SHARE

ছবির নাম গন্ডি। ছবিতে বয়সের গন্ডি পেরুনোর গল্প বলেছেন পরিচালক ফাকরুল আরেফিন। প্রসঙ্গ তুলতেই ছবির অন্যতম অভিনেতা সত্যজিতের ফেলুদা খ্যাত সব্যসাচী চক্রবর্তী বললেন, ছবির গল্পটা চমৎকার। সংসারে একটা সময় এমন হয়, বয়স্ক মানুষদের ব্যাপারে কারও কোনো খেয়াল থাকে না। অথচ তাদেরও যে জীবন আছে। তাদেরও ভালোবাসা পেতে ইচ্ছা করে। তারাও ভালোবাসতে চায়। আমরা অনেকে তা ভাবতে চাই না। ভাবটা এমন বয়স্কদের আবার ভালোবাসা কি? একটা গন্ডি বেঁধে দেয়া হয়। বয়স্ক কোনো পুরুষের সাথে তরুণীরে প্রেম যেন বড়ই আশঙ্কার বিষয়। আবার কোনো তরুণ যদি বয়স্ক মহিলার প্রেমে পড়ে যায় তাহলেও সমাজে হইচই পড়ে যায়। অথচ ভালোবাসা ছাড়া তো জীবন চলে না। সবাই ভালোবাসা চায়। ভালোবেসে বাঁচতে যায়। কিন্তু ঐযে গন্ডি, সামাজিক অনুশাসনই একটা গন্ডির সৃষ্টি করে।
গন্ডি ছবিটি দেশের ১৩টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে। ছবি মুক্তির প্রাকালে ঢাকায় ছবির প্রচার কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ফেলুদা খ্যাত সব্যসাচী চক্রবর্তী। চ্যানেল আই এর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানের ফাঁকে কথা হয় সব্যসাচী চক্রবর্তী ও ছবির অন্যতম আরেজন অভিনেত্রী সুবর্না মুস্তাফার সঙ্গে। দু’জনই দু’জনের অভিনয় প্রতিভায় দারুণ মুগ্ধ। সব্যসাচী বললেন, গন্ডির গল্পই আমাকে অভিনয় করতে সাহস যুগিয়েছে। তারপর যখন দেখলাম বাংলাদেশের অসম্ভব একজন গুণী অভিনেত্রী সুবর্না মুস্তাফা অভিনয় করবেন। সাথে সাথে আমি রাজি হয়ে যাই।
সুবর্না মুস্তাফা বললেন, আমি সব্যসাচীর অভিনয়ের গুণ মুগ্ধ একজন ভক্ত। তাঁর সাথে অভিনয় করতে পারাটা অনেক আনন্দের। গন্ডিতে অভিনয় করে আমি তার কাছে অভিনয়ের অনেক কিছুই শিখেছি। ছবির অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিনয় প্রসঙ্গ তুলতেই সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, সবাই দুর্দান্ত অভিনয় করেছে। বাংলাদেশে আফসানা মিমির একটা ছবিতে আমি অভিনয় করেছিলাম। ছবিটা শেষ হয়নি। গন্ডিই বাংলাদেশে আমার প্রথম পুর্নাঙ্গ ছবি। বাংলাদেশের নাটক, সিনেমা দেখেন প্রশ্ন তুলতেই বললেন, সময় পাই না তাই দেখা হয় না।
সবাই আপনাকে সত্যজিতের ফেলুদা বলে চিনে? অনুভূতি জানতে চাই। প্রশ্নের উত্তরে সব্যসাচী চক্রবর্তী বললেন, এতো আমার পরম পাওয়া। পথে হাঁটলে অথবা কোথাও বেড়াতে গেলে সবাই যখন বলে ঐযে ফেলুদা যায়। তখন শুনতে বেশ ভালো লাগে। তবে আমি ফেলুদার পরিচয়ে আর পরিচিত হতে চাই না। অনেক তো হলো আর কতো? বন্ধুত্ব আপনার কাছে কি? প্রশ্ন করতেই বললেন, বন্ধুত্ব হলো বিশ্বাস। বন্ধুত্ব মানেই নির্ভরতা। খুন করে এসেও যেন বন্ধুকে সে কথা বলতে পারি। স্বার্থ থাকলে বন্ধুত্ব টিকে না। স্বার্থহীন সম্পর্কই বন্ধুত্ব টিকে থাকার মূলমন্ত্র। যদিও বর্তমান সমাজে তা দেখা যায় না।
তবে বন্ধু আছে বলেই জীবন এতো সুন্দর।