Home টি-২০ আড্ডা প্রেমপত্র দেইনি তবে পেয়েছি!- কর্ণিয়া

প্রেমপত্র দেইনি তবে পেয়েছি!- কর্ণিয়া

SHARE

মোহাম্মদ তারেক
আনন্দ আলো: আপনি কোন কর্ণিয়া?
কর্ণিয়া: আমি গানের কর্ণিয়া
আনন্দ আলো: আপনি নাকি কর্ণিয়াস গ্যাং এর লিডার?
কর্ণিয়া: প্রায় আড়াই বছর ধরে এই লাইন আপ নিয়ে স্টেজ শো করছি। আমার সঙ্গে ওই দলে রয়েছে নাবিল (কি-বোর্ড), জিয়া (বেইস), শুভ (ড্রামস), রনি (সাউন্ড) এবং রাজু (অক্টোপ্যাড)। বেইস গিটারে অদল বদল করে থাকেন স্বপ্ন ও রাজা। আর লিপ গিটারে কখনো শামু থাকেন তো কখনো রাজীব। ফেসবুক মেসেঞ্জারে কর্ণিয়াস গ্যাং নামে আমাদের একটা গ্রæপ আছে। লাইন আপের নাম রাখতে গিয়ে সেই নামটির কথা সবার আগে মাথায় আসে। তারপর সবাই মিলে নামটি চ‚ড়ান্ত করি। গ্যাং শব্দটির মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। গানের পাশাপাশি গ্যাংয়ের সবাই অনেক হৈ চৈ করি, আড্ডা বাজি করি।
আনন্দ আলো: এত কাজ থাকতে গানে এলেন কেন?
কর্ণিয়া: সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে আমি গান লেখা শুরু করি। আমার গানে হাতে খড়ি মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই আমি গায়িকা হতে চেয়েছিলাম। তাই গানে আসা।
আনন্দ আলো: জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় যে কাজটি…
কর্ণিয়া: ২০১২ সালে পাওয়ার ভয়েস প্রতিযোগিতাটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলতে পারেন।
আনন্দ আলো: সিনেমার গানে অভিষেক…
কর্ণিয়া: নিজের সলো অ্যালবাম বের করার আগেই আমি বেশ কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছিলাম। জীবনের প্রথম প্লেব্যাক করি জাকির হোসেনের রাঙামন ছবিতে। এ ছবির স্বপ্ন নামের ‘নীল আকাশ’ শিরোনামের গানটিতে রাজুর সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছিলাম।
আনন্দ আলো: দেশের সিনেমা দেখেন?
কর্ণিয়া: আমাদের দেশের সিনেমা দেখব না মানে। এটা কি বলেন?
আনন্দ আলো: গুন গুন করে যে গান গাইতে ভালো লাগে…
কর্ণিয়া: যেই সময় যে মুড থাকে ওই মুড অনুযায়ী গান গাইতে ভালো লাগে।
আনন্দ আলো: কোনো শিল্পীকে বেসুরে গাইতে শুনলে কী মনে হয়?
কর্ণিয়া: মনে প্রচন্ড দুঃখ পাই। তার গান না শোনার চেষ্টা করি।
আনন্দ আলো: গান আগে না ভিডিও…
কর্ণিয়া: এখন মানুষ গান শুধু শুনতে চায় না, দেখতেও চায়। তাই অডিওর পাশাপাশি ভিজুয়্যালও সময়ের দাবী। কারণ একটি ভিজুয়্যাল গানের গল্পটা আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
আনন্দ আলো: কর্ণিয়ার গানে মডেল কর্ণিয়া নিজেই…
কর্ণিয়া: গানের ভিডিওতে পারফর্ম করা মানে অভিনয় করা। অভিনয়টা বেশ কষ্টের মনে হয় আমার কাছে। গানের ভিডিওতে মডেলিং করা যায় না, অভিনয়ই করতে হয়। অনেক রকম অভিব্যক্তি দিতে হয়। অভিনয় শিল্পীদের কী কষ্টটাই না করতে হয়।
আনন্দ আলো: আপনার কাছে গান কী?
কর্ণিয়া: গান আমার কাছে আত্মা, আমার সত্তা। একজন মানুষের আত্মা ছাড়া যেমন অস্তিত্ব নেই, তেমনি গান ছাড়া আমার কোনো অস্তিত্ব নেই, পরিচয় নেই। যে কোনো পরিস্থিতিতে গান মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মানসিক খোরাক হিসেবে গান কাজ করে। আবার গান মানুষের জীবনকে প্রভাবিতও করতে পারে। দুঃখের সময় যেমন গান মানুষকে সঙ্গ দিতে পারে। আবার আনন্দের সময় গান মানুষকে বিনোদন দিতে পারে।
আনন্দ আলো: গান নিয়ে সামনে যা করতে চান?
কর্ণিয়া: গান দিয়ে মানুষকে সুস্থ করে তুলতে চাই।
আনন্দ আলো: পত্রিকায় যে ধরনের খবর আগ্রহ নিয়ে পড়েন?

কর্ণিয়া

কর্ণিয়া: পত্রিকার বিনোদন পাতাটা আগে পড়া হয়।
আনন্দ আলো: ঘুম, খাওয়া, আড্ডা যে কাজটা বেশি উপভোগ করেন?
কর্ণিয়া: আড্ডা। সকালের নাশতার টেবিলে পরিবারের সবার সঙ্গে আড্ডা দিতে দারুন উপভোগ করি।
আনন্দ আলো: ফ্যাশন বলতে যা বুঝি…
কর্ণিয়া: ফ্যাশন বলতে বুঝি যুগের সঙ্গে তাল মেলানো।
আনন্দ আলো: যে পোশাকে আপনাকে সবচেয়ে বেশি মানায়?
কর্ণিয়া: ছোটবেলা থেকেই আমি ওয়েস্টার্ন পোশাক পরতে অভ্যস্ত। ঘুরতে যাওয়া, আড্ডা, খেলাধুলা কিংবা কনসার্ট, যে কোনো পরিবেশেই আমি ওয়েস্টার্ন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। সালোয়ার-কামিজ, শাড়িও পরি। কিন্তু ওয়েস্টার্ন পোশাকেই বেশি পছন্দ। জিন্সের প্যান্টের সঙ্গে শার্ট কিংবা লং টপস, গাউন, কষ্ট ইত্যাদি মিলিয়ে পরা হয়।
আনন্দ আলো: প্রেমপত্র…. দিয়েছি বা পেয়েছি?
কর্ণিয়া: পেয়েছি অনেক। দেওয়া হয়নি।
আনন্দ আলো: বন্ধুরা যা বলে খ্যাপায়…
কর্ণিয়া: বন্ধুরা সব সময় আমাকে গ্যাং লিডার বলে খ্যাপায়। আমি খুব মজা পাই।
আনন্দ আলো: প্রেম করছি বা করছি না…
কর্ণিয়া: প্রেম করছি না। কারণ প্রেম করার সময় নেই। কর্ণিয়াস গ্যাং নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয়।
আনন্দ আলো: কল্পনা করুন আপনি একটা নৌকায় বসে গান গাইছেন। হঠাৎ নৌকা ডুবে গেল। হাঙর এসে আপনাকে আক্রমণ করলো। তখন কী করবেন?
কর্ণিয়া: কল্পনা করা বন্ধ করে দিব।
আনন্দ আলো: আপনার স্কুল বেলা…
কর্ণিয়া: আমার প্রথম স্কুল বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কুর্মিটোলা। ক্লাস ফাইভ পযন্ত এই স্কুলে পড়েছিলাম। স্কুল জীবনের এমন সব গল্প আছে, যা বলে শেষ করা যাবে না। ক্লাস টুর ঘটনা। আমি তখন সকাল বেলা শিউলি ফুল কুড়াতাম। একদিন সকালে শিউলি ফুল কুড়াতে কুড়াতে ওখান থেকেই বান্ধবীর সঙ্গে ক্লাসে চলে যাই। নাশতার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। ক্ষুধায় সেদিন ক্লাসে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলাম। এরপর থেকে আম্মু ব্যাগে টিফিন দিয়ে দিতেন। আমার খেতে ইচ্ছা করত না। এজন্য আম্মুর বকা শুনতে হতো। এর পর থেকে টিফিন গুলো বন্ধুদের দিয়ে শেষ করতাম। আমি এত শুকনা ছিলাম যে ব্যাগ কাঁধে নিলে আমাকে আর দেখা যেত না। একদিন এক আন্টি আমাকে নিয়ে আফসোস করে বলেছিলেন, মেয়েটা এত ছোট, শুকনা। অথচ তার মা তাকে এত বড় একটা ব্যাগ দিয়ে রেখেছেন। এটা কোনো কথা হলো? কথাটা তিনি যার কাছে বলেছিলেন তিনিই ছিলেন আমার মা।