Home প্রতিবেদন পার্থিবের এক যুগে পা

পার্থিবের এক যুগে পা

SHARE

মোহাম্মদ তারেক: জনপ্রিয় ব্যান্ড পার্থিব সাফল্যের সাথে ১১ বছর পার করে ১২ বছরে পা দিয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় ব্যান্ডটি অসাধারণ কিছু গান সৃষ্টি করেছে। পার্থিবের একযুগ পদার্পনের অনুভূতি প্রসঙ্গে দলনেতা রুমন বলেন, ১২ বছর ধরে আমরা মিউজিকে আছি এটা অনেক ভালোলাগার একটা জায়গা। সবচেয়ে বড় কথা আমরা যখন শ্রোতাদের সামনে যাই কিংবা স্টুডিওতে লাইভ শো করি তখন ভক্তদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাই তা দেখে মনে হয় ১২ বছরে আমাদের অর্জন অনেক। আমরা ভালো কিছু গান উপহার দিতে পেরেছি। দর্শক সেই গানগুলোর জন্য আমাদেরকে মনে রেখেছেন। অসম্ভব ভালো লাগে এসব ভেবে। গত ১১ বছরে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে পার্থিব ব্যান্ড গানের মাধ্যমে যে সুনাম ধরে রাখতে পেরেছে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় সার্থকতা বলে মনে করি। ২০০৩ সালে রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে পার্থিব। তারপর গানবাজনা করতে চলে আসে ঢাকায়। এক সময় তারা ইংরেজি গান করত। ঢাকা শহরের কোথাও ইংরেজি গানের অনুষ্ঠান হলেই পার্থিবের ডাক পড়ত। তারাও সেই সুযোগটি নিয়েছিল। তখন ব্যান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন নাদিব হাসান টিটু, কামাল হোসেন রাজা, সোহেল পাটোয়ারী। এক পর্যায়ে যোগ দেন শাহরিনা কামাল, সুমন কল্যাণ, নাবিল সালাউদ্দিন ও নিদা শাকিবা। ইংরেজি গান গাইতে গাইতে ব্যান্ডের সদস্যদের একসময় মনে হলো বাংলা গান গাওয়া খুবই জরুরি। আর তাই পার্থিব বাংলা গান গাওয়া শুরু করে। নিজেদের লেখা, নিজেদের সুর করা গান গাওয়া শুরু করে তারা। এভাবে ব্যান্ড পার্থিব এগিয়ে যেতে থাকে। এখন পার্থিব ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে আছেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভোকাল ও লিড গিটারে রুমন, কীবোর্ড ও ভোকালে রনি, ড্রামস ও পার্কাশনে শুভ, বেজ গিটারে জন সাটন ও গেস্ট গিটারিস্ট সেলিম হায়দার। একযুগে পার্থিব ব্যান্ড বেশ কিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছে শ্রোতাদের। তাদের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে বাউন্ডুলে, চাঁদের আলোয় লাগলো গ্রহণ, মা, ঈমানে বলি ভালোবাসি, নিঝুম রাতে, বাংলাদেশ, উৎসর্গ নিজেকে, আমরা বাঙালি, ভালোবাসা, একা, যাদুকরী ভালোবাসা, বাউন্ডুলে-২, ডুবে আছে মন ইত্যাদি। একসময় শ্রোতাদের মুখে মুখে ছিল গানগুলো। ২০০৫ সালে পার্থিব ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম বের হয়। অ্যালবামের নাম ছিল বাউন্ডুলে। আরশি মিউজিক থেকে অ্যালবামটি বের হয়েছিল। চাঁদের আলোয় লাগলো গ্রহণ, বাউন্ডুলে, মা, নিঝুম রাতে ও যাদুকরী ভালোবাসা গানগুলো শ্রোতাদের মন জয় করেছিল। বাউন্ডুলে অ্যালবামটির জন্য শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড হিসেবে সিটিসেল- চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে পার্থিব। ২০১১ সালে জি সিরিজ থেকে বাজারে আসে তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম, উৎসর্গ নিজেকে। প্রথম অ্যালবামের পর এই অ্যালবামটিও দর্শক নন্দিত হয়। ২০১৪ সালে ১০ বছর পূর্তি করে পার্থিব। সময় টিকে স্মরণীয় করে রাখতে ডাবল সিডির একটি অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল। নাম ‘পার্থিব দ্য ডেফিনিটিভ অ্যালবাম’। যার একটি মৌলিক, আরেকটি তাদের পুরনো গানের রিমেক। অ্যালবামের একটি সিডিতে রয়েছে ১০টি মৌলিক গান। পার্থিব দ্য ডেফিনিটিভ অ্যালবামটির সঙ্গে তাদের ১০ বছরের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। শুরু থেকেই স্টেজশো এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে লাইভ পারফর্ম করে যাচ্ছে পার্থিব। পেরিয়েছে দেশের গন্ডিও। ২০০৯ সালে বড়দিন উপলক্ষে কলকাতার রোয়িং ক্লাব-এ গান করার সৌভাগ্য হয় পার্থিব ব্যান্ডের। সেখানে প্রায় ৪০টি গান করে স্হানীয় শ্রোতার মন জয় করেছিল তারা। পার্থিব ব্যান্ড মেলোডি ধাচের গান বেশি করে। তাদের প্রতিটি অ্যালবামে প্রেম-ভালোবাসা এবং দেশাত্ববোধ নিয়ে গান বেশি থাকে। মিউজিক তাদের পেশা নয়, ভালোবাসা থেকেই তারা মিউজিক করেন। ব্যান্ড সঙ্গীতের বর্তমান অবস্হা কী? এ প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, ব্যান্ড সঙ্গীতের অবস্হা অবশ্যই ভালো। তবে আমাদের অডিও বাজারের অবস্হা খুবই খারাপ। প্রোডাকশন কোম্পানিগুলোর সমস্যা, পাইরেসি সমস্যা, যার কারণে একসময় ব্যান্ডের যে জোয়ারটা ছিল সেই জোয়ারটা এখন নেই বললেই চলে। ব্যান্ডগুলো চেষ্টা করছে অনলাইনে অ্যালবাম বের করার। এরই মধ্যে কিছু অ্যালবাম বের হয়েছে। এটা একটা ভালো দিক। পার্থিবের নতুন অ্যালবামের কী খবর? এ প্রশ্নের জবাবে দলনেতা রুমন বলেন, আমাদের নতুন অ্যালবামের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অ্যালবামের নাম ‘স্বাগত বাংলাদেশ’। অ্যালবামে গান রয়েছে মোট আটটি। এর মধ্যে একটি ইংরেজি গান রয়েছে। গানগুলো হলো ‘স্বাগত বাংলাদেশ’, ‘আমার বাঙালি’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘বাংলার বাঘ’, ‘রঙ’, ‘ওয়েল কাম টু বাংলাদেশ’ ইত্যাদি। সবকটি গানের কথা ও সুর আমার নিজের। সঙ্গীতায়োজন করেছে পার্থিব। খুব শিগগিরই নতুন অ্যালবামটি শ্রোতাদের হাতে তুলে দিতে পারব। সবশেষে প্রশ্ন ছিল পার্থিবের গানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। শুভ বললেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে নিজেদের মতো যতটা সম্ভব ভালো গান করে যাওয়া। আমাদের গানগুলো সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।