Home বইমেলা প্রতিদিন তরুণ লেখকদের প্রতি আস্থা চাই

তরুণ লেখকদের প্রতি আস্থা চাই

SHARE

জয়নুল শামীম:
কথাটা হয়তো অনেকে খারাপভাবে নিবেন। তবুও বলতে ইচ্ছে হচ্ছে যে,পাঠক হিসেবে আমিও বড় বড় লেখক, জনপ্রিয় লেখকদের বই সংগ্রহ করে বুক সেলফ প্রায় ভরে ফেলেছি। লেখালেখির সুবাদে তরুণ লেখকদের অবস্থা তো দেখি, একযুগ পর যখন বই বের করলাম সেই সুবাদে এই অন্য অভিজ্ঞতা সামনে থেকে। কতিপয় সম্মানিত কবি ও ছড়াকার ছাড়া প্রায় সবাই তরুণদের শুধু তাদের ব্যবাসায়ীক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে কৌশলে। পক্ষান্তরে তারা ঐ তরুণ লেখকদের শুধু মৌখিক উৎসাহ দিয়ে আসছে। বই সংগ্রহ করে এই উৎসাহটি তারা দিচ্ছেনা। আর অতি উৎসাহি তরুণটি তার স্বপ্ন ও কষ্টের ফসলটি তাকে গিফট করে দিচ্ছে। দিতে বাধ্য হচ্ছে এ আশায় যে, সে তার বই পড়ে বইয়ের একটা সঠিক অনুভূতি জানাবে হয়তো। আর মূল্যায়িত আলোচনা মানে বইয়ের রিভিউ তো কল্পনাতীত ব্যাপার। হ্যাঁ, তা হয়তো অনেক তরুণ তৈল মেরে করিয়ে নেয়। সেটা তো আর উদাহরন হতে পারেনা। এখানে বলা বাহুল্য যে, একজন লেখক মাত্রই পাঠক। তাই সবাই আগে পাঠক। এখানে তাই তরুণদের সতর্ক হয়ে শুধু তরুণ লেখকদের বই কেনার প্রতি প্রাধান্য দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ দেশের বেশিরভাগ বইপ্রেমিই তরুণ। এমনকি গত কয়েক বছর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব কবিতা উৎসবে দেখলাম, অগ্রজ লেখকগণ তাদের লেখা পাঠ করে নিরবে চলে যাচ্ছেন। এমন স্বার্থপর ও দায়িত্বহীন হলে তারা কি করে জানবে যে, তাদের পরের লেখক প্রজন্ম কেমন? শেষে তরুণদের পক্ষে স্বনামধন্য এক ছড়াকার প্রতিবাদটি করেন। গত বছর বইমেলায় নজরুল মঞ্চে এক প্রকাশনা উৎসবে দেখেছি একজন নামকরা কমবয়সে একাডেমি পাওয়া কবিকে এক আনসার গায়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে আর বলছে, সরেন সরেন, আমার স্যারের বইয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে, ক্যামেরায় ভিডিওতে সমস্যা হচ্ছে। মেজাজ এতোই বিগড়ে গিয়েছিল যে, ঐ আনসারকে ধরে ওর স্যারের সামনে দাঁড় করায়ে দিয়ে এসেছি। লোকটি আগুন চোখে চেয়েছিলো, কিছু বলার উপায় নেই কারণ এই মঞ্চ সবার। এমনি অবস্থা যে, তরুণ লেখকরা তাদের নতুন বই নিয়ে নিরুপায় দাঁড়িয়ে আছেন। এদের নিয়ে কে ভাবে?
কবি ও লেখক প্রভাষক, আলিফ সোবহান চৌধুরী কলেজ, হবিগঞ্জ।