Home এক্সক্লুসিভ সংগঠনগুলোকে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে

সংগঠনগুলোকে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে

SHARE
sobnom-faria

খাচ্ছি-দাচ্ছি, অবসরে অনেক সিনেমা দেখছি। মা রান্না করেন। আমি মাঝে মাঝে মায়ের কাছে রান্না শিখি। আর সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি। বিশেষ করে আমার তো অনেক কস্টিউম। এতদিন ব্যস্ততার কারণে সেগুলো গোছানোর সময় পাইনি। এবার সময় পেয়ে সব ধরে ধরে গোছাচ্ছি। এভাবেই কাটছে আমার ঘরবন্দি সময়।’ করোনাকালের ফিরিস্তি এভাবেই দিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।

সাধারণ ছুটির কয়েকদিন আগে কাজ করেছিলেন একটি ঈদের নাটকে। শবনম বলেন, ‘আমার অনেকগুলো নাটকের জন্য শিডিউল দেওয়া ছিল, কিন্তু কাজ করা আর সম্ভব হয়নি। মার্চের ১৮ তারিখে একটি নাটকের কাজ শেষ করেই আমি লকডাউনে গেলাম। এটা ছিল আরটিভির ঈদের নাটক। আমি আর জাহিদ হাসান কাজ করেছি। পরিচালক মিলন ভট্টাচার্য।’

করোনার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে শঙ্কার কথা জানালেন ফারিয়া, ‘নাটকে আমরা অনেক মানুষ একসঙ্গে কাজ করি। শুধু পরিচালক, অভিনয়শিল্পীই নন, ক্যামেরাম্যান, প্রোডাকশনের লোকসহ অনেক স্বল্প আয়ের শিল্পী থাকেন। আমরা যারা সচ্ছল শিল্পী তারা নিজেদের পকেট থেকে অসচ্ছলদের সহায়তা করে যাচ্ছি। এখন যদি এরকম অবস্থা চলতেই থাকে তাহলে আমাদের পকেটেও টান পড়বে। কারণ আমাদের বাইরে থেকে কেউ সাহায্য করছেন না। কোনো স্পন্সর বা প্রযোজকরা কিন্তু পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। আমরা শিল্পীরা যার যার জায়গা থেকে সাহায্য করছি। এটা বেশিদিন চললে আমরা নিজেরাও ঝামেলাও পড়ে যাব। এক্ষেত্রে টিভি চ্যানেল, স্পন্সর ওনাদেরও এগিয়ে আসা উচিত। কারণ এই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক মানুষ কাজ করে। আমাদের তো প্রতিদিনের ইনকাম। এতগুলো মানুষ যদি দীর্ঘদিন বসে থাকে তাহলে সার্ভাইভ করবে কীভাবে- সেটা চিন্তার বিষয়। সরকারের কাছে সহায়তা চাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখি না।’

শ্যুটিং স্পটের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বললেন শবনম ফারিয়া। তিনি বলেন, ‘যদিও এই বিষয়ে কথা বলার মতো পারফেক্ট লোক আমি নই। আমাদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। সিনিয়ররা যদি আমাদের মঙ্গল কামনা করে কোনো উদ্যোগ নেন তাহলে সেটা ভালো হয়। আমরা যারা কাজ করি তারা সবাই মূলত একটা পরিবারের মতো। পরিবারের একজন অসুস্থ থাকলে তো আর কাজ করা যাবে না। এক জায়গায় কাজ করতে গেলে সবাইকে সুস্থ থাকতে হবে। কারণ আমরা যেভাবে কাজ করি সেখানে একই জায়গায় একসঙ্গে অনেক লোক কাজ করি, একই মেকআপ ব্যবহার করি, খাবারও এক জায়গা থেকেই আসে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও নিরাপদভাবে কাজ করা সহজ হবে বলে মনে করি না। আর যে বাজেট থাকে সেই বাজেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করা সম্ভব হবে কিনা সেটাও চিন্তার বিষয়। আমার মনে হয় এই বিষয় সম্পর্কে আমাদের সংগঠনগুলোর নেতারা ভালো বুঝবেন। ওনারাই ভালো কিছু সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।’

সহসাই শ্যুটিংয়ে ফিরছেন না জানিয়ে শবনম ফারিয়া বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও যে খুব তাড়াতাড়ি আমি শ্যুটিংয়ে ফিরব তা বলতে পারছি না। কারণ যতদিন না মোটামুটি একটা নিরাপদ পরিস্থিতি না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত অভিনয়ে ফিরব না। এমনকি এটা যদি এক বছর দীর্ঘায়িতও হয়, তাহলে আমি এক বছরই শ্যুটিং করব না। কিন্তু আমি হয়তো শ্যুটিং না করেও এক বছর সার্ভাইভ করতে পারব কিন্তু অনেক শিল্পীই ততদিন সার্ভাইভ করতে পারবেন না। সবার পক্ষে এটা সম্ভব হবে না। এখন যাদের সম্ভব না তাদের তো শ্যুটিং করতে হবে। ফলে সবার নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের সংগঠনগুলোকে ভাবতে হবে।’