SHARE
Uttam-Suchitra

রাজু আলীম
“ভ্যালেন্টাইন ডে” বা “বিশ্ব ভালবাসা দিবস” সারা বিশ্বের প্রেমিক যুগল এর জন্য পরম আরাধ্য একটি দিন। প্রতি বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি একযোগে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হয়।
ঋতুরাজ বসন্তের ১ম দিনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই দিনটি আমাদের সামনে হাজির হয়। পৃথিবীতে যতগুলো বিশেষ দিবস রয়েছে তার মধ্যে তরুণ-তরুণীদের নিকট এই দিনটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রেমিক-প্রেমিকারা এই দিনটিকে ঘিরে সারা বছর জুড়েই কল্পনার জগৎ সাজাতে থাকেন। সকল বাধা-বিপত্তিকে পাশ কাটিয়ে সবাই চায় এই বিশেষ দিবসের কিছুটা সময় প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে কাটাতে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে নানা ধরনের প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা যায়। এই যেমন- নতুন পোশাক, সাজসজ্জা, উপহার সহ আরও কত কিছু।
কিন্তু ভ্যালেন্টাইনস ডে কিভাবে এবং কবে থেকে বাংলাদেশে পালন করা শুরু হয়েছে তা হয়তো অনেকেই আমরা জানি না। আসুন জেনে নেই কীভাবে তার উৎপত্তি? কেনইবা একে ঘিরে ভালোবাসা উৎসবের আহ্বান।
২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন। খৃষ্টানজগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্মরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের অনেক দিবস রয়েছে। যেমন: ২৩ এপ্রিল, সেন্ট জজ ডে, ১১ নভেম্বর, সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪ আগস্ট, সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১ নভেম্বর, আল সেইন্টম ডে, ৩০ নভেম্বর, সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ মার্চ, সেন্ট প‌যাট্রিক ডে।

Razzak-Kobori

পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্মদিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা কসুর করে না। খৃস্টীয় এই ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেইটাইন উৎসব নিষিদ্ধ হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন উৎসব পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন করা থেকে বিরত থাকার জন্যে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়।
বর্তমানকালে, পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করতে, এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়
১৯৯৩ সালের দিকে বাংলাদেশে বিশ্ব ভালবাসা দিবসের আর্বিভাব ঘটে। যায় যায় দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান। তিনি পড়াশোনা করেছেন লন্ডনে। পাশ্চাত্যের ছোঁয়া নিয়ে দেশে এসে লন্ডনী সংস্কৃতির প্র্যাকটিস শুরু করেন। তিনি প্রথম যায় যায় দিন পত্রিকার মাধ্যমে বিশ্ব ভালবাসা দিবস বাংলাদেশীদের কাছে তুলে ধরেন।
তবে, দিন শেষে রাত ১১:৫৯ মি: পরেই ১৪ ই ফেব্রুয়ারি অর্থ্যাৎ “বিশ্ব ভালবাসা দিবস” বা ”ভ্যালেন্টাইনস ডে”। বহু প্রতিক্ষিত তিল তিল করে জামানো ভালোবাসাকে ভালো লাগার প্রিয় মানুষটার সাথে শেয়ার করার দিন। ভালোবাসার মানুষটিকে যুগ যুগ ধরে পবিত্র সম্মানে সম্মনিত করা। আমরা মানুষ হিসাবে সব ভালোকে ভালোবাসি বলেই ভালবাসার মধ্যে আছি। পশ্যবৃত্তি একদিনের ভালবাসা হাজার দিনের ভালবাসাকে অপমান করার শামিল। তাই কোন পশুবৃত্তি নয়, কোন বেয়ায়াপনা নয়। কারণ মানুষ “আশরাফুল মাখলূখাত”। আমাদের আশে-পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আদর-অনাদরে পড়ে থাকা মানুষগুলোর কথা ভাবার বড় প্রয়োজন।
“বিশ্ব ভালবাসা দিবস” বা ”ভ্যালেন্টাইনস ডে” এর মানে এই নয় যে তা জমা করে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী পালন করতে হবে। আমরা মানুষকে ভালোবাসব প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিদিন, প্রতিটি কাজে। তাহলে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিন হিসাবে পবিত্র সম্মানে সমুজ্জ্বল থাকবে।