Home বইমেলা প্রতিদিন বটতলা থেকে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান

বটতলা থেকে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান

SHARE

আবিদ করিম মুন্না: প্রকৃতিতে শীতঋতুর বিদায় ঘণ্টা যখন বাজতে শুরু করেছে তখনই বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা আবারও ফিরে এসেছে। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নেবার জন্য ২০১২ সালের মতো সবাই এবার একটি দিন বেশি পাচ্ছেন।  শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ছাড়াও নানা শাখার বই পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে চলা এই বইমেলাতে পাঠকেরা মনের আনন্দে খুঁজে নিতে পারবেন।  অমর একুশে বইমেলার শুরুটা সেই ১৯৮৪ সালে। ৩২ বছর কেটে গেল। ব্যক্তিগতভাবে দশ বছর আর তথ্য কেন্দ্রেই…। অনেক প্রিয় লেখক, কবি, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী ছেড়ে চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। তাদের পদচারণায় আর কোনোদিন মুখরিত হবে না বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজ, পুকুরপাড়, বহেরাতলা, বটতলা, নজরুল মঞ্চ, রবীন্দ্র চত্বর, লেখককুঞ্জ কিংবা একুশের মূল মঞ্চ। যদি কোনো বই নতুন করে আবারো ছাপা হয় এবং তথ্য কেন্দ্রে জমা দেয়া হয় তবেই সেই লেখকের নাম মেলায় আগত সবার কানে কানে পৌঁছে যাবে একই সাথে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে। নতুন বই প্রচারের জন্য তথ্য কেন্দ্রে বই জমা দেবার একটা প্রচলিত রীতি থাকলেও অনেক নামি প্রকাশক তার দামি প্রকাশনাটি জমাদান করতে এখনও অনাগ্রহী। যার কারণে তথ্য কেন্দ্রে অনেক সময় আমাদের জানা থাকে না সেই বইটির তথ্য।  পুরোনো অনেক পাঠক এখনও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের তথ্যকেন্দ্রে এসেই তাদের প্রিয় লেখক এবং প্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে ফেরেন। সত্যিকার অর্থে একাডেমির অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একুশের স্মৃতিবিজরিত বাংলা একাডেমি থেকে বইমেলা মহান স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ ভিন্ন একটি মাত্রাই যোগ হয়েছে।  নতুন অনেক প্রকাশকেরা আসছেন। কিন্তু মানসম্পন্ন বইয়ের অভাব থেকেই যাচ্ছে। আর ভুলেভরা বইতো রয়েছেই।  ২০১৪ সালের আগে মেলা সম্প্রসারিত হয়ে চলে গিয়েছিল বাইরের ফুটপাতে। এই ফুটপাতের রাস্তা ধরেই ঘরে ফেরার পথে আক্রান্ত হয়েছিলেন বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ূন আজাদ। আর ২৬ ফেব্রশুয়ারি ২০১৫ অভিজিৎ তো চলেই গেলেন চিরতরে।   দেশের নানা অস্থিরতা, হরতাল, অবরোধ কোনোকিছুই প্রাণের বইমেলায় মানুষের আসাকে দমাতে পারেনি। প্রতিদিন মেলা একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়ে এক মাসপর শেষও হয়ে যায়। আবারও অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় ১১ মাসের জন্য।  প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষদিকে মানুষের জোয়ারে বইমেলা বার বার মুখরিত হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক।

লেখক: সহকারী সম্পাদক, ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগ,  বাংলা একাডেমি, ঢাকা।