারে যে পথের পাঁচালির পরিচালক সত্যজিৎ রায়ও আমার মতো একজন কমার্শিয়াল আর্টিস্ট। তিনি একটি অসাধারণ ছবি নির্মাণ করেছেন। এখন দেখা যাক আমি সুভাষ দত্ত তা পারি কীনা।

তৎকালীন পূর্ব পাকিসৱানের চলচ্চিত্র শিল্প যখন পশিচমবাংলার সেরা সব বাংলা  ছবি এবং পশ্চিম পাকিসৱানের উর্দু ছবির প্রচন্ড ঢেউয়ের ধাক্কায় নিরুদ্দেশ যাত্রী , এই ঢাকাতেও উর্দু ছবি নির্মানের বন্যা বইতে শুরু করেছিল , বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষার আান্দোলনে রক্ত দিতে হচ্ছিল ,স্বাধীকার থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অয়োময় আকাঙ্খা যখন দানা বাধছিল সেই সময়ে ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্ত ‘সুতরাং’ ছবি নির্মাণ করে বাঙালীর, বাংলা সংস্কৃতির , সৃজনশীলতার, মৌলিকত্বের মর্মমূলে যেন আত্মবিশ্বাসের বিজয় নিশান উড়িয়ে দিলেন। ’সুতরাং’ এর সবাই নুতন -চিত্রনাট্যকার,  পরিচালক, সঙগীত পরিচালক, গীতিকার, নায়িকা, নায়ক, প্রযোজক, এরা সবাই যেন এক কাতারে শামিল হলেন – নতুন পথের , প্রত্যয়দীপ্ত নবযাত্রার অভিষেক ঘটাতে। সুভাষদত্ত  ‘ সুতরাং’   করার ব্যাপারে   দৃঢ় সংকল্প নেন ১৯৬২ সালের শেষের দিেেক। পত্রিকায় সুতরাং বানানোর বিজ্ঞাপন দেখে বাংলাবাজারের মেসে বসবাসকারী জনৈক সত্য সাহা সত্যই সাহস করে এসে সুরকার হতে চাইলেন ।

আমি সত্য সাহার দু একটা পরীক্ষা নিলাম । কেমন সুর টুর জানে। তারপর ছবির সিচুয়েশন নিয়ে বসলাম। বল্লাম এ ধরনের গান লাগবে আমার ছবিতে । সৈয়দ শামসুল হকের সাথেও আমার কথা হয়েছে। এটা হওয়ার পরে আমি নায়িকা খুঁজব। যেহেতু আমি বেটে মানূষ । তাই ছোটখাট একটা মেয়ে দরকার আমার বিপরীতে, নায়িকা হওয়ার জন্য।

তার নায়িকা চট্টগ্রামের মিনা পাল। তার আবিষ্কারের কাহিনিটিও অভিনব-

‘আমি ছবির ষোলটি  দৃশ্যের স্কেচ এঁকে পাঠালাম। স্কেচ দেখে মীনার ছবি তুলে আনলেন সত্য সাহা। কয়েকটি ফটোগ্রাফ খুবই ভাল লাগল। বললাম, ঠিক আছে। ওকে আসতে বলো। তারপর মিনা তার বাপ এবং বোনদের নিয়ে ঢাকা এলো। এখন আমার দুই প্রডিউসার ওকে দেখে হৈ চৈ করে উঠলেন । আরে, এ দেখছি খুবই ছোট মেয়ে । বাচ্চা মেয়ে । একে দিয়ে হবে নাকি? মীনা পাল ফ্রক পরা ছিল।  আমি বললাম , ফ্রকটা ছেড়ে শাড়ি পরে এসো।

ওরা নবাবপুরে , ঢাকা বোডিং এ উঠেছিল। সে হোটেলে গিয়ে শাড়ি পরে এলো । দেখলাম ভালই লাগছে। মুহূর্তে শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতির মতো, মীণা পাল থেকে কবরী বেরিয়ে আসে । ওর চেহারার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ওর হাসি।’

’রাশোমোন’(১৯৫০)   যেমন জাপানী চলচ্চিত্রকার আকিরা কুরো সাওয়া (১৯১০-১৯৯৮) র , ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) যেমন সত্যজিৎ রায় ( ১৯২১-১৯৯২) র অমরত্বের স্বপ্ন জাগানিয়া  ছবি, ’সুতরাং’ (১৯৬৪) তেমনি সুভাষদত্তের।

এ ছবিতেই প্রথম এদেশের চলচ্চিত্রে স্বপ্নদৃশ্য দেখা যায়। ছবির শেষে নায়ক-নায়িকার মিলন হয় না। বিয়োগাত্মক পরিণতিও এ দেশীয় চলচ্চিত্রে প্রথম। ফ্রাঙ্কফুর্ট এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে ’সুতরাং’ দ্বিতীয় পুরস্কারে বিজয়ী হয়েছিল। পুরস্কার-টুরস্কার নয়, ‘সুতরাং’ আমার বড় আদরের সনৱান। বিপুল এক শিল্প নেশা আমাকে পেয়ে বসেছিল ছবিটি নির্মাণের সময়। আমি নি:সঙ্কোচে শ্রম ও সাধ্য ঢেলেছি এতে। আমি মরণশীল সামান্য মানুষ। শিল্প মানুষকে অমরত্ব দেয়। আমি উচ্চাভিলাসী নই, তবে এটুকু বলতে পারি, আনৱরিক সৃষ্টি হিসেবে ’সুতরাং’ বেঁচে থাকবে।

তাঁর সেরা চলচ্চিত্রগুলোর মর্মবানী হল শিকড়ের কাছে ফিরে আসা। ‘সুতরাং’  ছবিতে তাঁর নিজের অভিনিত চরিত্র  সিপাহী জব্ব্‌ার  শহরে ব্যসৱ সমসৱ কর্ম জীবন ছেড়ে ‘ ওরে মন ছুটে চল মধুমতি গায়’, গাইতে গাইতে ফিরেছে গ্রামে। ‘কত ঘুরে এলাম কত দেখে এলাম অশানৱ মনে আমি ছুটে এলাম …আমার গায়ের মত কভু  দেখিনি , সে যে আমার জন্মভূমি ..’ ‘আলিঙ্গন’র সাধু বাবার মত সুভাষ দত্ত তার শিল্পকর্মে, ’বসুন্ধরা‘য় সেই মাটির কাছে  ফিরে যাওয়ার আকুতি প্রকাশ করেছেন। দেশিকোত্তম এই ব্যক্তিত্ব নিজের দেশ, মাটি ও মানুষকে সর্বোচ্চ মহিমায় দেখিয়েছেন। ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েও সেই অভিনয় সুনামের সুবাদে পাঞ্জাবী ক্যাপ্টেনের শ্রদ্ধা ও সমীহবোধের কারণে মুক্তি পেয়েছিলেন। নিজের সেই মুক্তি পাওয়ার স্মৃতিকে ’অরুনোদয়ের অগ্নি স্বাক্ষীতে’ আনোয়ার হোসেনের অভিনয় জীবনের মধ্যে তুলে ধরেছেন। ‘ সুতরাং’ ছবিতে নিজের প্রেমিকা জরিনার মাতৃহারা সনৱনাকে লালন পালনের দায়িত্ব নেয়ার ঔদার্য যেমন দেখিয়েছেন তেমনি ১৯৭২ সালে  যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে বীরাঙ্গনাদের সামাজিক পুনর্বাসনে রেখেছেন মানবীয় দর্শনের ব্যাখ্যা ও সমাধানের প্রেরণা। অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকির ‘গলির ধারের ছেলেটি’র চলচ্চিত্রায়নে (’ডুমুরের ফুল’) একই সাথে শিশু মনসৱত্বের ও মানবীয় দৃষ্টিভঙ্গীর এমন কাব্যিক শোকগাথা নির্মান করেন যা একটি ধ্রুপদি শিল্পকর্মে উন্নীত হয়। ’আবির্ভাব’ ও ‘ ’বসুন্ধরা’ ছবিতে সনৱানময়ী মায়ের আবেগ ও আকিঞ্চন আকাঙ্খাকে শৈল্পিক তুলিতে বিমুর্ত করেছেন। তার তাবৎ চলচ্চিত্রেই মানবিক মূল্যবোধের , সমাজ দর্শনের, এবং নিবিষ্ট চিনৱা চেতনার ভাষ্যে বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও পর্বকে বিশেষায়িত অবয়বে তুলে ধরেছেন সেলুলয়েডের ক্যানভাসে-

অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করেছেন, আমার ছবিতে প্রতিবন্ধী জীবন বারবার এসেছে। ‘বিনিময়’ এর নায়িকা বোবা, ডুমুরের ফুল এর লাডুর একটি হাত খোঁড়া, আয়না ও অবশিষ্ট-এর আয়নাপর্বের নায়িকার কুশ্রী অবস্থা কিংবা আকাঙ্খার তরুণী বধূটি অনৱ:সত্বা অবস্থায় পথে এক প্রতিবন্ধীকে দেখে অনাগত শিশুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কিত। তবে প্রতিবন্ধী জীবন আমার চলচ্চিত্রে বারবার এলেও হুবহু একই রকম নয়। আমি সবসময় নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছি। আমার আরেকটি প্রিয় বিষয়, দাম্পত্য জীবনের সমস্যা। এই বিষয়টির বহুমাত্রিক ব্যবহার আমার ছবিতে দেখা যাবে। আর কারণ হচ্ছে, খুব কাছ থেকে আমি বিভিন্ন মানুষের দাম্পত্য জীবন লক্ষ করেছি। যেমন, আবির্ভাব ছবিতে একটি বন্ধ্যা নারীর যে আকুতি তা আমার এক মাসিমার জীবনের প্রতিফলন।

নারী শিক্ষার অগ্রদূত  মহিয়ষী বেগম রোকেয়ার ওপর সরকারী অনুদানে তাঁর নির্মীয়মান শেষ ছবি শেষ করার ব্যাপারে তিনি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন- এ ছবিতে তিনি বেগম রোকেয়ার সামাজিক ভূমিকাকে বিশেষ ব্যঞ্জনায় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাকে ‘বেগম রোকেয়ার সামাজিক ভূমিকা ‘ শীর্ষক আমার একটি প্রবন্ধ পড়ে এ ব্যাপারে বিশেষ  আগ্রহ বোধ করেছিলেন। সামাজিক গবেষনার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল, প্রচুর পড়াশুনা করতেন।   দুর্ভাগ্য,  অলঙ্ঘনীয় জটিলতার আবর্ত  ও অবগুণ্ঠন থেকে বেগম রোকেয়ার ওপর ছবিটি নির্মানে পৃষ্টপোষকতা সুনিশ্চিত করা যায়নি। এ নিয়ে তিনি প্রায়ই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করতেন। কালজয়ী এক  সৃজনশীল কাজের অপ্রকাশের এই  অব্যক্ত বেদনা বোধ নিয়েই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।