Home ৩০০ সেকেন্ড বিএনপি নিশ্চিহ্ন করা কোনো ভাবেই কাম্য নয়!

বিএনপি নিশ্চিহ্ন করা কোনো ভাবেই কাম্য নয়!

SHARE

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সভাপতি, তৃণমূল বিএনপি ও জাতীয় জোট (বিএনপি)

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে। এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। চ্যানেল আইতে শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর উপস্থাপনায় ৩০০ সেকেন্ড নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানেরই বাছাই করা ১০০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ  পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার নিয়ে আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যার একটি বিশেষ আয়োজন এখন বাজারে। আজ থেকে অনলাইনে শুরু হলো এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত একশজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার…

জয়: আপনি বিএনপির জিয়াউর রহমানের হাত ধরে আসা একজন রাজনৈতিক নেতা। আপনি মন্ত্রীসভায় ছিলেন তিনবার, এমপি হয়েছেন বহুবার। দলের একজন নীতিনির্ধারক হয়ে দলকে ছাড়লেন কোন ক্ষোভে?
নাজমুল হুদা: এটাকে ক্ষোভ বলাটা ঠিক হবে না। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পলিসি মেকিং-এ পার্টিকুলারলি আমার প্রয়াত নেতা জিয়াউর রহমান তিনি যখন জীবিত ছিলেন তখন দেশের আপামর জনসাধারনের কল্যাণে যে রাজনীতির দীক্ষা নিয়েছি, আমার কেনো জানি মনে হচ্ছিল একটা সময়ে আমি সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছি। সবকিছু নিয়ে আমার যেনো কেনো মনে হয়েছিল যে, আমি যেখানে আমার সমস্ত কিছু ছেড়ে এই রাজনীতিতে ও দেশকে দেয়ার জন্য নিবেদিত করেছি আমার ঠিক সে পারপাসটা ফুলফিল করতে পারছি না। সেটা ফুলফিল করার জন্য যে রাজনৈতিক দল প্রয়োজন যেখানে আমার সিদ্ধান্ত নির্দ্ধিদায় আমার মতো করে গ্রহণ করতে পারবো সেটা জাতীয় স্বার্থে। আমার যে লক্ষ্য একজন আইনজীবী হিসেবে কিংবা একজন পলিটিক্যাল সায়েন্স এর স্টুডেন্ট হিসেবে দেশে গণতন্ত্রকে সুসংশিত করা এবং একটা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। তেমন একটি দল করাই আমার ইচ্ছা হলো।
জয়: সেই দলের নাম হলো তৃণমূল বিএনপি। সেই দল করে কি লাভ হলো?
নাজমুল হুদা: তৃণমূল কথাটাতেই কিন্তু অনেক কিছু আছে। কমিটি করার সময় যদিও গঠতন্ত্রে লেখা থাকে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের মাধ্যমেই কমিটি নির্বাচিত হবে। কিন্তু দেখা গেছে উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে সেই কমিটি। আমার তৃণমূল বিএনপির গঠনতন্ত্রে এমন একটা প্রবিশন আমি রেখেছি যেখানে একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের থেকে নিয়ে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত শুধুমাত্র সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচত হবে। যারা এই নির্বাচনী সম্মিলন পরিচালনা করবে তাদেরও একটা নির্বাচন কমিশন কিভাবে হবে সবকিছু আমার এই গঠনতন্ত্রে সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
জয়: লোকে বলে বড় কোনো দল ভেঙ্গে যারা এই দল গঠন করেছে তারা ভবিষ্যতে বেশি দূর এগুতে পারেনি…
নাজমুল হুদা: সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমি পিছু ছাড়িনি। আমি হয়তো অতোটা সময় দিতে পারছিনা। আমার সীমাবদ্ধতা রয়েছে অর্থের। ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে নিজস্ব পেশা এবং ছোটখাটো যে ব্যবসা আমি করছি সেখান থেকে যদি কিছু ক্যাশ জোগাড় করতে পারি তাহলে কিছু হবে। আমি কারো কাছে কোনোরকম সাহায্য বা হাত আমি পাতিনি।
জয়: বিএনপি কি অস্থায় আছে?
নাজমুল হুদা: বিএনপিকে এগুতে দেয়া হচ্ছে না। বিএনপি একটি অত্যন্ত জনসমর্থিত দল। অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই। আজকে যেখানে আমরা চাই যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি দেশরত্ন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনি সংবিধানে একটা কথা লিখেছেনÑ রাষ্ট্রের ক্ষমতার মালিক জনগণ, এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই দেশ পরিচালিত হবে। এটা বঙ্গবন্ধুর নিজের কথা। আমাদের আশা এবং আকাঙ্খা হলো বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্ন। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন। সেখানে কিন্তু পরমত সহিষ্ণুতা একটা বড় বিষয়। বিএনপির মতো একটা বড় দলকে নিশ্চিহ্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জয়: দল পরিবর্তনের পর যে আবেগ জড়িত কণ্ঠে কথা বললেন। এই আনুগত্যের কারণ কি?
নাজমুল হুদা: এটা আমার আনুগত্য না। আমি সবসময় অপজিশনকে মূল্য দেয়ার মতো কথা বলেছি। কোনো সময় অপজিশনকে নিন্দা করে খুব বেশি একটা বলিনি।
প্রচার: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯