Home এক্সক্লুসিভ যে দিকে তাকাই সেদিকেই লাক্স চ্যানেল আই তারকা!

যে দিকে তাকাই সেদিকেই লাক্স চ্যানেল আই তারকা!

SHARE

সৈয়দ ইকবাল
আজকে দেশের শোবিজের প্রায় প্রতিটি শাখায় রয়েছে চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন রিয়েলিটি শো এর তারকারা। নাচ-গান-অভিনয় থেকে শুরু করে শোবিজের প্রায় প্রতিটি শাখায় রয়েছে দাপটের সঙ্গে তাদের পদচারণা। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার কথা যদি বলা হয় তাহলে এটাই প্রমাণিত হবে যে, আজকের যে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রি সেখানে এই লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার থেকেই এসেছেন অনেক অনেক সুপারস্টার। যারা বর্তমানে শোবিজে বেশ যোগ্যতার সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু কাজ করে যাচ্ছেন বললে ভুলই বলা হবে। তারা তাদের কাজে বেশ যোগ্যতাও প্রদর্শন করছেন।
২০০৫ সাল থেকে টেলিভিশন মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সবচেয়ে আলোচিত এবং জমকালো প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন শুধু অনেকগুলো নতুন মুখ-ই পায়নি, পেয়েছে যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী আগামীর তারকাও। যারা নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে সৌন্দর্য, মেধায় এবং অভিনয়ে। এই প্রতিযোগিতা থেকে দেশের শোবিজ পেয়েছে একঝাঁক মেধাবী সুন্দরী তারকা।
২০০৫ সালে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন শানারেই দেবী শানু। সে বছর প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই শানু অভিনয় জগতে রেখে চলেছেন সফলতার স্বাক্ষর। বর্তমানে শানু ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। করেছেন চলচ্চিত্রেও অভিনয়। শানু শোবিজে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন। শানু গত কয়েক বছর ধরে অমর একুশে বইমেলায় নিজের লেখা কবিতা ও উপন্যাস নিয়ে তার ভক্তদের সামনে হাজির হচ্ছেন। অন্যদিকে এই আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছেন যথাক্রমে নাবিলা হাসান ও পিংকি। দুজনেই শোবিজে দাপটের সাথে কাজ করেছেন।

জাকিয়া বারী মম

২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয়। ‘দারুচিনি দ্বীপের নায়িকা খুঁজছি’ শিরোনামের ঐ প্রতিযোগিতায় সে বছর বিজয়ী হন জাকিয়া বারী মম। সে বছর আসরটিতে মম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই শোবিজে ব্যস্ততম নায়িকা হয়ে যান তিনি। মম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই অভিনয় করেন ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি পরিচালনা করেন তৌকির আহমেদ। ছবিতে লাক্সের ঐ আসরের বিজয়ী অপর দুই সুন্দরী বিন্দু ও মুনমুনও অভিনয় করেন। মম তার ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্রেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। চলচ্চিত্র এবং টিভি মিডিয়া দুই জায়গায় মম সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। বলা যায় শোবিজের অন্যতম ব্যস্ততম এবং চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা এখন মম। প্রতিবছর ঈদ উৎসব থেকে শুরু করে যেকোনো বিশেষ দিন মানেই মমর নাটক-টেলিফিল্ম দর্শকদের মন জয় করে থাকে। শুধু টিভি মিডিয়ায় নয়, মম বড় পর্দাতেও অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্র দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে। বিশেষ করে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ও ‘আলতাবানু’ চলচ্চিত্রটি সিনেমাপ্রেমীদের মনে আলাদা একটা জায়গা দখল করে আছে। মম বর্তমানে টিভি নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও কিছুদিন আগে ভূটান থেকে তিনি বলিউডের একটি সিনেমার শুটিং শেষ করে এসেছেন। একই আসরে মমর সাথে প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হন যথাক্রমে বিন্দু ও বাঁধন। আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্স আপ বিন্দু ও বাঁধনও টিভি মিডিয়ার উজ্জ্বল মুখ। দুজনে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। বাঁধনকে নিয়মিত টিভি নাটকে দেখা গেলেও বিন্দু ঘর-সংসার নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন। ঐ আসরের আরেক আলোচিত মুখ রুমানা মালিক মুনমুন টিভি নাটকে অভিনয় এবং উপস্থাপনা করে জয় করে নিয়েছেন দর্শক হৃদয়। এই আসরের আরেক আলোচিত মুখ অপর্ণা ঘোষও টিভি মিডিয়া এবং চলচ্চিত্রে সমান তালে অভিনয় করছেন। অপর্ণা ঘোষ বেশকিছু ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচকদের বেশ প্রশংসা লাভ করেছেন। অপর্ণাও বর্তমানে টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিদ্যা সিনহা মিম

২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ের মুকুটটি অর্জন করেন বিদ্যা সিনহা মিম। বিজয়ী হওয়ার পরপরই জনপ্রিয় নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় ‘আমার আছে জল’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন তিনি। এরপর একে একে অভিনয় করেন বেশকিছু ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে। বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন মিম। ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, ‘জোনাকীর আলো’, ‘তারকাঁটা’, ‘পদ্ম পাতার জল’সহ বেশকিছু সিনেমায় মিম এর সরব উপস্থিতি দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে। বর্তমানেও তিনি বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন। কাজ করছেন বিজ্ঞাপনেও। ঐ আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হন যথাক্রমে আলভী ও ফারিয়া। দুজনই নিয়মিত ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে অভিনয় করছেন। এরমধ্যে ফারিয়া অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ইমপ্রস টেলিফিল্মের ছবি ‘আকাশ কত দূরে’ বেশ আলোচিত হয়। যদিও ফারিয়া বর্তমানে মালয়েশিয়ায় পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শোবিজে তাকে খুব কম দেখা যাচ্ছে। আলভী টিভি নাটকে অভিনয় করছেন নিয়মিতই। বেশকিছু ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন আলভী।

Coiti
চৈতী

২০০৮ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হয় চৈতী। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘মধুমতি’তে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন চৈতী। বেশকিছু ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। ঐ আসরের প্রথম ও দ্বিতী রানার্সআপ যথাক্রমে সৈয়দা উম্মে তাজ্জি ও রেবেকা সুলতানা দীপা। এরমধ্যে তাজ্জি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে তিনি কর্মরত থাকার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে সচেতনাতামূূলক একটি ওয়েবসাইটে কাজ করছেন। যেটির নাম ‘স্টারমামস’। বছরে দু’একবার দেশে এসে কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করতে তাকে দেখা যায়। আসরের টপ পাঁচ-এ থাকা আরাবীও অভিনয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

mehjabeen-1
মেহজাবিন চৌধুরী

২০০৯ সালে চ্যাম্পিয়ন হন মেহজাবিন চৌধুরী। বাংলালিংকসহ বেশকিছু পণ্যের মডেল হয়ে মেহজাবিন খুব অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকদের নজরে চলে আসেন। লাক্সের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে বেশ আলোচিত হন এই গø্যামার কন্যা। বর্তমানে শোবিজের অন্যতম আলোচিত মুখ মেহজাবিন। শুধু তাই নয়- বর্তমানে টিভি নাটকের সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন অভিনেত্রী তিনি। বিশেষ দিবসের নাটক মানেই মেহজাবিন। ঈদ উৎসব কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজনে মেহজাবিনের নাটক ছাড়া যেনো চলেই না। ইউটিউবে মেহজাবিনের একেকটি নাটকের লক্ষ লক্ষ ভিউ থাকে। তার অভিনীত কোনো নাটকের ভিউ কোটির ঘরও ছাড়িয়েছে। ঐ আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ যথাক্রমে মৌমিতা খান ঈশানা ও সাদিকা পারভীন স্বর্ণা। দুজনেই টিভি নাটকে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন। এই আসরের শীর্ষ পাঁচ-এ থাকা অর্ষা ও উর্মিলাও বর্তমানে টিভি নাটকের উজ্জ্বল দুই নাম। অর্ষা বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের ‘ছোটকাকু’ সিরিজের গল্প অবলম্বনে আফজাল হোসেন নির্মিত নাটকগুলোতে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আর ঊর্মিলাও বর্তমানে টিভি নাটকের একজন ব্যস্ততম অভিনেত্রী।

মাহবুবা ইসলাম রাখী

২০১০ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের মুকুট অর্জন করেন মাহবুবা ইসলাম রাখী। রাখী অল্প কিছু নাটকে অভিনয় করেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। বর্তমানে রাখী পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। এই আসরের অপর দুই সুন্দরী প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ যথাক্রমে মৌসুমী হামিদ ও নিশা। দুজনই টিভি মিডিয়ার পরিচিত মুখ। মৌসুমী হামিদ বর্তমান সময়ে টিভি নাটকের একজন নির্ভরযোগ্য তারকা। পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ‘বø্যাকমইল’, ‘হাডসনের বন্দুক’, ‘ভালোবাসার রাজকন্যা’ ও ‘জালালের গল্প’সহ বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। অন্যদিকে নিশাও অভিনয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ২০১০ সালের আসরের শীর্ষ পাঁচ-এ থাকা মার্শিয়াত ও টয়াও মিডিয়ার আলোচিত দুটি নাম। মার্শিয়াত নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও মডেল হয়েছেন। অন্যদিকে টয়া গ্রামীণফোনসহ বেশকিছু পণ্যের মডেল হিসেবে আলোচিত হয়েছেন। তিনি এখন নিয়মিতভাবে টিভি নাটকে অভিনয় করছেন এবং মিউজিক ভিডিওতে কাজ করছেন।

সামিয়া সাঈদ

প্রতিযোগিতার ৭ম আসর অর্থাৎ ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন হন সামিয়া সাঈদ। ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে অভিনয় করছেন সমানতালে। কিছুদিন আগে বিয়েও করেছেন এই সুপারস্টার। আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হন যথাক্রমে প্রসূণ আজাদ ও সামিহা হোসেন খান। দুজনেই দাপটের সাথে কাজ করছেন শোবিজে। প্রসূণ টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। আর সামিহা অভিনয়ের চেয়ে উপস্থাপনাতেই বেশি ব্যস্ত রয়েছেন। এই আসরের শীর্ষ পাঁচ-এ থাকা সোমাও ব্যস্ত রয়েছেন টিভি নাটকে অভিনয় নিয়ে। পাশাপাশি তিনি মডেলিংও করছেন।

নাদিয়া আফরিন মীম

৮ম আসর অর্থাৎ ২০১৪ সালে বিজয়ী হন নাদিয়া আফরিন মীম। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর থেকে টিভি নাটকে ব্যস্ততম একজন অভিনয়শিল্পী হয়ে যান তিনি। বর্তমানে ধারাবাহিক নাটক ও খন্ড নাটকে অভিনয় করছেন নিয়মিত। অন্যদিকে এই আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার আপ হন যথাক্রমে নাজিফা তুষি ও নীলাঞ্জনা নীলা। নাজিফা তুষি ‘আইসক্রীম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন। নিয়মিত মডেলিং ও অভিনয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। অন্যদিকে নীলাঞ্জনা নীলা নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত ‘গহীন বালুচর’ নামে ছবিটি বেশ আলোচিত হয়। বিজ্ঞাপন এবং নাটকে অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত আছেন তিনি।

মিম মানতাসা

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারের নবম আসর। এই আসরে বিজয়ী হোন মিম মানতাসা। বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত নাটক- টেলিফিল্মে অভিনয় করছেন। পাশাপাশি বেশকিছু বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি। এখন নিয়মিতভাবে টিভি নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন। অন্যদিকে এই আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার-আপ হওয়া সারাওয়াত আজাদ বৃষ্টি ও সামিয়া অথৈও নিয়মিতভাবে টিভি নাটকে অভিনয় করছেন। দুজনে বেশকিছু বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন।