Home বইমেলা প্রতিদিন দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা

দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা

SHARE
Kobita

মোহাম্মদ তারেক: গত একত্রিশ বছর ধরে বাংলা কবিতার অন্যতম বৃহৎ আয়োজন জাতীয় কবিতা উৎসব দিয়েই শুরু হয় ফেব্রæয়ারি মাস, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একশে ফেব্রæয়ারি। যা বার বার আমাদের অনুপ্রেরণা দেয় প্রতিবাদী হতে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গৃহীত সেই একুশকে দৃপ্তশপথে স্মরণ করে এবারের কবিতা উৎসবের শ্লোগান ‘দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা’। কবিতা জ্ঞান, ভালোবাসা ও শিল্পের সম্ভার। কবিতা ভাষাকে পরিশীলিত ও শুদ্ধ করে। এমন কি প্রকৃতিকেও। আমরা বিশ্বাস করি কবিরা সত্য ও সত্তাকে প্রকাশ করে মেলে ধরে সময়, কাল ও পরিবেশে।
জাতীয় কবিতা পরিষদ এবং জাতীয় কবিতা উৎসব বিশ্বাস করে দেশহারা মানুষের বিজয় অনিবার্য। জয় হোক বাস্তচ্যুত মানুষের। নির্বিঘœ হোক দেশত্যাগী মানুষের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। কবিদের সুন্দর স্বপ্ন সকলের চোখে উদ্ভাসিত হয়ে আমাদের প্রিয় পৃথিবী শান্তিময় ও সমৃদ্ধহোক। জয় কবিতার… এই ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে গতকাল শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব ২০১৮। এবার জাতীয় কবিতা উৎসব আজ পৌঁছে গেল তার পথ-পরিক্রমার ৩২তম বছরে। ১৯৮৭ সালের এই দিনেই শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা ¯েøাগানে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে কবিদের সম্মিলিত একটি প্রতিবাদের ফসলই হলো আজকের এই জাতীয় কবিতা উৎসব। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসানের সমাধি এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পাস্তবক অর্পণ শেষে উৎসব কেন্দ্রে জাতীয় সংগীতের সাথে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় কবিতা উৎসব ২০১৮। উদ্বোধন করেন কবি আসাদ চৌধুরী। এরপরই শুরু হয় কবিতার উৎসব-আনন্দ। এই আনন্দের সূচনা হয় একুশের গান এবং তারপরই কবিতা উৎসবের গান-কবিতা জেগেছে বাংলার পথে, জেগেছে নগরে গ্রামে কবিতা জেগেছে দেশহারা যতো মানুষের সংগ্রামে, মানুষের সংগ্রামে। উৎসবে স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, কবিতায় গান, সেমিনার ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ভিন্নভাষী কবিদের জন্য অন্যভাষার কবিতা শিরোনামে একটি আলাদা অধিবেশন পর্ব রয়েছে। পৃথিবীর ১০টি দেশের কবি, সাহিত্যিক এবার জাতীয় কবিতা উৎসবে যোগ দিয়েছেন। ফলে কবিদের এক মহামিলন মেলায় পরিণত হয়েছে জাতীয় কবিতা উৎসব।