SHARE

ডা. মুরাদ হাসান, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য মন্ত্রণালয়

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে। এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। চ্যানেল আইতে শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর উপস্থাপনায় ৩০০ সেকেন্ড নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানেরই বাছাই করা ১০০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ  পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার নিয়ে আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যার একটি বিশেষ আয়োজন এখন বাজারে। আজ থেকে অনলাইনে শুরু হলো এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত একশজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার…

জয়: ছিলেন স্বাস্থ্যে এলেন তথ্যে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আপনার বনিবনা হচ্ছিল না বলেই নাকি এই রদবদল। এটা লোকেমুখে চাউর আছে। কথাটি কি সত্য?
ডা. মুরাদ হাসান: মোটেও সত্য নয়। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আমার অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উনিও প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আমিও সে বছর প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। সেই থেকেই আমাদের মধ্যে খুবই আন্তরিকতার ও হৃদ্যতার একটা সম্পর্ক ছিল এখনও আছে। আমি প্রথম নির্বাচনের পর ইউএনএইও এর একটা বড় প্রোগ্রাম ছিল ‘বিশ্ব এইড দিবস’ উপলক্ষে। ইউএনএইড’স এর যিনি কান্ট্রি ডিরেক্টর তিনি আমাকে একটা রিক্যুয়েস্ট করলেন আপনি যেহেতু মাননীয় সংসদ সদস্য এবং একজন ডাক্তারও। তাই এবারের বিশ্ব এইডস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় শূন্যের কোঠায় এইডস রুগীর সংখ্যা নামিয়ে আনতে হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে একটি গান তৈরি করতে হবে। পরবর্তীতে সেই গানটির শুটিং হয় মানিকগঞ্জে আমাদের এই মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক এমপি মহোদয়ের এলাকায়। সেই দিন আমরা বেশ আন্তরিকতার সাথে কাটিয়েছি। আমাদের মধ্যে আসলেই ভালো সম্পর্ক রয়েছে। পত্রিকা, মিডিয়ার একটা মনগড়া কথায় নানান বিষয় আমাদের নিয়ে ছড়ানো হয়েছে।
জয়: ২৬ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। সেই তুলনায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনেক কম। তাছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের পুর্ণ একজন মন্ত্রী রয়েছেন। সেখানে আপনার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতাটা খর্ব হয়ে গেলো না?
ডা. মুরাদ হাসান: লাখো কোটি শুকরিয়া আল্লাহ তালার কাছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। আমি কোন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এটা আমার কাছে খুব বড় কোনো বিষয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন, তুমি শুধু এমপি থাকবা, এতেই আমি খুশী।
জয়: তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর থেকে আপনি এ পর্যন্ত কি ভূমিকা রেখেছেন?
ডা. মুরাদ হাসান: শুধু বাংলাদেশেই না সারা পৃথিবী ব্যাপী গুজব একটি বড় সমস্যা। এখন ডিভাইস বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা সমগ্র পৃথিবীকে দেখি। তাই আমার একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে চাইলেই যেকোনো একটি গুজব ছড়িয়ে দিতে পারি। যারা এই ধরনের ইল মোটিভ নিয়ে গুজব ছড়ানোর কাজ করছে সেটা রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক কিংবা অর্থনৈতিক যে কোনো উদ্দেশ্যেই হোক না কেন তা অবশ্যই অপরাধ। তাই এটা নিয়ে আমরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় সহ সকল মন্ত্রনালয় মিলে কাজ করছি। আমরা সকল অনলাইন নিউজ পোর্টালকে রেজেস্ট্রেশন করাই। প্রায় সাড়ে তিন হাজার অনলাইন বাংলাদেশে অবাধে চলচিল। এখন সেগুলো ভেরিফেকেশনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থায় যায়। অবৈধ, অসত্য, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হয়।
জয়: ফেসবুক বা ইউটিউবের কল্যাণে অবাধে অনেক কিছুই করা যাচ্ছে। যেমন একজন একটা ক্যামেরা হাতে নিয়ে ভিডিও করে বলে দিল ডা. মুরাদ হাসান একজন খারাপ লোক। আপনি এটাকে কিভাবে বন্ধ করবেন?
ডা. মুরাদ হাসান: ফেসবুকে যা খুশী তা লিখছি আমরা। এটার সবচেয়ে মজাটা কি জানেন। ফেসবুক অথরিটি সো মাচ ব্রিলিয়েন্ট। তারা একটা সফটওয়্যার বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। আমার মাথার উপর দিয়ে তিন কোটি সাড়ে তিন কোটি ইউজার থেকে ১২শ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এখন যা খুশী তাই ইচ্ছের কারনে আপনার আমার কোনো লাভ হচ্ছে না কিন্তু। ফায়দা নিচ্ছে ফেসবুক অথরিটি। ইতোমধ্যে আমরা তাদেরকে অনেক প্রেশার ক্রিয়েট করেছি বাংলাদেশে যেনো তাদের লোকাল অফিস করে। এটাতে তারা লোকাল একজন অফিসার নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। ফেসবুক অথরিটির পক্ষ থেকে একজন লোকাল অফিসার আছেন যিনি সার্বক্ষনিক শুধু বাংলাদেশের বিষয় নিয়েই আছেন। কোনোরকম উল্টাপাল্টা কিছু হলেই এই দায়ভার ফেসবুক অথরিটিকে নিতে হবে।
প্রচার: ৮ ডিসেম্বর ২০১৯