SHARE
star-cineplex

শুরুটা ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর। শুরুতে সিনেমা হল ছিল তিনটি। এখন ভিআইপিসহ মোট সিনেমা হলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬। প্রিয় পাঠক, বলছি নগরীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স- এ গড়ে ওঠা ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ এর কথা। সম্প্রতি দেশের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স এই প্রতিষ্ঠানটি এক যুগ পার করেছে। আর এই এক যুগ পূর্তিতে দেশব্যাপী আরও নতুন হল নির্মাণের ঘোষণা দিল স্টার সিনেপ্লেক্স। ঢাকায় আরও কয়েকটি সিনেমা হল এবং পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে একশত সিনেমা হল নির্মাণ করা হবে বলে জানান স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

যুগপূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি স্টার সিনেপ্লেক্সের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান। দেশের সব শ্রেণির দর্শককে আধুনিক সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে নিজস্ব প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণেরও ঘোষনা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটক, চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গনের তারকা, নির্মাতা, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যনৱ গানে গানে অতিথিদের মাতিয়ে রাখেন সংগীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী। পুরনো দিনের চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে এ সময়ের চলচ্চিত্রের বেশ কিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন তিনি। রাত ৮ টায় অনুষ্ঠিত হয় কেক কাটা পর্ব। বিশিষ্ট অতিথি ও চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে কেক কাটেন স্টার সিনেপ্লেক্স-এর চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান। এরপর পথচলার ১২ বছরে স্টার সিনেপ্লেক্স-এর সহযোগী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অতিথিদের জন্য মীরা নায়ারের ‘কুইন অব ক্যাটউই’ ছবিটি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ঐ দিন বিকেল থেকেই অতিথিদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে স্টার সিনেপ্লেক্স। সিনেমাপ্রেমী, শুভকাঙক্ষী অনেকেই শুভেচ্ছা জানাতে আসেন প্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রকে। ছয় বছরের শিশু জারা আসে নিজের হাতে আঁকা তার প্রিয় ‘ফাইন্ডিং ডোরি’র ছবি সম্বলিত একটি কার্ড নিয়ে। অসাধারণ এই শুভেচ্ছা কার্ডটি পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান। জারাকে তিনি মঞ্চে ডেকে নিয়ে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। পথচলার ১২ বছরে দর্শকদের এমন ভালোবাসাই স্টার সিনেপ্লেক্স-এর সবচেয়ে বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি। যুগপূর্তির শুভক্ষণে দর্শক, শুভানুধ্যায়ী, স্পন্সরদাতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, পৃষ্ঠপোষকসহ স্টার সিনেপ্লেক্স-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পথচলার শুরুটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। অদম্য চেষ্টা আর সকলের সহযোগিতায় সব চ্যালেঞ্জকে উৎরে আজ আমরা এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি। সিনেমা হলবিমুখ মানুষদেরকে হলমুখী করার জন্য একটি বিশ্বমানের সিনেপ্লেক্স গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। নান্দনিক পরিবেশ আর আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকদের কাছে সিনেমা হলের নতুন রূপ তুলে ধরেছি। হলিউডের নতুন ছবিগুলো যখন মুক্তির পর বিভিন্ন দেশে পুরনো হয়ে যেত তখন বাংলাদেশের দর্শকরা দেখার সুযোগ পেত। স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ দর্শকদের সেই আক্ষেপের অবসান ঘটিয়েছে। এখন আনৱর্জাতিক মুক্তির দিনেই হলিউডের সাড়া জাগানো সব ছবি বাংলাদেশের দর্শকরা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। কোনো কোনো ছবি যুক্তরাষ্ট্রের আগেই বাংলাদেশে মুক্তি দিয়েছি আমরা। সেই সঙ্গে সুস্থধারার দেশীয় ছবিও নিয়মিতভাবে প্রদর্শন করে যাচ্ছি। দর্শকরা আমাদের সঙ্গী হয়েছেন এটাই বড় সার্থকতা।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে যাত্রা শুরু করে ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’। বর্তমানে একটি ভিআইপি হলসহ মোট ছয়টি হল রয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের হোটেল সায়মন-এ একটি সিনেমা হল চালু হয়েছে।