Home সাক্ষাৎকার রেখা একটি মায়াময় নাটক!

রেখা একটি মায়াময় নাটক!

SHARE

আফজাল হোসেন
আগেই বলেছি প্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন বর্তমান সময়ে এতটাই কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন যে তার ‘সময়’ পাওয়াই মুশকিল। চ্যানেল আইতেই দেখা হলো। ধানমন্ডিতে তাঁর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টকিজে চলছিলো ছোটকাকু সিরিজের এডিটিং। সেখানেই যাবেন। সিদ্ধান্ত হলো গাড়িতে তেজগাঁও থেকে ধানমন্ডিতে যেতে যেতেই কথা হবে। নতুন ধারাবাহিক ‘রেখা’ নিয়ে কথা বলবেন। আফজাল হোসেনের সাথে গাড়িতে উঠে বসলাম। চালকের আসনে বসলেন খন্দকার আলমগীর। তিনিই ‘রেখা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। গাড়িতে আমরা ছুটে চলছি ধানমন্ডির দিকে। গাড়িতে বসেই কথা শুরু হলো আফজাল হোসেনের সাথে।
আনন্দ আলো: রেখা নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। যতটুকু জেনেছি এই নাটকটি নিয়ে আপনি অনেক উৎফুল্ল। কেন?
আফজাল হোসেন: হ্যা… সত্যি কথা বলতে কী রেখাতে অভিনয় করে আমি অনেক তৃপ্তি পেয়েছি। এর নানাবিধ কারণ আছে। নাটকের গল্পটি অসাধারন। একেবারেই পারিবারিক গল্প। স্বামী-স্ত্রীর প্রেমের গল্প। মিডলক্লাশ ফ্যামিলি। স্বামী-স্ত্রীর স্বপ্ন দু’জনে মিলে দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে যাবে। কিন্তু পারিবারিক নানা কারণে বিদেশ যাওয়া হয় না। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক নানা দ্ব›দ্ব খেলা করে। তাই বলে কেউ কাউকে ছোট করে দেখে না। নাটকটিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক মায়া আর শ্রদ্ধার জায়গাটি গভীর ভাবে ফুটে উঠেছে। আর তাই অভিনয় করতে গিয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছি। রেখা একটি মায়াময় নাটক। আমার স্ত্রীর ভ‚মিকায় অভিনয় করেছে অপি। অনবদ্য অভিনয় করেছে।
আনন্দ আলো: নাটকের কাহিনীটা কি একটু বলা যায়?
আফজাল হোসেন: মধ্যবিত্ত পরিবার। তাদের একটি প্রেস আছে। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে অসম্ভব রকমের শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে। স্ত্রীর খুব শখ সে স্বামীকে সাথে নিয়ে একবার বিদেশে ঘুরতে যাবে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতা সহ নানা কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েও তাদের বিদেশে যাওয়া হয়ে ওঠে না। তবে নাটকের গল্পে স্বামী-স্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত বিদেশে দেখা যায়। এটাই নাটকের মূল আকর্ষণ। একটি বোধের জায়গা তৈরি করে বিদেশের পর্বটি। আমার ধারনা এই নাটক দেখে অনেক দম্পতিই বাস্তবে নিজেদেরকে নতুন ভাবে আবিস্কার করবেন। নিজেদেরকে নতুন করে ভালোবাসতে চাইবেন।
আনন্দ আলো: রেখা নামের এই ধারাবাহিকের উল্লেখযোগ্য অংশের শুটিং হয়েছে নেপালে। এব্যাপারে কিছু বলুন।
আফজাল হোসেন: প্রথমেই বলে রাখা ভালো গল্পের প্রয়োজনেই নাটকটির শুটিং নেপালে করতে হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নাটকের প্রযোজক বন্ধু খন্দকার আলমগীরকে ধন্যবাদ জানাতেই হচ্ছে। কারণ তিনি বিদেশে শুটিং করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছিলেন। যার ফলে কাজটি করা সহজ হয়েছে। তাছাড়া বিদেশে শুটিং করার একটা সুবিধা আছে। সবাইকে এক সাথে পাওয়া যায়। কলটাইমের ঝামেলা পোহাতে হয় না। দিনের শুটিং শেষে রাতে খাবার টেবিলে, আড্ডায় সবাইকে নিয়ে পরের দিনের পরিকল্পনা সাজানো সহজ হয়। নেপালের কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে আমরা ছিলাম। হোটেল কর্তৃপক্ষ এতটাই আন্তরিক ছিল যে হোটেলের সব কিছুই আমাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। অর্থাৎ হোটেলের যেখানে খুশি সেখানেই শুটিং করার সহযোগিতা দিয়েছিল হোটেল কর্তৃপক্ষ। ফলে কাজটি করতে আমাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। প্রসঙ্গক্রমে একজনের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা দরকার। তিনি হলেন বাংলাদেশের চিত্র শিল্পী নারগিস সোমা। নেপালের পথ ঘাট, মানুষ জন সম্পর্কে তার অনেক জানাশোনা আছে। ফলে শুটিং করার সময় আমরা তার অনেক সহযোগিতা পেয়েছি।
আনন্দ আলো: দেশের টেলিভিশন নাটকের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
আফজাল হোসেন: আমি আগের মতো সারা বছর জুড়ে অভিনয় করি না। কাজেই সার্বিক চিত্র তুলে ধরা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে খোঁজ খবর রাখি। দেখতে দেখতে আমাদের টিভি মিডিয়ার ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। অনেক টিভি চ্যানেল। অনেক অভিনেতা, অভিনেত্রী। অনেক নির্মাতাও রয়েছে। সবই আনন্দের খবর। কিন্তু একটা ইন্ডাস্ট্রিকে টিকিয়ে রাখতে হলে যার যার অবস্থানে থেকে নিজেকে, নিজেদেরকে যোগ্য করে তোলাটা জরুরি। এটাই সময়ের দাবী। আমরা যেন সময়ের দাবীকে উপেক্ষা না করি।
আনন্দ আলো: ছোটকাকুর খবর কী? বড় পর্দার জন্য বড় খবরের কথা শোনা গিয়েছিল…
আফজাল হোসেন: ছোটকাকু আগে ছিল শুধুমাত্র উপন্যাস। উপন্যাস থেকে চলে এসেছে টিভি নাটকে। তার মানে একটা পরিবর্তন ঘটেছে। আগে উপন্যাসের ছোটকাকুকে চিনতো পাঠক। এখন উপন্যাসের পাশাপাশি টিভি নাটকেও চিনছে ছোটকাকুকে। তার মানে উপন্যাস এবং টিভি নাটক দুই জায়গাতেই ছোটকাকু আইডলে পরিণত হয়েছে। আর তাই চলচ্চিত্রে যাওয়ার আগে আমাদেরকে অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে। দুই বছর ধরে আমরা এব্যাপারে কাজ করে চলেছি। আশাকরি ছোটকাকুকে নিয়ে বড় পর্দায় ছবি নির্মাণের ব্যাপারে অচিরেই ঘোষনা দেওয়া সম্ভব হবে।