SHARE

শুধু লালনের গান নিয়ে আসছি-সাবিনা ইয়াসমীন

বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন ছবিতে ও মিক্সড অ্যালবামে লালনের তিন-চারটি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এবার লালন সাঁইয়ের গান নিয়ে পুরো অ্যালবাম করছেন এই গায়িকা। কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। নাম চূড়ান্ত না হওয়া এ অ্যালবামে গান থাকছে মোট ১০টি। গানগুলো হলো- ‘সত্য বল সুপথে চল’, ‘চরণ ছেড়ো না ছেড়ো না’, ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’, ‘ক্ষম অপরাধ’, ‘জাত গেল জাত গেল বলে’, ‘রাত পোহালে পাখি বলে’, ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘বড় সংকটে পড়িয়া দয়াল’, ‘কবে সাধুর চরণধূলি’, এবং ‘পাড়ে কে যাবি নবীর নৌকাতে আয়’। সঙ্গীতায়োজনে কলকাতার রকেট মণ্ডল। কিছুদিন আগে কলকাতায় গিয়ে গানগুলোর ট্র্যাক তৈরি করে এসেছেন সাবিনা ইয়াসমীন। ইমপ্রেস অডিও ভিশনের স্টুডিওতে চলছে ভয়েস রেকর্ডিংয়ের কাজ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গানের ভয়েস রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। লালনের অ্যালবামটি প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, হাতেখড়ির সময় থেকেই লালন সাঁইয়ের গান আমার পছন্দের। নিজে নিজে গুণগুণ করে গাইতামও। খুব ইচ্ছা ছিল পুরো একটি অ্যালবাম করার। কাজটিতে হাত দিতে মনের ভেতর অন্য রকম এক শান্তি অনুভব করছি। সাবিনা ইয়াসমীন আরো জানান, এই কাজটি হচ্ছে ইমপ্রেস অডিও ভিশনের উদ্যোগে। নতুন বছরের শুরুতে অ্যালবামটি প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপসী বাংলার গান

Ruposi-Banglar-Gun-(2)‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘সুন্দর সূবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’ এমন অনেক জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানের স্রষ্টা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার পুরো একটি দেশের গানের অ্যালবামের সুর-সঙ্গীতায়োজন করেছেন একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। অ্যালবামটির নাম ‘রূপসী বাংলার গান’। মোট ৭টি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে অ্যালবামটি। গানগুলো হলো- ‘আমার মন জুড়ায়রে’, ‘আমি বাংলার মেয়ে মাগো বাংলা আমার প্রাণ’, ‘রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে হয়েছো তুমি বীর’, ‘এসো হে নবীন’, ‘যদি জানতে চাও কোথাও আমি যাবো’, ‘কত না ভাষা শিখেছি আমি’, ‘সবুজ শ্যামল আকাশের নীলে ঘেরা আমার মন’। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন লুইপা, মারুফা, নন্দিতা, মেহেদী ও স্মরণ। সব ক’টি গান লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী গীতিকার কমল কলি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের গানের এই অ্যালবামটি প্রকাশ করেছে ইমপ্রেস অডিও ভিশন।

দেশের প্রথম টিন ব্যান্ড

TIN-BENDকিছুদিন আগে জমকালো এক গালা ইভেন্টের মধ্য দিয়ে এফডিসির ২ নম্বর ফ্লোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জিটিভি ফ্যান্টা ব্যান্ডের গ্র্যান্ড ফিনালে। উম্মোচিত হলো দেশের প্রথম টিন ব্যান্ড। সকল বাঁধা ডিঙিয়ে পাঁচজন ট্যালেন্টেড টিনেজার সঙ্গীত জগতে ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার সুযোগ পেলো। কোকা-কোলা বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাদাব খান যে পাঁচ ট্যালেন্টেড টিনেজারকে বাংলাদেশের প্রথম জিটিভি ফ্যান্টা ব্যান্ডের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন তারা হলেন সীমন্তি বিল্লাল, প্রান্ত বিশ্বাস, মারুফা জান্নাত ত্রিশা, জাহিদুল হাসান ও ঐন্দ্রিয়া রেজা নদী। অনুষ্ঠানে সবার সামনে ফুয়াদের কম্পোজ করা দু’টি অরিজিনাল গানসহ মিউজিক ভিডিও নিয়ে আসে এই জিটিভি ফ্যান্টা ব্যান্ড। সঙ্গীত জগতের প্রতিভাবান শিল্পী এলিটা করিম, জন কবির ও ফুয়াদ আল মুক্তাদির জিটিভি ফ্যান্টা ব্যান্ডের বিচারকের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে খুঁজে বের করেন সেরা পাঁচ টিনেজারকে। যারা হতে পারে পরবর্তী প্রজন্মের মিউজিক্যাল ট্রেন্ড।

দূরবীনের চোখ

Durbinকলকাতায় প্রকাশনার পর বাংলাদেশেও অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো সঙ্গীত শিল্পী সাহিনার আধুনিক বাংলা গানের একক অ্যালবাম ‘দূরবীনে চোখ’ এর প্রকাশনা উৎসব। কিছুদিন আগে রাজধানী গুলশান ক্লাবে জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই অ্যালবামটির মোড়ক উম্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোড়ক উম্মোচন করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয় ভাষিণী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পৌত্রী অনিরুদ্ধ কাজীর কন্যা ও কলকাতায় তারা টিভির প্রেসিডেন্ট অনিন্দিতা কাজী, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, আবৃত্তি শিল্পী শিমুল মুস্তফা, বিটিভির সংবাদ পাঠিকা শিরিন শীলা, চিত্রনায়িকা রেসি ও মেহজাবীন, সঙ্গীত শিল্পী স্বপ্নীল সজীব, নৃত্য শিল্পী সোহাগ ও বাংলা একাডেমীর উপ-পরিচালক নূরুন্নাহার মুক্তা। শিল্পীকে শুভেচ্ছা জানাতে কলকাতা থেকে ছুটে আসেন জনপ্রিয় গীতিকার রাজিভ দত্ত ও অ্যালবামটির প্রযোজনা সংস্থা জিরোনার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শুভজিৎ রায়। ‘দূরবীনে চোখ’ অ্যালবামে গান রয়েছে মোট ৮টি। গানগুলো হলো- ‘দূরবীনে চোখ’, ‘ঘুম ভাঙা ভোর’, ‘মোরা সাঁইয়া’, ‘আদুরে মেঘ’, ‘প্রিয়া বিনা’, ‘কাকে তুমি মন’, বর্ষা এলো ও মা’ সব কটি গানের কথা লিখেছেন রাজিভ দত্ত। আর সুর-সঙ্গীতায়োজন করেছেন পিন্টু ঘটক।

ধ্রুবর শ্রোতা ৩০ লাখ

Dhrubo-Guhaঅনেক শিল্পী আছেন যাদের ইউটিউবে গানের দর্শক ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে তাদের রয়েছে শতশত গান। কিন্তু যদি অল্প কদিনে সঙ্গীতাঙ্গনে এসে মাত্র ৮টি গানের ২টি গান ইউটিউবে আপলোড করেই দর্শক সংখ্যা ৩০ লাখের ওপরে যায় তাহলে নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমই বলা যায়। হ্যাঁ, আলোচিত এবং আলোকিত এই শিল্পীর নাম ধ্রুব গুহ। গত বছর ঈদুল আযহায় বাজারে আসে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘শুধু তোমার জন্য’। অ্যালবামের টাইটেল গানটির অভাবনীয় জনপ্রিয়তার দরুণ গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করে গত বছরের দিকে ভিডিওটি আপলোড করা হয় ইউটিউবে। তার পরেই যেন শুরু হয় হুলস্থূল এক পরিবেশ। দশ মাস আগে গানটি প্রায় ২০ লাখ দর্শক দেখেছেন। যা চলমান সঙ্গীতাঙ্গনে বিরলই বলা যায়। আর মাত্র চারমাস আগে আপলোড করা এই শিল্পীর দ্বিতীয় গান ‘যে পাখি ঘর বোঝেনা’ হিট হয় ১১ লাখ দর্শক শ্রোতাদের। গান দুটি নির্মাণ করেছে সিনে আর্ট প্রোডাকশন। সুর-সঙ্গীতায়োজন করেছেন তরিক আল ইসলাম। ধ্রুব গুহ বলেন, দর্শকের ভালোবাসা এবং আশীর্বাদ পেয়ে সত্যিই আমি অভিভূত। কথা, সুর এবং সঙ্গীতায়োজন সবখানেই বিশেষ এবং সেরা কিছু দেয়ারই প্রচেষ্টা ছিল সবার।

আমাদের স্থির হওয়া খুব প্রয়োজন

-ফাহমিদা নবী

Fahmida-Nobiজনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ফাহমিদা নবী। বর্তমানে অডিও অ্যালবাম স্টেজ ও প্লে-ব্যাক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ শিল্পী। সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যস্ততার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো আনন্দ আলোর পাঠকদের জন্য।

আনন্দ আলো: বর্তমানে আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?

ফাহমিদা নবী: বর্তমানে আমার ব্যস্ততা শুধু গান নিয়ে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সঙ্গীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে লাইভ শো করছি। অডিও অ্যালবামের কাজ করছি। দেশ-বিদেশে স্টেজ প্রোগ্রাম করে যাচ্ছি নিয়মিত। এ ছাড়া প্লে-ব্যাকও করছি।

আনন্দ আলো: নতুন কোনো অ্যালবামের কাজ করছেন কী?

ফাহমিদা নবী: সজীব দাশের সুর-সঙ্গীতে একটি অ্যালবামের কাজ করছি। এর সব গানের কথা আমি লিখেছি। অ্যালবামটির কাজ অনেক আগে শুরু করেছি। বেশ ধীরে ধীরেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে। এছাড়া বেশ কিছু মিক্সড অ্যালবামে গান করছি।

আনন্দ আলো: আপনার মতে এখন অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন?

ফাহমিদা নবী: এখন অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে খুব অস্থিরতা যাচ্ছে। সবাই খুব অস্থির। স্থির হওয়াটা প্রয়োজন। একজনের একটা গান বেরিয়ে এলে সে রকম করার পেছনেই বেশির ভাগ ছুটছেন। হয়তো এ অস্থির সময়ে কারও কারও ভাগ্য অনুকূলে যায়। তারপর কিন্তু নিয়মের মধ্যে আসতে হয়। কারণ সঙ্গীতে দীর্ঘসময় টিকতে হলে স্থির হতে হবে। আমার মনে হয় অস্থিরতাটা কমলে সবঠিক হয়ে যাবে।

আনন্দ আলো: অস্থিরতা কাটার সম্ভাবনা কী আছে?

ফাহমিদা নবী: অবশ্যই আছে। কারণ গানটাতো মনের খোরাক। একটা ভালো লিরিক সুন্দর, সুর ও সঙ্গীত সবাই পছন্দ করে। সুতরাং ভালোর দিকে ফিরে আসতেই হবে। আমি মনে করি শিখতে শিখতেই আসলে শেখা হয়। তাই একটা সময় পর সবই ঠিক হয়ে যাবে। ভালো সঙ্গীতের জয় হবেই।