Home প্রতিবেদন ব্যান্ড: হ্যাশ গানের টানেই প্রাণের মিলন

ব্যান্ড: হ্যাশ গানের টানেই প্রাণের মিলন

SHARE

মোহাম্মদ তারেক: সঙ্গীত হচ্ছে আত্মার যোগ। হৃদয়ের টান। সঙ্গীত হচ্ছে গুরুবিদ্যা। সাধনা ছাড়া সঙ্গীত সিদ্ধি কখনোই সম্ভব নয়। সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে মনের পরিশুদ্ধি মেলে। সঙ্গীত সাধনার পূর্বশর্ত হচ্ছে অনুশীলন। সেদিন কার্তিকের এক বিকেলে আমরা গিয়েছিলাম ‘হ্যাশ’ ব্যান্ডের গানের অনুশীলনে। প্র্যাকটিস রুমে ঢুকেই দেখা হলো গিটারিস্ট শোভনের সাথে। সে সময় তিনি একটি গানের কর্ড বাজাচ্ছিলেন। তার সাথে তাল মিলিয়ে সামির বেইজ গিটার বাজানো শুরু করলেন। রিয়াসাতকে দেখা গেল এই মিউজিকের সাথে হামিং করতে। ধীরে ধীরে একটি নতুন সুর সৃষ্টি হলো। এই সুরের সাথে তাল রেখে ওয়াসিকও আস্তে আস্তে ড্রামে বিট দিতে শুরু করলেন। সৃষ্টি হয়ে গেল একটি নতুন গানের সুর ও কম্পোজিশন। এরই মধ্যে ভোকাল রিয়াসাত নতুন গানের একটি দুটি লাইন গাওয়া শুরু করলেন। জমে উঠল পুরো প্র্যাকটিস রুম। এভাবে প্রায় আধঘণ্টা প্র্যাকটিস সেরে ফেলল তারা। চা-পানের বিরতি দেয়া হলো। এসময় রিয়াসাত জানালেন, বর্তমানে আমাদের সলো অ্যালবামের গানের রেকর্ডিং হচ্ছে। তাদের মধ্যে মিউজিকের বোঝাপড়াটা খুবই ভালো। শো-এর আগে তারা প্র্য্রাকটিসে বসেন। কারণ প্র্যাকটিস না করলে মিউজিক ঠিক থাকে না। মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। প্র্যাকটিসটা অনেক জরুরি বলে মনে করেন তারা। চা- পানের বিরতি শেষ। এ সময়ে তারা বেশ কয়েকটি গান গেয়ে শোনালেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে একে অপরের ভুলগুলো ঠিক করে নিচ্ছিলেন। এইভাবে একটানা অনুশীলনের পর আবার বিরতির ঘন্টা বাজল। জমে উঠল আনন্দ আলোর আড্ডা। জানা গেল তরুণ ব্যান্ড হ্যাশ-এর কথা। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু হয় এ গানের দলটির। ব্যান্ড হ্যাশ এর সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের ছাত্র। গান পাগল কয়েকজন তরুণ গানের টানেই জড়ো হয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ড হ্যাশ। শোভন বলেন, আমাদের সদস্যরা কেউ বুয়েটের ছাত্র, আবার কেউ ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র। পড়াশোনা করতে গিয়েই পরিচয়। ভাবনার মিল ছিল বলেই পরস্পরের মধ্যে ভাব হলো। আমাদের ভাবনাগুলো প্রকাশ করতে চাইলাম গানে গানে। নিজেদের ভালো লাগার গান নিয়ে হ্যাশ ব্যান্ডের জন্ম। এরপর থেকে তাদেরকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক শো করে যাচ্ছেন মঞ্চে। হ্যাশ ব্যান্ডের বর্তমান লাইনআপে রয়েছেন ভোকালিস্ট রিয়াসাত, গিটারে শোভন, বেইজ গিটারে সামির ও ড্রামসে ওয়াসিক। বর্তমানে হ্যাশ তাদের প্রথম একক অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এরই মধ্যে দুটি গানের রেকর্ডিং শেষ করেছে। গানের রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি ব্যান্ড হ্যাশ স্টেজশো এবং মিউজিক ভিডিও নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। গানে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে ভোকালিস্ট রিয়াসাত বলেন, আমার মতে টেকনোলজির ভালো খারাপ দুটো দিকই রয়েছে। টেকনোলজির প্রভাবে আমাদের সাউন্ডগুলো অনেক ভালো হয়। দিনে দিনে গান শ্রুতিমধুর হচ্ছে। এটা অবশ্যই একটা ভালো দিক। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের হাই টেকনোলজির ব্যবহার করে মিউজিক করা হচ্ছে। আবার অনেকে টেকনোলজির ব্যবহার বিকৃতভাবে করছেন এটা খারাপ দিক। সবশেষে প্রশ্ন ছিল হ্যাশ-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। শোভন বলেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে নিজেদের মতো যতটা সম্ভব ভালো গান শ্রোতাদের উপহার দেয়া। আমাদের গানগুলো সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।