Home শীর্ষ কাহিনি প্রচ্ছদ মুখ তিন মাসের জন্য এসেছিলাম ২০ বছরেও ফিরতে পারছি না -শাকিব খান

তিন মাসের জন্য এসেছিলাম ২০ বছরেও ফিরতে পারছি না -শাকিব খান

SHARE
Shakib-Khan

আনন্দ আলো: ১৯৯৯ সালের শাকিব খান আর আজকে ২০১৯ সালের শাকিব খান, মাঝখানে ২০টা বছর। কি ভাবে মূল্যায়ন করবেন এই সময়টাকে?
শাকিব খান: শুরুটা তো ভালই ছিল। সোহান ভাইয়ের হাত ধরে ফিল্মে আসা। নিজের ব্যাপারে মূল্যায়ন কিভাবে করব জানি না। এই ২০ বছরে ইন্ডাস্ট্রির অনেক রকম চড়াই উৎরাই দেখেছি। খারাপ সময়। আবার একটু ভালো সময়, আবার অনেক দূর্যোগময় সময়, আবার অনেক খারাপ সময়… পৃথিবীর আর কোনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে এতটা চড়াই উৎরাই পার হতে হয়নি বলে আমার ধারনা। আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এক ধরনের হতভাগা হয়ে গেছে! আমার ২০ বছরের কথা যদি ধরেন ৫ বছর তো একটা দুঃসহ সময় গেছে। শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, ইন্ডাস্ট্রির সবার জন্য। যেমন, পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রী টেকনিশিয়ান সবার জন্য কঠিন সময় ছিল সেটা। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সাথে সাথে পুরো দেশের মানুষের জন্য একটা দুর্ভাগ্যের সময় গেছে। এক সময় ইন্ডাস্ট্রিটা মেধা শূন্য হয়ে গেল… ভালো প্রডাকশন হাউস গুলো বন্ধ হয়ে গেল, লজ্জায় ভালো পরিচালকরা চলে গেলেন। ভালো শিল্পীরা কাজ করা বন্ধ করে দিলেন… একটা বড় দুর্যোগ এসেছিল আমাদের সবার জন্য। আবার একটা ভালো সময় এলো… ডিজিটাল যুগে পড়লো আমাদের চলচ্চিত্র। তবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে দূর্যোগের মধ্যেই সময় পার করতে হচ্ছে। ২০ বছর আগে আমি যে পরিবেশে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছি সেই পরিবেশটাও যদি থাকতো… কচ্ছপের মতো করেও যদি আগাতো… তাহলেও আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু বিরাট একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছাত এবং অবশ্যই সেটা টালিউডের চেয়েও একটা বড় ইন্ডাস্ট্রি হতো। কিন্তু মাঝখানে যে প্রতিবন্ধকতা গুলো এসেছে তার জন্য সঠিক জায়গায় গিয়ে পৌঁছাইতে পারে নাই। এখনও যে দূর্যোগটা চলছে সেটা থেকে উত্তরনের চেষ্টা হয়তো আমরা করে যাচ্ছি… কিন্তু এভাবে উত্তরণ সম্ভব হবে কিনা অথবা কখন কিভাবে হবে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয়। তখন কি হবে আমি জানি না। এমন অবস্থায় আসলে নিজেকে আর কিভাবে মূল্যায়ন করবো? একটি ইন্ডাস্ট্রি কি শুধু একজন ব্যাক্তি বা নায়কের উপর দাঁড়াতে পারে? যদি বাকি সবকিছুর অবস্থা নাজুক হয়।
আনন্দ আলো: এটাতো ইন্ডাস্ট্রির কথা বললেন। আমরা আপনার কথা শুনতে চাই। আপনার কথা বলেন?
শাকিব খান: আমি তো ইন্ডাস্ট্রির বাইরের কেউ না। আমার ঘরের ছাদ যদি ফুটো থাকে তাহলে তো আমি সেই ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারব না। বৃষ্টি আসবে, ঘরটা ভেঙ্গে যাবে, আমি ঘুমাবো কোথায়, থাকব কোথায়? ভাঙ্গা ঘরে কেউ শান্তিতে থাকতে পারে না। ভাঙ্গা চালা নিয়ে তো আর শান্তিতে থাকা যায় না। ইন্ডাস্ট্রি যদি আরও অনেক উপরে থাকতো তাহলে আমাদের অবস্থানও আরও অনেক উপরে থাকত।
আনন্দ আলো: এরকম ইন্ডাস্ট্রি… আপনার কথায় ভাঙ্গা ঘর, সেখানে আপনিই তো একছত্র অধিপতি, বর্তমান অবস্থাটা এরকম যে বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি মানেই শাকিব খান… দীর্ঘ সময় ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিটাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সেটা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
শাকিব খান: একক ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছি এটা ঠিক নয়। তবে আমি আমার জায়গা থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং আজীবন চেষ্টা করে যাব। কারণ আমি শাকিব খান তো এই ইন্ডাস্ট্রির কারনেই। সো… আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করে যাব আমার কাজ দিয়ে। যেমন দেখেন পাশের দেশের অনেক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটা সময় অনেক ছোট ছিল। এখন তারা অনেক বড় হয়েছে, এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে আমরা সেখানে যাওয়ার কল্পনাও করতে পারছি না। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি… আজীবন চেষ্টা করে যাব। আমি একটা ভ‚মিকা রাখতে চাই যাতে পরবর্তি প্রজন্ম বলতে পারে যে আমি এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য কিছু একটা করেছি। যার ফলটা তারা ভোগ করছে।

Shakib-Khan-Bubli

আনন্দ আলো: আমরা যদি বাংলা সিনেমার কথা বলি, যেমন কলকাতার মহানায়ক উত্তম কুমার… তার কিন্তু চলচ্চিত্রে আসার গল্পটা সহজ ছিল না। তিনি কন্টকাকীর্ন পথ বেয়েই চলচ্চিত্রে পা রাখেন এবং উত্তম কুমার হয়েছেন। আমাদের নায়ক রাজের অবস্থাও ছিল তেমনই… পরিবার নিয়ে ঢাকায় আসা, কষ্টের জীবন শুরু। ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে তারপর হলেন নায়করাজ… কিন্তু শাকিব খানের পথটাতো বোধকরি এমন ছিল না…
শাকিব খান: (ভেবে নিয়ে) আমার জীবনেও চড়াই উৎরাই ছিল। বহুবার চড়াই উৎরাই পার হতে হয়েছে। যাদের কথা বললেন তাঁরা এসে অনেক মেধাবী পরিচালক পেয়েছেন। বড় বড় প্রডাকশন হাউস পেয়েছেন। আমি সেটা পাইনি। আমি যখন চলচ্চিত্রে পা রাখি তখন একটা চরম দুঃসময় পার করছিলো আমাদের চলচ্চিত্র। অশ্লীল ছবি ঢুকে গেছে। যাদের কথা বললেন সম্মানের সাথেই বলছি তারা তো এরকমের পরিস্থিতির মোকাবেলা করেন নাই। এই ধরনের ডিজাস্টার উত্তম কুমারও পাননি, আমাদের রাজ্জাক সাহেবও পাননি। তারা সুস্থ সুন্দর একটা পরিবেশ পেয়েছিলেন। সেই দিক থেকে আমি বা আমার সাথে যারা ছিল, এখনও আছে, এখনও কাজ করে, যারা ভালো ছবি চায় তাদের প্রত্যেককে এতটাই চড়াই উৎরাই পার করতে হয়েছে যে… ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে এতো চড়াই উৎরাই পার করা যায় না। এটা কোনো রাজনৈতিক অঙ্গন নয় যে আমি শুধু সংগ্রামই করে যাব। এটা হচ্ছে শিল্প সংস্কৃতির সব চেয়ে বড় মাধ্যম। এখানে সুন্দর সুন্দর গল্প নিয়ে কথা হবে, কবিতা নিয়ে কথা হবে, গান নিয়ে কথা হবে… এখানে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে। এখানে বন্দুক দিয়ে যুদ্ধ হবে না। যুদ্ধ হবে ফুল দিয়ে, যুদ্ধ হবে ভালোবাসা দিয়ে, ভালো কাজ দিয়ে অন্যের মন জয় করার যুদ্ধ হওয়া উচিৎ এখানে… চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষেরা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই তাদের কাজ দিয়ে পৃথিবী জয় করার ক্ষমতা রাখে। আমেরিকা বলেন অথবা বলিউড ইন্ডাস্ট্রি বলেন… তারা কি এখানে এসে বসে আছে? অথচ তাদের কালচার এখানে চলে? কাজেই এতো সংগ্রাম করে তো ভাই ভালো কাজ করা যাবে না। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ আসলে দুর্বিসহ হয়ে যাচ্ছে সবার জন্য… আমি আমার জন্য ভাবি না। সামনে যারা আসছে বা আসবে তাদের জন্য খুবই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। কি পরিবেশ রেখে যাচ্ছি তাদের জন্য?
আনন্দ আলো: আপনি আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অনেক কথাই বললেন। আপনার ২০ বছরের সংগ্রাম সেটা কি মসৃন ছিল নাকি খুব বেশি কন্টকাকীর্ন ছিল?
শাকিব খান: ভয়ংকর কঠিন ছিল। এই ২০ বছরে আমি শাকিব খান প্রিয় অপ্রিয় অনেক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি। অনেক সেক্রিফাইজ করেছি। এই ইন্ডাস্ট্রির অনেক ভাঙ্গাগড়া দেখেছি। একটা ইন্ডাস্ট্রিকে অসহায় হতে দেখেছি। পথটা খুবই কঠিন ছিল। তবে একটাই প্রাপ্তি আমার ২০ বছরে দাঁড়িয়ে চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছি। ইন্টারন্যাশনালি কাজের একটা স্কোপ তৈরি হয়েছে। দেশে মাল্টিপ্লেক্সের সংখ্যা বাড়ছে, মাল্টিপ্লেক্সের জন্য সবাই চেষ্টা করছে। ভালো পরিবেশে সিনেমা দেখার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে… সংখ্যায় কম হলেও ভালো সিনেমা নির্মানের চেষ্টা চলছে। বিরাট আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বর্তমানের এই ধারাটাও যদি চলতে থাকে… আর যদি কোনো ডিজাস্টার না হয়… সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই প্রার্থনা করবো যে… সরকারের কাছে এইটুকু দাবী করবো যে… আর যেন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খারাপ সময় না আসে। দুই চারটা খারাপ মানুষের কারণে আমাদের এই প্রিয় ইন্ডাস্ট্রি আর যেন ক্ষতি গ্রস্থ না হয়। তারা যেন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে আর কোনো ট্র্যাপে ফেলতে না পারে। এই দিকটা যদি সরকার একটু মাথায় রাখে তাহলেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি আবার দাঁড়িয়ে যাবে। টাকা পয়সার কোনো সাহায্য লাগবেনা। কোনো সাহায্যের দরকার নাই। ব্যক্তিগত ভাবে ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে। শুধু সহায়তা প্রয়োজন। শুধুই একটা প্রার্থনা আর কোনো ডিজাস্টার যেন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে না আসে… যারা ভালো কাজ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে… ভালো কাজ করছে তাদেরকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কাজের মানুষ গুলোকে প্রায়োরিটি দাও, কাজ করতে দাও তাদেরকে। এটা করা গেলে আমাদের প্রিয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে একটা সুদৃঢ় অবস্থানে গিয়ে দাঁড়াবে।
আনন্দ আলো: আপনি এই শহরের সাধারন একজন যুবক ছিলেন। আপনার বয়স তখন কত ছিল?
শাকিব খান: আমি তো ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখি…
আনন্দ আলো: ধরেন আঠার বছর…
শাকিব খান: (মৃদু হেসে) এরকমই…

আনন্দ আলো: সাধারন একজন যুবক থেকে আপনি ক্রমশঃ চলচ্চিত্রে একজন সুপার স্টার হয়ে উঠলেন এবং এখন একজন প্রযোজকও বটে… একক অবস্থানে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ দিন একটা ইন্ডাস্ট্রিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন… নিজের এই পরিবর্তনটাকে কিভাবে দেখেন?
শাকিব খান: (ভেবে নিয়ে) আমার স্ট্রাগলটাকে উপরওয়ালার ডাইরেক্ট দান মনে করি। বিশেষ কিছু করেছি বলে আমার তা মনে হয় না। সাধারন একটা ছেলে থেকে এত কিছু পেয়েছি যে… অবাক, অবিশ্বাস্য মনে হয়। যখন কলেজে যেতাম, পকেট খরচ, সাধারন মানের লাঞ্চের জন্যও টাকা পেতাম না। সেই জায়গা থেকে এসে এখানে দাঁড়াতে পেরেছি। সত্যিই তা অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। ৩ মাসের জন্য এসেছিলাম সিনেমা করতে। ২০ বছরেও তো ফেরা হলো না। ইন্ডাস্ট্রি আমাকে ভালো বেসেছে, পছন্দ করেছে, অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছে, সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট হলোÑ দর্শকরাও আমার পাশে ছিল। তারাও আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমার একটা ছবি হয়তো ফ্লপ করেছে তবুও তারা পাশে ছিল, প্রশংসা করেছে। তখনই মনে হয়েছে যে আমাকে এখানেই থাকতে হবে। আরও ভালো কাজ করতে হবে। একজন সাধারন যুবক থেকে আমি শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক ভাবেও নিজেকে চলচ্চিত্রে নির্ভরযোগ্য হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছি। একথা ভাবলে খুবই অবাক হই। এজন্য সৃষ্টিকর্তাকে অনেক কৃতজ্ঞতা।
আনন্দ আলো: যখন এলেন এই ইন্ডাস্ট্রিতে… ১৮ বছরের তরুণ। মাসুদ রানা ছিল আপনার নাম। মাসুদ রানা কি স্বপ্ন দেখেছিল যে সে একদিন দেশের আমজনতার স্বপ্নের মানুষে পরিণত হবে?
শাকিব খান: না, কখনই ভাবিনি যে এমন কিছু একটা হবো। একটা সিনেমা করতে এসেছিলাম, ভালো লেগে গেল। থেকে গেলাম। এমন একটা জায়গায় দাঁড়াব, কল্পনাতেও ছিল না।
আনন্দ আলো: যাত্রাটা কিভাবে শুরু হয়েছিল?
শাকিব খান: এফডিসিতে শ্যুটিং দেখতে গিয়েছিলাম। ডান্স শেখানো হচ্ছিলো। আজিজ রেজা ছিলেন ডান্স ডিরেক্টর, উনার একটা একাডেমি ছিল। সেখানে ডান্স শেখানো হতো… তার সাথে পরিচয় সূত্রে এফডিসিতে আসা। শ্যুটিং দেখব। কয়েকজন বন্ধুও সাথে ছিল। হঠাৎ দেখি একজন আমার ছবি তুললেন। আমাকে বললেন, আপনি কি সিনেমার নায়ক হবেন? একদিন এসে ছবি গুলো নিয়ে যাবেন। পরে একদিন ছবিগুলো নিতে এলাম। হঠাৎ একজন জিজ্ঞেস করলেন, তুমি হিরো হবে? থাকো কোথায়? তোমার বাবাকে নিয়ে একদিন আসো। বাসায় গিয়ে সব বললাম। তারপর তো কিভাবে কি হয়ে গেলো। আসলে এফডিসিতে ঘুরতে এসেই আমি হিরো হয়ে যাই। ঘুরতে ঘুরতেই হিরো…
আনন্দ আলো: প্রথম ছবি তো ‘অনন্ত ভালোবাসা’?
শাকিব খান: না, না প্রথম ছবি ‘সবাই তো সুখি হতে চায়’। তবে প্রথম মুক্তি পায় অনন্ত ভালোবাসা।
আনন্দ আলো: মাসুদ রানা থেকে শাকিব খান। চলচ্চিত্রে ২০ বছর। সাফল্যের মূল্য মন্ত্রগুলো কি? দশটি ধাপের কথা যদি উল্লেখ করতে বলি, সেটা বলা সম্ভব?
শাকিব খান: (ভেবে নিয়ে) দশটা ধাপ বলতে… নির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে… তবে একটা ব্যাপারে আমি খুব সচেতন ছিলাম, যেহেতু পড়াশুনা ‘হাফ ডান’ রেখে চলচ্চিত্রে এসেছি। কাজেই আমাকে এখানে প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে। চলচ্চিত্রে আসার ব্যাপারে আমার বাবা মোটেই রাজী ছিলেন না। মা রাজি ছিলেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলাম। মাকে রাজি করানো সহজ হয়ে যায়। মা-ই বাবাকে রাজি করান। একটা চলচ্চিত্রে অভিনয় করব। সব মিলিয়ে ৩ মাস লাগবে। কাজটা করুক। তারপর না হয় দেখা যাবে… আমি ছবিতে অভিনয় শুরু করলাম। ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা তখন মোটেই ভালো ছিল না। অশ্লীল অবস্থা… পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে আমার মনের ভিতরে একটা ভয় ঢুকে গিয়েছিল। দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম… পড়াশুনার ক্ষতি করে আমি তো চলে এলাম, মায়ের সাপোর্ট ছিল। আমি যদি এখানে কিছু একটা করতে না পারি তাহলে আমার মা পরিবারের কারও কাছে মুখ দেখাতে পারবেন না। ছেলেটা ভালো ছাত্র ছিল। সায়েন্সে পড়তো। পাস করলে হয়তো ভালো চাকরি করতো… অথচ ছেলেটার জীবনটা তার মা-ই নষ্ট করে দিল। লাই দিয়ে ছেলেটার মা-ই তার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে দিল। ছেলেটা এখন বেকার। এসব ভাবতে গিয়েই আমি একটা পাওয়ার খুঁজে পেলাম। পরিবারের কাছে আমার মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে। মায়ের পরাজিত মুখ আমি দেখতে চাই না। কক্ষনো না। যেহেতু সিনেমায় ঢুকেই পড়েছি। কাজেই আমাকে ভালো কাজ করতে হবে। এই মানসিক শক্তিটাই আমাকে চলচ্চিত্রের আঙিনায় প্রেরণা যুগিয়েছে। এজন্য মায়ের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। লাভ ইয়্যু মা…
আনন্দ আলো: চলচ্চিত্রের আঙিনায় পা দিয়ে অনেক কষ্টের পর নিশ্চয়ই একটা আলোর সন্ধান পেয়েছিলেন। যাকে আমরা আপনার চলচ্চিত্রে টিকে থাকার টার্নিং পয়েন্টও বলতে পারি। সেটা কেমন? কোন ছবি থেকে…
শাকিব খান: সেটা মূলত আজ থেকে ১০ বছর আগেই শুরু হয়েছিল।
আনন্দ আলো: কোন ছবি থেকে?

Shakib-Khan-Shrabonti

শাকিব খান: আমার স্বপ্ন তুমি… এই ছবিতে আমার অভিনয় বোধকরি দর্শককে অন্য রকম ভাবে নাড়া দিয়েছে। পর পর আরও অনেক সুপারহিট ছবি মুক্তি পায়। যেমন কোটি টাকার কাবিন, আমার স্বপ্ন তুমি, চাচ্চু, দাদীমা সহ ওই সময়ের একাধিক ছবি সুপারহিট হয়েছিল। আমার এবং অপু’র একটা ভালো জুটি দাঁড়িয়ে যায়।
আনন্দ আলো: আমার স্বপ্ন তুমি ছবিটার কথাই যদি বলি। সেই সময় এরকম একটা রোমান্টিক ছবিতে অভিনয় করার জন্য কেউ কি আপনাকে উৎসাহ যুগিয়েছিল? শোনা যায় নায়ক ফেরদৌস আপনাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন।
শাকিব খান: আমার প্রথম ছবি অনন্ত ভালোবাসাই তো রোমান্টিক ঘরানার ছবি। কাজেই আমি তো রোমান্টিক ঘরানার ছবি দিয়েই অভিনয়ে আসি। এখানে ফেরদৌস আমাকে উৎসাহ দিল কোথায়? ফেরদৌসের কথা আসছে কেন?
আনন্দ আলো: এটা আমরা শুনেছিলাম যে ‘আমার স্বপ্ন তুমি’ ছবিটা করার সময় ফেরদৌস আপনাকে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন…
শাকিব খান: না, এটা ঠিক নয়। তবে এক্ষেত্রে শাবনূরের একটা ভালো হেল্প ছিল।
আনন্দ আলো: আমরা যে সময়ের কথা বলছি তখন আপনার অনেক সুপারহিট ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু ভালো কাজ করার জন্য আপনি কি প্রস্তুতি নিতে পেরেছিলেন?
শাকিব খান: আমি ভালো কাজটা ভালো ভাবেই করার চেষ্টা করেছি। কাজেই প্রস্তুতিতো ছিলই। চাইলেই তো আমরা বলিউডের মতো অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ছবি করতে পারব না। আমাদের অবস্থানতো ঐ জায়গায় গিয়ে এখনও পৌঁছায়নি। তো, সেই স্বপ্নটা না দেখাই ভালো।
আনন্দ আলো: ফিল্মের হিরো হতে হলে দেখতে সুন্দর হতে হয়। ভালো নাচ জানতে হয়। অভিনয়ে পারদর্শী হতে হয়। আপনি দেখতে সুন্দর, নাচ জানেন, অভিনয়ের প্রতি অনেক আন্তরিক। সিনেমায় নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোন বিষয়ের প্রতি বেশী জোর দিয়েছিলেন?
শাকিব খান: আমি সব ব্যাপারেই জোর দিয়েছি। ইন কমার্শিয়াল সেন্স, একজন অভিনেতাকে অনেক কিছুই জানতে হয়। তা নাহলে এখানে টিকে থাকা মুশকিল। তার একের মধ্যে বহুগুন থাকা দরকার। তাকে ভালো নাচতে হবে। ভালো ফাইট শিখতে হবে, তাকে রোমান্টিক সংলাপ যেমন সুন্দর ভাবে বলতে শিখতে হবে তেমনি অ্যাকশন দৃশ্যের সংলাপও অ্যাংরি হয়ে বলতে শিখতে হবে। ইমোশনাল অ্যাকটিং যেমন তাকে করতে হবে তেমনি উত্তেজিত ভাবে সংলাপ দেওয়ার যোগ্যতাও তার থাকা জরুরি। তাকে ফ্যাশনেবলও হতে হবে। অভিনয়ের টোটাল প্যাকেজ সম্পর্কে তার যোগ্যতা থাকতে হবে। তবেই সে টিকে যাবে। অন্যথায় টিকে থাকা মুশকিল।
আনন্দ আলো: টোটাল প্যাকেজের মধ্যে অভিনয় জানাটাই হলো গুরুত্বপুর্ণ। আপনার ভক্তরা আপনার অভিনয়ে মুগ্ধ। ভালো অভিনয়ের ব্যাপারে আপনার প্রস্তুতিটা কেমন থাকে?
শাকিব খান: আমি অভিনয়কে মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করি। তাই ভালো অভিনয়ের তাড়না সব সময়ই নিজের মাঝে জন্ম নেয়। এর বেশি কিছু না… তবে মাঝে মাঝে কষ্ট পাই যখন দেখি একটা ভালো কাজ ঠিকমতো হচ্ছেনা। যেভাবে করতে চাচ্ছি সেভাবে করা যাচ্ছে না। তখন বিরক্ত লাগে।
আনন্দ আলো: বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুবর্না মুস্তাফার কাছেই কথাটা শুনেছি। তিনি পরপর পাঁচ বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুড়ি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। জুড়ি বোর্ড-এ ছবি দেখার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, শাকিব খানের ছবিতে শাকিব খান যতক্ষণ থাকে ততক্ষনই মনে হয় কিছু একটা হচ্ছে। বাকি সময়টা দেখার মত না… এটা আপনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সাফল্যের গল্প। কিন্তু ব্যর্থতাও তো আছে। আপনাকে বাদ দিয়ে যে ছবি দেখার মতো নয় সেই ছবিতে আপনি অভিনয় করেন কেন?
শাকিব খান: (ভেবে নিয়ে) দেখেন… সালমান ভাই যখন আমাদের চলচ্চিত্রে আসেন তখন কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্রের একটা গোল্ডেন সময় ছিল। তখনকার পরিচালক গুলো দেখেন… শিবলী সাদিক, সোহানুর রহমান সোহান, মতিন রহমান, দিলীপ বিশ্বাস, এ জে মিন্টুর মতো গুণী পরিচালকরা তখনও সিনেমা বানাতেন। রোমান্টিক ঘরানার কথা বলেন, বানিজ্যিক ঘরানার বলেন সব ক্ষেত্রেই গুণী পরিচালকরা কাজ করতেন। এবার প্রযোজকদের কথায় আসি। বড় বড় প্রডাকশন হাউস ছিল। যমুনা ফিল্মস, আনন্দ মেলা সিনেমা লি. শাবানা আপার এস এস প্রডাকশন, রাজ্জাক সাহেবের রাজল²ী প্রডাকশন, সাজ ফিল্মস, এটলাস মুভিজ… আরও অনেক বড় প্রডাকশন হাউস থেকে সিনেমা নির্মিত হতো। তারা প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে ভালো সিনেমা বানাত। ভালো সিনেমার ক্ষেত্রে কেউই কোনো কম্প্রোমাইজ করতো না। সিনেমার সেট নির্মানের ক্ষেত্রেও ছিল তীব্র প্রতিযোগিতা। তার সেট থেকে আমারটা যেন আরও ভালো হয় এধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। অভিনেতা, অভিনেত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ছিল ব্যাপক প্রতিযোগিতা। ওরা নামকরা তিনজন নায়ক নায়িকাকে কাস্ট করেছে, আমরা এর চেয়েও বেশি নায়ক-নায়িকাকে কাস্ট করবো। ভালো চলচ্চিত্র নির্মানের সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল সেই সময়। কিন্তু আমি তো এসে পেয়েছি একটা ডিজাসটার ইন্ডাস্ট্রি। ঐ সময় ভালো চলচ্চিত্র পরিচালকরা তো ইন্ডাস্ট্রি থেকে চলে গেছেন। কাজ নাই। তারা কি করবেন? অথবা কেউ লজ্জায় ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে পারছেন না। তার কোনো মূল্যায়ন নাই। মূল্যায়ন করবেন কারা? ভালো প্রযোজকও তো নাই। তারাও চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তখন আমাদের সিনেমার নাম হয়ে গেল ছি: নেমা… ভালো প্রযোজক যারা ছিলেন তারা তো তখন সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করার জন্য ব্যস্ত। সিনেমার এতো অশ্লীল অবস্থা। এখানে থেকে আর লাভ নাই। মানে মানে কেটে পরি এমন অবস্থা সবার। যারা সিনেমার ‘সি’ সম্পর্কেও জানতেন না তারা সিনেমা বানাতে শুরু করলেন। প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে সিনেমায় মেয়েদের ন্যাংটা নাচ ঢুকিয়ে দিতে থাকলেন। সেও প্রডিউসারস এসোসিয়েশনের মেম্বার আমিও প্রডিউসার এসোসিয়েশনের মেম্বার। গুণী শিল্পীরা আমাদের সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। একটা সময় আমাদের চলচ্চিত্রে অনেক ভালো, গুণী শিল্পী ছিলেন। তারা সিনেমা অঙ্গনের পরিবেশ দেখে মান সম্মান বাঁচাতে সিনেমায় কাজ করা বন্ধ করে দিলেন। শকিব খান এসে কিন্তু একটা ইন্ডাস্ট্রিকে একদম ফাঁকা পেয়েছে। তবে সে চেষ্টা করেছে তার জায়গা থেকে। যতটুকু পারা যায় এখনও তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আনন্দ আলো: তাহলে কি আপনি সেই শূন্যতাটা অনুভব করেন যে সেই মানের গুণী পরিচালক প্রযোজককে আপনি পাননি। পেলে হয়তো আরও ভালো কিছু হতো…?
শাকিব খান: আমি ব্যাপারটাকে সেভাবে ভাবিনা। আপনি সুবর্না আপার উদাহরণ দিয়ে বললেন যে, ছবিতে শাকিব খান ছাড়া আর দেখার মতো কিছু থাকে না… কেন থাকে না? সিনেমার বাকি অংশটাতো একজন পরিচালক ‘মেক’ করবেন। কিন্তু সে ধরনের পরিচালক কোথায়? শিবলী ভাই মারা গেলেন। মতিন ভাই এখন আর সিনেমা বানান না। এ জে মিন্টু সাহেব চলে গেলেন। আমাদের সিনেমায় তো পরিচালকের জায়গায় মেধাশূন্য হয়ে গেল। সোহান ভাইকে একটু আধটু পেয়েছিলাম, মানিক ভাইকেও পেয়েছিলাম একটু আধটু… আর তো কাউকে পাইনি…
আনন্দ আলো: কিন্তু যাদের কথা বললেন তারা নাকি আপনাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা আপনার সিডিউল পাননি? এমন অভিযোগও তো শোনা যায়।
শাকিব খান: না, না এই অভিযোগ ঠিক নয়। ভালো প্রযোজকরা ছবি বানাতে অনুৎসাহিত হওয়ার পর অনেক তরুণ প্রযোজক ছবি বানাতে শুরু করেন। তারাই ছবির পরিচালক ঠিক করতেন। কাজেই আমি সিডিউল দিতাম না এরকম অভিযোগ ঠিক নয়।
আনন্দ আলো: আপনার অভিনীত ছবিগুলো একের পর এক হিট হচ্ছে। আপনিও একই লুকে ছবি গুলোতে অভিনয় করছেন। এবং একটা ছবির সাথে অন্য ছবির লুকে কোন পরিবর্তন নাই। ব্যাপারটি কি আপনার মাঝে কোন প্রশ্নের উদ্রেক করে নাই? চরিত্র নিয়ে ভাবার কি কোনো সুযোগই ছিল না?
শাকিব খান: কমার্শিয়াল ছবির ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার ঘটেই থাকে। যেমন আমার একটা ছবি ছিলÑ নাম্বার ওয়ান শাকিব খান। ছবিটি সুপার ডুপার হিট হয়ে গেল। এর পরে একই ধারার আরো ১০টি ছবি এলো আমার হাতে। দশজন লোককে ফিরিয়ে দেই কি করে? একে তো ভঙ্গুর একটা ইন্ডাস্ট্রিকে মাত্র দাঁড় করাচ্ছি। সেখানে যদি আমি ছবিগুলোকে ফিরিয়ে দেই তখন কিন্তু দশজন পরিচালক, দশজন প্রযোজক কাজটা করতে পারবেন না। দশটা ছবি কিন্তু আর হলো না। তখন তো ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ছবির দরকার ছিল। হল বাঁচাতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হবে। আমি চেয়েছিলাম ছবি বানানোর লোকজন বাড়–ক। ইন্ডাস্ট্রিটা ঝলমলে হয়ে উঠুক। ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানোর জন্য তাই বাধ্য হয়ে ছবিগুলোতে অভিনয় করেছি।
আনন্দ আলো: এই যে আপনি বললেন ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানোর জন্য এটা আপনি করেছেন। সময় প্রমান করবে আপনি ভালো করেছেন নাকি মন্দ করেছেন। তবে একথা ঠিক আপনার ওপরই আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ভালো মন্দও নির্ভর করে। যেমন আপনি একটি যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করে হঠাৎ একটা পরিবর্তনের সৃষ্টি করলেন। ছবির নাম শিকারী। এই ছবিতে আমরা নতুন শাকিব খানকে পেলাম। এটার পেছনের গল্প কি?
শাকিব খান: শিকারী করার সময় আমার প্রস্তুতিটা ছিল এরকম যে, কলকাতার সবাই জানে শাকিব খান বাংলাদেশের সিনেমার এক নম্বর সুপারস্টার। কাজেই আমাকে এমন কিছু দেখাতে হবে যাতে দেশের সুনাম হয়। আমার ইন্ডাস্ট্রির সুনাম রক্ষার স্বার্থে আমাকে ভালো কিছু করতে হবে এই তাড়নাটাই একটা প্রস্তুতি এনে দেয়। ওরা যেন আমার অভিনয় দেখে প্রশংসা করে। আমি যেন আমার ইন্ডাস্ট্রিকে সম্মানীত করতে পারি এটা ভেবেই শিকারীতে নিজেকে নতুন ভাবে তৈরি করেছি। শিকারী বলেন, নবাব বলেন প্রতিটি ছবিতেই আমার এই চেষ্টাটাই ছিল।
আনন্দ আলো: কলকাতার ছবির স্বনামধন্য পরিচালক, সহশিল্পী, কলা কুশলীদের কেমন সহযোগিতা পেয়েছিলেন। বা তাদের ভ‚মিকা কেমন ছিল?
শাকিব খান: ‘শিকারী’ করতে গিয়ে কখনোই মনে হয়নি অন্য একটি দেশে কাজ করতে এসেছি। পরিচালক জয়দিপ মুখার্জীতো বটেই শিল্পীরাও সবাই আমার প্রতি আন্তরিক ছিলেন। আমাকে আপন করে নিয়েছেন। সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। কলাকুশলীরাও তেমন ভাবেই আমার পাশে ছিলেন।
আনন্দ আলো: আমাদের এখানে শ্যুটিং স্পটে সময়মত না পৌঁছানো, কখনো কখনো সকালের শিডিউলে বিকেলে আসা এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় আপনার সম্পর্কে। অথচ কলকাতায় কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই কলটাইমে সেটে উপস্থিত থাকলেন, এই বৈষম্যটা কেন?
শাকিব খান: পুরো বিষয়টা নির্ভর করে একটা সিস্টেমের উপরে। ওখানে তাদের সিস্টেম যেমন তেমন ভাবেই কাজ করতে হয়েছে। ওখানে একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ করা হয়। ৮ঘণ্টা মানে ৮ ঘণ্টাই। ১০ ঘণ্টা হলে ১০ ঘণ্টা। এবং সেটা ঘড়ি ধরে। সকাল ৮ টায় কাজ শুরু মানে ৮ টাতেই শুরু। সেটা রাত ৮ টায় প্যাকাপ মানে রাত ৮টাতেই প্যাকাপ। এক মিনিটও এদিক ওদিক নেই। কিন্তু আমাদের এখানে কি এমন সিস্টেমে কাজ হয়? সকাল ৯টায় এসে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত কাজ করে পরদিন সকালেই আবার ৯টায় সেটে আসা ২/৪দিন সম্ভব। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বা ৩৬৫ দিনই কি সম্ভব? নিশ্চয়ই না, একটা সময় তো আমাকে ৩৬৫ দিনই কাজ করতে হয়েছে। এমন কি ঈদের দিনেও নামাজ পড়েই কাজে নেমে পড়তে হয়েছে। একটা মেশিনও যদি দিনের পর দিন চলে, সেটাও তো অকেজো হয়ে যায়। আর আমিতো মানুষ। আমার শরীরের অর্গানেজম তো আমার নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা নয় যদি এভাবে কাজ হয়। দেখুন, ২০টা বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। বলতে গেলে আমার কৈশোর, যৌবনের সময়টা পুরোটাই এখানে অতিবাহিত হয়েছে। যে সময়টা আমার বন্ধু বান্ধব নিয়ে হৈ চৈ করে সময় কাটানোর কথা। দেশ বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার কথা। সেটা আমি দিয়েছি পুরোটাই এই ইন্ডাস্ট্রিকে। যে বয়সে আমার হাতে অনেক টাকা পয়সা আসে সেই সময় পরিবার নিয়ে, বন্ধু বান্ধব নিয়ে একটু দেশ বিদেশে ঘুরতে যাওয়া, মজা করা, আনন্দ করা সেই সুযোগ কি আমি পেয়েছি? সময় মত সেটে আসা না আসাটা কি আমার ইচ্ছের উপরই কি নির্ভর করছে। এমনও হয়েছে কোনো প্রযোজক পরিচালক এসে ধরলো একটা ছবি করতে। তাদের কোন তাড়া নেই। শুধু ছবিটা শুরু করে দেন। এরপর আপনার সুবিধা মতই শিডিউল দিয়েন। করে দিলাম দুদিন কাজ। এরপর তো আর কোনো কথাই নেই। প্রতিদিন সেট এ এসে ধর্না দেয়া শুরু করলো ডেটের জন্য। অন্যায় আবদার করতে লাগলো ঈদে ছবিটা মুক্তি দিতে চাই। এটা কিভাবে সম্ভব? যেখানে আগেই সব শিডিউল দেয়া। এসব কথা কেউ বলে না। শুধু চিত্রটা উঠে আসে শাকিব খান সময় মত সেটে আসে না সিডিউল দিচ্ছেন না।
আনন্দ আলো: এমনও অভিযোগ আছে আপনার ২/৩ দিনের একটা সিডিউলের জন্য একটি ছবি ২/৩ বছরও আটকে ছিল।
শাকিব খান: অস্বীকার করবো না। কিন্তু সেগুলোর পিছনেও কারণ আছে। একজন নায়ক যখন সুপারস্টার হয়ে যায় তখন তার কাজের চাপও থাকে। যে যত সুপারস্টার তার তত কাজ। তখন কাজের প্রেসারে অনেক ডিজাস্টার হতেই পারে। হয়তো আমি তখন শিডিউল দিয়েছি। কিন্তু কোনো কারনে সেটা আপসেট হয়েছে। পরবর্তীতে সেটা আবার রিশিডিউল করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তখন আমার হাতে অনেক ছবি। এই পরিস্থিতি শুধু আমার হতো না। বলিউডের যারা সুপারস্টার ছিলেন তখন তাদের বেলাতেও এমন হত। তখন ব্যাপার এমন ছিল যে যত সুপারস্টার তার হাতে তত ছবি। এখন অবশ্য সে রকম নেই। এখন যে যত সুপার স্টার সে তত কম কাজ করে। বছরে ৩/৪টার বেশি নয়। নিয়মটাই চেঞ্জ হয়ে গেছে। কাজেই তখনকার পরিস্থিতিটাও ছিল ভিন্ন। কাজের চাপেই এটা হতো। এটার জন্য হয়তো আমি একক ভাবে দায়ী ছিলাম না। কিন্তু দোষটা আমারই হয়েছে।
আনন্দ আলো: আমরা যদি বিশ্বের অন্য চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির দিকে তাকাই সেখানে দেখি একজন নায়ক যে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি সুপারস্টার। তার নামেই ছবি চলে। তখন তিনি তার সেই অবস্থান বা ইমেজ দীর্ঘ সময় ধরে রাখার জন্য একটা কঠিন প্রক্রিয়া বা অনুশীলনের মধ্যে থাকেন। একটা ছবি থেকে আরেকটা ছবি করতে গিয়ে সেই ছবির চরিত্র অনুযায়ি নিজেকে তৈরি করতে অনেকটা সময় নেন। খাওয়া দাওয়া, শরীরচর্চা, জীবন যাপন সবকিছুতেই একটা নিয়ম মেনে চলা। আপনি কি এসব নিয়ে কখনো ভেবেছেন?
শাকিব খান: দেখুন ওইসব ইন্ডাস্ট্রির নায়কদের সঙ্গে আমার বা আমাদের জীবন যাপন বা কাজের প্রক্রিয়ার তুলনা করাটা বোধ হয় ঠিক হবে না। তাদের কাজের সংখ্যা কাজের সিস্টেম, তাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এসব কোনটাই আমাদের সঙ্গে তুলনায় আসেনা। যার উপরে একটা ইন্ডাস্ট্রি নির্ভর করে, যাকে বছরে ১৫/২০টি ছবি করতে হয় তার পক্ষে বোধহয় এটা মেইনটেইন করা সম্ভব নয়। যেখানে আপনাকে একটা ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে হবে। হল বাঁচাতে হবে সেখানে কি এসব মেইনটেইন করে ছবি করা সম্ভব? আমি হলিউড বা বলিউড পর্যন্ত না যাই। টালিউড মানে কলকাতার কথাই বলি। একটা সময় এই ইন্ডাস্ট্রি প্রসেনজিতের উপর ডিপেন্ট ছিল। এখন উনি যেভাবে ছবি করছেন, চরিত্র নিয়ে যে ভাবে ভাবেন, প্রস্তুতি নেন সেটা কি তখন তিনি করতে পারতেন? নিশ্চয়ই না। আমির খান বছরে বা দু’বছরে একটি ছবি করেন। তার পক্ষেই সম্ভব। বলিউডের অন্যরাও তাই করেন। হ্যাঁ। তবে এটা আমি এখন বলতে পারবো যে এখন হয়তো আমার পক্ষে সম্ভব। এবং আমি করছি ও তাই। আমি অনেক আগেই ঘোষনা দিয়েছি বছরে ৩/৪টির বেশি ছবি করবো না। কাজেই আমি এখন পারবো চরিত্র অনুযায়ি নিজেকে সবদিক থেকে প্রস্তুত করতে। সেই চেষ্টা আমার এখনকার ছবিতে কম-বেশি আছেও। এটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে না। ক্রমশ হবে। যেমন আমি আমার পাসওয়ার্ড ছবিতে একটা ব্যাপক চমক দিব। সেটা প্রযুক্তিতে। এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন চমক। যেটা হলিউড, বলিউড বা তামিলের ছবিতে হয়। বিদেশের লোকেশনে শুটিং করতে গেলে যে সেটাপ-এ তারা কাজ করেন আমি সেই সেটাপ-এ কাজ করেছি। যা দেখে দর্শক চমকে যাবে। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে একটি ছবি করতে গিয়ে যে পরিবর্তন আনা দরকার সবই চেষ্টা করবো। সেটা ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে হোক বা অভিনয়ের ক্ষেত্রেই হোক।
আনন্দ আলো: একজন শাকিব খান এই সময়ে এসে একটি ছবি করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবে?
শাকিব খান: তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিব। ছবির গল্প, পরিচালক এবং অবশ্যই বাজেট। তিনটির মধ্যে সমান সমন্বয় থাকতে হবে। গল্প ভালো, পরিচালক ভালো কিন্তু বাজেট নেই। ছবিতো ভালো হবে না। আবার বাজেট দিলেন কিন্তু গল্প তেমন না পরিচালকও তেমন না তাহলেও ভালো ছবি হবে না। একজন খুব ভালো রাঁধুনিকে আপনি রান্না করতে দিলেন কিন্তু ভালো ময় মশলা দিলেন না, সেকি ভালো রান্না করতে পারবে? অথবা ভালো মশলা দিলেন কিন্তু সে রাঁধতেই পারে না তাহলে কি হবে? একটি ভালো ছবি নির্মান করতে গেলেও এটাই ভাবতে হবে। একটি বিষয় নজরে নিতে হবে আমাদের ছবি কিন্তু এখন আর শুধু আমাদের হলগুলোতে চলে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও যাচ্ছে। শুধু বাংলা ভাষার দর্শক নয়, বিদেশীরাও দেখছে। এটা শুরু হয়েছে আমার শিকারী ছবি দিয়ে। তারপর একে একে আয়নাবাজী, ঢাকা অ্যাটাক, দেবী, দহন গেছে বিশ্ব বাজারে। কাজেই আমাদের এখন সেই ভাবেই এগোতে হবে।
আনন্দ আলো: আমাদের চলচ্চিত্রের পূর্বসূরিদের অনুসরনে আপনিও নায়ক থেকে প্রযোজনায় এলেন। মূলত কোন বিষয়টি আপনাকে প্রযোজনা আসতে অনুপ্রানিত করেছে।
শাকিব খান: দেখুন, একটা সময় আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল। ছবির বাজেট কমতে কমতে এমন অবস্থায় চলে এসেছিল যে এইরকম বাজেটে একটা ছবি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে একটা ইন্ডাস্ট্রি চলতে পারে না। তখন মনে হলো আমাকেই কিছু একটা করতে হবে। আমি তখন ছবি প্রযোজনা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কোনো লিমিট বাজেটের মধ্যে নয়। আমি প্রথমেই বানালাম ‘হিরো দ্যা সুপার স্টার’ ছবিটি। ছবিটি সুপার ডুপার হিট হলো। মুক্তির আগেই হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল।
আনন্দ আলো: একজন প্রযোজক হিসেবে একটি ছবি নির্মানের ক্ষেত্রে ছবির গল্প নির্বাচন, কাস্টিং, লোকেশন এসবে কি আপনার মতামতই চ‚ড়ান্ত নাকি পরিচালকের মতামতকে প্রায়োরিটি দেন।
শাকিব খান: এটি একটি টিম ওয়ার্ক। একটি ভালো ছবির পিছনে একটি গুড টিম ওয়ার্ক খুবই গুরুত্বপূর্ন। আমি প্রযোজক হিসেবে একটি বিষয়ই নিজের মতামতকে চ‚ড়ান্ত বলবো, সেটা হলো কোন আপোষ নয়। একটি ভালো ছবি বানাবো। এবং এক্ষেত্রে কোন আপোষ করবো না। সেটা একটি কমার্শিয়াল ছবি হোক বা ক্যাসিক্যাল ছবিই হোক। সেটা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন আপোষ করবো না। যা করবো তাতে বানিজ্যিক উপাদান যেমন থাকবে তেমন যেন শিল্পের ছোঁয়াও থাকে।
আনন্দ আলো: আপনার প্রযোজনায় এবারের ঈদের ছবি পাসওয়ার্ড নিয়ে বলুন।
শাকিব খান: পাওয়ার্ড একটি চমৎকার বিনোদন মূলক ছবি। একটি ভালো গল্পের ছবি, ভালো লোকেশনের ছবি, ভালো গানের ছবি, ভালো অভিনয়ের ছবি, ভালো প্রেজেনটেশনের ছবি, ভালো প্রযুক্তির ছবি। আমার যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলো থেকেও পাসওয়ার্ড অনেক ভালো ছবি। আমার বিশ্বাস এই ছবি দেখে বাংলাদেশের দর্শক বলতে বাধ্য হবে বাংলাদেশে থেকেও এমন আন্তর্জাতিক মানের ছবি বানানো সম্ভব। যা দেখে মানুষ গর্ববোধ করবে। এরই মধ্যে এ ছবি পোস্টার, ট্রেইলার দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আনন্দ আলো: সিনেমার ক্ষেত্রে দুটি কথাই গুরুত্বপুর্ণ। ভালো ছবি, মন্দ ছবি। যেমন আপনি কলকাতার পাউলি দামের সাথে একটা ছবি করেছেন নাম সত্তা। ওই ছবিতেও শাকিব খানকে নতুন ভাবে আবিস্কার করেছে দর্শক। কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক দেব তার জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও ‘বুনো হাসে’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। এই ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
শাকিব খান: একটা কথা মনে রাখবেন যেই ছবি বানাক না কেন তার কিন্তু কমার্শিয়াল একটা ভাবনা থাকেই। মানুষকে দেখানোর জন্যই তো ছবিটা বানায়। কমার্শিয়ালি যাতে সাকসেসফুল হয় সেজন্যই তো ছবি বানায় সবাই। তবে প্রতিটি সিনেমার একটি আলাদা ভাষা থাকে। আমার প্রথম ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সিনেমা ছিল ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’। কমার্শিয়ালি ছবিটা সুপারহিট ছবি ছিল। ৭টা ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল। আগেকার অধিকাংশ ছবিই এরকম ছিল। একই মধ্যে ব্যবসা সফল হতো। জাতীয় পুরস্কারও পেত। ভালো সিনেমার সংজ্ঞাই হচ্ছে এটা। ভালো সিনেমাকে বানিজ্যিক ভাবেও সফল হতে হবে। আমি এমন সিনেমাকে ভালো বলতে রাজি নই যা নির্মাণ করা হয় শুধুমাত্র দেশী বিদেশী পুরস্কারের জন্য। দর্শক যদি নাই দেখলো, দর্শকের প্রশংসাই নাই পেল তাহলে সেটা ভালো ছবি হয় কি করে?
আনন্দ আলো: অভিনয়ের ক্ষেত্রে একজন সহ শিল্পীর সাথে কেমিস্ট্রিটা বেশ গুরুত্বপুর্ণ। ২০ বছরে দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। অনেক সহ শিল্পীর সাথে অভিনয় করতে হয়েছে। আপনার অভিনয়ের কেমিস্ট্রিটা কার কার সাথে ভালো জমে অথবা জমতো?
শাকিব খান: অনেকের সাথেই ভালো ছিল। যখন যার সাথে কাজ করি তার সাথে সুন্দর একটা কেমিস্ট্রি গড়ার আপ্রাণ চেষ্টা থাকে আমার।
আনন্দ আলো: দুই একজনের নাম বলা যায়…

Shakib-Apu

শাকিব খান: বললাম তো অনেকের সাথেই ভালো কেমিস্ট্রি গড়ে উঠেছে… শাবনূর, অপু, পুর্নিমা, পপি, শ্রাবন্তীর কথা বলতে পারি। শাকিব-শ্রাবন্তী জুটি কলকাতায় বেশ পপুলার হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশেও শাকিব-শ্রাবন্তী জুটির চাহিদা বেশ। আমরা দুইটা ছবি করেছি দুটাই হিট। সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক আছে। ঐ যে বললাম আমি যখন যার সাথে কাজ করি ভালো সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। মিলেমিশে একটা ভালো কাজ করার চেষ্টা করি।
আনন্দ আলো: এবার একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি। অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করে আট বছর গোপন রাখা এবং সেটা প্রকাশের পর অপুকে মেনে না নেয়া বা ডিভোর্স দেয়া। এ প্রসঙ্গে আপনার কথা হয়তো ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় আপনি বলেছেন। তারপরেও যদি নতুন কিছু বলার থাকে।
শাকিব খান: এ প্রসঙ্গে আমার নতুন কিছুই বলা নেই। শুধু এটুকুই বলবো পাস্ট ইস পাস্ট। এ প্রসঙ্গে আমি আর কখনোই কোনো কথা বলতে চাই না। বলবোও না। মানুষের জীবনে সবক্ষেত্রেই প্রাপ্তি থাকতে হবে এমন কোনো মানে নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তিও থাকতে পারে। পৃথিবীর অনেক সফল মানুষই আছেন যাঁদের প্রথম সংসার জীবন সফল হয়নি। দ্বিতীয় সংসার জীবনও সফল হয়নি। কিন্তু তৃতীয় সংসার জীবনে গিয়ে সফল হয়েছেন। সুখি হয়েছেন। সেটা শুধু একজন শিল্পীর ক্ষেত্রেই না। এটা কবি-সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী-রাজনীতিবীদ সবার ক্ষেত্রেই হয়েছে। কোন না কোন সময় সুখের সন্ধান সবাই পায়। কাজেই আমার অতীত নিয়ে এখন কিছু বলার নেই। যে যার জীবন নিয়ে ভালো থাকুক, সুখে থাকুক এটাই চাই।
আনন্দ আলো: আর আপনার সন্তান?
শাকিব খান: আমার সন্তানকে আমার সর্বোচ্চটা দিয়েই মানুষ করছি এবং করবো। তাকে আমি মানুষ করবো আমার মনের সব ইচ্ছে দিয়েই। এবং এক সময় যখন সে বুঝবে তখন তাকে তার মতই বড় হতে দিব।
আনন্দ আলো: ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা কি?
শাকিব খান: প্রত্যেকটা মানুষের যা চাওয়া আমারও তাই। একটা সুন্দর জীবন চাই। ভালো একজন লাইফ পার্টনার নিয়ে ভালো একটা জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। যার সঙ্গে আমার মিলবে। যে আমার সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারবে। আমাকে একটা সুন্দর ও সুখি জীবন দিবে।
আনন্দ আলো: সব শেষে আপনার দর্শক ও ফ্যানদের উদ্দেশে কিছু বলার আছে?
শাকিব খান: দর্শকদের উদ্দেশে একটা কথাই বলব। ভালো ছবি দেখবেন। ভালো ছবির পাশেই থাকবেন। আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে দর্শকদের এগিয়ে আসতে হবে। হলে গিয়ে ছবি দেখতে হবে। একটি ভালো সিনেমাকে সাপোর্ট করতে হবে। তবেই আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে। বাংলা সিনেমার জয় হোক।