SHARE

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন একটাই ছবি। একটাই মুখ- এন্ড্রু কিশোর। দেশ সেরা কণ্ঠশিল্পী। অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন। রেখে গেলেন তাঁর গানের বিশাল ভান্ডার আর অজস্র স্মৃতি। যার অনেকটাই কষ্ট ও বেদনার বিশাল কাব্য হয়ে থাকবে। বেশ কিছু দিন আমরা প্রিয় শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের বন্দনা করতেই থাকবো। কত ভালো ভালো কথা যে বলব…
অনেকে হয়তো আমার কথায় অবাক হচ্ছেন। মনে মনে হয়তো খিচতিও আওড়াচ্ছেনÑ এই লোক বলে কী! এন্ড্রু কিশোরের মতো মহান শিল্পীর প্রয়ানে চুপ থাকা কি সুযোগ আছে! তিনি ছিলেন দেশের সাধারন, অসাধারন সব মানুষেরই প্রিয় গায়ক। তার জন্য শোক গাঁথাতো চলতেই থাকবে।
আমি শোক গাঁথার বিপক্ষে নই। আমি বরং চাই শোক গাঁথায় বেদনার্ত হোক সবার হৃদয়। যাতে করে আমরা বহু বছর মনে রাখতে পারি বাংলা সঙ্গীতের এই যুবরাজকে। কিন্তু আমরা কি সবাই শেষ পর্যন্ত এন্ড্রু কিশারকে মনে রাখবো? আমরা তো তাকে মরার আগেই মেরে ফেলেছিলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এখন ঘরে ঘরে সাংবাদিক সৃষ্টি হয়েছে। যাদের অনেকেরই কাজ হলো সত্য, মিথ্যা যাচাই না করেই নিজের ফেসবুক ওয়ালে মনের মাধুরী দিয়ে যা খুশি তাই লেখা। হঠাৎ হয়তো দেখা গেল, কেউ লিখলেন আজ তার মন খারাপ। অথবা চটপটি খেতে মন চাইছে… এ ধরনের লেখার ক্ষতির কিছু আছে বলে মনে করি না। কিন্তু মানুষের মৃত্যু নিয়ে যখন স্ট্যাটাস দেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয় তখনই কষ্ট লাগে। মৃত্যু কি আনন্দের বিষয়? সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে যারা নিজের ক্রেডিট নেয়ার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুর খবর ফেসবুকে প্রচার করার প্রতিযোগিতায় নামেন তাদের কি একবারও মনে হয় না যে, তারা কাজটি ঠিক করছেন না?
দু’দিন আগে থেকেই এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হচ্ছিল। প্রিয় শিল্পী স্বয়ং তাঁর মৃত্যু সংবাদ ফেসবুকে দেখেছেন। ভাবা যায়, কতটা কষ্টের ছিল এই মৃত্যু গুজব বেঁচে আছি। অথচ নিউজ হয়েছেÑ মারা গেছি!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। ১১ জুন দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে ঢাকায় নিজের বাসায় না থেকে একটু নিরিবিলির আশায় রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকায় বোনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। শরীর ভালো যাচ্ছিলো না। এমন দুঃসময়ে বোনের বাসায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পান নিজের মৃত্যুর খবর। আর তক্ষুনি স্ত্রীর সহায়তায় নিজের ফেসবুক পেইজে লিখতে বাধ্য হন ‘বর্তমানে আমার সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে। ভুল সংবাদ বিশ্বাস করবেন না। আমি এখন আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।’
প্রিয় পাঠক, প্রশ্নটা কি নিজেকে অপরাধী করে না? আমরা কোন সমাজে বাস করছি যে, নিজের মৃত্যুর খবরের ব্যাখ্যা নিজেকেই দিতে হয়। শুধু কি প্রিয় শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের বেলায় এই ঘটনা ঘটলো? না তা নয়। এর আগে আজম খান, আইয়ুব বাচ্চু, বারী সিদ্দিকী, এটিএম শামসুজ্জামানের মতো শিল্পীদের বেলায়ও এমন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গুজবের শিকার হয়েছেন দেশ বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। যিনি এখনও বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন।
যারা মৃত্যুর ব্যাপারে গুজব ছড়ান জানিনা তারা কেন এই কাজটি করেন? এটি মারাত্মক অপরাধের আওতায় পড়ে। কাজেই আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উচিৎ এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করা।
রেজানুর রহমান
০৬ জুলাই ২০২০