SHARE

একুশে বইমেলার ইতিহাসে এবারই প্রথম বিস্তৃত, বিশাল একটি জায়গা মিলেছে। সাড়ে আটলাখ বর্গফুট ভূমিতে এবার বসেছে প্রাণের মেলা, জ্ঞানের মেলা, একুশে বইমেলার অবকাঠামো। বইমেলায় এবার ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহণ বেড়েছে। মোট ৫৫৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের বইমেলায়। প্যাভিলিয়ন সংখ্যা ৩৪টি। আর স্টল অর্থাৎ ইউনিট সংখ্যা ৯০০। একুশে বইমেলার ইতিহাসে এবারই প্রথম এতবড় জায়গা পাওয়া গেছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশর্ত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে চলতি বছরকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করা হবে। ১৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুজিব বর্ষ পালনের শুভ সূচনা হবে। বইমেলার অবকাঠামো, সাজসজ্জা সব কিছুতেই রয়েছে মুজিব বর্ষের ছোঁয়া। এক কথায় এবারের একুশে বইমেলা হয়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুরময়। বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, এবারের বইমেলাকে আমরা অন্যান্যবারের তুলনায় একটু ভিন্নভাবে সাজিয়েছি। চলতি বছর থেকে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি শুরু হবে। সে জন্য এবারের বইমেলা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হয়েছে। মেলার সাজসজ্জা, আলোচনা সহ সর্বত্রই থাকবেন আমাদের প্রিয় বঙ্গবন্ধু। মেলার বিস্তৃত প্রাঙ্গণ জুড়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত উক্তি। পাশাপাশি রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোকচিত্রের সমাহার। আলোকচিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়নেও রয়েছে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি।
এবারও বইমেলার নকশা করেছেন প্রখ্যাত স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বললেন, এবার সত্যিকার অর্থেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যাণ জুড়েই বইমেলা হচ্ছে। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন আমরা কি উদ্যাণ ধ্বংস করে মেলা করছি? আসলে বিষয়টা তা নয়। উদ্যাণ দখল করে মেলা নয়। বরং উদ্যাণে হাটতে হাটতে এবার বইমেলা উপভোগ করবেন সবাই।
এবার বইমেলাকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। শিকড়, সংগ্রাম, মুক্তি এবং অর্জন নামের ৪টি ভাগে থাকবে নানা আয়োজন। এবার মেলায় রয়েছে মুজিব পাঠাগার। এই পাঠাগারে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখকের বই স্থান পেয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে হাতখড়ি নামের একটি বিশেষ চত্বর। এখানে কোনো অভিভাবক চাইলে তার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত কোন ব্যক্তির মাধ্যমে হাতে খড়ি দেওয়াতে পারবেন।