SHARE

রেজানুর রহমান
এমন বৈশাখ আর কোনো দিন আসেনি। বাঙ্গালীর বার মাসে তের পার্বণ। তার মধ্যে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনের সার্বজনীন উৎসবটিই সেরা। এই একটি দিনে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ এক কাতারে, এক মোহনায় মিলিত হয়। দেশের শহর, বন্দর গ্রামে বসে বৈশাখী মেলা। পরিস্থিতি বিরুপ না হলে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী আজই চৈত্র সংক্রান্তি পালনের মাধ্যমে সারাদেশে শুরু হয়ে যেতো বৈশাখী উৎসব। বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনকে আনন্দের সাথে বরণ করতে শেষ পর্যায়ের মহড়া চলত আজ। দারুণ ব্যস্ত থাকার কথা ছিল দেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষের।
কিন্তু বিরুপ পরিস্থিতির মাধ্যমে এবার প্রাণের বৈশাখ চলে যাবে। হাটখোলা, বটতলায় জমবে না কোনো আনন্দ মেলা। কারণ প্রাণঘাতি ভাইরাস করোনার সংক্রমন থেকে বাঁচতে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের মতো বাংলাদেশের মানুষও এখন ঘরবন্দী জীবন যাপন করছে। বাইরে বের হবার উপায় নেই। জমায়েত ও ভীড় এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। অথচ বাংলা নববর্ষের আনন্দ মানেই লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত। হাসি আর আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে মাতৃভূমি। রঙিন পোশাখে রঙিন প্রজাপতির মতো ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ। কিন্তু এবার সে সুযোগ নেই। ঘরে বসেই চেতনার বৈশাখ পালন করতে হবে।
প্রিয় পাঠক, এজন্য কী আপনার মন খুবই খারাপ? মানসিক কষ্ট পাচ্ছেন? প্লিজ, একদম মন খারাপ করবেন না। বৈরী সময়ের মোকাবিলা করতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকে। কাজেই খুব একটা আনন্দ করার সুযোগ নেই। তাই বলে নতুন বছরের প্রথম দিনে আমরা কিছুই করব না। তা কি করে হয়? বাইরের উৎসব হচ্ছে না বলে কী ঘরের উৎসব হবে না? আসুন নিজেদের বাড়ি, ঘরকেই করে তুলি এক একটি উৎসবের ক্ষেত্র। ঘর সাজাই, ঘর পরিস্কার করি। সেই সাথে মনকেও পরিস্কার করি।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালনের জন্য আজই একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন। পান্তা-ইলিশ খাওয়ার তথাকথিত ভোজন চর্চায় মেতে থাকবেন না। বৈশাখের প্রথম দিনে কে বলেছে পান্তা খেতে? তার চেয়ে বরং যার যা সামর্থ আছে তাকে সম্বল করেই দিনটিকে সাজিয়ে তুলুন। ভোরে উঠে বছরের প্রথম সুর্যটা দেখুন তো কেমন লাগে? পরিবারের সবাই মিলে এক সাথে সকালের নাস্তা সেরে ঘর গোছাতে নেমে পড়ুন। সাথে রান্নার আয়োজনও চলতে পারে। পাশাপাশি ফোনে প্রিয়জনের সাথে কথা বলুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দু’চার লাইন ভালো কথা লিখুন বন্ধুদের জন্য। দুপুরে এক সাথে খাবার খেয়ে বিকেলে জমিয়ে তুলতে পারেন পারিবারিক আনন্দ আড্ডা। যে যা পারে তাই করুন। বয়োজ্যোষ্ঠরা পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে পারেন। ছোটরা কবিতা আবৃত্তি, গান গাইতে পারে। যে অভিনয় পারে সে অভিনয় করে দেখাতে পারে। পারিবারিক এই আড্ডায় সিনেমা দেখার একটি পর্ব থাকতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে আলোচিত কোনো সিনেমা অথবা টিভি নাটক দেখতে পারেন। লুডু, ক্যারাম অথবা দাবা প্রতিযোগিতাও চলতে পারে। একটি ভালো বইয়ের ওপরও আলোচনা হতে পারে। মোট কথা নববর্ষের আনন্দটাকে সাজিয়ে নিন নিজের মতো করে। এতদিন বাইরের আনন্দটা যেমন আপনার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবার ঘরের আনন্দটাকে সেভাবে নিয়ন্ত্রণে আনুন। আপনার ঘরকেই করে তুলুন এক একটি বৈশাখী মেলা!