Home আরোও বিভাগ সিনেমা মায়াবতীর অনেক মায়া!

মায়াবতীর অনেক মায়া!

SHARE

প্রিয় নির্মাতা অরুণ চৌধুরীকে তো বটেই তবে প্রথমেই সাধুবাদ জানাতে চাই প্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে। নতুন সিনেমা মায়াবতির জন্য তিশা একজন অভিনেত্রী হিসেবে যে মায়া ছড়িয়েছেন তা অন্যদের জন্য অনুকরনীয় হতে পারে। আমরা কথায় কথায় বলি আমাদের কিছুই ভালো না। নাটক ভালো না, সিনেমা ভালো না, গান, নাচ আবৃত্তি কিছুই নাকি ভালো না। তবে অন্যেরটা ভালো। পাশের বাড়ির ভাবি অনেক সুন্দর। কিন্তু নিজের আপন ভাবী যে মায়ের চেয়েও বেশি আদর করে তার দিকে কোনো খেয়াল নাই। এই এক ক্ষতিকর মানসিকতা আমাদেরকে পদে পদে বিভ্রান্ত করে চলেছে। আমাদের কোনো গন্তব্য নাই। গন্তব্য থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নাই। আমরা কাজের চেয়ে কথা বলি বেশি। নিজে কতটুকু দায়িত্ব পালন করি অথবা করেছি তা না ভেবেই হুটহাট অন্যের সমালোচনা করি। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন অরুণ চৌধুরীর নতুন সিনেমা মায়াবতীর কথা লিখতে গিয়ে এতো কথা কেন লিখছি? লিখছি এই কারণে যে অরুণ চৌধুরীর নতুন সিনেমার ক্যাম্পেনিং এর জন্য নুসরাত ইমরোজ তিশার ভ‚মিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। আজকাল এমনটি সচরাচর দেখা যায়। না। অভিনেতা, অভিনেত্রীরা নাটক, সিনেমায় অভিনয় করেন। কিন্তু অনেকেই নিজের অভিনীত নাটক দেখেন না। সিনেমা হয়তো দেখেন। কিন্তু সিনেমার প্রচারের জন্য ক্যাম্পেনিং এ নামতে হবে- এটাতো অসম্ভব। ভাই আমার এতো সময় কোথায়? সিনেমায় অভিনয় করেছি এটাই তো যথেষ্ট। তার জন্য আবার ক্যাম্পেনিং এ নামবো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে দর্শককে বলব, প্লিজ আমাদের সিনেমাটা দেখবেন। এতো ঝাক্কি ঝামেলা নিতে পারব না। ভাই স্যরি…
আমাদের শোবিজের বর্তমান বাস্তবতা এমনই। বছরে সিনেমার সংখ্যা কমে গেলেও টিভি নাটকের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। অনেক নাটক, অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী, অনেক পরিচালকেরও জন্ম হয়েছে। কিন্তু চর্চার জায়গাটা পরিস্কার নয়। এক সময় ছিল নাটক, সিনেমার শুটিং শুরুর আগে পরিচালক তার সিনেমার সম্ভাব্য অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করতেন। নিয়মিত মহড়ার ব্যবস্থা থাকতো। নতুন সিনেমা মুক্তির আগে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নিজ দায়িত্বে প্রচার-প্রচারনায় নেমে যেতেন। আর এখন নাটক সিনেমা নির্মাণের আগে মহড়া তো দূরের কথা সম্ভাব্য অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নেপথ্যের কর্মীদের নিয়ে একবার বৈঠক করাও মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। একজন পরিচালক বন্ধু বললেন, একটা নতুন সিনেমা বানাব ভাবছি। প্রযোজকও ঠিক হয়েছে। আমার ইচ্ছে ছবির শুটিং শুরুর আগে সম্ভাব্য অভিনেতা অভিনেত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটা ঘরোয়া বৈঠক করবো। যাতে ছবির শুটিং শুরুর আগে একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারে। প্রায় দুই মাস ধরে চেষ্টা করছি। নায়ককে ধরতে পারলে নায়িকাকে পাওয়া যায় না। আবার নায়িকাকে ধরতে পারলে নায়ককে পাওয়া যায় না। নায়ক-নায়িকা দু’জনই পরামর্শ দিচ্ছেন আপনি সবাই একজোট করতে পারবেন না। তার চেয়ে আপনি ছবির কাজ শুরু করে দেন।
প্রশ্ন উঠতে পারে নায়ক-নায়িকাদের এই যে এতো ব্যস্ততা তা কি ছবিতে অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণে। না, তা মোটেই নয়। এক ধরনের ঔদাসীন্য থেকে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভাবটা এমন ছবির শুটিং শুরুর আগে মহড়ার দরকার কী? এতো সময় কোথায়রে ভাই…

আমাদের প্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার নতুন ছবি মায়াবতির প্রচারের জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছেন। কথায় আছে ‘প্রচারেই প্রসার’। মায়াবতী মুক্তির আগে থেকেই নুসরাত ইমরোজ তিশা তার নায়ক ইয়াশ রোহানকে সাথে নিয়ে ছবির ক্যাম্পেনিং এ নেমে পড়েন। পরিচালকের পাশাপাশি তিশা নিজেও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে স্ব-উদ্যোগে যোগাযোগ করে মায়াবতীর জন্য শুভাশীষ চেয়েছেন। নাম প্রকাশে ইচ্ছুক একটি জাতীয় দৈনিকের বিনোদন বিভাগের প্রধান বললেন, একটি সিনেমার প্রচারের জন্য একজন অভিনেত্রীর প্রানান্তকর চেষ্টা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ছবিটির প্রচারের জন্য তিশা নিজে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সাধারনত কোনো ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী ছবির প্রচার নিয়ে এভাবে মাথা ঘামায় না। কিন্তু তিশা নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মায়াবতীর জন্য দেশের প্রায় সকল প্রচার মাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন। ফলে মায়াবতীর ব্যাপারে অনেকেই মায়া ছড়িয়েছে। এর কৃতিত্ব আমি তিশাকেই দিব। তিশার মতো কোনো নামকরা অভিনেত্রী যখন প্রচার মাধ্যমে নিজেই এসে হাজির হবেন তখন তো আমরা খবর প্রচারকারী লোকজন খুশীই হবো। তাকে নিয়ে রিপোর্ট লেখার প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে যাবে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, নাটক সিনেমার খবর প্রচারের ক্ষেত্রে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই গুরুত্ব দেন না। ভাবটা এমনÑ অভিনয় করেছি এটাই তো যথেষ্ট।
নুসরাত ইমরোজ তিশাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম মায়াবতীর জন্য এই যে এতো দৌড়ঝাপ করছেন, কেন?
উত্তরে তিশা বললেন, একটি নতুন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে একথা তো মানুষকে জানাতে হবে। আমি মনে করি এই কাজটা যেমন পরিচালক, প্রযোজক সহ প্রডাকশন সংশ্লিষ্ট সকলের তেমনি অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরও। আমি একটি নতুন সিনেমায় অভিনয় করেছি দর্শককে তো সে খবরটা দিতে হবে। সবাই মিলে এই জানানোর কাজটা করলে ছবিটার ব্যাপারে দর্শকের আগ্রহ বাড়বে। আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে আমি মায়াবতীর জন্য ক্যাম্পেনিং এ নেমেছি।
পরিচালক অরুণ চৌধুরী স্বয়ং নুসরাত ইমরোজ তিশার ভ‚য়শী প্রশংসা করে বললেন, আমি কৃতজ্ঞ তিশা, রোশান সহ ছবির সকল অভিনেতা-অভিনেত্রীর প্রতি। সত্যিকথা বলতে কী আমার আগের ছবিতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছ থেকে এতো আন্তরিক সহযোগিতা পাইনি। মায়াবতীর প্রচারের জন্য তিশা এখন পর্যন্ত যে ভ‚মিকা পালন করে চলেছেন তা সত্যিই একজন পরিচালকের জন্য, একটি ভালো ছবির জন্য অনেক অনুপ্রেরণার। প্রসঙ্গক্রমে আমি একটি কথা বলতে চাই, সিনেমা নির্মাণ একটি যৌথ প্রক্রিয়া। কাজেই একটি সিনেমার জন্য শুধু পরিচালক, প্রযোজক যেন দুশ্চিন্তায় না ভোগেন। অন্যদেরও দুশ্চিন্তা থাকা উচিৎ। যৌথ ভাবেই একটি সিনেমার প্রচার কর্মসূচি পালন করা উচিৎ। এক্ষেত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশার দৃষ্টান্ত অনেকের কাজেই অনুকরনীয় হতে পারে।