Home সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থার দিকে যাচ্ছে

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থার দিকে যাচ্ছে

SHARE

জাসমিন্দর সিং, বিজনেস হেড, সাউথ ইস্ট এশিয়া, হিমালয়া ড্রাগ কোম্পানী

রাজু আলীম
বিশ্বের ৯০ টিরও বেশি দেশে হিমালয়া ড্রাগ কোম্পানী তাদের ন্যাচারাল ও হারবাল প্রডাক্ট নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তারা নিজেদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে হিমালয়ার ভেষজ ও হারবাল প্রডাক্টগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে এই দেশের মানুষের কাছে। তাই ২ বছর ধরে বাংলাদেশে নিজেদের প্ল্যান্ট তৈরী করে হিমালয়া এই দেশেই বাজারজাত করছে তাদের হারবাল প্রডাক্টগুলো। স¤প্রতি বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে তাদের ব্যবসার নানা দিক নিয়ে হিমালয়া ড্রাগ কোম্পানী এর সাউথ ইস্ট এশিয়া’র বিজনেস হেড জাসমিন্দর সিং কথা বলেন বলেন একান্ত সাক্ষাতকারে।
আনন্দ আলো: আপনি হিমালয়া ড্রাগ কোম্পানীর হয়ে অনেক বছর কাজ করছেন। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানতে চাই?
জাসমিন্দর সিং: এটি একটি ন্যাচারাল ব্র্যান্ড। তাই আমার অভিজ্ঞতাও অত্যন্ত ন্যাচারাল। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আমাদের পারিবারিক ব্যবসা। আমাদের ব্যবসা অনেক পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে হয়ে থাকে এবং সকলে আমরা এক হয়ে আনন্দের সাথে কাজ করি। এই ভাবেই বাংলাদেশে আমাদের বিজনেস অ্যাকসেস হচ্ছে।
আনন্দ আলো: বাংলাদেশে আপনি কতো বছর আছেন? হিমালয়া প্রডাক্ট এই দেশে কতোটা জনপ্রিয় হয়েছে?
জাসমিন্দর সিং: আমি ৬ বছর ধরে বাংলাদেশের ব্যবসা দেখছি। এখানকার এক লোকাল ফ্যামিলি এই ব্যবসা দেখতো এবং ইন্ডিয়া থেকে প্রডাক্ট আমদানী করে এই ব্যবসা পরিচালিত হতো। প্রডাক্ট এক সময় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। আমি মনে করি, হিমালয়া প্রডাক্টের জন্যে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড। এটি শুধুমাত্র প্রডাক্ট নর্ম এর মধ্যে নেই। হিমালয়ার প্রডাক্টের উপরে বাংলাদেশের মানুষের গভীর বিশ্বাস তৈরী হয়েছে।যখন মানুষের আস্থা তৈরী হয় প্রডাক্টের উপরে তখন এমনিতেই প্রডাক্ট ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।বাংলাদেশের কনজ্যুমাররা হারবাল প্রডাক্টের ব্যাপারে দারুণ উৎসাহী।
আনন্দ আলো: বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
জাসমিন্দর সিং: গেলো ৬ বছরে আমি বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখছি। আমি এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে চাই না। শুধু মাত্র আমার বিজনেস পয়েন্ট থেকে বলবো-১৩ বছর আগে যখন আমরা বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করি তখন অনেক সমস্যা ছিল। তখন কনজ্যুমার এবং ট্রেডারদের ভয় ছিল প্রডাক্ট কেনার ব্যাপারে- যে কোন সময় যে কোন কিছু ঘটতে পারে। গেলো ৬ বছরে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে অনেক অগ্রগতি এসেছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে। ইকোনমি খুব দ্রæত ভাল অবস্থায় যাচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে।
আনন্দ আলো: আপনারা সারাবিশ্বে ব্যবসা করেছেন। বিশ্বব্যাপী আপনাদের পরিকল্পনা কি?
জাসমিন্দর সিং: আমাদের অত্যন্ত পরিস্কার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আমাদের অনেক ব্যবসা রয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস, বেবিকেয়ার, এনিমেল হেলথ বিজনেসসহ নানা ব্যবসা আমাদের রয়েছে। প্রতিটি পরিবারের অত্যন্ত একজন হিমালয়ার প্রডাক্ট বাংলাদেশে ব্যবহার করবে এটি আমাদের লক্ষ্য। এই রকম সারাবিশ্বেই আমাদের লক্ষমাত্রা এই রকমেরই।
আনন্দ আলো: বাংলাদেশ আপনাদের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা কেমন?
জাসমিন্দর সিং: বাংলাদেশকে আমরা আমাদের ব্যবসার জন্যে সমুদ্র মনে করি।এটি একটি ব্যবসায়িক মহাসমুদ্র এবং আমরা এখানে নতুন।কেবলমাত্র যাত্রা শুরু করেছি এবং বাংলাদেশে আমাদের অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।
আনন্দ আলো: বাংলাদেশের কনজ্যুমারদের সম্পর্কে আপনার মুল্যায়ন কি?
জাসমিন্দর সিং: এখানকার কনজ্যুমাররা নতুন ভাল প্রডাক্ট কেনার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকে।ভারতের সাথে বাংলাদেশের পন্যের দামের তুলনা করলে- ভারতের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি দামে এই দেশের কনজ্যুমরারা প্রডাক্ট কেনেন এবং সেই দামে তারা পণ্য কিনতে উৎসাহী। আমি শুধু হিমালয়ার পণ্যের কথা বলছি না, সব ধরণের পণ্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আমদানী শুল্কের জন্যে দ্বিগুণ দামে এই দেশের কনজ্যুমারদের প্রডাক্ট কিনতে হয়। অত্যন্ত বেশি দামে তাদেরকে প্রডাক্ট কিনতে হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয হলো- তারা খুশি মনে এইসব প্রডাক্ট কেনেন। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশের মানুষের বায়িং ক্যাপাসিটি অনেক বেড়েছে।
আনন্দ আলো: বিশ্বের ৯০ টির মতো দেশে আপনাদের প্রডাক্ট রয়েছে। আরও কোয়ালিটিফুল প্রডাক্ট তৈরীর জন্যে আপনাদের পরিকল্পনা কি?
জাসমিন্দর সিং: ঠিকই বলেছেন ৯০ এর মতো দেশে আমরা এখন রয়েছি।ধীরে ধীরে আমরা এই সব দেশে আরও বেশী ক্যাটাগরির প্রডাক্ট দিচ্ছি। এখন আমরা প্রডাক্ট রেঞ্জ বাড়াচ্ছি এটাই আমাদের পরিকল্পনা। আমরা এখন বেশি ব্যবসা করছি ভারতে। এই ব্যবসা সারাবিশ্বেই আরও বেশি পরিমাণে বিস্তৃত করছি। এছাড়া আমরা বুটিক স্টোর খোলার পরিকল্পনা করছি সারাবিশ্বে। এই সব পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছি আমরা।
আনন্দ আলো: আপনাদের অনলাইন ব্যবসার বিষয়ে কিছু জানতে চাই?
জাসমিন্দর সিং: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবসায় আমরা অনেক বছর ধরেই আছি। বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা আমাদের সবেমাত্র শুরু হয়েছে।এছাড়া প্রিন্ট্রিং ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমেও আমাদের বাজার স¤প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে।
আনন্দ আলো: তরুণ প্রজন্মের কনজ্যুমারদের জন্যে আপনার ক্যাম্পেইন রয়েছে?
জাসমিন্দর সিং: তরুণদের সচেতনতার বৃদ্ধির জন্যে ইউনিভার্সিটি এবং কলেজ ভিত্তিক আমাদের ক্যাম্পেইন রয়েছে। আমাদের নিম প্রডাক্ট রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই হিমালয়ের নিম প্রডাক্ট এই দেশে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে গিয়ে তরুণদের বিউটি প্রবেøমগুলো শুনে তাদেরকে তা থেকে পরিত্রাণের পথ বলে দিচ্ছি এবং তাদের প্রডাক্ট নলেজ বৃদ্ধির জন্যে কাজ করছি।
আনন্দ আলো: সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি নিয়ে আপনারা কি করছেন?
জাসমিন্দর সিং: আমরা বাংলাদেশে একটি এজেন্সির মাধ্যমে ওম্যান এমপাওয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরীতে কাজ করছি। তাদেরকে আমরা নলেজ কার্ড এবং প্রডাক্ট দিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পাঠাচ্ছি।মানুষ কোন ধরণের সাবান ব্যবহার করছে বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করছে কিনা? এটা আমরা করছি নলেজ শেয়ারিংয়ের জন্যে। আমরা মনে করি নলেজ শেয়ারিং হলে ব্যবসা এমনিতেই চলে আসবে।
আনন্দ আলো: রাতারাতি রং ফর্সা হয় এমন অনেক প্রডাক্টের প্রচারণা রয়েছে- এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?
জাসমিন্দর সিং: কেমিক্যাল ভাল না মন্দ এই বিষয়ে আমি বলতে চাই না। আমি আমাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে পারি। কেউ আয়ুর্বেদিকে বিশ্বাস করে কেউ এলোপ্যাথি বিশ্বাস করে আবার কেউ হোমিওপ্যাথি। মানুষের বিশ্বাসের ক্ষেত্র আলাদা। কেউ একটায় বিশ্বাস হারিয়ে আরেকটায় যেতে পারে। কেউ কেমিক্যাল প্রডাক্টে ফল না পেয়ে হারবাল প্রডাক্টে সুইচ করে চলে আসতে পারে। কোয়ালিটিই এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যাপার।
আনন্দ আলো: এশিয়া এবং ইউরোপীয়ান প্রডাক্টের গুণগতমানের ক্ষেত্রে তুলনা করলে- আপনি কি বলবেন?
জাসমিন্দর সিং: কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ আছেন যারা বিশ্বাস করে যে, ওয়েস্টার্ন প্রডাক্টের গুণগত মান এবং কোয়ালিটি আমাদের তুলনায় অনেক ভাল। কিন্তু আমি মনে করি আমাদের এশিয়ান প্রডাক্টের মান ওয়েস্টার্ন প্রডাক্টের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কোন কোন প্রডাক্টের ক্ষেত্রে আমাদের প্রডাক্ট তাদের তুলনায় অনেক বেশি ভাল। তাদের আবহাওয়া এবং খাদ্যাভাস অন্যরকম তাই তাদের প্রডাক্টের ধরণও আমাদের তুলনায় ভিন্ন। আমরা ৯০ টিরও বেশি দেশের মানুষের লাইফ স্টাইল নিয়ে কাজ করছি। আমাদের এই যাত্রা সামনের দিনগুলোতে আরও স¤প্রসারিত হবে।