Home আরোও বিভাগ সিনেমা তবুও অনেক ভালো খবর আছে

তবুও অনেক ভালো খবর আছে

SHARE

অন্ধকারের পরেই আলো আসে। তেমনি সীমাহীন সংকটের মধ্যেও নতুন ছবি নির্মাণের উদ্যোগ থেমে নেই। রিপোর্টে দেখুন তারই খবরা খবর। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল

আসছে শনিবার বিকেল

গুণী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘শনিবার বিকেল’ নামে একটি ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তিনি। এর বাইরে কৌশলগত কারণেই তখন কিছুই জানাননি নির্মাতা। পরে আস্তে আস্তে ছবি সম্পর্কে নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল ছবির বিষয়বস্তু, জঙ্গিবাদ নিয়ে। খবর রটে, বিস্ময় জাগানিয়া ছবিটির কাহিনী গড়ে উঠেছে গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যদিও নিমার্তা এই বিষয়টি স্বীকার করেননি। কিংবা সিনেমা মুক্তির আগে এমন রহস্য খোলাসা করতে চাননি। ছবির কাস্টিংয়েও রয়েছে চমক। অভিনয় করেছেন ফিলিস্তিনের চলচ্চিত্র তারকা ইয়াদ হুরানি, পশ্চিমবঙ্গ সিনেমার জনপ্রিয় মুখ পরমব্রত চ্যাটার্জী ছোটপর্দার জনপ্রিয় তারকা অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, মামুনুর রশিদ, ইন্তেখাব দিনার এবং জাহিদ হাসানের মতো তারকা। মাত্র সাত দিনে ছবির শুটিং শেষ করেছেন। যদিও নির্মাতা বলেছেন, টানা ১৫ দিন মহড়ার ফাঁকে ফাঁকে শুট করেছেন তিনি। বাংলাদেশ-ভারত-জামার্ন এই ত্রিদেশীয় যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মিত হয়েছে। বাংলা ছাড়াও ইংরেজি ভাষাতেও হয়েছে ছবির ডাবিং। জার্মানিতে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ হয়েছে। ছবিতে কাজ করেছেন নয় দেশের অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলী। বাংলাদেশ, ভারত, চায়না, জাপান, প্যালেস্টাইন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও আলবেনিয়ার থেকে ছিল অভিনয়িশিল্পী। রাশিয়ার একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করেছে ‘শনিবার বিকেলে’। সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন কাজাখস্তান থেকে। এই ছবিটি ইতোমধ্যে বিদেশের বেশকিছু ফেস্টিভালে প্রদর্শিত হয়েছে এবং সেখানে আলোচতিও হয়েছে। মুক্তির মিছিলে রয়েছে ছবিটি।

রাফির আনটাইটেলড

poramon

প্রথম সিনেমা ‘পোড়ামন ২’ দিয়ে দৃশ্যগল্প নির্মাতা হিসেবে নিজের মেধার জানান দিয়েছেন পরিচালক রায়হান রাফি। পরের সিনেমা ‘দহন’ দিয়ে শক্ত করেছেন নিজের অবস্থান। দুটি ছবিই দারুণ ব্যবসা করেছে সিনেমা বাজারে। গল্প বলার মুন্সিয়ানায় মুগ্ধ হয়েছেন সমালোচক, দশর্কসহ চলচ্চিত্রবোদ্ধারাও। এ বছরের মার্চ মাসে শুরু করেছেন নতুন সিনেমার দৃশ্যধারণের কাজ। ছবিটি প্রযোজনায় রয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। রাফির আগের দুটি সিনেমাতেই প্রধান দুটি চরিত্রের বিয়োগান্তক পরিণতি দেখে প্রেক্ষাগৃহে বসে কেঁদেছেন দর্শক। এবারের গল্পটিতে বিচরণ করবে অন্ধকার জগতের মানুষ। মানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্পে নির্মিত হবে এই ছবি। অভিনয়শিল্পী হিসেবে সিয়াম-পূজা রয়েছে। তাদের সঙ্গী হয়েছেন নায়ক রোশান। ছবিতে তিনটা চরিত্রই বেশ শক্তিশালী। এর বেশি কিছু জানা যায়নি। সময়ের সঙ্গে নাকি আরও বড় চমক নিয়ে হাজির হবে বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়। ছবিটির বেশকিছু অংশের শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

রূপসা নদীর বাঁকে

রূপসা নদীর বাঁকে

তানভীর মোকাম্মেলের নতুন চলচ্চিত্রটির ৯০ ভাগ শুটিং শেষ হয়েছে। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটির কাহিনী গড়ে উঠেছে একজন ত্যাগী বামপন্থী নেতাকে ঘিরে, যাকে ১৯৭১ সালে রাজাকাররা হত্যা করে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ঘাটতি বাজেট সমন্বয়ের জন্য পরিচালক গণ-অথার্য়নের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন বয়সে বামপন্থী নেতাটির চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান শোভন, খায়রুল আলম সবুজ ও তাওসিফ সাদমান তূর্য। এ ছাড়া আছেন রামেন্দু মজুমদার, চিত্রলেখা গুহ, ঝুনা চৌধুরীর মতো অভিনয়শিল্পী। দুই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যরে ছবিটিতে তিরিশ দশকের স্বদেশী আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্টদের হত্যাসহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো একজন বিপ্লবীর জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত হবে। তানভীর মোকাম্মেলের সিনেমা মানে জাতীয় পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি পুরস্কারে ভরপুর। প্রদর্শিত হয় বিভিন্ন আন্তজাির্তক চলচ্চিত্র উৎসবে। সে হিসেবে ছবিটির প্রতি দশের্কর আগ্রহ থাকবে।

অ্যাকশন ছবি মিশন এক্সিট্রিম

মিশন এক্সিট্রিম

ঢাকা অ্যাটাক সফল হওয়ার পর আরেকটি পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার ছবি আসছে। নাম মিশন এক্সট্রিম। অ্যাকশননির্ভর মৌলিক গল্পের ছবি হবে এটি। সিনেমার কাহিনীর সংলাপ রচনা ও চিত্রনাট্য লিখেছেন সানী সানোয়ার। তিনি ঢাকা অ্যাটাক ছবিরও কাহিনীকার ছিলেন। সানী সানোয়ার পেশাগত জীবনে পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। জানা যায়, সিনেমাটি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তথা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কিছু শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করা হবে। মিশন এক্সট্রিমে অভিনয় করছেন সাদিয়া নাবিলা, আরেফিন শুভ, ঐশী ও তাসকিন রহমনা। আরেফিন শুভকে ছবিতে পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের একজন চৌকস, সাহসী অফিসারের ভূমিকায় দেখা যাবে। মিশন এক্সট্রিম পরিচালনা করছেন ফয়সাল আহমেদ। তিনি ঢাকা অ্যাটাক ছবির প্রধান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বছরের শেষভাগে মুক্তি পেতে পারে ছবিটি।

ছবির নাম আনন্দ অশ্রু

আনন্দ অশ্রু

নব্বইয়ের দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ছবির একটি শিবলী সাদিকের ‘আনন্দ অশ্রু’। শাবনূর ও সালমান শাহ অভিনীত ছবিটি ১৯৯৭ সালে মুক্তির পর ব্যাপক সাড়া ফেলে ছবিটি। এবার একই নামে আরেকটি ছবি তৈরি হচ্ছে, তবে এটি আগের ছবির সিক্যুয়াল নয়। ছবির নায়িকা মাহিয়া মাহি ও নায়ক সাইমন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান মানিক। গত বছর মানিক-মাহি- সাইমন জুটির ‘জান্নাত’ সিনেমাটি প্রশংসা পেয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গ্রামীণ পটভূমির এ সিনেমা এ বছর দশের্কর আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ভাবা হয়। ছবিটি ভিলেন হিসেবে আছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। ছবির শুটিং শেষ। পোস্ট প্রডাকশনের কাজ চলছে। এ বছরই মুক্তি পাবে ছবিটি।