Home সাক্ষাৎকার তরুণ প্রজন্মকে বইপাঠে উৎসাহিত করা জরুরি

তরুণ প্রজন্মকে বইপাঠে উৎসাহিত করা জরুরি

SHARE

-রাশেদ মাকসুদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিটি কান্ট্রি অফিসার

Rashed-Maqsoodবিশিষ্ট ব্যাংকার রাশেদ মাকসুদ সিটি ব্যাংক এন.এ বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিটি কান্ট্রি অফিসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি আনন্দ আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন। বইমেলা, বই ও সিটি ব্যাংক এন.এ বাংলাদেশ-এর সামাজিক দায়বদ্ধতাসহ নানান বিষয়ে কথা বলেছেন। নিচে তারই চুম্বক অংশ।

আনন্দ আলো: বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা এখন খুবই জরুরি। আপনার মতামত জানতে চাই।

রাশেদ মাকসুদ: আমাদের বাংলা সাহিত্য বরাবরই একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এই মাধ্যমের উৎকর্ষতার জন্য আমাদের সকলেরই একানত্মভাবে এগিয়ে আসা উচিত। এক্ষেত্রে লেখক এবং প্রকাশকদের পাশাপাশি পাঠকদেরও অনেক ভূমিকা রয়েছে। সিটি ব্যাংক এন.এ বাংলাদেশ সবসময়ই এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আনন্দ আলো: সাহিত্য পুরস্কার প্রদান কার্যক্রমের মতো আর কী কী সৃজনশীল উদ্যোগের সাথে আপনারা জড়িত। বিসত্মারিত বলুন।

রাশেদ মাকসুদ: সিটি ব্যাংক এন.এ একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগগুলোকে আত্মপরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রসারে সিটি সব সময়ই নিজেকে সৃজনশীল উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত অমূল্য এবং উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের সম্মানিত ও নবীণ প্রতিভাকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করে। আর গানে গানে গুণীজন আমাদের এমনই একটি উদ্যোগ যা বিগত বছর ধরে চলে আসছে। এছাড়াও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সাথে সিটি ব্যাংক এন.এ বেশ অনেক বছর সংযুক্ত ছিল।

আনন্দ আলো: আনন্দ আলোর সাহিত্য পুরস্কার প্রদান কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে কোন ভাবনাগুলো কাজ করেছে?

রাশেদ মাকসুদ: আমি মনে করি সকলের একনিষ্ঠ প্রয়াস ও নিরলস উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করা সম্ভব। জ্ঞানে বিজ্ঞানে বাংলাদেশ আরো উন্নত হবে, আমাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী এই আমাদের আকাঙ্খা। আর এই উন্নতির একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্যে জ্ঞানের চর্চা এবং তাঁর সময়োপযোগী প্রয়োগ। এ সকল বিষয়কে বিবেচনা করেই আনন্দ আলোর সাথে আমাদের যৌথ এই উদ্যোগ।

আনন্দ আলো: আরো বেশি মানুষকে বই পাঠে উৎসাহিত বা উদ্বুদ্ধ করা যায় কীভাবে? আপনার পরামর্শ কী?

রাশেদ মাকসুদ: বইপড়া একটি অভ্যাস যা আমাদের ছোটবেলা থেকেই বিকশিত করা উচিত। বইয়ের সহজলভ্যতা ও সঠিক সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বই পাঠে উৎসাহিত করা সম্ভব।

আনন্দ আলো: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অর্থাৎ ব্লগ, ফেসবুক, টুইটার-এর যুগে বইয়ের পাঠক কী কমে যাচ্ছে? আপনি কী মনে করেন, বিসত্মারিত বলুন।

রাশেদ মাকসুদ: বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বইয়ের পাঠকেরা নতুন পুরাতন বইয়ের বিষয়ে অবগত থাকতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার লেখক ও পাঠকের মধ্যে যোগাযোগের একটি সুযোগ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে বইয়ের প্রচারের সাথে সাথে বাড়ছে লেখকেরও জনপ্রিয়তা। আমি মনে করি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে পাঠকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং নবীন লেখক-সাহিত্যিকরাও নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান করে নিচ্ছেন।

আনন্দ আলো: শেষ কবে কোন বইটি পড়েছেন। আপনার প্রিয় বই, প্রিয় লেখকের নাম জানতে চাই।

রাশেদ মাকসুদ: সম্প্রতি পড়লাম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা ‘পিতৃতান্ত্রিকতার বিপক্ষে’ বইটি। সত্যজিৎ রায় আমার প্রিয় লেখকদের একজন। এ মুহূর্তে তাঁর লেখা ‘সোনারকেল্লা’ বইটির কথা মনে পড়ছে। কৈশোরে পড়া বইটির কথা মনে হলেই শিহরণ অনুভব করি।

আনন্দ আলো: একুশে বইমেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী। এটা কী শুধুই বইয়ের মেলা না অন্য কিছু? আপনার অনুভূতি কী?

রাশেদ মাকসুদ: অমর একুশে বইমেলা আধুনিক বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক উদ্দীপনার একটি জাতীয় উৎসব। এটি বাংলা ভাষাভাষী সকল মানুষের প্রাণের মেলা এবং এই উৎসব আমাদের কাছে বাংলা সাহিত্যের গুরুত্ব অনুধাবনের একটি উল্লেখযোগ্য সূচক। একুশে বইমেলা এখন উৎসব বা মেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।