Home আরোও বিভাগ ইভেন্ট ষষ্ঠ বর্ষে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন  বসেছিল মিলনমেলা

ষষ্ঠ বর্ষে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন  বসেছিল মিলনমেলা

SHARE

প্রকৃতিপ্রেমীদের মেলা বসেছিল সেদিন চ্যানেল আই এর ছাদ বারান্দায়। পরিবেশ রক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর পরিবেশ পদক-২০১৫ প্রাপ্তি এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে মূলতঃ এই মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যার পর পরই দেশের বিশিষ্টজনেরা একে একে চ্যানেল আই এর বারান্দায় উপস্থিত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে শুরু হয় মিলন মেলার আনন্দ মুখর কার্যক্রম। অতিথিবৃন্দের আলোচনা, বড় পর্দায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম প্রর্দশন, এবং সঙ্গীতের মূচ্ছর্¦নায় প্রায় ৩ ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি ভালোলাগার আনন্দ সাগরে ভাসিয়ে নেয় অতিথিদের। প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা, নদী বিষেজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, পাখি প্রেমী ইনাম আল হক, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী, কথাসাহিত্যিক বিপ্রদাশ বড় ুয়া, ইমদাদুল হক মিলন, সঙ্গীত শিল্পী খুরশিদ আলম, চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, আবদুর রশিদ মজুমদার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে অতিথিদের নিয়ে কেক কাটা হয়।  একথা সত্য, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হবার পর গত পাঁচ বছরে প্রকৃতি রক্ষায় দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চ্যানেল আইতে নিয়মিত প্রচার হওয়া ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানটি প্রকৃতি রক্ষায় দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ সাফল্যের এই দিকগুলোই বিশেষভাবে 07_2তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে মুকিত মজুমদার বাবুর অনন্য ভ‚মিকার প্রশংসা করেছেন।  অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত একটি পত্রিকায় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু লিখেছেনÐ “মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। তবে স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়। সবাই স্বপ্ন দেখতে পারে না। চোখ বন্ধ করলেই স্বপ্ন দেখা যায় না। স্বপ্ন দেখতে সাহসের দরকার হয়। মনে বল থাকতে হয়। দুর্বলেরা কখনোই স্বপ্ন দেখতে পারে না। তারা কোনো কাজ করার আগেই ‘আমি পারব না’ এমনি কথা বলে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য এড়িয়ে যায়। দায়িত্ব-কর্তব্য এই জন্য বলছিÐ প্রত্যেকটা মানুষের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি কিছু না কিছু করণীয় থাকে। সেই করণীয় কাজগুলো এড়িয়ে চলে ভীতু, দুর্বল চিত্তের মানুষেরা। তারা সবসময় একটা গ্লাসের অর্ধেকটা খালি দেখতে পায়। অর্ধেক গ্লাসে জল আছে এটা তাদের চোখে ধরা পড়ে না। আমাদের ভেতর অনেকেই আছেন যারা সবসময় মন্দটাকে দেখতে পান। দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে, রাজনীতির ময়দানে একে অপরের প্রতারণার শিকার হচ্ছে, প্রকৃতি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সব কথাই ঠিক আছে। তবে এ কথাও ঠিক যে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।  বাংলা সোনার বাংলা আর বাঙালি বীরের জাতি। আমাদের স্বাধীনতা আছে, আমাদের ভাষা আছে, জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ আছে। আমরা যে জীববৈচিত্র্যে কত সমৃদ্ধ তার একটা উদাহরণ দিতে চাইÐ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭০০ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। পুরো ইউরোপ মহাদেশ বা উত্তর আমেরিকা মহাদেশ যেটি আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে একশ’ গুণেরও বেশি বড় সেখানে কিন্তু পাখির সংখ্যা ৭০০ প্রজাতির মাত্র কিছু বেশি। বাংলাদেশ আয়তনের দিক থেকে অনেক বেশি ছোট হলেও এদেশে পাখির বৈচিত্র্য অনেক। আমাদের দেশের আয়তনের তুলনায় আমাদের দেশ জীববৈচিত্র্যে অনেক সমৃদ্ধ। এ দেশ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। এ দেশ নিয়ে আমরা অহংকার করতে পারি। বুক ফুলিয়ে বলতে পরিÐ আমরা বঙালি, কোনো কিছুতে আমরা কাঙালি নই। আলোর নিচে অন্ধকার থাকে। সেটা হয়ে আসছে সৃষ্টির শুরু থেকে। সে অন্ধকার দূর করা যায় না তা কিন্তু নয়, তবে সেটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সম্মিলিত উদ্যোগেই সেটা সম্ভব। আর সে উদ্যোগটা নিতে কেউ যদি এগিয়ে না আসে তাহলে আমিই প্রথম সে উদ্যোগটা নিতে পারি। হতে পারি এই পথের পথিক আমি একা। তবে মনে রাখতে হবে গণনা শুরু করতে হলে প্রথম সংখ্যা কিন্তু ‘এক’ই আসে। তারপর পর্যায়ক্রমে আসে দুই… তিন… চার… পাঁচ…। কেন আমি মনে করতে পারি না, কাজটা শুরু হোক আমাকে দিয়েই।”