Home প্রতিবেদন তাদের প্রেম ভালোবাসার গল্প

তাদের প্রেম ভালোবাসার গল্প

SHARE
abanti

তরুণদের কাছে এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী সিয়াম, তৌসিফ ও শবনম ফারিয়া সহ অনেকে। এই তিন তারকাই ব্যক্তি জীবনে প্রেম করে বিয়ে করেছেন। তাদের প্রেমে ছিল বাঁধা-বিপত্তি আর সংশয়। সব বাঁধা অতিক্রম করে ভালোবাসার তিন তারকার মানুষই নিয়েই সংসার করছেন। প্রেম গল্প থাকছে এই প্রতিবেদনে। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল।

প্রেমিকাকেই বিয়ে করেছেন সিয়াম!

দীর্ঘ আট বছরের প্রেম। যখন থেকে প্রেম করে ছেলেটি তখন বলতে গেলে একদমই সাধারণ একটি ছেলে। আজকের দিনের জনপ্রিয় তারকা নয়। স্ট্রাগল লাইফ। আজকে এই এজেন্সি তো কালকে আরেক প্রোডাকশন হাউজে কাজের জন্য দৌঁড়ঝাপ করছে। তখন থেকেই মেয়েটি ছেলেটিকে ভালোবেসে যায়। ফেসবুকে দুজনের টুকটাক কথাবার্তা চলে। তখনো ভালোবাসা নামক শব্দটি দুজনকে ছুঁতে পারেনি। আস্তে আস্তে ছেলেটির ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। কয়েকটি টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপন দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে থাকে। মেয়েটির মনে যেনো ভালোবাসা উঁকি দেয়া শুরু করে। তাই তো প্রায়ই ছেলেটির অভিনীত নাটক-বিজ্ঞাপনের ছবি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট দিত মেয়েটি। ছেলেটির মনেও যে মেয়েটিকে নিয়ে একই কথা ভাসছে সেটা কেইবা জানতো! একদিন দুজনে সুন্দর একটি জায়গায় দেখা করল। মেয়েদের তো বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। সুযোগ বুঝে ছেলেটিই বলে দিল মেয়েটির মনের কথা। ফলে দুজনের প্রেম জমতে শুরু করলো।
পাঠক, আপনাদের প্রিয় নায়ক সিয়াম আর তার স্ত্রী অবন্তীর প্রেমের গল্পটা এমনই। প্রেমের গল্প তো হলো। কিন্তু প্রেমের শেষ পরিণিতি তো বিয়ে। সেই বিয়ে নামক শব্দে যাওয়ার জন্য এই তারকাকেও কম কষ্ট করতে হয়নি! মেয়ের পরিবারের নানান মানুষের নানান মতামতকে সামলে নিতে হয়েছে সিয়ামকে। কারন ছেলে মিডিয়ায় কাজ করে। যদিও অবন্তীর শক্ত অবস্থান এবং প্রেমের জন্য সিয়ামের ত্যাগ দুজনকে এক করেছে। প্রেমে সফল এই জুটি সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। গত বছর মহান বিজয় দিবসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার একটা কারনও ব্যাখ্যা করেছেন সিয়াম। বললেন, ‘আমরা তো প্রেমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। তাই তো দেশের বিজয় দিবসের সাথে আমাদের আরেকটা বিজয়ের দিন স্বাক্ষী রেখে দিলাম। আমাদের প্রতি বছর ম্যারিজ এনিভার্সারিতে বিজয়ের একটা গন্ধ মেখে থাকবে। সেই চিন্তা থেকেই এমন দিনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেই।’ সিয়াম আরো বলেন, ‘ একেবারেই হুট করেই বিয়ে করেছি। চলতি বছর বিবাহোত্তর সংবর্ধনার একটি আয়োজন করবো। যেখানে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও বিনোদন জগতের সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ জানাবো।’
স্ত্রী শাম্মা রুশফি অবন্তী সম্পর্কে সিয়াম বলেন, ‘একজন মানুষের সফলতার পেছনে তার জীবনসঙ্গীর সমর্থন থাকা অনেক বড় বিষয়। আমার জীবনে অবন্তীর অনেক অবদান আছে। সে আমাকে নানান সময়ে নানাভাবে সাপোর্ট করেছে। আর পেশাগত দিক থেকে আমরা একে অন্যকে সম্মান করি।’ অবন্তী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রিসোর্স বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘দারাজ’-এর সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।


তৌসিফ-সুষমার প্রেমের পরিণতি

ফেসবুকেই তাদের পরিচয়। তৌসিফ তখন তার অভিনয় জীবনের স্ট্রাগল পিরিয়ড পার করে সবেমাত্র তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। মিডিয়ায় তার কাজের ব্যস্ততা তুঙ্গে। এরইমধ্যে একটি মেয়ে রোজ নিয়ম করে তৌসিফের সাথে ম্যাসেঞ্জারে হাই-হ্যালো করে যায়। তৌসিফেরও তাকে ভালো লাগতে শুরু করে। নিয়মিত যোগাযোগ বাড়তে থাকে তাদের। এমনও হয়েছে একটা সময় একদিন কথা না হলে ভালো লাগে না তাদের কারোই। প্রেমের নৌকা যখন মাঝ নদীতে তখন মেয়েটির বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ আসতে থাকে। কিন্তু ছেলেটির তো ক্যারিয়ারের নৌকা ভাসা শুরু করেছে মাত্র। এই সময়ে বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া কি সম্ভব? কিন্তু প্রেম তো প্রেমই। প্রেম তো কোন বাঁধা মানে না। দুজনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। হ্যাঁ, পাঠক আপনাদের প্রিয় তারকা তৌসিফ আর সুষমার জীবনের প্রেম কাহিনী এমনটিই।
গত বছরের ফেব্রæয়ারি মাসে তারা সংসার শুরু করেন। ভালোবাসার মাসে তারা ভালোবাসার ঘরটি বেঁধেছেন। অবশ্য ফেব্রয়ারি মাসে বিয়ের বিষয়ে তৌসিফ একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা দিলেন। বললেন, ‘আমি ফেব্রæয়ারি মাসে বিয়ে করেছি। প্রেমের বিয়ে বলে ভালোবাসার মাসেই বিয়েটা করলাম। দুটি জিনিসের প্রতি আমার প্রেম বেশি। একটি হচ্ছে আমার পরিবার। আর অন্যটি হলো আমার দেশ। আর এজন্যই বিয়ের জন্য ফেব্রæয়ারি মাসটি আমি নিজেই বেছে নিয়েছি, কারণ- ভাষা ও ভালোবাসার মাস। এ জন্যই আমি আগে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে যদি বিয়ে করি, তাহলে ফেব্রæয়ারিতেই করব।’
স্ত্রী মিডিয়ার বাইরের মানুষ, আপনি মিডিয়ার। কেমিস্ট্রিটা কেমন হচ্ছে? এমন প্রশ্নে তৌসিফ বলেন, ‘আপনি যদি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং আপনার স্ত্রী ব্যাংকে চাকরি না করেন, তাহলে আপনার স্ত্রী আপনার ব্যাংকের হিসাব কখনো বুঝবে না। তো মিডিয়া বা মিডিয়ার বাইরে, নাটক কিংবা নাটকের বাইরে- একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং-মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকবেই এবং আমাদেরও আছে। বড় ধরনের মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিংও হয় মাঝে মধ্যে। কিন্তুবলব, আমি সবচেয়ে সৌভাগ্যবান। আমার স্ত্রী সব কিছুই মানিয়ে নেয়।। ও সব বোঝে এবং আমাকেও বোঝে। অনেক দম্পতিই রয়েছেন, যারা উভয়েই মিডিয়ায় কাজ কাজ করেন কিন্তু পরস্পরের মধ্যে সমঝোতা কম। আমার স্ত্রী মিডিয়ার বাইরের হওয়া সত্তে¡ও ওর সঙ্গে আমার যে পরিমাণ আন্ডারস্ট্যান্ডিং, সেটি সত্যি প্রশ ংসা করার মতো। তৌসিফের স্ত্রী ঢাকার মিরপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস সুষমা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) বিবিএতে পড়ছেন।

প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর প্রেম!

মেয়েটির অভিনয় ছেলেটির খুব ভালো লাগে। তাই তো টিভিতে কিংবা ইউটিউবে মেয়েটির কোন নাটক কিংবা বিজ্ঞাপন দেখলেই তার অভিনয়ের দিকে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকেন। এরইমধ্যে একদিন ফেসবুকের মাধ্যমে মেয়েটির সাথে যোগাযোগ হয়। ছেলেটি যেহেতু মিডিয়া রিলেটেড একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন সেহেতু তার সাথে একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয় সেই মেয়েটির সাথে। অভিনয় গুণে মেয়েটি রীতিমত তারকা। ছেলেটি একটু হাই-হ্যালো করেন মেয়েটির সাথে। ফেসবুকের নিয়ম করে দুজনের কল্যাণে যোগাযোগটা বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক তৈরি হয় দুজনের। মেয়েটি শুটিং আর ছেলেটি অফিস শেষ করে মাঝেমধ্যে শহরের কোন কফি শপে দেখা করে। কফির পেয়ালা নিয়ে দু চারটে কথা জমে ক্ষিরও হওয়া শুরু হয় তাদের। ভালোবাসা হয়তো উঁকি দেয়া শুরু করেছে দুজনের মাঝে। কিন্তু কেউ কাউকে মুখে বলেনি। নিজেদের ব্যস্ততায় দুজন ডুবে থাকে। যদিও মনের কোণে ভালোবাসা নামক শব্দটি হয়তো দুজনেরই থেকে যায়। বিশেষ দিবস কিংবা উৎসব পার্বণে দুজনই দুজনের পরিবারে যাওয়া-আসা শুরু করে।
হ্যাঁ, পাঠক এটা অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার বাস্তব জীবনের প্রেম কাহিনি। সেই প্রেমিক ছেলেটির নাম হারুন অর রশিদ অপু। যিনি একটি বেসরকারি বিপণন সংস্থার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অপু এবং ফারিয়ার মধ্যে যে প্রেম ছিল সেটা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘাঁটলে অনেকটা আঁচ পাওয়া যায়। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অপুর সঙ্গে ফারিয়া মাঝেমধ্যেই ছবি দিতেন। শুধু তাই নয়, শোবিজ সংশ্লিষ্ট অনেক অনুষ্ঠান আয়োজনেও দুজনকে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যেত।
ভালোলাগা থেকে দুজনের ভালোবাসা শুরু হয়। একটা সময় বিয়ের কথাও শুরু হয় দুই পরিবারে। শবনম ফারিয়া বলেন, আরও দু-বছর আগে অপুর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময় অপুর বাবা মারা যাওয়ার কারণে পিছিয়ে যায় বিয়ে। এক বছরের মাথায় আবার আমার বাবাও মারা যান। এ কারণে দুই বছর পিছিয়ে যায় আমাদের বিয়ে। সবকিছু গুছিয়ে উঠে আমাদের বিয়ের দিনক্ষন ঠিক হয়েছে।