SHARE

রাশেদ হাসান চৌধুরী একজন মেধাবী স্থপতি। রাশেদ নামেই তিনি বন্ধু মহলে পরিচিত। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বিষয়ে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। পাস করে বের হওয়ার পরপরই তিনি রিসার্চ আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দেন বুয়েটের গ্রীণ আর্কিটেকচার সেল এ। ২০১৪ সালে নিজে গড়ে তোলেন ‘দেহ্সার ওয়ার্কস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার ডিজাইন করেছেন। বিভিন্ন ডিজাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক
আধুনিক স্থাপত্যশিল্পে সৃষ্টিশীল কাজ করে চলেছেন রাশেদ হাসান চৌধুরী। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। তবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বাবার নাম এটিএম সালেহ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি একজন কৃষিবিদ ছিলেন। মা নূর জাহান চৌধুরী গৃহিনী। তিন ভাই বোনের মধ্যে রাশেদ সবার ছোট। বড় ভাই রাজিব হাসান চৌধুরী। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট। বোন নায়ার সুলতানা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ছবি আঁকাআঁকি, কেিমক্সর বই পড়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। কলেজে পড়ার সময় থেকেই রাশেদের ইচ্ছা জাগে স্থপতি হওয়ার। তার এতদিনের সাধনা ও প্রচেষ্টার ফসল আজকের দেহ্সার ওয়ার্কস। স্থপতি হওয়ার পেছনে আর্কিটেক্ট বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণা তার কাজে সাহস যুগিয়েছে সব সময়। খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ২০০০ সালে। ২০০২ সালে বিজ্ঞান কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর স্থাপত্য বিভাগে। রাশেদ হাসান চৌধুরী ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন ২০০৯ সালে। পাস করে বের হওয়অর পরপরই তিনি যোগ দেন বুয়েটের গ্রীন আর্কিটেকচার সেল এ রিসার্চ আর্কিটেক্ট হিসেবে।
সেখানে বছর খানেক কাজ করার পর লেকচারার হিসেবে যোগ দেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে পাঁচ বছর শিক্ষকতা করার পর ২০১৪ সালে নিজে গড়ে তোলেন ‘দেহ্সার ওয়ার্কস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ধানমন্ডিতে খুব সুন্দর একটি অফিস সাজিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে রাশেদ হাসান চৌধুরী দেশের নামকরা কর্পোরেট বিল্ডিং, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, শোরুম, অফিস বিল্ডিং সহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÑ উত্তরার অজ রেস্টুরেন্ট, ভাটারায় ব্লু কমিনিকেশনস এর হেড অফিস, টঙ্গীতে বেক্সিমকো লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে ডি ডাব্লিউ এম ফোর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রামীন টেলিকম ট্রাস্ট ভবন, জুরাইনের কবর স্থান, গাজীপুরে এপিলিয়ন গ্রুপের জামে মসজিদ, কেরানীগঞ্জে কবি সিরাজুল ইসলামের বই বাগান, আমার ঢাকা মিরপুর স্ট্রিট ডিজাইন, তেজগাঁও গুলশান লিংক রোডে আবুল খায়ের গ্রুপের আর্টিস্ট্রি শো রুম সহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন করেছেন। এছাড়া বর্তমানে বেশ কয়েকটি নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন তিনি।

রাশেদ হাসান চৌধুরী তার সব ধরনের কাজ স্থাপত্যনীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন। স্থাপনার কাজে দেহ্সার ওয়ার্কস এর রাশেদের রয়েছে অসম্ভব সাফল্য। প্রতিযোগিতা মূলক কাজে অংশ নিয়ে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। যার ফল শ্রুতিতে তার সাফল্যের ঝুড়িতে জমা হয়েছে সেরা কর্মের স্বীকৃতি।
অ্যাওয়ার্ড গুলো হচ্ছেÑ ২৮ তম জেকে আর্কিটেক্ট অব দ্যা ইয়ার ইয়ং আর্কিটেক্ট অ্যাওয়ার্ড (বিদেশী আর্কিটেক্ট বিভাগ), কমেন্ডেশন উইনার আইডিসিওএল ন্যাশনাল ডিজাইন কম্পিটিশন, বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন আর্কিটেকচার, ডিএসসিসি স্ট্রীটস্কেপ ন্যাশনাল কম্পিটিশনে প্রথম পুরস্কার, তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী ন্যাশনাল কম্পিটিশন কো-অর্ডিনেটেড কমপ্লেক্স অফ ন্যাশনাল মিউজিয়াম অ্যান্ড পাবলিক লাইব্রেরী, ইন্সপিরেশন অ্যাওয়ার্ড উইনার, কনকারার আইডেন্টিটি ডিজাইন কন্টেস্ট।
স্থপতি রাশেদ হাসান চৌধুরী বলেন, আমরা অত্যন্ত তরুণ একটি ফার্ম। আমরা মনে করি সমসাময়িক বৈশ্বিক ভাবনা এবং প্রযুক্তির সাথে নিজেদের হালনাগাদ রাখাটা জরুরি। সেই সাথে প্রাচীন জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে কীভাবে চিন্তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রাখা যায় সেটারও খেয়াল রাখা প্রয়োজন মনে করি। প্রচলিত ভাবে যা হয়ে আসছে সেই ধারনার বাইরে এবং প্রাসঙ্গিক কোনো উপায় খোঁজার প্রয়াস থাকে।
কাজের ধরন কিংবা বৈশিষ্ট্য নিয়ে কথা বলতে গেলে যে কোনো কাজকে আমরা মূলত একটা দল হিসেবে অনুসন্ধিৎসু মনোভাবনা নিয়ে দেখার চেষ্টা করি। প্রথম সেটার অসুবিধা গুলো চিহ্নিত করে তার প্রেক্ষিতে সম্ভাবনার দিক গুলো বের করি যেন এখান থেকে নতুন একটা সমাধান বেরিয়ে আসে।
স্থাপত্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থপতি রাশেদ হাসান চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা বলতে গেলে আমাদের দুটো মূল ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে কাজ করলেও আমরা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের অন্য স্থাপত্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বিশ্বমানের সেবা প্রদানের চেষ্টা করছি। নির্মাণ শিল্প প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার কিংবা পেশাদার সেবা প্রদান অর্থাৎ আমাদের কাজের সকল ক্ষেত্রে এই মান অর্জনই আমাদের লক্ষ্য।
দ্বিতীয়ত, ব্যবহারিক দিক দিয়ে আমাদের স্থাপত্যে কিছু নির্দিষ্ট ভাগ আছে। যেমন আবাসিক, বানিজ্যিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। এ গুলোর বাইরেও সমাজে আরো বিভিন্ন ধরনের বসবাসযোগ্য স্পেস তৈরি করার চাহিদা ও সুযোগ রয়েছে। সেই সব চাহিদা গুলোর সম্ভাব্য আর্কিটেকচারাল সল্যুশন নিয়ে কাজ করার জন্য আমরা নিজেদের প্রস্তুত করতে চাই।