SHARE

পরপর বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে অনন্ত হয়ে ওঠেন অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। প্রথম সিনেমা ‘খোঁজ : দ্য সার্চ’ দিয়েই আলোচনায় আসেন অনন্ত জলিল। তার সিনেমার মাধ্যমে লোকেশন, অ্যাকশন দৃশ্য থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তবে বেশ কয়েক বছর তিনি সিনেমা থেকে দূরে। তবু তার প্রতি ভক্তদের আগ্রহ কমেনি। সেই টানেই তিনি ফিরে আসছেন ‘দিন : দ্য ডে’ সিনেমার মাধ্যমে। করোনার প্রকোপে এখন সারা বিশ্বের সিনেমা শিল্পই স্থবির। ঢালিউড এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে তেমন সুবিধা করতে পারছিল না। তার ওপর করোনার মতো বিরাট ধাক্কা এলো। সবার মুখে প্রশ্ন, সিনেমা শিল্প কি পারবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে? এ নিয়ে সংশয় সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মনেও। এরইমধ্যে দেশের সিনেমার নম্বর ওয়ান হিরো শাকিব খান এই বিপর্যয় থেকে সিনেমাকে রক্ষা করতে নানা পরিকল্পনা করছেন।

শোনা যাচ্ছে, তিনি সিনেমা শিল্পকে সচল করতে প্রয়োজনে পারিশ্রমিকও কম নেবেন। অনন্তর মতো জনপ্রিয় নায়কেরও তো সিনেমা শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে যায়। তিনি কী ভাবছেন এই ভগ্নপ্রায় শিল্প নিয়ে? শোনা যাক তার মুখেই, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থা এমনিতেই খারাপ ছিল, কারণ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একতার অভাব রয়েছে। যে যার জায়গায় নিজেকে রাজা ভাবে। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সবাইকে নিয়ে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার। কেউ কখনো তা আমলে নেয়নি। সবাই আলাদাভাবে যার যার মতো করে কাজ করছে। মোটকথা সবাই মিলে সংকট কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা পারছে না। তার ওপর এই করোনার থাবা! তবে আমি বিশ্বাস করি, কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, যদি সবার চেষ্টা থাকে। এক হয়ে কাজ করলে চলচ্চিত্র হয়তো আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো চলচ্চিত্রের বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে সময় লাগবে। কিন্তু আমরা এক হয়ে কাজ করলে আস্তে আস্তে এই সংকট কেটে যাবে। তবে তার আগে প্রয়োজন বিশ্বের অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া। এখন খুব ভালো সিনেমা করলেও কেউ হলে গিয়ে সেটা দেখবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ সিনেমা হলে কয়েকশ দর্শক একত্রে সিনেমা দেখে। এত লোকের জমায়েত হওয়া কতদিনে সম্পূর্ণ নিরাপদ হবে তাও আমরা জানি না। তাই আমার ‘দিন : দ্য ডে’ সিনেমাটি কবে নাগাদ প্রেক্ষাগৃহে আসবে সেটাও এখন বলতে পারছি না। তবে এ নিয়ে আমি ভাবছি। অনেক ভেবে পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য সময় দরকার। কিছু সময় পেলে বুঝতে পারব কী করা উচিত। তবে এটুকু বলতে চাই, আমি আগেও ব্যবসায়ী ছিলাম, এখনো আছি। সিনেমা আমাকে সর্বসাধারণের কাছে নিয়ে গেছে। তাই সিনেমার এই দুঃসময়ে আমি বসে থাকতে পারি না। আমি আমার জায়গা থেকে সাধ্যমতো করব। সিনেমা প্রযোজনা, অভিনয়Ñ সবই চালিয়ে যাব। যাতে সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কাজের অভাবে ঘরে বসে না থাকে।’
অবস্থা স্বাভাবিক হলে সাধারণ মানুষকে হলমুখী করতে কী করতে হবে জানতে চাইলে অনন্ত বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা কমে গেছে বলেই প্রেক্ষাগৃহ কমেছে, দর্শকও কমেছে। প্রতি মাসে ভালোমানের একটা সিনেমা হয়তো মুক্তি পায়। সেটা দিয়ে কতদিন দর্শক ধরে রাখা যায়? এভাবে হলগুলো চালানো সম্ভব নয়। এজন্য বিদেশি হলগুলোতে পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশের ছবি রিলিজ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে দুই-তিনটে নতুন ছবি থাকে। নতুন ছবির কারণে দর্শকের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যায়। হলগুলো ব্যস্ত থাকে। আমাদের দেশে এর বিপরীত চিত্র। সিনেপ্লেক্সে বিদেশি ছবি দেখানো হয় বলেই কিন্তু দর্শকের অভাব হয় না।’