Home আরোও বিভাগ ইভেন্ট জুটি ড্রেসের ঢেউ লেগেছে!

জুটি ড্রেসের ঢেউ লেগেছে!

SHARE

ভালোবাসা দিবস মানে প্রিয়জনকে একটু অন্যভাবে কাছে পাওয়া। সময়ের তোয়াক্কা না করে দূরে কোথাও বেরিয়ে পড়া। স্মরনীয় মুহূর্তকে ডায়েরির এক কোনায় জায়গা করে দেয়া। ভাবছেন, কীভাবে প্রিয়জনকে চমকে দেবেন? এবারের ভালোবাসা দিবসের পোশাক যদি হয় জোড়ায় জোড়ায়, কেমন হবে? ফিউশনধর্মী বিভিন্ন কাটিংয়ে নকশার পোশাক তৈরি হয়েছে এবার। প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিয়ে এবার সবাই পোশাক পরতে চাইছে। সে কারণে গর্জিয়াসভাবেই এসব পোশাকে একই রকমের এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপ্লিকসহ মিক্সড মিডিয়ার কাজ এসেছে। ভ্যালেন্টাইনকে সামনে রেখে যুগল পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই ডিজাইনাররা এসব পোশাক তৈরি করেছেন। দেশীয় নকশার সঙ্গে মিল রেখে পাশ্চাত্য কাটিংয়ের মিশ্রণেও তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী পোশাক। সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি কিংবা শাড়ি সবকিছুতেই থাকছে ফেব্রিক, ডিজাইন বা মোটিফের যুগল উপস্থাপনা। সালোয়ার-কামিজ আর কুর্তার প্যাটার্নে এবার থাকছে লং এবং গাউন স্টাইল, কিছু কাটিংয়ে থাকছে ঘের এবং বডি ফিটিংস।
বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘বিশ্বরঙ এবার ভালোবাসা দিবসে ভিন্ন টাইপের কিছু পোশাক এনেছে। লাল রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ ও কুর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কাপল ড্রেসও স্পেশাল। ছেলে ও মেয়ের পোশাকে ম্যাচিং করে পোশাক ডিজাইন করেছি। এসব পোশাকে সুতি কাপড়ের কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাইডাই, ব্লক, অ্যাপ্লিক, ক্যাটওয়ার্ক, স্ক্রিন প্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিকসহ কারচুপি, হ্যান্ডিক্র্যাফট ও মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ।’
অঞ্জন’স-এর শীর্ষ নির্বাহী ও ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘বিশেষ দিন কিংবা উৎসবে মূলত প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই একই রকম পোশাক পরতে চায়। সে কারণে অঞ্জন’সের পোশাকগুলো একটু গর্জিয়াসভাবে তৈরি করা হয়। এসব পোশাকে একই রকমের এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপ্লিকসহ মিক্সড মিডিয়ার কাজ থাকে। বিভিন্ন রেঞ্জে আমরা এসব পোশাক তৈরি করি যাতে সবাই কিনতে পারেন। এবছর ভ্যালেন্টাইন ডে এবং ফাগ্লুনের জন্য বেশকিছু নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে। পোশাকের প্যাটার্ন এবং রঙেও রয়েছে ভিন্নতা।
রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘এবার আমাদের ভালোবাসা দিবসের সংগ্রহে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, আনস্ট্রিচ ড্রেস, পাঞ্জাবী, টি-শার্ট। এই সংগ্রহে একটি মোটিফকেই নানা আঙ্গিকে ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেই মোটিফ হলো ফ্লোরাল। রঙ বাংলাদেশের সাব-ব্র্যান্ড ওয়েস্ট রঙ এর পোশাকেও থাকছে ভালোবাসার ছোঁয়া। উৎসবের পরিপূর্ণতার জন্যে পাবেন একই থিমের যুগল পোশাক। ভালোবাসার সঙ্গে লাল রঙের বিশেষ সম্পর্ক আছে। আর বাঙালির কাছে ভালোবাসা প্রকাশে লালের চেয়ে ভালো রঙ আর কিছু হতে পারে না। তাই লাল তো আছেই, আর লালের এই কালেকশনে লালের সঙ্গী হয়েছে সোনালী, নেভী ব্লু ও আকাশী। সূতি, লিলেন ও হাফসিল্ক কাপড়ে পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রীন প্রিন্ট ও হাতের কাজ ইত্যাদি।’
এবার বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা গেছে, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রংবেরঙের পোশাক সাজানো হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ‘জুটি’ ড্রেস তো আছেই। যেমন শাড়ির সঙ্গে পাঞ্জাবি কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গে সালোয়ার কামিজের কম্বিনেশন। ভালোবাসার রং যেহেতু লাল তাই পোশাকের ডিজাইনে লাল রঙের প্রাধান্যই বেশি। আর ভালোবাসা দিবসের আগের দিন যেহেতু পহেলা ফাল্গুন, তাই এর সঙ্গে তারা ওই দিনের জন্যও পোশাক তৈরি করেছেন। তবে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউস তাদের একটি পোশাকেই দুটোর সম্মিলন ঘটিয়েছে। মানে পোশাকটিতে ভালোবাসা ও ফাল্গুন- একসঙ্গে দুটোকেই পাবে।
আড়ং, অঞ্জন’স, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, বাংলার মেলা, প্রবর্তনা, নগরদোলা, নিপুণ, বিবিআনা, নিত্য উপহার, অন্যমেলা, এড্রয়েট, ফড়িং, ইন্ডিগো, এমপ্রেসসহ বেশ কিছু হাউসের আউটলেটে পাবেন ভালোবাসা দিবসের চমৎকার সব পোশাক। এ ছাড়া আজিজ সুপার মার্কেটে বেশ কিছু দোকানেও পাবেন এই স্পেশাল দিনের নানা রঙের পোশাক। সুতি কাপড়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, সিকোয়েন্সের মিশেলে ফ্লোরাল ও ঐতিহ্যবাহী আলপনার মোটিফে তৈরি হয়েছে পোশাকগুলো। প্রতিটি পোশাকে উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে। মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি। এসব পোশাকের কাপড় বেশির ভাগই সুতি।

ভালোবাসার দিন বলে কথা। যদিও একদিনের ভালোবাসায় অনেকেই বিশ্বাসী নয়। তারপরও একটি বিশেষ দিনে ভালোবাসার আলাদা একটা গুরুত্ব তো অবশ্যই থাকে। কেননা একটি দিন ভালোবাসার স্পেশাল দিন। প্রিয় মানুষটিকে চমকে দেয়ার বিষয় তো থাকেই। আর তাই তো নিজের প্রেজেন্টেশন কিংবা উপহার দিয়ে মুহূর্তেই প্রিয় মানুষকে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। তবে সবকিছুর আগে ভালোবাসা দিবসে নিজেকে পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে সবকিছুতেই একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন। আর তাই তো বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে পাবেন ভালোবাসার উপযোগী বিভিন্ন পোশাক। ভ্যালেন্টাইনস ফ্যাশনে লাল, নীলসহ উজ্জ্বল রংকে প্রাধান্য দিয়েছে ফ্যাশন হাউজগুলো। শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, শীতের শাল, ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি কাপড়। কাজ হয়েছে ব্লক, স্প্রে-বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট, টাই-ড্রাই, এম্বয়ডারী, এ্যাপলিক এর। সব পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভালোবাসার সমার্থক নানান মোটিফ। সুতরাং বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ক্রেতারা সহজেই প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেন এসব হাউজের পোশাকের মাধ্যমে।
বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ঘুরে দেখা গেছে, এ বছরও তারা ক্রেতাদের জন্য ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রং-বেরংয়ের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন। সেগুলোর মধ্যে আবার ‘জুটি’ ড্রেসও রয়েছে। যেমন শাড়ির সঙ্গে পাঞ্জাবি কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গে সালোয়ার কামিজের কম্বিনেশন। ভালোবাসার রং যেহেতু গোলাপী গোলাপী তাই পোশাকের ডিজাইনে লাল রংয়ের প্রাধান্যই বেশি। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালোবাসা দিবসের আগের দিন পহেলা ফাল্গুন হওয়ায় তারা ঐ দিনের জন্যও পোশাক তৈরি করেছেন। তবে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউজ তাদের একটি পোশাকেই দুটোর সম্মিলন ঘটিয়েছে। মানে পোশাকটিতে ভালোবাসা ও ফাল্গুন- একসাথে দু’টোকেই পাবেন।
ফ্যাশন হাউজগুলোতে পোশাকের পাশাপাশি পাবেন নানান ধরনের গিফট বক্স। সাধারণত আপনি ১২ শ টাকা থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে চাইলেই নিজের পছন্দমতো পোশাকটি বেছে নিতে পারবেন এসব হাউজগুলো থেকে। আর আজিজ সুপার মার্কেটে গেলে আরো কমেও কিছু পোশাক পেয়ে যাবেন। আর কেউ কাপল পোশাক কিনলে বিভিন্ন ডিজাইনের উপর দাম নির্ভর করবে। তারপরও ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে আপনি ‘কাপল’ পোশাক কিনতে পারবেন।
ভালোবাসা দিবসে সারাদিন ঘোরাঘুরি বা লং ড্রাইভে যেতে মেয়েরা জিন্সের সঙ্গে লাল টপস কিংবা কামিজ পরতে পারেন আর ছেলেরা জিন্স-ফতুয়া পরলে ভালোই লাগবে। যদি ঠান্ডা কম থাকে তাহলে সাদা বা হাল্কা রঙের কোনো টপস-এর উপর জড়িয়ে নিতে পারেন লাল স্কার্ফ। তবে ভালোবাসা দিবস বলে শুধু লালেই আটকে থাকবেন না। যেকোনো উজ্জ্বল রঙই এই সময়ের জন্য এবং প্রেমের জন্য ভালো। পছন্দমতো হালকা গোলাপি, উজ্জ্বল হলুদ, পার্পল, সুন্দর নীল যেকোনো রঙের পোশাকই আপনি পরতে পারেন। তার সঙ্গে মানানসই জুতো, ব্যাগ, অ্যাক্সেসরিজ নিলেই সাজ সম্পূর্ণ। যদি দু’জনে শুধু সন্ধ্যায় রোমান্টিক ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে যাওয়ার কথা ভাবেন তাহলে শাড়িই হবে সেরা পোশাক। আর ছেলে পরবেন পাঞ্জাবি। অবশ্যই নিজেকে যেটা পরলে এবং যেভাবে সাজলে সুন্দর ও কমফোর্ট লাগবে সেটাই বেছে নিন। ছবি : বিশ্বরঙ