Home প্রতিবেদন কর্পোরেট অর্থনীতি যা শিখেছি তা তরুণ প্রজন্মকে শেখাতে চাই!

যা শিখেছি তা তরুণ প্রজন্মকে শেখাতে চাই!

SHARE

আনিস এ খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড

রাজু আলীম
আনিস এ খান এর জন্ম ১ ডিসেম্বর, ১৯৫৪ চট্টগ্রামে। পিতার নাম কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং মাতা শামসুন্নাহার খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স এ ১ম শ্রেণী লাভ করেন ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে। ১৯৮২ সালে কাস্টমস ক্যাডারে ১ম হওয়া সত্বেও সরকারী চাকরিতে যোগদান করেননি। গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক পিএলসি তে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনী হিসেবে যোগদান করার পর যখন তার চাকুরী স্থায়ী হয়, তখন তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকের নিউ মার্কেট শাখার ম্যানেজার হিসেবে। গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক পরবর্তীতে এএনজেড গ্রিন্ডলেজ নাম ধারন করে এবং ২০০০ সালে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংককে অ্যাকুয়ার করে নেয়। আনিস এখান সেখানে চাকুরী করেন ২১ বছর। এই ২১ বছরে তিনি দেশে এবং দেশের বাইরে ব্যাংকটির বিভিন্ন গুরুত্ত¡পূর্ণ পদেও কাজ করেন। পদগুলো হলÑ কান্ট্রি প্ল্যানিং ম্যানেজার, হেড অব ক্রেডিট, সিনিয়র রিলেশনশীপ ম্যানেজার, এরিয়া অপারেশনাল ম্যানেজার, হেড অব অপারেশন, চট্টগ্রাম এবং কান্ট্রি ইন্ট্রিগেশন ম্যানেজার। আনিস এ খান ক্যারিয়ারের শূরু থেকেই তার ইংরেজী দক্ষতা, নিখুঁত কাজ করার ক্ষমতা এবং নেটওয়ার্কিং ক্যাপাসিটির জন্য সবার কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। ২০০৩ সালে যখন তার পোষ্টিং ছিল দুবাইয়ে। তিনি আইডিএলসি’তে সিইও হিসেবে কাজ করার অফার পান। চ্যালেঞ্জটি তিনি গ্রহণ করেন এবং আইডিএলসি’ কে বাংলাদেশের ১ নম্বর নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করান। ছয় বছর আইডিএলসি’তে তে কাজ করার পর এপ্রিল ২০০৯ এ মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংকে ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এন্ড সিইও হিসেবে যোগদান করেন এবং এখন পর্যন্ত কর্মরত আছেন। উচ্চ বেতন আর বন্ধুসুলভ কাজের পরিবেশের জন্য মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংকে কাজ করার জন্য অনেক ব্যাংকারই মুখিয়ে থাকেন। ব্যাংকের কর্মীদের জন্য সন্মানজনক পারিশ্রমিক আর বিভিন্ন ভাতা, পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে আদায় করার জন্য যে মানসিকতা আর সাহস লাগে- তার শতভাগ আনিস এ খান এর মধ্যে আছে। জনপ্রিয় এই ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব স¤প্রতি আনন্দ আলোর সাথে কথা বলেন দেশের চলমান অর্থনীতির নানা প্রসঙ্গে।
আনন্দ আলো: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক প্রাইভেট খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম। সার্বিক ব্যাংকিং পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ব্যাংকটি এখন কি অবস্থায় আছে?
আনিস এ খান: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বয়স প্রায় ২০ বছর । একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক সময় লাগে। আর্ন্তজাতিকভাবে একটি ব্যাংককে গড়ে তোলা এতো সহজ কাজ না। প্রথমে একটি কোর ব্যাংকিং সিস্টেম লাগে। এভরিথিং ইজ টেকনোলজি বেজড। তারপরে এফিসিয়েন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস লাগে। তাদের প্রপার ট্রেনিং লাগে। তারপরে খুব ইম্পট্যান্টলি লাগে পর্যাপ্ত মূলধন। প্রতিবছর ব্যাংকের ব্যালেন্সশীটের আকার বড় হয়। প্রতিবছর আমাদের ডিপোজিট ও লোন পোর্টফোলিও বাড়ে। এর সাথে সাথে ক্যাপিটাল বাড়াতে হয়। এই সব নিয়ে আবার ইমেজ এবং তারপরে রেপুটেশন স্ট্যাবলিশ করতে হয়। মানুষের মনে আস্থা প্রতিস্থাপিত করতে হয়। তারপরে একটি ব্যাংক যে কোন আকারে যায়। সে যে কোন ব্যাংকই হোক না কেন? ২০ বছর ধরে এই ব্যাংক চলছে। ১৯৯৯ সালের ২৪ শে অক্টোবর এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্যাংকে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আমার প্রধান নির্বাহী হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই ব্যাংক এখন অনেক প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। দশ বছর আগে পৃথিবীব্যাপী মাত্র ২০০টি করেসপন্ডেট ব্যাংক ছিল আর এখন তা ৬০০ এর বেশি হয়ে গেছে। যার জন্যে এখন আমাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে খুব সুবিধা হয়। যেমন, বিদেশ থেকে কষ্ট করে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যে রেমিট্যান্স পাঠায় সেটা পাঠানো এখন সহজ হয়। আমাদের ব্যাংক ছিল ২০-২৫ নম্বর ব্যাংক। এখন আমাদের ব্যাংক হয়ে গেছে ৫ নম্বর ব্যাংক। রেমিটেন্স বিদেশ থেকে আসার ব্যাপারে। সিমিলারলি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট এর জন্যে বিদেশী ব্যাংকের সহায়তা লাগে। কনফারমেশন লাগে এলসিগুলোর। তারপরে ডিসকাউন্টিং লাইন লাগে যখন এলসি আসে, তখন তারা ডিসকাউন্ট করে দেয়। এগুলোর জন্যে কাজ করতে হয়। ব্যাংকের রেপুটেশন লাগে। ব্যাংকের ব্যালেন্সশীটের প্রফিটিবিলিটি লাগে। নন পারফর্মিং লোন সেটাও কন্ট্রোল করতে হয়। তাই সব মিলিয়ে একটা ব্যাংক স্ট্যাবলিশ করতে অনেক সময় লাগে।
আনন্দ আলো: একটি ব্যাংকে ১০ ধরে এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খুব শক্ত কাজ। কোন দক্ষতার বলে এটি সম্ভব হয়েছে?
আনিস এ খান: আমি ২১ বছর স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের জন্য দেশে বিদেশে কাজ করেছি। তারপরে এক নাগাড়ে ৬ বছর আইডিএলসি’তে ছিলাম। সব জায়গায়ই ভাল ছিলাম। তারপরে প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরী ও সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী সাহেব আমাকে তাদের এই ব্যাংকে যোগ দিতে বললেন। তারা বললেন, তুমি আসো এবং আমাদের ব্যাংকটির দায়িত্ব নাও। আর এই ব্যাংক থেকেই তুমি রিটায়ার্ড করবে। সে কথা তারা রেখেছেন। আমি ১০ বছর আগে জয়েন করেছি আর এই ডিসেম্বরের ১ তারিখে রিটায়ার্ড করবো। কেন আমি থাকতে পেরেছি? হ্যাঁ, অন্য ব্যাংকে ৩-৪ বছর পর পর ব্যাংকের এমডি, সিইও চেঞ্জ হয়। আমাদের ক্ষেত্রে যেটি হয়েছে যে, আমি মনে করি আমাদের বোর্ড বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বোর্ড। এখানে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় এন্টারপ্রেনাররা আছেন। তারা অনেক ম্যাচিউর। ব্যাংক ম্যানেজমেন্টকে তারা অনেক পাওয়ার দিয়েছে এবং ট্রাস্ট করে। আমাদের জবাবদিহিতাও অনেক হাই এবং প্রতিটি বোর্ড মিটিংয়ে আমরা প্রেজেন্টেশন দেই- আমরা কোথায় আছি না আছি এবং দরকার হলেই তাদেরক আমি ই-মেইল পাঠাই। একটা গ্রæপ করেছি ডিরেক্টরদের। আজকে সকালেও আমি তাদেরকে মেইল করেছি। এটি দুইদিকের ব্যাপার। আরেকটি ব্যাপার হলো, যে সিইও হবেন, তাকে ট্রাস্ট করতে হবে। কাজ করে সিইওকেও দেখাতে হবে যে, সে টিম নিয়ে সামনে দিকে ব্যাংককে নিয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক বড় করছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। যখন বোর্ড দেখে তাদের স্ট্যাটেজিতে ব্যাংক চলেছে তখন তারা তখন আর কোন ডিস্টার্ব করে না। একজনকেই থাকতে দেয়। এইরকম উদাহরণ কিন্তু আরও আছে যেমন, ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজা ইফতেখার। সেও অনেক বছর ওই ব্যাংকে আছেন। হয়তো ১০-১২ বছর হবে।
আনন্দ আলো: প্রাইভেট ব্যাংক ও বিদেশী ব্যাংকের ব্যাপারে মানুষ যতোটা আগ্রহী সরকারি ব্যাংকের ব্যাপারে ততোটা নয়? এমনটা হওয়ার কারণ কি?
আনিস এ খান: একথা ঠিক নয়। সরকারি ব্যাংকেও মানুষ টাকা পয়সা রাখতে চায়। আমাদের জনগণের আস্থা আছে সরকারি ব্যাংকের উপরে। ব্যক্তি ও অর্গানাইজেশনের অনেক ডিপোজিট আছে সরকারি ব্যাংকে। আস্থা আছে ঠিকই। আর সরকারি ব্যাংকগুলো এখন অনেক উন্নত হয়েছে। তারাও কোর এবং অনলাইন ব্যাংকিং করছে। সরকারি ব্যাংকও চেষ্টা করছে। হ্যাঁ-কিছু অনাস্থা তৈরী হয়েছে সরকারি ব্যাংকের ঋণ খেলাপীর কারণে। তবে তারা চেষ্টা করছে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে। আশা করি তারা এই কাজেও সফল হবেন।

আনন্দ আলো: ব্যাংকের পাশাপাশি নন ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিউশনগুলো কাজ করছে। তাদের কাজ কি, তারা কি করছে?
আনিস এ. খান: তাদের একটা সুবিধা হলো, তাদেরকে ক্যাশ নিয়ে এবং রিটেইল কাস্টমার নিয়ে ডিল করতে হয় না। কারণ তারা বেশিরভাগই হোলসেল ব্যাংকিং করে এবং স্ট্র্যাকচারড ফাইন্যান্স ব্যবসাটা সুন্দর করে করতে পারে। তাদের হাতে অনেক সময়। তারা কিন্তু ভেরি হাইলি ট্রেইন্ড প্রফেশনালস এবং হাইলি এডুকেটেড মানুষ সব ওখানে। তাই আইডিএলসি, আইপিডিসি বা লংকা বাংলা তারা সুন্দরভাবে এই সিন্ডিকেশন লোন করতে পারে। আবার আমাদের জন্যে কতোগুলো আইন আছে যেগুলো আবার তাদের জন্যে প্রযোজ্য নয়। যেমন, আমরা গাড়ির লোন এক্স এর উপরে দিতে পারি না। হোম লোন ওয়াই এর উপরে দিতে পারি না। কিন্তু তাদের কোন লিমিট নেই। তারা খুব সাকসেসফুল হয়েছে হোম লোনে । হোম লোন একটি চমৎকার প্রডাক্ট ওই সব নন ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সিটিটিউশনগুলোর জন্যে। এছাড়া তাদের আরও কিছু প্রডাক্ট আছে- লিজেজ ফর এ এক্সামপল। অভারঅল তাদের জন্যে খুব প্রফিট্যাবল ছিল এক সময়ে। এখন অবশ্য তা কিছুটা কমে গেছে। তারাও টার্ম লোনস করে তারাও ওয়ার্ক অর্ডার ফাইন্যান্সিং করে।
আনন্দ আলো: সেখানে কি কালো টাকা সাদা করার কোন ব্যাপার আছে- বড় ধরণের ইনভেস্টের মধ্য দিয়ে?
আনিস এ খান: না, না-সম্ভব না। আজকাল পুরো দেশব্যাপী কেওয়াইসি এন্ট্রি মানি লন্ডারিং প্রাকটিসেস এবং রুলস ও আইনগুলো একেবারে এম্বেডেড ইন দ্যা সিস্টেম। আমরা এগুলো এখন অটোমেশনেও নিয়ে যাচ্ছি।
আনন্দ আলো: ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন এর জন্যে মোবাইল ব্যাংকিং বিষয়ে আপনি বিশেষজ্ঞ একজন ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব হিসেবে কি ভাবছেন?
আনিস এ. খান: এটি খুব ভাল প্রশ্ন। আপনি আমার ফেভারিট সাবজেক্টে চলে এলেন আর তা হলো- ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন। গত বছর এই ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন নিয়ে আমার সৌভাগ্য হয়েছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে একটি পেপার প্রেজেন্ট করার । বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের একটি শাখা শহরে খুললে আরেকটি শাখা গ্রামে করতেই হবে। শহরের শাখা খুব তাড়াতাড়ি লাভজনক হয়ে যায়। কিন্তু গ্রামের শাখা ৩/৪/৫ বছরে এমনকি কোন সময়ই লাভের মুখ দেখে না। এটি হলে আমাদের অন্যান্য প্রফিটগুলো ক্রাক ডাউন হয়। তাই আমরা আজকাল খুব রিলাকটেন্টলি ব্র্যাঞ্চ নেটওয়ার্ক এক্সপান্ড করছি। আমাদের ১১৪ টা ব্র্যাঞ্চ হয়ে গেছে। আগে ১০-১২ টা করে প্রতি বছর করতাম। কিন্তু এখন বছরে ২-৪ টার বেশি করছি না। কি করছি আমরা? আমরা করছি এজেন্ট ব্যাংকিং সেক্টর। আমরা সুন্দর মডেল করেছি এবং অলরেডি সারা বাংলাদেশে আমাদের ১১৪ টা এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার হয়ে গেছে। আর এই বছরের শেষে আমরা আশা করি তা ২০০ হয়ে যাবে। তারা ১৭ টা সার্ভিসেস দিচ্ছে। রেমিট্যান্সি, লোনস, ডিসবাস, কালেকশন এবং বায়োমেট্রিকসের মাধ্যমে আঙুলের ছাপে টাকা তুলছে এবং টাকা জমা দিচ্ছে। এই কাজে আমাদের ব্যাংকের যে ব্যাঞ্চ কাছে থাকে সেই ব্র্যাঞ্চ তাদেরকে সাপোর্ট করে। এটা হলো একটা পার্ট। আরেকটি হলো ফোনের মাধ্যমে। হ্যাঁ, যতো বেশি স্মার্ট ফোনের প্রসার হবে ততোবেশি মানুষ ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং করবে। ব্যাংকিং শাখা আমেরিকাতেও কমে গেছে। আমি আরও প্রেডিকশন দিতে চাই-এতোগুলো এটিএম আমরা করেছি। কোন একটি ব্যাংক ৫ হাজার এটিএম করেছে। আমরা ৩০০ করেছি। মানুষ এটিএমে যাবে না। আপনি ফোনের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করবেন। আমরা চায়না ইউনিয়ন পে এর বাংলাদেশে প্রধান ইস্যুয়িং ব্যাংক হয়েছি। চালু করে দিয়েছি। এখন আমার বাইরে গেলে কোন টাকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার ফোনে ইন্টারনেট ব্যাংকিং আছে। সেখানে চায়না ইউনিয়ন পে এর কিউ আর কোড আছে। আমরা অলরেডি ১ হাজার দোকানে কিউ আর কোড দিয়ে দিয়েছি। আমি যদি সেখানে যাই একটা কিছু কিনলাম- বললেন যে, ২৩০৫ টাকা। আমি তার দোকানে যে কিউ আর কোড আছে তা স্ক্যান করলাম। ২৩০৫ টাকা লিখলাম- সেন্ড, ফিনিশড। সাথে সাথে তিনিও একটা ম্যাসেজ পেয়ে যাবেন। উনার অ্যাকাউন্টও ইন্সট্যান্ট ক্রেডিট। ফোনের মাধ্যমে আমিও আপনাকে ট্রান্সফার করতে পারবো। তাই ব্যাংকের শাখা কমে যাবে। এজেন্ট ব্যাংকিং ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং আসবে আর বিকাশ তো খুব সাকসেসফুল।
আনন্দ আলো: এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আপনাদের সাকসেস কেমন এসেছে আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা কি?
আনিস এ খান: খুব চমৎকার সাকসেস আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে। আপনাকে বললাম আমাদের ১১৪ টা শাখা অলরেডি হয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে আমাদের ১ শত ৬০ কোটি টাকার উপরে ডিপোজিট এসে গেছে। প্রায় ৪০ হাজার অ্যাকাউন্ট হয়ে গেছে। এটি যতো প্রসার হবে, ততো আমাদের ডিপোজিট বাড়বে। বিকাশ সাকসেস হয়েছে। আমরাও মোবাইল ফোনের লাইসেন্স নিয়েছিলাম। বাংলা ক্যাশ নামে একটা প্রডাক্ট ডিজাইন করেছিলাম। টিভিসিও করেছিলাম। কিন্তু পরে যখন দেখলাম-ওরা এতো সাকসেসফুল হয়ে গেলো। কস্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ইজ সো হাই। আরও হবে সামনে ভবিষ্যতে। তাই দেখে আমরা আর গেলাম না। বিকাশ করুন ডাচবাংলা ব্যাংক করুক তার মাধ্যমেই আমরা করবো। আমরা বিকাশের সাথে টাই আপ করেছি। বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স বিকাশের মাধ্যমে গ্রামে গঞ্জে চলে যাচ্ছে।
আনন্দ আলো: টি ক্যাশ- সেনাবাহিনীর ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রডাক্ট। তারাও বেশি সফল হতে না পেরে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানীর সাথে গেছে। আপনারা কাদের সাথে যাচ্ছেন নাকি ডাইরেক্ট?
আনিস এ খান: না- আমরা যাব না মোবইল ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলুউশনে। আমরা সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি। লাইসেন্স সারেন্ডার করে দিয়েছি। আমরা বিকাশের সাথে সংযুক্ত হয়েছি।
আনন্দ আলো: একটা সময় দেখলাম- একটা বুথের মধ্যে ৬ টা ব্যাংকের কাস্টমাররা ইউজ করতে পারতো- সেই রকম ব্যাপার?
আনিস এ খান: না- সেইরকম ব্যাপার না। বিকাশের সাথে আমাদের এগ্রিমেন্ট এই যে, বিদেশ থেকে আমাদের রেমিটেন্স আসলো- আগে আমরা পাঠাতাম সোনালী ব্যাংক নীলফামারী ব্র্যাঞ্চ, জনতা ব্যাংকের সৈয়দপুর ব্র্যাঞ্চ এই রকম। কিন্তু এখন বিকাশের মাধ্যমে তা সরাসরি গ্রামে চলে যাচ্ছে।
আনন্দ আলো: আগে ব্যাংকের কাছে মানুষ আসতো। আর এখন মানুষের কাছে ব্যাংক যাচ্ছে। এই পরিবর্তন দেশের অর্থনীতিতে কি প্রভাব রাখছে?
আনিস এ খান: আমি বলবো যে, এটি দ্বিপাক্ষিক। আমরাও যাবো কাস্টমারের কাছে। কাস্টমাররাও আসবে আমাদের কাছে। আমি সবসময়ই পছন্দ করি- কাস্টমারের কাছে যেতে। কাস্টমারের মিল ফ্যাক্টরি দেখতে। কাস্টমার কি করছে? তার প্রডাক্ট কি? সে কিভাবে তার মানুষদের সাথে ইন্টার্যারক্ট করছে? আমি বুঝতে পারি- বেটার আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়।
আনন্দ আলো: লোন পরিশোধ না করলে তখন যান?
আনিস এ খান: না, না, না- এমনিই ভিজিটে যাই। লোন তো চলছেই। ভাল কাস্টমার তখন যাই। চলছে না তখনও যাই। যেসব কাস্টমার সুন্দর চলছে। আমাদের তো এতোগুলো ডিএমডি সাহেব আছেন। এতো সিনিয়ররা আছেন। তারাই ডে টু ডে ব্যবসাটা করবেন। আমার তো টু ডে ব্যবসা করার কোন প্রয়োজন নেই? আমার দরকার হলো স্ট্যাটেজি, কমপ্ল্যায়েন্স এবং তারপরে গর্ভমেন্ট রিলেশনশীপ। আবার নন পারফর্মিং লোনের ক্ষেত্রে আমি স্ট্রেচ বেশি দেই। কারণ এটা আমাদের জন্যে বিরাট ডিজিস। নন পারফর্মিং লোনের জন্যে যে কোন জায়গায় আমি দেখা করতে রাজি। আমার অফিস হোক তার অফিস হোক কিংবা তার বাড়ি। যে কান জায়গায় আমি বসতে রাজি।
আনন্দ আলো: ব্যাংকিং সেক্টরের সব ব্যাংকই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আন্ডারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকার আপনাদের কি কি সুবিধা দিয়েছে? আরও কি সুবিধা চান ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে আরও সুশৃংখল হতে?
আনিস এ খান: আমি সবসময়ই বলি- বাংলাদেশ ব্যাংক হলো কেয়ারিং রেগুলেটর। সরকারের অনেক অর্গান বা শাখা প্রশাখা আছে। কিন্তু আমাদের ইন্টার্যানকশন হলো মেইনলি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে। সবকিছু করতে হয় থ্রæ বাংলাদেশ ব্যাংক। যে কোন সময় আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসারদরে সাথে দেখা করতে পারি। চিঠি পত্র লিখলে দ্রæত তারা উত্তর দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আমাদের সম্পর্ক সুদৃঢ়। গভর্নর সাহেব ত্রৈমাসিক সিইও’দের সাথে মিটিং করেন। সেখানে দেশের সার্বিক আর্থিক অবস্থা জানা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের সবদিক দিয়ে সহযোগিতা করে।
আনন্দ আলো: প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নের সময়ে পেপারলেস ব্যাংকিং কবে হবে?
আনিস এ খান: আমরা অনেকটা পেপার লেস। আগে আমরা ওয়ার্ক অর্ডার লিখতাম যখন জয়েন করেছিলাম ১৯৮২ সালে। আমি তখন প্রিপেয়ার করতাম। আরেকজন চেক করতো আর আরেকজন তা অ্যাপ্রুভ করতো। আজকাল তো সবকিছ্ ুঅনলাইনে চলে গেছে। এভরিথিং ইন অনলাইন। তারপরে ঠিঠিপত্রও কমে গেছে। সবকিছু ই মেইলের মাধ্যমে হচ্ছে । তাই আমরা অনেকটাই এখন পেপার লেস।
আনন্দ আলো: আপনার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মিডিয়া থেকে। আপনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিউজ প্রেজেন্টার ছিলেন, বিতর্ক করতেন। ব্যাংকিং সেক্টরে মিডিয়ার প্রভাব কতোটা?
আনিস এ খান: অনেক প্রভাব মিডিয়ার। এই যে পাঁচটা ব্যাংক বøাক লিস্টের যে সংবাদ প্রচার করা হলো টিভিতে স্ক্রলে। আসলে এই সংবাদ আমি তো দেখেছি খোঁজ নিয়ে জেনেছি সঠিক নয়। এই সব কাজ কেন করা হয়- না জেনে? তারপরে কিন্তু নিউজে আবার আসলো যে, না- আমাদের কোন ব্যাংক বøাক লিস্টে নেই। এই সব কাজ কেন করা হয়? আমার কোন ডিউ কোন বিদেশ প্রতিষ্ঠানে নেই। আমার প্রতিষ্ঠানের নাম কোথাও আসেনি। তারপরেও দেয়া হলো। আমার প্রতিষ্ঠানের রেপুটেশনের উপরে প্রভাব পড়ে। তাই না জেনে এই সব সংবাদ প্রচার করা ঠিক না।
আনন্দ আলো: ভাল ব্যাংকের সাথে রুগ্ন ব্যাংকের মার্জারিং করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন আইন কানুন তৈরীর প্রক্রিয়া চলছে- এই বিষয়ে আপনার ভাবনা কি?
আনিস এ খান: আপনি আবার আমার প্রিয় বিষয়ে চলে এসেছেন। ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও গ্রীনলেজের মার্জার হয়েছিল আমার হাতে। আমরা তখন শিখেছি কিভাবে মার্জার করতে হয়। এখন ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশে কতো শক্ত অবস্থানে আছে। পরে তারা আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকও কিনে নিয়েছে। এখন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত। ভাল কাস্টমার প্রোফাইল এবং ভাল প্রফিট তাদের এখন। আরেকটা উদাহরণ দেই সবসময়ই- ব্যাংক এশিয়া। তারা আমাদের মতই ২০ বছরের পুরনো ব্যাংক। তারাও তিনটা ব্যাংক কিনে নিলো। এটা করে তারা আমাদের প্রায় ডাবল সাইজ হয়ে গেছে ব্যাংক এশিয়া। তাই সরকার যদি মার্জার করতে দেয় তাহলে ভাল হবে। আমাদের ব্যাংকগুলো বড় হবে। ক্যাপিটাল অ্যাডিকুয়েসির একটা ব্যাপার আছে। ইন্ডিয়াতে খুব ভাল ভাবে হয়ে গেলো। মার্জার তাই আমাদের এখানেও দরকার।
আনন্দ আলো: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাই?
আনিস এ খান: এই প্রশ্ন এখন সকাল বিকাল আমাকে অনেকেই করছেন। ৩৮ বছর কাজ করলাম- এটি খুব স্ট্রেজড ফুল জব। বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, শেয়ারহোল্ডার, মিডিয়া এবং কাস্টমার সবার কাছেই জবাবদিহিতা করতে হয়। দিনে রাতে কাজ করতে হয়। খুব স্ট্রেচড নিতে হয়। বয়স হয়েছে তাই এই চাপ আর নিতে পারি না। আমি তাই কোন নন এক্সিকিউটিভ রোলে চলে যাবো। কোন ব্যাংকের ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর হবো কিংবা চেয়ারম্যান অডিট কমিটি হবো- যেটা তারা আমাকে দেন। এছাড়া আমি যা শিখেছি তা ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শেখাতে চাই।