SHARE

মনিরুল ইসলাম, বিপিএম (বার) পিপিএম (বার), অতিরিক্ত কমিশনার, কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, ডিএমপি

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে। এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। চ্যানেল আইতে শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর উপস্থাপনায় ৩০০ সেকেন্ড নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানেরই বাছাই করা ১০০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ  পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার নিয়ে আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যার একটি বিশেষ আয়োজন এখন বাজারে। আজ থেকে অনলাইনে শুরু হলো এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত একশজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার…

জয়: স্যার সাম্প্রতিক কালে হলি আর্টিজানের রায় হলো এবং ৭ জনের ফাসি হলো তাদের মধ্যে একজনের কপালে আইএস এর টুপি পড়া ছিল। সেটা আসলে কী?
মনিরুল: সেটা আইএস এর টুপি নয় এবং আইএস এমন কোন টুপি প্রবর্তন ও করেনাই। এখানে যে টুপিটি পড়া সেখানে একটি লেখা ছিল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। সেটি লিখার ধরনটি আইএস এর লোগোর মতো এই টুপি টি সে কোত্থেকে পেলো এটার জন্য দুটি ভিন্ন তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
জয়: কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন এর মূল কারন কী?
মনিরুল: এই ইউনিট টি সরকার গঠন করে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি তৎপরতা থেকে বিরত রাখতে এবং জঙ্গীবাদের বিকাশ না ঘটে এবং যদি কোন জঙ্গিবাদ এক্টিভিটি ঘটেও তাহলেও যাতে তার মোকাবেলা করা যায়।
জয়: আমরা যেসব সোশাল মিডিয়া ইউজ করি সেগুলোর সবকিছুই কী আপনাদের নজরে আছে নাকি আমাদের কিছু স্বাধীনতা আছে?
মনিরুল: আমাদের দেশে দিন প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারী বাড়ছে এবং এই বছর শেষে একটি পরিসংখ্যান ও প্রকাশ হবে এবং সে পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ৪ কোটির বেশী। এই বিস্তার টি অনেক র‍্যাপিড। ফলে এতো বিস্তৃত প্ল্যাটফর্মকে নজরদারিতে রাখা কঠিন। কিন্তু যারা নেগেটিভ কমেন্ট করে এবং অবৈধ কাজ করে তাদের নজরদারিতে রাখা হয় এবং প্রমান পেলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
জয়: বিভিন্ন প্রবাসীরা দেশের বাহির থেকে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হয়রানিমুলক সিচুয়েশন ক্রিয়েট করে তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে?
মনিরুল: তারা যে দেশ থেকে এ ধরনের কাজ করছে সে দেশের নিয়মেও এটি একটি অপরাধ এবং আমাদের দেশেও সুতরাং যদি সে দেশের সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকে ডাহলে তাদের ফিরিয়ে এনে তদন্ত করে রায় দেওয়া হবে। যেমন সেফাতুল্লাহ সেফুর রায় দেওয়া হয়েছে এখন তাকে দেশে আনানোর ব্যবস্থা করছে সরকার।
জয়: ব্যক্তিগত জীবনেও কী এতটাই শক্ত মনিরুল ইসলাম?
মনিরুল: না আমি আমার ছেলেমেয়ের সাথে টাইম স্পেন্ড করতে অনেক ভালোবাসি এবং তারাও আমার সাথে অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ তাদের নিয়ে খেতে যাওয়া ঘুরতে যাওয়া সিনেপ্লেক্সে গিয়ে মুভি দেখা এসব প্রায়ই হয় সময় পেলেই এটাই আমি ব্যক্তিগত জীবনে আর অফিসে এর সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জয়: শুনেছি আপনি মা ভক্ত একজন মানুষ এটা কী সত্যি?
মনিরুল: জী আমার মায়ের সাপোর্ট এবং তার একঘেয়েমির কারনেই আজকে এতো পড়াশোনা এত কিছু করা আমি অনেক খারাপ স্টুডেন্ট ছিলাম আমার মার কারনেই পড়াশোনা চালিয়ে যাই।
জয়: মা কে কিছু বলতে চান এই শো তে যা কখনো বলেন নি?
মনিরুল: যেরকম পরিবেশে বড় হয়েছি আমরা সেখানে এত স্বাধীনতা ছিলনা যে মনের কথা বাবা মা কে চাইলেই বলে ফেলবো সুতরাং বলতে চাই যে মা কে অনেক অনেক ভালোবাসি এবং স্ত্রী কেও কখনো বলা হয়নি কিন্তু আমি আমার স্ত্রী কেও অনেক অনেক ভালোবাসি।
প্রচার: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯