SHARE

শিল্পীরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ভয়েস রেকর্ড করে নতুন গান গেয়ে ফেলতে পারবেন। নৃত্যশিল্পীদের আরও কিছুদিন একক নৃত্য দিয়ে দর্শকের মন ভরাতে হবে। নাটকের শ্যুটিং করতেও খুব একটা সমস্যা হবে না। অল্প সদস্যের টিম নিয়ে শ্যুটিং চালিয়ে যেতে পারবেন তারা। সাধারণ ছুটি শেষে দেশ থেকে এখন ধীরে ধীরে ‘লকডাউন’ পরিস্থিতি উঠে যাচ্ছে। অনেক কিছু আগের রূপে ফিরছে। কিন্তু সিনেমা? সিনেমায় নাচ-গান থাকে। নায়ক-নায়িকার অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে। এসব কি আর সামাজিক দূরত্ব মেনে সম্ভব? তাই লকডাউন শেষে সবকিছু শুরুর কথা চললেও সিনেমার শ্যুটিং আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। প্রযোজক-পরিচালকরা অর্ধসমাপ্ত সিনেমার শ্যুটিং শেষ করতে চাইছিলেন। কারণ, অনেক টাকা এরইমধ্যে লগ্নি হয়ে গেছে। পুরো সিনেমা শেষ না হলে সে টাকা উঠে আসার বিকল্প কোনো উপায় নেই। তাই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে চলচ্চিত্রের প্রধান দুই সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি একটি সভার আয়োজন করে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে বিএফডিসির প্রযোজক সমিতি কার্যালয়ে হওয়া সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সিনেমার শ্যুটিংও শুরু হবে। তবে করোনার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকতে শ্যুটিং শুরুর আগে অবশ্যই প্রত্যেককে করোনা টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। তবেই প্রযোজক-পরিচালকরা শুরু করতে পারবেন নতুন সিনেমার শ্যুটিং। প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খশরু বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে প্রযোজক-পরিচালকরা শ্যুটিং, এডিটিং, ডাবিংÑ সব করতে পারবেন। এসব কাজে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটা খুব মুশকিল। তাই সভায় বলা হয়েছে, খুব সংক্ষিপ্ত আকারে প্রোডাকশন ডিজাইন করতে হবে, ইউনিটের লোকবল কমাতে হবে। সবার করোনা টেস্ট করে ফলাফল জেনেই শ্যুটিং করতে হবে। এর বাইরেও স্বাস্থ্যবিধিতে যা বলা আছে, সেসব অবশ্যই মানতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কবে করোনা বিদায় নেবে? কবে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত হব? কেউই তো কিছু বলতে পারছি না। যদি জানতে পারতাম তাহলে হয়তো আমরা অপেক্ষা করতাম এক মাস কিংবা দুই মাস। কিন্তু এভাবে বসে থাকলে কীভাবে হবে? সরকার এরই মধ্যে গণপরিবহন, ট্রেনসহ প্রায় সবকিছু খুলে দিয়েছে, সীমিত আকারে হোক আর যা-ই হোক। এদিকে যেসব ছবির কাজ অর্ধেক পথে আটকে আছে, সেসব ছবির প্রযোজক-পরিচালকরা প্রতিনিয়ত ফোন করছেন। তাদের সিনেমার শ্যুটিং করতে চান। করোনার ভয়ে দিনের পর দিন বসে থাকলে তারাও তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘এটা কোনো নীতিমালা নয়, আবার উদ্বুদ্ধ করাও নয়। আমরা চাই যারাই শ্যুটিং করুন না কেন, তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে করেন।’

গতকালের সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমসহ অনেকে।’