SHARE
Abdullah-Abu-Syed-1

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সভাপতি, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে। এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। চ্যানেল আইতে শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর উপস্থাপনায় ৩০০ সেকেন্ড নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানেরই বাছাই করা ১০০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ  পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার নিয়ে আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যার একটি বিশেষ আয়োজন এখন বাজারে। আজ থেকে অনলাইনে শুরু হলো এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত একশজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার…

জয়: স্যার আপনাকে দেখে মনে হয় আপনি একজন যুবক। এটার রহস্য কি?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: আমার মনে হয় মানুষ ততক্ষনই যুবক থাকে যতক্ষন তার মধ্যে শিশুটা বেঁচে থাকে। আমার ধারনা আমি এখনো শিশু।
জয়: আপনার একটা নিজস্ব বানী আছে। যে আপনি ৮০ বছরের পর আর পৃথিবীতে থাকবেন না। আপনার বয়স তো ৮০ হয়ে গেছে।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: না ৮০ এখনো হয়নি। ৮০ চলছে।
জয়: এখন কি ভয় লাগছে?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: না। আমি তো অনেকদিন বেঁচেছি। আমার আবার ভয় কিসের?
জয়: মৃত্যু ভয় আপনাকে তাড়া করে না?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: না। মৃত্যু বেদনা তাড়া করে।
জয়: বেদনাটা কেমন?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে সেটাই বেদনার। এতো সুন্দর এতো আনন্দের পৃথিবী ছেড়ে যাওয়াই বেদনার।
জয়: জীবনের কোন দিকটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: জীবনের সবকিছুই আমাকে আনন্দ দিয়েছে। আমি স্মরনই করতে পারিনা যে কোনো দুঃখ আমাকে ছুঁয়েছে।
জয়: আপনি শৈশবে চুরি করে করে দুধ খেতেন। অনেক দুধ খেতেন। এই দুধ বেশি খাওয়ার কারনেই কী আপনি এতো রসে টইটুম্বর?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: না- দুধ তো রস তৈরি করে না। দুধ স্বাস্থ্য তৈরি করে এবং স্বাস্থ্য অনেক সময় রস তৈরি করতে সাহায্য করে।
জয়: স্বাস্থ্য হচ্ছে প্রধান বিষয় কোন কিছুতে উন্নতি সাধন করতে। এটা একটু ব্যাখ্যা করে বলবেন?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: অনেকেই বলেন অমুক লোকটা অলস। আমি বলবো অমুক লোকটা অক্ষম, পারে না। লোকটি হয়তো করতে চায় বড় হতে চায়, জিততে চায়। জয় করতে চায়। রাজ্য চায়। সাম্রাজ্য চায়। কিন্তু পেরে উঠেনা।
জয়: স্বাস্থ্যের এই দৈন্যদশাটা আমাদের কেনো হলো?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: বহু কারণ আছে। এতো কারণ তো বলা যাবে না। আমার মনে হয় খারাপ পানিই এর জন্য অনেকটা দায়ী।
জয়: মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ কি?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: বড় সম্পদ হচ্ছে স্বপ্ন। স্বপ্নকে অনেকেই মনে করে এটা একটা অবাস্তব জিনিস। অলৌকিক জিনিস। কিন্তু স্বপ্ন অবাস্তব জিনিস না। স্বপ্ন মানে হচ্ছে গন্তব্য। আমি কোথায় যেতে চাই সেটাই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।
জয়: পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির পর থেকে মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কি?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। সে যদি একবার ভেবে বসে পারবে না তাহলে সে আসলেই আর পারবেনা।
জয়: এই যে সমাজে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতা। আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা পরীক্ষা, প্রথম হওয় এই যে প্রতিযোগিতা, এটাকে কিভাবে দেখেন?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: এটা তৈরি হওয়ার একটা বড় কারণ হচ্ছেÑ আমাদের যারা অভিভাবক আছেন তারা চান যে আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হই। কিন্তু তারা জানেনা যে, শ্রেষ্ঠ মানুষ কাকে বলে। শ্রেষ্ঠ মানুষ তো প্লেটো, আইনস্টাইন। যদি মহা পুরুষদের কথা বলতে চাই তাহলে হযরত মুহাম্মদ (স:)। এটা আসলে অভিভাবকরা বুঝতে পারে না। তারা মনে করেন যতো বেশি মুখস্ত করাবেন ততোই নম্বর বেশি পাবেন এবং সে আসলে ততো বড় হয়। দুটো গাড়ি যখন পরস্পর প্রতিযোগিতা করে একটা আরেকটাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য তখন আসলে গাড়ি কিন্তু প্রতিযোগিতা করে না। প্রতিযোগিতা করে মানুষ। তাই মানুষের মধ্যে এই প্রতিযোগিতার ক্ষমতার একটা অসম্ভব পিপাসার লক্ষন। এই পিপাসাই মানুষকে এগিয়েও নেয়। আবার এই পিপাসা মানুষকে ধ্বংসও করে। সব চাই চাই চাই। চাই না এটা এখন কেউ বলে না। অথচ সুখী হতে গেলে চাই না বলতে শিখতে হবে।
জয়: দেশের যে চিকিৎসা ব্যবস্থা একজন ডাক্তার দেখাতে গেলে সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকা…
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: একটা বিষয় মনে রাখতে হবে আমাদের দেশে অনেক মানুষ। ছোট দেশ কিন্তু জনসংখ্যা অনেক। সেই তুলনায় ডাক্তার অনেক কম। আর স্পেশালাইজড ডাক্তার আরো কম। যার ফলে একেকজন ডাক্তার দিনে অনেক রুগী দেখে থাকেন। হয়তো কেউ কেউ ৫০০ রুগীও দেখেন।
জয়: এ থেকে পরিত্রানের কোনো উপায় নেই?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: এই মুহূর্তে নাই। আমাদের ডাক্তার বাড়াতে হবে। আর আমাদের জনসংখ্যা কমাতে হবে।
জয়: স্যার, প্রেমের অসংখ্য সংজ্ঞা আছে। আজকে একটা নতুন সংজ্ঞা দেবেন?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: প্রেমের সংজ্ঞা আমি দিতে পারবো না।
প্রচার: ২৮ নভেম্বর ২০১৯