Home টি-২০ আড্ডা বউ যদি ভালো হয় তাকে ভয় পাওয়া মঙ্গলজনক:  ডাঃ এজাজুল ইসলাম

বউ যদি ভালো হয় তাকে ভয় পাওয়া মঙ্গলজনক:  ডাঃ এজাজুল ইসলাম

SHARE

আনন্দ আলো: এত কাজ থাকতে অভিনয়ে এলেন কেন রে ভাই?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: ভালোবাসি তাই।  অভিনয় করে মনে শান্তি পাই।

আনন্দ আলো: দুর্মুখেরা বলে আপনার কোনটা বাস্তব আর কোনটা অভিনয় বোঝা যায় না।  আপনার মন্তব্য কী?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: যারা বলে তারা আসলে নির্বোধ।  মানুষকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা তাদের ভোঁতা।  এই ভোঁতা অনুভূতির কারণেই তারা বিষয়টা ধরতে পারেনা।

আনন্দ আলো: পরিস্হিতি সামাল দেয়ার জন্য আপনার সাথে কেউ অভিনয় শুরু করলে আপনি কী করেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: যখন বুঝি কেউ অভিনয় করছে তখন খুবই বিরক্ত হই।  তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টা মেনে নিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেই।

আনন্দ আলো: ধরা যাক আপনার কাছে কেউ অভিনয় শিখতে চায়, কী শেখাবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: বলব অভিনয়কে ভালোবাসো।  যদি সেটা পারো তাহলে অভিনয়ের সবকিছু কখন কীভাবে শিখে যাবে টেরই পাবে না।

আনন্দ আলো: আপনাকে অনেকে কৌতুক অভিনেতা বলে, কেমন লাগে?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: কৌতুক অভিনেতা হিসেবে নিজে অবশ্যই গর্ববোধ করি।  তবে যারা আমাকে কৌতুক অভিনেতা বলে আশা করবো তারা বোঝে কমেডি বিষয়টা আসলে কী! যদি বিষয়টা না বুঝে কৌতুককে ভাঁড়ামি মনে করে তাহলে আমার অবশ্যই আপত্তি আছে।

আনন্দ আলো: ধরা যাক আপনি একটা মারাত্মক অপরাধ করেছেন।  শাস্তি হিসেবে আপনাকে একটি কৌতুক বলতে বলা হল।  কোন কৌতুকটি বলবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: হুমায়ূন স্যারের ছোটভাই আহসান হাবীব অসাধারণ কৌতুক বলতে পারেন।  দেখা হলেই কৌতুক শুনিয়ে দেন।  তার কৌতুক শুনে সবার হাসতে হাসতে পেট ফাটার উপক্রম হয়।  এই যাহ্‌ এই মুহূর্তে তো একটাও মনে পরছে না।  একটু অপেক্ষা করুণ মনে পড়া মাত্র একটা ফাটাফাটি কৌতুক আপনাকে শুনিয়ে দেব।  সুতরাং আমার শাস্তি মাফ।

আনন্দ আলো: অনেকে বলেন অভিনয় করলে অভিনয় হয়না।  তাহলে কীসে অভিনয় হয়?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: নাহ আমার তা মনে হয়না।  অভিনয় করলেই অভিনয় হয়।  যেভাবে অভিনয় করলে অভিনয় হতে পারে সেভাবেই অভিনয়টা করা উচিৎ।  আবার অতি অভিনয় ভালো না।  অতি অভিনয় করতে গেলে অভিনয়কে কৃত্রিম মনে হয়।

আনন্দ আলো: ধরা যাক চার্লি চ্যাপলিনের সাথে আপনার দেখা হল।  কী করবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: কী করব সেটা ভাবতে পারছিনা।  আহারে! আমার জীবনের স্বপ্ন যদি চার্লি চ্যাপলিন হতে পারতাম।  চার্লি চ্যাপলিনের একেকটা সিনেমা মানে একেকটা দর্শন।  হাসি শেষ না হতেই চোখে পানি চলে আসবে।  যারা কমেডিকে ভাড়ামি বলে তাদের উদ্দেশ্যে বলব, চ্যাপলিনকে দেখ! অভিনয় কাকে বলে শেখ।

আনন্দ আলো:  বাংলাদেশে মিঃ বিন এসেছেন।  আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে আপনি তার সাক্ষাৎকার নিতে গেছেন।  কী জিজ্ঞাসা করবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: মিঃ বিনকে বলব আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে একটু বলে যান তাদের কোন একটা চ্যানেল যেন আমাকে আপনার মত কালজয়ী একটি ক্যারেক্টার করার সুযোগ দেয়।  বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নামটি হতে পারে মিস্টার মফিজ।  আমি হলফ করে বলতে পারি আপনার চেয়ে অভিনয়ে আমি খুব একটা খারাপ করব না।

আনন্দ আলো: এমন একটি কৌতুক বলেন যা শুনে হাসির চেয়ে কান্না আসবে?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: আবারো কৌতুক! একদিন অপেক্ষা করুণ।  একসাথে দুই কৌতুকই শুনিয়ে দেব।  তার কথামত একদিন পর ফোন করলে জানালেন, ধরুণ আপনিই ডাঃ এজাজ।  আমার হয়ে একটা কৌতুক শুনিয়ে দিন।  এটা শুনে আমার সত্যি সত্যিই কান্না চলে আসলো।  কারণ আমার পেটে বোমা ফাটালেও কৌতুক বের হয় না।  আহা, কী সুন্দর কৌতুকই না শোনালেন ডাঃ এজাজ!

আনন্দ আলো: ধরা যাক আপনাকে মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে।  একজনকে সাথে নিতে পারবেন।  কাকে নেবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: একজনকে নিলে কেমনে হবে! পরিবারের আর সদস্যকে কোথায় রেখে যাব! অবশ্যই আমার বউ আর চার বাচ্চাকে মঙ্গলগ্রহে যাবার অনুমতি দিতে হবে।  সেই সুযোগ না দিলে আমিও যাব না।

আনন্দ আলো: শোনা কথা, আপনি নাকি স্ত্রীকে খুব ভয় পান।  ঘটনা কী?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: বউ যদি ভালো হয় তাকে ভয় পাওয়া মঙ্গলজনক।  অনেকে বলে অমুক লোক তার বউয়ের ভাউড়া।  আমার কথা হল- যদি জ্ঞানী-গুণী ও ভালো বউয়ের ভাউড়া হও তবে সুখী হবে।  সেখানেই তোমার মঙ্গল নিশ্চিত।  আমাকে ভাউড়া বললেও আমি সন্তুষ্ট কারণ আমি মনে করি আমি একজন ভালো মানুষের শাসনে আছি।  আমার অমঙ্গল চিন্তা করে না বলেই সে আমাকে শাসন করে এবং আমি সেটা মেনে নেই।

আনন্দ আলো: লটারিতে এক কোটি টাকা জিতলে কী করবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: দুটো স্বাস্হ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করব।  একটি আমার গ্রাম রসুলপুরে, আরেকটি হুমায়ূন স্যারের গ্রাম কুতুবপুরে।  আমার গ্রামটি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলায় অবস্হিত আর স্যারের গ্রাম ময়মনসিংহ জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় অবস্হিত।  এক কোটি টাকায় দুটো স্বাস্হ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হবে না জানি তবে ভিত্তিপ্রস্তরের কাজটাতো শুরু হবে।  শুরু হলে যেকোন উপায়ে শেষও হয়।  পরে আস্তে আস্তে কাজটাকে এগিয়ে নেব।

আনন্দ আলো: নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাথে আপনার অনেক স্মৃতি আছে।  একটি স্মৃতির কথা জানতে চাই।

T-20-1-2ডাঃ এজাজুল ইসলাম: কতশত যে স্মৃতি! একটার কথা বলি।  ‘শ্যামল ছায়া’ ছবির শুটিং করার কথা ময়মনসিংহে।  নদীর পাশে খুব সুন্দর একটি স্পট ঠিক করা হল যেখানে শুটিং হবে।  শিল্পীদের থাকবার ব্যবস্হা থেকে শুরু করে সবকিছু প্রস্তুত।  আমাকে লঞ্চ ও নৌকার ব্যবস্হা করার দায়িত্ব দিলেন স্যার।  আমি যথারীতি শুটিংয়ের সব যন্ত্রপাতিসহ লঞ্চ পাঠিয়ে দিলাম।  ঘন্টাখানেক পরে লঞ্চ থেকে আমাকে জানানো হল পানি কমে গেছে, লঞ্চ আর যাবে না।  আমি দুঃচিন্তায় পড়ে গেলাম।  মুহূর্তকাল ভেবে নিয়ে আমি লঞ্চকে কাপাসিয়া আসতে বললাম।  ফোনে ফোনে যোগাযোগ করে কাপাসিয়ায় সব শিল্পীদের থাকার ব্যবস্হা করে ফেললাম।  স্যার কিছুই জানেন না।  সবশেষে স্যারকে ফোন দিয়ে বললাম, স্যার একবার কাপাসিয়া এসে ঘুরে যান।  তিনি বললেন, কেন? আমি বললাম, আসেন না স্যার! কোন কারণ নাই।  এমনি আসেন।  স্যার গলার স্বর নিচে নামিয়ে বললেন, ডাঃ তুমি যে কখন কী করনা! মাথায় আসেনা।  স্যার সত্যিই কাপাসিয়া আসলেন।  আমি বললাম, স্যার নদীটা কেমন? স্যার খুব খুশি হয়ে বললেন  অনেক সুন্দর।  এমন সুন্দর জায়গার কথা জানতামই না।  তখন আমি বললাম, স্যার আপনার ছবির শুটিং এখানে হবে।  স্যার বললেন, বল কী? ময়মনসিংহে তো স্পট ঠিক করে আসলাম।  বললাম, স্যার ওখানে আমাদের লঞ্চ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।  তাই এই ব্যবস্হা।  উনি মুচকি হাসলেন।  বললেন-গুড জব।

আনন্দ আলো: রাস্তায় হিমুর সাথে দেখা হল।  সে বলল এজাজ ভাই চলেন খালি পায়ে হাঁটি।  হুমায়ূন স্যার আমাদের হাঁটতে দেখলে নিশ্চয়ই খুব খুশি হবেন।  কী করবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: আমি অবশ্যই হিমুর সাথে হাঁটবো।  আমি বিশ্বাস করি স্যার নিশ্চয়ই আমাদের হাঁটতে দেখছেন ।  হয়তো বলবেন ডাক্তার গুড জব।  হাঁটা স্বাস্হ্যের জন্য ভালো।

আনন্দ আলো: গভীর রাতে মিসির আলী আপনার বাসায় হাজির।  বলল হিমুর সাথে তার ঝগড়া হয়েছে।  আপনি কী বিশ্বাস করবেন?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: নাহ বিশ্বাস করবো না তবে মজা পাব।  যা কখনো হবার না অথবা যেটা কল্পনার বিষয়বস্তু সেটা সবসময়ই মজার।

আনন্দ আলো: সিনেমা দেখেন? বাংলাদেশের সিনেমা সম্পর্কে পাঁচ লাইন বক্তব্য দিন-

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: জীবন থেকে দিনের বেশির ভাগ সময় কাজের পেছনে চলে যায়।  একটু ছুটি পেলে আমি অস্কার বিজয়ী সিনেমা দেখতে বসে যাই।  অকপটেই বলছি দেশের সিনেমার প্রতি আমার তেমন একটা আগ্রহ উচ্ছ্বাস নেই।  আমার জন্যে বাংলাদেশের সিনেমা প্রসঙ্গে পাঁচ লাইন কথা বলা বেশ কঠিন।  তারপরেও বলতে চাই, তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে দেশের চলচ্চিত্র।  স্বর্ণালি যুগের পর কিছুটা সময় থমকে গিয়েছিল সিনেমার জয়যাত্রা।  এখন আবারো শুরু হয়েছে সিনেমার শুদ্ধযাত্রা।  একদিন অবশ্যই বাংলাদেশের সিনেমা অস্কার জিতবে।  সিনেমাপ্রেমীদের জন্য অনেক শুভকামনা।

আনন্দ আলো: অনেকে বলে আমাদের টিভি নাটকের মান ভালো না।  আপনার কী মনে হয়?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: সত্যিই বলে।  আমাদের দেশের অধিকাংশ নাটকেরই কোন মান নেই।  অনুরোধে মাঝে মাঝেই ঢেঁকি গিলতে হয়।  তাই নিজের নাটক দেখার বিষয়েও আগ্রহ পাই না।

আনন্দ আলো: আপনাকে একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী করা হল।  আপনার প্রথম কাজটি কী হবে?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গিয়ে কেউ কেউ করে কাঁদবো এই দুঃখে যে আমার করার কিছুই নেই।

আনন্দ আলো: ডাঃ এজাজ অভিনেতা এজাজকে ১০০ নম্বরে কত দেবে।  অভিনেতা এজাজ ডাঃ এজাজকে ১০০ নম্বরে কত দেবে?

ডাঃ এজাজুল ইসলাম: ডাঃ এজাজ অভিনেতা এজাজকে ১০০তে ৩০ নম্বর দেবে।  তিন নম্বরের জন্য পাস করিনি।  আর অভিনেতা এজাজ ডাঃ এজাজকে ১০০তে ১০০ নম্বর দেবে।  কারণ আমার প্রথম প্রায়োরিটি আমার চিকিৎসা পেশা।  আমি চিকিৎসা পেশার মানবিক বিষয়টা প্রচ ভাবে মনের ভেতরে লালন করি এবং সেটা পালন করতে চেষ্টা করি।  আমার কাছে আসা রোগীরা জানে টাকা আমার কাছে একদমই মুখ্য বিষয় না।