Home টি-২০ আড্ডা জীবন কী এতই সস্তা যে চাইলেই দিতে হবে?-নাদিয়া মিম

জীবন কী এতই সস্তা যে চাইলেই দিতে হবে?-নাদিয়া মিম

SHARE

মোহাম্মদ তারেক
আনন্দ আলো: এত কাজ থাকতে অভিনয়ে এলেন কেন?
নাদিয়া মিম: ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা ছিল বলেই অভিনয়ে আসা।
আনন্দ আলো: জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় যে কাজটি?
নাদিয়া মিম: ২০১৪ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতাটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আনন্দ আলো: একদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখলেন আপনার বিছানায় এক কোটি টাকা পড়ে আছে। সে টাকা দিয়ে কী করবেন?
নাদিয়া মিম: আগে যাচাই বাছাই করব টাকা গুলো কী আসল না নকল।
আনন্দ আলো: ক্যামেরার সামনে প্রথম দিন…
নাদিয়া মিম: শুটিংয়ের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ছিল মজার। আমার অভিনীত ‘আমার গল্প ৭১’ নাটকের শুটিং হচ্ছিল রূপগঞ্জে। আগের দিন রাতে ফাহমি ভাই আমাকে চরিত্রটি বুঝিয়ে দিলেন। বেলা ১১ টায় আমাকে নিতে গাড়ি আসার কথা। কিন্তু গাড়ি আসে না। আমি ঘুমিয়ে পড়ি। উঠে দেখি বেলা চারটা। তখনো গাড়ি আসে নাই। আমি ফাহমি ভাইকে ফোন দিলাম। এরপর গাড়ি এল। আমি লোকেশনে গেলাম। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের নাটক। একটি বোমা ফাটানোর দৃশ্য ছিল। কিন্তু কোনোভাবেই সঠিক ভাবে দৃশ্যটি হচ্ছিল না। ওদিকে আমার কাজের কোনো খবর নেই। বসে থাকতে থাকতে রাত হয়ে গেল। রাত ১১টার দিকে ফাহমি ভাই এসে বললেন, মিম আজ তোমার শুটিং হবে না। কাল রাত দিন তোমার কাজ করব। বাড়ি চলে যাও। মাও সঙ্গে ছিলেন। ফাহমি ভাইয়ের একথা শুনে আমরা দুজনই অবাক হলাম।
আনন্দ আলো: আপনার অভিনীত প্রথম নাটক…
নাদিয়া মিম: লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা থেকে বের হয়ে প্রথম নাটকে অভিনয় করি। নাটকের নাম ছিল ‘আমার গল্প ৭১’। পরিচালক ছিলেন ইফতেখার ফাহমি।
আনন্দ আলো: প্রথম অটোগ্রাফ দেয়ার অভিজ্ঞতা!
নাদিয়া মম: সবে লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার হয়েছি। সেই সময় সারা দেশে লাক্সের প্রচারনা চলছিল। প্রচারনার অংশ হিসেবে কয়েকজন লাক্স সুপারস্টার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে উপহার সামগ্রী নিয়ে বের হবেন। সেই দলে আমি মম আপু, মেহজাবীন আপু সহ বেশ কয়েকজন ছিলাম। সিলেটের একটি বাড়িতে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলা শেষে ছবি তোলা হয়। হঠাৎ করেই একটি ছেলে এসে আমাকে বলল, ছবি তুললে তো ছবি সারা জীবন থাকবে না। আমাকে অটোগ্রাফ দেন। শুনেই আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আমি নতুন, অটোগ্রাফ দেওয়ার অভ্যাস নেই। লজ্জা লাগছিল। ঘাবড়ে যাওয়ার বিষয়টি মা বুঝতে পেরে সাহস দিলেন। পরে চোখ কান বন্ধ করে ‘উইশ ইউ অল দ্য বেস্ট’ লিখে নিচে নিজের নাম ও তারিখ লিখে দিলাম।
আনন্দ আলো: যে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?
নাদিয়া মিম: অভিনয় করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
আনন্দ অলো: একটা ছেলে মানুষি চাওয়া?
নাদিয়া মিম: মঙ্গলগ্রহে যেতে চাই।
আনন্দ আলো: কাকে সঙ্গে নিতে চাইবেন?
নাদিয়া মিম: মোবাইল সঙ্গে নিয়ে যাব কারণ মঙ্গলগ্রহে সেলফি তোলাটা মিস করা যাবে না।
আনন্দ আলো: কখন নিজের ওপর রাগ হয়?
নাদিয়া মিম: না বুঝে যখন কোনো খারাপ কাজ করি তখন খুব নিজের ওপর রাগ হয়।
আনন্দ আলো: একদিন হঠাৎ দেখলেন আপনি মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে গেলেন। তখন কী করবেন?

নাদিয়া মিম: একজন অভিনেত্রী হিসেবে যে চরিত্র গুলোতে অভিনয় করতে পারি নাই তখন সেই চরিত্রগুলো করব।
আনন্দ আলো: পত্রিকার যে অংশটি আগে পড়া হয়…
নাদিয়া মিম: পত্রিকার বিনোদন পাতাটা আগে পড়া হয়।
আনন্দ আলো: বিরক্ত লাগে কখন…
নাদিয়া মিম: মানুষ বিরক্ত করলে।
আনন্দ আলো: তোমার জন্য আমি জীবন দিতে পারি, কিন্তু…
নাদিয়া মিম: জীবন কি এতই সস্তা, কেউ বললেই দিতে হবে।
আনন্দ আলো: প্রথম বই পড়ার অভিজ্ঞতা…
নাদিয়া মিম: ছোটবেলায় প্রচুর রূপকথার গল্প পড়তাম। একটু বড় হয়ে প্রথম হুমায়ূন আহমেদের ‘মৃন্ময়ী’ পড়েছি। এরপর হিমু ও মিসির আলি সমগ্র পড়া হয়েছে। জাফর ইকবালের বই নিয়মিত পড়ি। সব বই এখনো আমার বাসায় আছে। সত্যি কথা হলো টেলিভিশন দেখার চেয়ে, বই পড়তেই বেশি ভালোবাসি।
আনন্দ আলো: প্রথম প্রেম…
নাদিয়া মিম: আমি তখন মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। ওই সময় একটি ছেলে আমাকে পছন্দ করত। একদিন আমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। পাশেই খেলার মাঠ। এক বান্ধবী এসে একটি প্রেমের চিঠি আমাকে দিয়ে বলল ওই যে মাঠে দাঁড়ানো লাল টি-শার্ট পড়া ছেলেটি তোকে দিয়েছে। ওই সময়টাতে আমি কিছুটা টমবয় ধরনের ছিলাম। আমি চিঠির বিষয়টিকে কোনো গুরুত্বই দিলাম না। চিঠি খুলেও দেখলাম না। ভয় ছিল, মা শুনলে কী হবে আমার। এর কিছুদিন পর আমি স্কুল থেকে ফিরছিলাম, পেছন থেকে ছেলেটি কথা বলার চেষ্টা করছিল। আমি ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাই। আমার মনে হয় এসব কারণে ছেলেটি হতাশ হয়ে আমাকে আর প্রেমপত্র লেখেনি। এর অনেক দিন পর ছেলেটির সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল। তাই বলা যায় প্রেমে আমি পড়িনি, প্রেম আমার ওপরে পড়েছে হা হা হা…।
আনন্দ আলো: অবসরে যা করেন…
নাদিয়া মিম: অবসরে গান শুনি, ছবি দেখি।
আনন্দ আলো: দেশের সিনেমা দেখেন?
নাদিয়া মিম: দেশের সিনেমা দেখব না মানে? এটা কি বলেন? দেশের সিনেমা দেখি নিয়মিত।
আনন্দ আলো: পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে কেন?
নাদিয়া মিম: ঘুরে ঘুরে রোদ পোহায়।
আনন্দ আলো: যা করলে মন ভালো হয়ে যায়?
নাদিয়া মিম: শপিং করতে পারলে মন ভালো হয়ে যায়।