Home এক্সক্লুসিভ নেই তারা আজ কোনো খবরে!

নেই তারা আজ কোনো খবরে!

SHARE

একসময় তাদের ছিল আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা। প্রতিদিন ছিল শুটিং আর শুটিং। কিন্তু এই তারকাদের অনেকেই জনপ্রিয়তা রেখেই হঠাৎ করেই যেন হাওয়া হয়ে গেলেন শোবিজ অঙ্গন থেকে। শুধু তাই নয়- অনেক তারকাই বিয়ে করে শোবিজ থেকে বিদায় নিয়েছেন। অথচ, পর্দায় তাদের দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন দর্শক। কিন্তু দর্শকপ্রিয়তা থাকা সত্তে¡ও শোবিজ থেকে দূরে এই শিল্পীরা।

শমী কায়সার
অভিনয়ে অনিয়মিত নব্বই দশকের জনপ্রিয় তারকা শমী কায়সার। ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অভিনয় থেকে। তিনি এখন ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। সংগঠন ও রাজনীতি নিয়েই এখন ব্যস্ত। ‘যুদ্ধশিশু’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার কথা থাকলেও পরে ওই ছবিতেও আর নিজেকে জড়াননি তিনি।

বিপাশা হায়াত
দর্শক গ্রহণযোগ্যতায় মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন নব্বই দশকের আরেক জনপ্রিয় ও দক্ষ অভিনয়শিল্পী বিপাশা হায়াত। স্বামী তৌকীর আহমেদ পর্দার সামনে-পেছনে কাজ করলেও বিপাশা প্রায় অনুপস্থিত। খুব কমই তাকে পর্দায় দেখতে পাওয়া যায়। অভিনয়ের চেয়ে আঁকাআঁকির দিকেই তার আগ্রহ বেশি এখন। পাশাপাশি নাট্য রচনাও করেন।

রুমানা খান
এক সময়ের দর্শকপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী রুমানা খান। বিজ্ঞাপনচিত্র ও টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। প্রশংসাও পেয়েছেন। এর মধ্যে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘সেরা পার্শ্ব অভিনয়শিল্পী’ নির্বাচিত হন রুমানা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শোবিজ অঙ্গন থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। ২০১৫ সালে বিয়ের পর স্বামী এলিন রহমানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন রুমানা। এটি রুমানার তৃতীয়, এলিনের দ্বিতীয় বিয়ে। গত ২২ অক্টোবর এলিন-রুমানা দম্পতির সংসারে নতুন অতিথি এসেছে। এটি তাদের প্রথম সন্তান। রুমানার প্রথম বিয়ে হয় উপস্থাপক ও নির্মাতা আনজাম মাসুদের সঙ্গে। পরে সে বিয়ে ভেঙে গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাজ্জাদ নামে ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে। দ্বিতীয় বিয়ে কয়েক বছর টিকলেও ধীরে ধীরে তাদের মাঝে তিক্ততা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রুমানা-সাজ্জাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর রুমানা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে পরিচয় হয় ব্যবসায়ী এলিন রহমানের সঙ্গে। তারপর সংসার পাতেন এই দম্পতি। বর্তমান সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন রুমানা।

ট‌নি ডা‌য়েস
মডেল-অভিনেতা ও নির্মাতা টনি ডায়েস। ১৯৮৯ সালে নাগরিক নাট্য স¤প্রদায়ে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবনের পথচলা শুরু। ১৯৯৪ সালে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক হয় তার। অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক-টেলিফিল্ম উপহার দিয়েছেন তিনি। এছাড়া কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ২০০৮ সালে ‘মেঘের কোলে রোদ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ডায়েসের বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এটি নির্মাণ করেন নারগিস আক্তার। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে একই পরিচালকের ‘পৌষ মাসের পিরীত’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালের শেষের দিকে স্ত্রী পিয়া ডায়েস ও মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তারপর থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মাঝের এই দীর্ঘ সময়ে শোবিজে খুব একটা দেখা যায়নি তাকে। এখনো অভিনয়ে সরব নন এই অভিনেতা।

ফয়সাল আহসান
নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় মডেল ফয়সাল আহসান। অভিনয় করেছেন টেলিভিশন নাটকেও। তার আরেক পরিচয় তিনি এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের প্রাক্তন স্বামী। বলা যায়, জয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে ফয়সালকে তেমন দেখা যায়নি। শোবিজ অঙ্গনেও তার এখন আর পদচারণা নেই। শুধু তাই নয় শোবিজের আলো থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছেন। বর্তমানে ব্যবসা আর খেলার মাঠে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন ফয়সাল।

শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি
২০০২ সালে আনন্দধারা ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় পঞ্চম রানার আপ নির্বাচিত হন তিন্নি। তারপর র‌্যাম্প মডেলিংয়ের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মিত ধারাবাহিক ‘৬৯’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর অসংখ্য জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটক দর্শকদের উপহার দেন এই অভিনেত্রী। ‘ডুবসাঁতার’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘সে আমার মন কেড়েছে’ চলচ্চিত্র গুলোতে অভিনয় করেন। ২০০৬ সালে অভিনেতা হিল্লোলকে বিয়ে করেন তিন্নি। সেই সংসারে জন্ম নেয় কন্যা ওয়ারিশা। ২০১২ সালে বিচ্ছেদ হয় এই দম্পতির। তারপর শোবিজ থেকে অন্তরালে চলে যান তিনি। ২০১৪ সালে আদনান হুদা সাদ নামের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন তিন্নি। দ্বিতীয় সংসারে আরিশা নামের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে তিন্নির এই সংসারও ভেঙে যায়। ২০১৬ সালে দুটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন তিন্নি। ২০১৭ সালে সর্বশেষ একটি টিভি নাটকে দেখা যায় তাকে। বর্তমানে কন্যা ওয়ারিশাকে নিয়ে কানাডায় বসবাস করছেন তিন্নি।

সমু চৌধুরী
এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরী। ১৯৮১ সালে যশোর উদীচী শিল্পগোষ্ঠীতে যোগ দেন। দীর্ঘ ৮ বছর উদীচীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘সমৃদ্ধ অসীম’। এটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এর মাধ্যমে টিভি অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এ নাটকের মাধ্যমে সবার নজর কাড়েন সমু। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো ‘না’, ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’, ‘রঙের মানুষ’, ‘জীনের বাদশা’, ‘পৃষ্ঠ’, ‘মা তুরাগ নদী’, ‘দূরের আকাশ’ প্রভৃতি। আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ সিনেমায় তাকে প্রথম দেখা যায়। এছাড়া বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে এখন আর অভিনয়ে সরব নন। দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকার পর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় একটি টিভি নাটকে দেখা যায় তাকে। বর্তমানে অনেকটা অভিমান করেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেতা।

বিন্দু
লাক্স তারকা বিন্দু। লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা এ মডেল-অভিনেত্রী বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্র- তিন মাধ্যমেই কাজ করেছেন। তবে নাটকেই তিনি সরব ছিলেন বেশি। ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন আলোচনায় আসেন। এরপর আরো কিছু ছবিতেও তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়। ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিয়ে করে সংসারী হয়ে যান। এরপর থেকেই আড়ালে চলে যান বিন্দু। কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিল তার সেই সংসারেও বাজছে বিচ্ছেদের ঘণ্টা। তবে মিডিয়ার কোথাও এখন আর দেখা যায় না বিন্দুকে।

অগ্নিলা
‘কথাবন্ধু মিথিলা’ নাটকের সেই অগ্নিলা। ২০০১ সালে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের বিপ্রতীপ নাটকে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে নতুন অবয়বে ফেরা। তবে মিডিয়ায় অনিয়মিত হওয়ার কারণে নাম শুনে অনেকেই তাকে ভুলতে বসেছেন। অসংখ্য টিভি নাটকের পাশাপাশি টিভিসিতেও পারফর্ম করেছেন। তিনি বর্তমানে কানাডা ও ঢাকা-উভয়স্থানে বসবাস করেন।

মোনালিসা
মোজেজা আশরাফ মোনালিসা। তিনিও বিয়ে করে সংসার গড়েছিলেন এক আমেরিকা প্রবাসীর সঙ্গে। তারপর গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করে তিনি নিজেও পাড়ি জমান আমেরিকায়। স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের ব্যাপারটি মীমাংসা করতেই তিনি গিয়েছিলেন। কিন্তু দেড় বছর হয়ে গেলেও এখনো ফেরার নাম নেই তার। জানা গেছে কখনো চ্যানেলের চাকরী কখনো পার্লারে চাকরী করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই তারকা।

রিয়া
মডেল, নৃত্যশিল্পী, উপস্থাপিকা এবং অভিনেত্রী রিয়া। ২০০৮ সালে বৈমানিক মিনহাজকে বিয়ে করেন; এরপর হয় বিচ্ছেদ। ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক প্রবাসী ইভানকে বিয়ে করে অভিনয়ে ইতি টানেন এই তারকা।

পল্লব চক্রবর্তী
এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা পল্লব। বিটিভিযুগীয় সময়ে হয়েছেন অসংখ্য কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপনের মডেল। মডেলিং থেকে উঠে আসা পল্লব এরপর একে একে অভিনয় করেছেন অসংখ্য প্যাকেজ নাটকে। ২০১৪ সালে তিনি ‘হঠাৎ দেখা’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরেন। তবে অভিনয়ে নিয়মিত নন।

অনিয়মিত আরও যারা…
জনপ্রিয়তায় চূড়ান্ত থাকা অবস্থায়ই অভিনয় ছেড়েছেন বা অভিনয়ে অনিয়মিত শান্তা ইসলাম, কান্তা, কুমকুম হাসান, লুৎফুন নাহার লতা, নাফিজা জাহান, হাসিন রওশন জাহান, রুমানা মালিক মুনমুন, সায়না আমিন, মেহবুবা মাহনুর চাঁদনী, মডেল ও অভিনেত্রী মিলা হোসেন, শান্তা ইসলাম, আলভি, সুরাইয়া হুদা রাত্রী, হুমায়ূন আহমেদের আবিষ্কার হোসনে আরা পুতুল, লাক্স তারকা রাখি, হাসিন রওশন জাহান, তমালিকা কর্মকার সহ অনেক তারকাই। এখন মিডিয়ার কোনো কাজ কিংবা খবরের শিরোনামে তাদেরকে তেমন একটা দেখা যায় না।