Home সাক্ষাৎকার রেনু হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি-নুসরাত ইমরোজ তিশা

রেনু হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি-নুসরাত ইমরোজ তিশা

SHARE

মুম্বাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমার শুটিং করে সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছিলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিন দিন পর শুটিংয়ের জন্য আবার মুম্বাই যেতে হয়েছে তাঁকে। যাবার আগে কিছু কথা বলেছেন। তারই চুম্বক অংশ আনন্দ আলোর পাঠকদের জন্য
প্রশ্ন: এবার কি টানা শুটিং করবেন, নাকি যাওয়া-আসার মধ্যে থাকবেন?
তিশা: আমি আসলে জানি না। করোনার এই সময়ে দেশের বাইরে যাওয়ার আগে কোভিড টেস্ট করা, তারপর উড়াল দেওয়া, খুবই কষ্ট হবে, সময়ও লাগে। এ ছাড়া ঢাকা টু মুম্বাই ফ্লেক্সিবল ফ্লাইট নেই, ট্রানজিট হয়ে যেতে হয়। সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে এবার শুটিং শেষ করেই ফিরতে হবে।
প্রশ্ন: ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিতে আপনি কার ভূমিকায় অভিন করছেন?
তিশা: আমি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী রেণুর (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) চরিত্রে অভিনয় করছি। এই চরিত্রের ২০ বছর বয়স থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত আমাকে দেখা যাবে।
প্রশ্ন: অভিনয়শিল্পীদের সবাই বলছেন, ইতিহাসের অংশ হতে পারছেন। আপনিও কি তাই মনে করছেন? এ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে কেমন লাগছে?
তিশা: একদমই তাই, এই ছবিতে কাজ করা ইতিহাসের অংশ হওয়াই। কিছু কিছু অনুভূতি সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। আমি মনে করি, বড় সুযোগগুলোর সঙ্গে থাকে বড় রকমের দায়িত্ব। এটা অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস যাঁর মাধ্যমে রচিত হয়েছে, যাঁর কথা সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, এখন ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে সেই পরিবারের অংশ হতে পারছি, এটা তো নিঃসন্দেহে অভিনয়শিল্পী হিসেবে ভীষণ ভালো লাগার। দেশের বাইরের একটি ইউনিটের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থাকে, সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি যেন ঠিকঠাকমতো কাজটা করে আসতে পারি এবং সুন্দরভাবে দর্শকের কাছে উপস্থাপিত হতে পারি, সেই দোয়া চাই।
প্রশ্ন: অভিনয়শিল্পীদের অনেকে ইতিহাসনির্ভর কাজে চ্যালেঞ্জটা অন্য সব চরিত্রের চেয়ে অনেক বেশি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী করছেন?
তিশা: চ্যালেঞ্জ তো প্রতিটি চরিত্রে থাকে। নাটক, সিনেমায় যখন কোনো চরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়, পরিচালকের নির্দেশনামতো আমি আমার মতো করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। ইতিহাসনির্ভর কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, যে মানুষটা সম্পর্কে দেশ-বিদেশের সবাই খুব ভালোভাবে জানেন, দেখে এসেছেন, সেই মানুষের মতো করে নিজেকে উপস্থাপন করা সত্যিই কষ্টসাধ্য। শতভাগ চেষ্টা করছি। জানি না কতটা পারব। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এখানে মানুষের আবেগ যেমন জড়িত, তেমনি ইতিহাসও।
প্রশ্ন: সিনেমার রেণু হয়ে ওঠার পেছনে আপনার কাছে রেফারেন্স হিসেবে কী ছিল?
তিশা: সেই অর্থে আমার কাছে কোনো রেফারেন্স ছিল না। বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে যিনি অভিনয় করছেন, তাঁর সুবিধা হচ্ছে মানুষটার ভাষণ থেকে শুরু করে অনেক কিছু সংরক্ষিত আছে। তিনি আমাদের দেশের সম্মুখভাগের নায়ক। আর রেণু চরিত্রটা পেছনের হিরো। তিনি পেছনে থেকে বঙ্গবন্ধুকে সাপোর্ট করে গেছেন। কখনো মানুষটা সামনে আসেননি। তাই এ ধরনের মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তোলাটা কঠিন। প্রস্তুতির কথা যদি বলতেই হয়, প্রথমবার মুম্বাইয়ে শুটিংয়ে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের একটা লম্বা সেশন ছিল। সেখানেই তাঁর মায়ের চরিত্র সম্পর্কে ৯০ ভাগ ধারণা পাই। তাঁর মুখ থেকে শুনেই আমার চরিত্রটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি নিখুঁতভাবে এত বিস্তারিত বলেছেন, ওটাই আমাকে চরিত্রটির উপস্থাপনে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। বই পড়ে অনেক ইতিহাস হয়তো জেনেছি, কিন্তু ভেতরের মানুষটাকে জানার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন।
প্রশ্ন: আপনার বর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও দেশের একজন গুণী পরিচালক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর একটা সুনাম আছে। চরিত্রটির জন্য আপনাকে যখন নির্বাচিত করা হয়, স্বামী ও নির্মাতা হিসেবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আপনাকে কতটা সহযোগিতা করেছেন। কোনো টিপস দিয়েছেন কী? নাকি তিনি কোনো কিছুই বলেননি?
তিশা: সরয়ার যখন শুনেছে আমি রেণু চরিত্রটি করছি, আমার যেমন খুশি হয়েছে একইভাবে সেও অনেক খুশি হয়েছে। আমার অর্জন তার অর্জন, তার অর্জনও আমার। কারণ, আমরা একই মানুষ। স্বামী, বন্ধু, পরিচালক হিসেবে সরয়ার যখন আমার কোনো সফলতা দেখে এবং আমি যখন ওর সফলতা দেখি, দুজনেই খুব খুশি হই। রেণু চরিত্রে চূড়ান্ত হওয়ার পর সরয়ার আমাকে অনেকগুলো বই সাজেস্ট করেছে, পড়তে সাহায্য করেছে। চরিত্রের গভীরে ঢোকার নানান টিপস দিয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে তার কাছ থেকে নানা কিছু জানতে আমাদের প্রশ্ন কেমন ও কী ধরনের হওয়া উচিত, সে ব্যাপারেও সহযোগিতা করেছে। আমি তার কাছ থেকে, আমার মায়ের কাছ থেকে, এমনকি শ্বশুরের কাছ থেকে যেভাবে সহযোগিতা ও মানসিক সাপোর্ট পাচ্ছি, এটা অভিভূত হওয়ার মতো।
প্রশ্ন: ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শুটিংয়ে আপনারা দেশের বাইরের পরিচালকের পাশাপাশি সেখানকার ইউনিটের সঙ্গে কাজ করেছেন। মুম্বাইয়ের ইউনিটের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
তিশা: প্রথমবার গিয়ে আমি মাত্র তিন দিন শুটিং করেছি। অভিজ্ঞতা অন্য রকম। একেক দেশের একেক রকম নিয়ম, কিন্তু সবার লক্ষ্য একটাই, আমরা একটা সিনেমার শুটিং করছি, উইথ আওয়ার ইমোশন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া যেখানেই বলি না কেন, আমরা কিন্তু একটা ফিকশনের শুটিং করছি। পেশাদারত্ব বজায় রেখে আমরা কাজটা করছি এবং সবাই একটা ভালো কাজ উপহার দিতে চাইছি। বাংলাদেশে যখন আমরা কোনো সিনেমার শুটিং করি, সেটার অভিজ্ঞতা থাকে এক রকম। আমরা যখন বাইরে বড় পরিসরে, বিশাল বাজেটে, বড় পরিধিতে শুটিং করি, সেটার অভিজ্ঞতা অন্য রকম। ওটা আমাদের জন্য নতুন এবং শিক্ষণীয়। দেখা গেল, একই দৃশ্যে বাংলাদেশে শুটিং করলে এক রকম, ভারতে করলে আরেক রকম এবং আমেরিকায় করলে আরেক রকম হবে। তাই বলব, নতুন কিছু শিখছি।