Home এক্সক্লুসিভ শেষ পর্যন্ত সবাইকে পে-চ্যানেলেই যেতে হবে!

শেষ পর্যন্ত সবাইকে পে-চ্যানেলেই যেতে হবে!

SHARE

ড. মাহফুজুর রহমান, চেয়ারম্যান, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ

ড. মাহফুজুর রহমান, আমাদের টেলিভিশন জগতে এক নামেই যাঁর ব্যাপক পরিচিতি। আজ থেকে ২৩ বছর আগে তাঁরই নেতৃত্বে এটিএন বাংলা-এর মাধ্যমে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে টেলিভিশন চ্যানেলের শুভযাত্রা শুরু হয়। মূলত তাঁর দেখানো পথ ধরেই আজকে আমাদের টেলিভিশন জগত এতো বড় ও বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি এক মুগ্ধকর দুপুরে আনন্দ আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন ড. মাহফুজুর রহমান। সাথে ছিলেন আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান
আনন্দ আলো: আমাদের টেলিভিশন মাধ্যম এখন অনেক বড় হয়েছে। আপনার নেতৃত্বে শুরু হওয়া দেশের প্রথম স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলাই এই বড় হওয়ার সাহসটা দেখিয়েছিল। পুরনো দিনের কথা কি মনে পড়ে?
মাহফুজুর রহমান: হ্যা, অনেক কথাই তো মনে পড়ে। শুরুতে অনেক সমস্যাই ছিল। তখনকার দিনে দেশে ছিল একটা মাত্র টেলিভিশিন চ্যানেলÑ বিটিভি। কাজেই ডিফারেন্ট একটা কনসেপ্ট নিয়ে আমরা এটিএন বাংলার কার্যক্রম শুরু করি। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতেও তখনকার দিনে টেরিস্টরিয়াল টিভি চ্যানেলই চালু ছিল। ভারতে বোধকরি ৩/৪টি টিভি চ্যানেল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম চালাত। আমরা এটিএন বাংলার সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করার পর যে সমস্যাটা দেখা দিল তাহল স্যাটেলাইট মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনা করার মতো কোনো টেকনিশিয়ান নাই। বিটিভিতে যারা কাজ করতেন তারাতো টেরিস্টরিয়াল পদ্ধতিতে অভ্যস্ত ছিলেন। কাজেই সেখান থেকেও সহযোগিতা নেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তখনকার দিনে আমাদের দেশে স্যাটেলাইট টেলিভিশনের ধারনাটাই ছিল একেবারেই ভিন্ন। কাজেই একটা বড় সমস্যার মধ্যে আমরা পড়ি। একেবারেই নতুন ধারনায় একটি টিভি চ্যানেল চালাতে গিয়ে আরও যে সমস্যাটা দেখা দেয় তাহলো-ভালো প্রোগ্রাম পাওয়া। শুরুতে বলা যায় আমরা হিমশিমই খাচ্ছিলাম। রাত দিন ২৪ ঘণ্টা নতুন নতুন অনুষ্ঠান প্রচার করা ‘চাট্টিখানি’ কথা নয়। কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ফরিদুর রেজা সাগরকে। তিনি আমাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আমাদেরকে প্রস্তাব দিলেন, “ইমপ্রেস টেলিফিল্মকে প্রতিদিন ২ঘণ্টা সময় দেন। আমরা এই দুইঘণ্টার প্রোগ্রাম চালাব। আপনাকে অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না”। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ইতিমধ্যেই টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে টিভি দর্শকের কাছে একটা আস্থার জায়গা তেরি করে ফেলেছিল। বিটিভিতেও তাদের অনুষ্ঠান প্রচার হতো। কাজেই ফরিদুর রেজা সাগরের প্রস্তাবে আমরা সানন্দে রাজি হয়ে যাই। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম আমাদের সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে এটিএন বাংলার সন্ধ্যার অনুষ্ঠান পর্ব বেশ জমজমাট হয়ে উঠলো। আমরা ২ ঘণ্টার নতুন অনুষ্ঠান বানাতাম। ইমপ্রেস বানাত ২ ঘণ্টার নতুন অনুষ্ঠান। টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার ক্ষেত্রে যেহেতু আমরা নতুন…. আমি একেবারেই ডিফারেন্ট একটা ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলাম। কাজেই ভালো টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনা ও অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সংকট তো ছিলই। কিন্তু ইমপ্রেস যুক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে সংকটটা অনেকটাই দূর হয়ে যায়। আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের প্রোডাকশন হাউস গড়ে তুলি। একটি টিভি চ্যানেল পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজনে যা-যা করা দরকার তার সব কিছুই আমরা করেছি। তবে অতীত দিনের কথা ভাবলে ইমপ্রেসের সহযোগিতার কথা খুব মনে পড়ে।

আনন্দ আলো: বর্তমান সময়টাকে কিভাবে দেখেন?
মাহফুজুর রহমান: ভালোই তো…. এখন তো ঘরে ঘরে প্রোডাকশন হাউস। আমরা যে সংকট অতিক্রম করেছি এখন হয়তো অনেককেই তা ‘ফেস’ করতে হয় না। আমরা যখন এটিএন বাংলা শুরু করি তখন স্ক্রীপ্ট রাইটারের সংকট ছিল। ডিরেকটরের সংকট ছিল। আর এখন তো ঘরে ঘরে স্ক্রীপ্ট রাইটার, ঘরে ঘরে ডিরেকটর। এটিএন বাংলা যখন শুরু হয় তখন বিটিভির মুস্টিমেয় কয়েকজন স্ক্রীপ্ট রাইটার, লেখক, প্রডিউসার ছাড়া বাইরে এরকম কেউ ছিল না বললেই চলে। মুস্টিমেয় কিছু শিল্পী ছাড়া আর কোনো শিল্পীকে খুঁজে পাওয়া যেত না। যারা ছিলেন তারা সবাই মূলত ব্যস্ত থাকতেন বিটিভির জন্য। বিটিভির বাইরে তারা প্রোগ্রাম করতে পারতেন না। অনেকে আমাদের সাথে কাজ করার সাহস পেতেন না কারণ ভয় ছিলÑ যদি বিটিভি কর্তৃপক্ষ ‘মাইন্ড’ করে। যদি তাদেরকে বিটিভির অনুষ্ঠান থেকে বাদ দিয়ে দেয়। ফলে আমরা ভালো শিল্পীও খুঁজে পেতাম না। এখন যা হয়েছেÑ আমাদের দেশে অনেক টিভি চ্যানেল হওয়ার ফলে ডিরেকটরের অভাব নাই, প্রডিউসারের অভাব নাই। শিল্পীরও অভাব নাই। সব দিক দিয়ে আমরা হয়তো মোটামুটি স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে পেরেছি… তবুও কথা আছে। দেশে টিভি চ্যানেল যে হারে বেড়েছে সেই অনুপাতে যোগ্যতা সম্পুর্ণ শিল্পী, ডিরেকটর, প্রডিউসার সৃষ্টি করতে পারিনি। মুস্টিমেয় কিছু ডিরেকটর, প্রডিউসার ও শিল্পীকে নিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের সময় আমরা যে প্রোগ্রাম গুলো করি… প্রতিটি চ্যানেল ৫/৭ দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানমালা সাজায়। তখন সব চেয়ে বেশি ক্রাইসিসে আমরা পড়ি। ক্রাইসিসটা হলো হাতে গোনা কয়েকজন নামকরা শিল্পী এতোটাই ব্যস্ত হয়ে যান যে তার বা তাদের শিডিউল পাওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করেও অনেকে সিডিউল দিতে পারে না। ফলে ঈদের অনুষ্ঠান গুলো সময় মতো তৈরি করা যায় না। তবুও আমরা সাধ্যমতো ভালো অনুষ্ঠান প্রচারের চেষ্টা করি। আমাদের মতো চ্যানেল আই সহ অন্যান্য টিভি চ্যানেলও এক্ষেত্রে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে চলেছে। প্রসঙ্গক্রমে চ্যানেল আইকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানাতে হবে এই জন্য যে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে চ্যানেল আই নতুন নতুন তারকা তৈরি করছে। সত্যি কথা বলতে এখন যারা টিভি মাধ্যমে দাপটের সাথে কাজ করছে তাদের অনেকেই চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন রিয়েলিটি শো থেকে উঠে এসেছে। লাক্স সুন্দরীদের কথাই যদি বলি তারাও তো চ্যানেল আই এর মাধ্যমে মিডিয়ায় ফোকাস পেয়েছে। বর্তমান সময়ে আরও অনেক টিভি চ্যানেল নতুন নতুন তারকা তৈরির নানান উদ্যোগের সাথে জড়িত হয়েছে। তাদেরকেও আমি সাধুবাদ জানাই।
আনন্দ আলো: একথা তো স্বীকার করতেই হবে যে এটিএন বাংলার অনুপ্রেরণা কাজে লাগিয়েই আজকে দেশে বেসরকারী টিভি চ্যানেলের এত বিস্তার ঘটেছে। ভাবতে কেমন লাগে আপনার?
মাহফুজুর রহমান: (একটু ভেবে নিয়ে) হ্যা, গর্ব তো হয়ই। আমার যখন মুস্টিমেয় কিছু লোক নিয়ে একটা বেসরকারী টিভি চ্যানেল শুরু করি তখন তো অনেক সংকট ছিল। আমাদেরকে ঠকে ঠকে শিখতে হয়েছে। কারণ বেসরকারী টিভি চ্যানেল চালানোর মতো পূর্ব অভিজ্ঞতাতো আমাদের ছিল না। আমাদের পরে যারা এসেছে তাদের সামনে তো একটা দৃষ্টান্ত ছিল। এটিএন বাংলা তাদের কাছে কোনো না কোনো ভাবে প্রেরণা হিসেবে অবশ্যই কাজ করেছে। আমরা এটিএন বাংলা শুরু করলাম। পরবর্তিতে একুশে টেলিভিশন, চ্যানেল আই, এনটিভি এলো। তখনও কিন্তু আমরা ভালো শিল্পী, টেকনিশিয়ান, প্রডিউসার, ডিরেক্টরের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। কারণ রাতারাতিতো আর শিল্পী তৈরী করা যায় না। শুরুর দিকে অনেকেই পাশের দেশের টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানকে ইঙ্গিত করে বলতো আমরা সেই তুলনায় ভাল করতে পারছি না। আরে ভাই, ভালো করবো কি করে? আমরা তো শিল্পী তৈরির কাজেই ব্যস্ত ছিলাম। একজন শিল্পী তো আর রাতারাতি তৈরি হয় না। শিল্পী তৈরি হতে সময় লাগে।
আনন্দ আলো: এক্ষেত্রে এটিএন এর উদ্যোগে তারকা তৈরির একটি উদ্যোগের কথাতো বলতে হয়…
মাহফুজুর রহমান: আমরা ২০০৪ সালে গান, নাটক ও নাচের ক্ষেত্রে শিল্পী খুঁজে নেওয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর মাধ্যমেও বেশ কিছু শিল্পী খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে একথা সত্য, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দেশে যতগুলো টিভি চ্যানেল রয়েছে সেই তুলনায় যোগ্যতা সম্পন্ন ভালো শিল্পী তৈরি হয়নি। তার মানে কী শিল্পী নেই? আছে। অসংখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাবে। অথচ তারা সেই অর্থে তৈরি না। কাজ করতে দিলেই বোঝা যায় তারা অনেকে এখনও যোগ্য হয়ে উঠেনি। অনেকেই নিউজ পড়তে আসে। কিন্তু দেখা যায় তার বা তাদের কোনো পূর্ব প্রস্তুতিই নাই। নিউজ পড়তেও যে একটা যোগ্যতা লাগে সেটাতো ভাবতে হবে। সুন্দর চেহারাই তো নিউজ পড়ার আসল যোগ্যতা নয়….
আনন্দ আলো: তাহলে কি আপনার মনে হয় না শিল্পী, টেকনিশিয়ান তৈরির জন্য দেশে একটি ইন্সটিটিউটের প্রয়োজন আছে?
মাহফুজুর রহমান: আমার মতে, দেশে এই যে এত গুলো টিভি চ্যানেল… ভবিষ্যতে আরও হয়তো কিছু টিভি চ্যানেল আসবে… এতগুলো টিভি চ্যানেল চালানোর জন্য প্রকৃতপক্ষে যে পরিমান যোগ্যতা সম্পন্ন ভালো শিল্পী আমাদের দরকার তা নেই। একই মুখ দেখতে দেখতে দর্শক ক্লান্ত। ভালো শিল্পী তৈরির জন্য আমাদের দেশে সেই অর্থে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। পাশের দেশ ভারতে এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। যেখানে প্রতি বছরই যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবী শিল্পী বের হয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নাই। প্রসঙ্গক্রমে আমি একটি প্রস্তাব রাখতে চাই। দিনে দিনে আমাদের দেশে যে হারে টিভি চ্যানেল বাড়ছে সেই হারে যোগ্য লোক অর্থাৎ, শিল্পী, টেকশিয়ান তৈরি হচ্ছে না। এক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সরকারেরই এব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ ছিল। যেহেতু সেটা হয়নি। বেসরকারী পর্যায়েও দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট তৈরি হতে পারে। কয়েকটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল যৌথ ভাবেও এই মহৎ কাজটি হাতে নিতে পারে। আমরা যদি সম্মিলিত ভাবে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলে যোগ্য শিল্পী, কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ান তৈরির একটা পথ খুলে যাবে। সেখানে সব ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি যোগ্য প্রশিক্ষক অর্থাৎ শিক্ষককে থাকতে হবে। আমরা যেন এই প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক মানের ক্যামেরা ম্যান, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান এবং ডিরেক্টর, অভিনেতা-অভিনেত্রীকে খুঁজে নিতে পারি।
প্রসঙ্গক্রমে একটি মারাত্মক সংকটের কথা বলি। অনেকে হয়তো ক্ষুব্দ হবেন। কিন্তু যেটা সত্য তাকে তো আড়াল করা যাবে না। বর্তমান সময়ে আমাদের টিভি মিডিয়ায় অনেক পরিচালক, ক্যামেরামানের ওপর নির্ভর করে নাটক বানান। কারণ ক্যামেরার ওপর তাদের কোনো জ্ঞান নাই। ফলে কেউ কেউ শুটিং স্পটে এসে ক্যামেরাম্যানের ওপরই নির্ভর করেন। তার মানে এই নয় যে একজন ডিরেক্টরকে ক্যামেরার ওপরও দক্ষ হতে হবে। একজন ডিরেক্টরকে ক্যামেরায় দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নাই। কিন্তু ক্যামেরা সম্পর্কে তার তো কিছুটা হলেও জ্ঞান থাকা দরকার। এ ধরনের নানা সংকট নিয়েই আমরা হাঁটছি। তবে হ্যা, কথা দিচ্ছি সহযোগী টিভি চ্যানেলের বন্ধুরা আগ্রহী হলে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠায় এটিএন বাংলা এবং এটিএন নিউজ অবশ্যই অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করবে।
আনন্দ আলো: এবার একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে যেতে চাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে আমাদের প্রত্যেহিক জীবনে। অনেকে বলছেন টিভি চ্যানেল গুলোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে? আপনার কী মনে হয়?
মাহফুজুর রহমান: সত্যিকথা বলতে কী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিভি চ্যানেল গুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দর্শক এখন টিভি ছেড়ে দিয়ে এইসব মাধ্যমকে বেছে নিচ্ছে। আজকাল গানের নতুন সিডিও তেমন একটা বিক্রি হয় না। কারণ আপনার হাতে যদি একটা স্মার্ট ফোন থাকে তাহলেই তো গোটা পৃথিবীর আনন্দ-বিনোদন সাথে করে নিয়ে আপনি ঘুরতে পারবেন। নাটক দেখতে ইচ্ছে হলে নাটক দেখবেন। গান দেখতে ইচ্ছে হলে গান দেখবেন। সিনেমা দেখতে ইচ্ছে হলে সিনেমা দেখবেন। এছাড়া আরও কত কী যে দেখার সুযোগ আছে। সে কারণে অনেকে টেলিভিশনের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। আমার আশঙ্কা হচ্ছে সম্মানীত ক্যাবল অপারেটররা আমাদেরকে যেভাবে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন…. ভবিষ্যতে হয়তো তাদের হাতেও আর টেলিভিশন অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। আমরা বর্তমান সময়ে যারা ক্যাবল ও ডিশের মাধ্যমে টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখাচ্ছি তারা হয়তো এক সময় বাধ্য হবো পুরো টিভি চ্যানেলকে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করতে….
আনন্দ আলো: পে-চ্যানেলের একটা কথা উঠেছে। এক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য কী?
মাহফুজুর রহমান: হ্যা, পে-চ্যানেল এখন সময়েরই দাবী। এটা প্রতিটা টিভি চ্যানেলের জন্য খুবই জরুরি। বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেল সমূহে বিজ্ঞাপনের বাজার মোটামুটি ফিক্সড বলা চলে। হঠাৎ করে কোনো টিভি চ্যানেল এককোটির জায়গায় দুই কোটি টাকার বাজেট তৈরি করতে পারবে না। যে প্রতিষ্ঠান হয়তো বছরে এক কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দেয় সে প্রতিষ্ঠান হয়তো পরের বছর বড় জোর ২/৪ লাখ টাকার বাজেট বাড়াতে পারে। কিন্তু ধপ করে তো আরও ৫০ লাখ অথবা এক কোটি টাকার বাজেট দিতে পারবে না। আমাদের দেশে যে হারে টিভি চ্যানেল বাড়লো…. প্রথমে আমরা স্যাটেলাইটে ছিলাম দু’জন-এটিএন বাংলা ও চ্যানেল আই। ৪/৫ বছর পর এলো ইটিভি, এনটিভি… অনেকদিন পর্যন্ত আমরা ৫টা চ্যানেল ছিলাম। পরবর্তিতে চ্যানেল দাঁড়াল ১৩টা। বর্তমানে দেশে বেসরকারী টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৩২। চ্যানেল বেড়েছে। কিন্তু বাজেট তো বাড়েনি। চিন্তা করে দেখুন একটা বাড়িতে ৫ জন মেহমানের জন্য খাবার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে যদি হঠাৎ করেই বাড়তি আরও ১০ জন মেহমান এসে পড়ে তাহলে তো ৫ জনের খাবার ১৫ জনকেই ভাগ করে খেতে হবে। কাজেই খাবারে তো টান পড়বেই। সবাই মিলে সামান্য খাবারই ভাগ করে খেতে হবে। দেশে টিভি চ্যানেল গুলোর ক্ষেত্রেও এই উদাহরণ প্রযোজ্য। প্রসঙ্গক্রমে একটি জরুরি কথা বলি। এক সময় আমরা যখন ৫/৬ জন ছিলাম তখন বিজ্ঞাপন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। আমরাই তাদেরকে ডমিনেট করতাম। ফলে তখন অনুষ্ঠানের মান অনেক উন্নত ছিল। এমনও সময় গেছে নিউজের মাঝখানে এক মিনিট বিজ্ঞাপনের জন্য ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছি আমরা। আর এখন ১০ হাজার টাকাও পাওয়া যায় না। কাজেই বুঝতে পারছেন টিভি চ্যানেল গুলোর কী অবস্থা। কাজেই প্রতিটা টিভি চ্যানেলকে বাঁচতে হলে অবশ্যই পে-চ্যানেলে যেতে হবে।

আনন্দ আলো: আপনাদের তো একটি সংগঠন আছে। সংগঠনটির এ ব্যাপারে ভাবনা কী?
মাহফুজুর রহমান: হ্যা, আমাদের টিভি চ্যানেল গুলোর সংগঠন অ্যাটকো এব্যাপারে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে… ধরুন সরকার ক্যাবল অপারেটরদেরকে ফোর্স করলো যে তোমরা পে-চ্যানেলে যাও। কিন্তু এখানে গ্যারান্টিটা কে দিবে যে ক্যাবল অপারেটরা গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেটা সঠিক ভাবে টিভি চ্যানেল সমূহকে বুঝিয়ে দিবে? এর কোনো গ্যারান্টি নাই। যদি তারা দেও তাহলে হয়তো দেখা যাবে ১ লাখ গ্রাহক আছে। অপারেটর হয়তো বলবে আমার গ্রাহক ৫ হাজার। আপনি ৫ হাজার গ্রাহকের টাকা নেন। প্রকৃতপক্ষে আসল তথ্য তো জানার উপায় নেই। আমরা জানি এখন বাংলাদেশে এমন কোনো বাড়ি নাই যেখানে ক্যাবল নেটওয়ার্ক ছাড়াই টিভি অনুষ্ঠান দেখা হয়। যার টিভি আছে সেই কেবল টিভির সাথে যুক্ত। আমাদের দেশে এখন দশ কোটিরও ওপরে কেবল টিভির গ্রাহক আছে। কিন্তু কেবল অপারেটররা তো এক্ষেত্রে সত্যি কথা বলবে না। কাজেই এই ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততার পরিবেশটা আগে তৈরি করা জরুরি। আমরা পে-চ্যানেলে গেলাম কিন্তু শুভঙ্করের ফাঁকির মধ্যে পড়ে পয়সা পেলাম না। তখন পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে? ইউরোপ আমেরিকায় ডিশের মাধ্যমে আমাদের এটিএন বাংলা দেখা যায়। ওখানে পে-চ্যানেলের সিস্টেমটাই এমন ভাবে করা আছে যে প্রতি মাসে আমাদের এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান কতজন লোক দেখেছে তা ধরা পড়বেই। এক্ষেত্রে লুকোচুরির কোনো সুযোগ নাই। বরং লুকোচুরি করতে গেলেই ধরা খাবে।
আনন্দ আলো: পে-চ্যানেলের ক্ষেত্রে বিদেশের এই নিয়ম কি আমাদের দেশে কার্যকর করা যায় না?
মাহফুজুর রহমান: যায়। তার আগে প্রয়োজন সততা। তাছাড়া আমাদের এখানে এমন কোনো আইন তৈরি হয়নি যাতে করে পে-চ্যানেলের সততা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। আমাদের দেশে আইন যেমন আছে আইনের ফাঁক-ফোঁকারও আছে… তবে হ্যা, আমাদের বর্তমান তথ্যমন্ত্রীকে আমি সাধুবাদ জানাই। তিনি দায়িত্ব নেবার পর আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। যে সমস্যা গুলো এতদিন জিইয়ে ছিল। টিভি চ্যানেল গুলোর সিরিয়াল নম্বর নিয়ে কথা হচ্ছিলো। ক্যাবল অপারেটররা ইচ্ছা মাফিক দেশীয় টিভি চ্যানেল গুলোর সিরিয়াল দিয়ে রাখতো। যে পয়সা দিতে তার চ্যানেলটা আগে দিয়ে রাখতো। আমাদেরকে ফেলে রাখতো বহুদুরে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারে একটা সুরেহা করেছেন। টিভি চ্যানেল গুলোর সিরিয়াল ঠিক করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গক্রমে আমি একটা কথা বলি। আমাদের টেলিভিশন চ্যানেল গুলোকে একটি সঠিক নীতিমাল মেনে চলা জরুরি। সরকার আমাকে টিভি চ্যানেল পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছে। তার মানে আমি যা খুশি তাই আমার টেলিভিশন চ্যানেলে কি প্রচার করতে পারি? একটি ফলস নিউজই দেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতির কারণ হতে পারে। একটি নিউজের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানেরও ক্ষতি হতেপারে। এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে একটি নীতিমালা হওয়া জরুরি। তারমানে এই নয় যে টিভিতে কি যাবে কি যাবে না তারজন্য আমার হাত-পা বেধে রাখা হবে। আমাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আমরা অবশ্যই স্বাধীনতা ভোগ করবো। তবুও তো একটা গাইড লাইনের ম্যাধমেই তো আমাদেরকে চলতে হবে। যেমন ধরেন কোনো জায়গায় হয়তো ভাঙ্গচ‚রের ঘটনা ঘটছে। আমরা অনেকেই করি কি কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার শুরু করি। যা ঘটবে তা প্রচারের অধিকার আমরা ভোগ করবো। তবে সেটা যেন দেশের জন্য ক্ষতিকর না হয়ে ওঠে। আমরা টিভি পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পেয়েছি মানেই এই নয় যে যা খুশি তাই দেখাব। কথায় কথায় ‘লাইভ’ দেখানোর প্রবণতা ঠিক নয়। আমাদের কাছে তো দেশটা বড়। দেশেই যদি না থাকে তাহলে টিভি চ্যানেল দিয়ে কি করব? একটা বিষয় খেয়াল করলেই দেখবেন দেশে কিন্তু এখন আর জ্বালাও পোড়াও হরতাল নাই। মানুষ সব কিছু ভুলে গেছে। মানুষ এখন অনেক শান্তিতে বসবাস করছে। এক্ষেত্রে টেলিভিশন মাধ্যম সহ প্রচার মাধ্যমের একটি পজিটিভি ভ‚মিকা আছে। দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে অতীতের মতোই টিভি চ্যানেল গুলোর উচিৎ আরও বেশি কার্যকর ভ‚মিকা রাখা।
আনন্দ আলো: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে যেতে চাই। বলতে গেলে আপনি তথ্য, যোগাযোগ ও বিনোদন সা¤্রাজ্যের নেতৃত্বে আছেন। আপনার নিজের বিনোদন কি?
মাহফুজুর রহমান: এইটা একটা খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। যেমন আমি খুব ভালো গল্প লিখতে পারি। আমার লেখা গল্পে ইতিমধ্যে কয়েকটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে হিট সিনেমা হলÑ ভালোবাসি তোমাকে…. ‘অনেক সাধনার পরে পেলাম তোমার মন’ ওই গানটি বেশ হিট করেছে। ‘পরে না চোখের পলক’ সিনেমার কাহিনী আমি এবং প্রয়াত মুহম্মদ হান্নান যৌথভাবে লিখেছিলাম। আমার লেখা একটি বড় টিভি সিরিয়াল চলেছে এটিএন বাংলায়। ৫০০ পর্বেরও বেশি এই সিরিয়ালটির নাম ছিল ঘরজামাই। পরিচালক ছিলেন চান্দা মাহজাবীন। বর্তমানে আমি একটা নতুন টিভি সিরিয়াল লিখছি। আমার লেখা ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’ গ্রন্থ থেকে কাহিনীটা নেওয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’ বইটি প্রকাশের ৩দিনের মধ্যেই প্রথম সংস্করণ বিক্রি হয়ে যায়। স্মৃতির আল্পনা আকি’র কাহিনী নিয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী টিভি সিরিয়াল নির্মাণ করছি আমরা। আগামী বছরের শুরুতে এটিএন বাংলায় এর প্রচার শুরু হবে।
আসলে ছোটবেলা থেকেই মূলত আমার মাঝে গল্প লেখার প্রবণতা দেখা দেয়। স্কুলে পড়াকালীন বাংলা ক্লাশে সপ্তাহে একদিন নিজের বানানো গল্প বলতে হতো। আমাদের পন্ডিত স্যার এই ধারা চালু করেছিলেন। সহপাঠিদের অনেকেই গল্প বানাতে পারতো না। তবে আমি প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প বলে পন্ডিত স্যারকে খুশি করার চেষ্টা করতাম। এই ভাবে গল্প লেখার অভ্যাস শুরু হয়। ছোট ছিলাম বলে রূপকথার গল্প বানিয়ে বলতাম। বর্তমান সময়ে আমার গল্পের পাত্র-পাত্রী কিন্তু আমার চারপাশেরই কোনো না কোনো মানুষ। আপনিও হয়তো একদিন আমার লেখা কোনো গল্পের চরিত্র হয়ে যেতে পারেন।
আনন্দ আলো: আপনার এই যে বর্নাঢ্য জীবন, এনিয়েও তো একটা বড় উপন্যাস হতে পারে? লিখছেন না কেন?
মাহফুজুর রহমান: লেখছি না মূলত সময়ের অভাবে। আমরা যারা ব্যস্ত মানুষ তাদের পক্ষে লেখালেখির জন্য সময় বের করাই মুশকিল। একটা তথ্য দেই আপনাকে। ছোটবেলা থেকেই আমি গানের প্রতি বেশ অনুরক্ত ছিলাম। গানের প্রতি খুবই দুর্বল ছিলাম। আমার বাবারও গানের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। আমার বাবা এক সময় মশলার ব্যবসা করতেন। গোল মরিচ, এলাচি সহ বিভিন্ন ধরনের মশলা কলকাতা থেকে বিক্রির জন্য আনতেন। এজন্য প্রায় প্রতিমাসেই তাকে কলকাতায় যেতে হতো। বাবা যেহেতু গান পছন্দ করতেন তাই প্রতিমাসে কলকাতা থেকে মশলার পাশাপাশি নতুন গানের লং প্লে কিনে নিয়ে আসতেন। আর নিয়ে আসতেন জনপ্রিয় কবি লেখকের নতুন বইয়ের বস্তা। মহান ৭১ সালে আমাদের বাড়ি মিলেটারীরা পুড়ে দিয়েছিল। আমি সেদিন কেঁদেছি দু’টা জিনিসের জন্য। এক হলো বই, দুই- গানের লং প্লে।
আমি তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র। ক্লাশের বই পড়ার চেয়ে গল্প উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রেই ব্যাপক ঝোক দেখা দেয়। রাত জেগে গল্প উপন্যাস পড়েছি। বাবা-মা মনে করতেন ছেলে স্কুলের পড়াশুনায় ব্যস্ত। কিন্তু আমি ব্যস্ত ছিলাম গল্প উপন্যাস পড়ায়। বিমল মিত্রের ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ উপন্যাসটি আমার অনেক প্রিয় উপন্যাস। রাত জেগে কমপক্ষে ৭ বার উপন্যাসটি পড়েছি আমি। এখনও উপন্যাসটির বিশেষ বিশেষ অংশ হুবহু মুখস্ত বলতে পারব। বই পড়ার পাশাপাশি গানের প্রতিও আমার প্রচন্ড ঝোক দেখা দেয়। সেটা আমি এখনও ধরে রেখেছি। আমার কাছে অভিনয় সহ সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় প্রতিভা বিকাশের সহযোগিতা চাইতে অনেকেই আসে। এমনও হয়েছে অভিনয়ের চেয়ে ছেলে অথবা মেয়েটি ভাল গান গাইতে পারবে বুঝতে পেরে গানের চর্চা করতেই পরামর্শ দিয়েছি। এরকম দুইজন শিল্পী গানের জগতে প্রায় প্রতিষ্ঠিত এখন। ওরা অভিনয় করতে এসেছিল। কিন্তু তাদেরকে বলেছি অভিনয় বাদ দিয়ে গান কর। জীবনে উন্নতি করতে পারবে। ওরা আমার কথা শুনেছে। দু’জনেরই গানের একাধিক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। অথচ ওরা হয়তো কখনও ভাবেওনি যে ভবিষ্যতে গানের শিল্পী হবে।
গানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারে ইভা রহমান। অনেক কম সময়েই সে গানে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইভার গানের দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশ হওয়ার পরই গোটা দেশের মানুষের কাছে সে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বোধকরি অনেকেই একটা তথ্য জানেনা যে আমাদের এটিএন মিউজিক থেকে ইভা রহমানের ২৪টা গানের যে অ্যালবাম বেরিয়েছে তা ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। পৃথিবীতে রিকি মার্টিনের গানের মিউজিক ভিডিও আছে ২১টা। সেখানে ইভা রহমানের রয়েছে ২৪টা। তার মানেই মিউজিক ভিডিওর ক্ষেত্রে ইভাই পৃথিবীতে এখন প্রথম স্থানে আছে। এজন্য আমরা গ্রিনিস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাপ্লাই করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিভিন্ন শিল্পীর গানের সিডি বা ক্যাসেট হয়তো হাজার-হাজার আছে। লতা মুংকেশ করের আছে, কিশোর কুমারের আছে। আমাদের বাংলাদেশের মমতাজের আছে… কিন্তু ইভার মতো এতো ভিডিও অ্যালবাম কারও নাই।
গানের প্রতি দুর্বলতা থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম নিয়মিত গান গাইব। গানের গলাও কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত। খালি গলা থাকলে হবে না। তাল লয়, সুর সম্পর্কেও জ্ঞান থাকতে হবে। আমি এব্যাপারে খুবই সচেতন। আমি একটি কাজ খুব ভালো পারি। তাহলো ডলবি সাউন্ডের সফটওয়্যার ছাড়াই ম্যানুয়ালি আমি ৭ স্পীকারের ডলবি সাউন্ড করতে পারি। সিঙ্গাপুর থেকে এটা শিখে এসেছি। আমাদের এটিএন মিউজিকের গানের অধিকাংশ মিউজিক ভিডিওর ফাইনাল এডিটিংটাও আমি নিজে করি। আমার গানের সব মিউজিক ভিডিওর ফাইনাল এডিটিং আমার করা।
আনন্দ আলো: শেষ প্রশ্ন আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মাহফুজুর রহমান: ভবিষ্যৎ স্বপ্ন…. সৃষ্টিকর্তার কাছে যা চেয়েছি বলতে গেলে সবই পেয়েছি। মিডিয়ায় একটা কিছু করার ইচ্ছে ছিল তাও সম্ভব হয়েছে। এর চেয়ে বেশি আর কি-ই বা করার আছে। ছোটবেলা থেকেই আমার ভাবনা ছিল আমি যেন দেশের জন্য কিছু একটা করতে পারি। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যেন আরও অবদান রাখতে পারি, এটাই আমার স্বপ্ন। এটাই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা….
সবাই দেশকে ভালোবেসে ভালো থাকবেন।